বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা

খুলনা অঞ্চল থেকে পণ্য রপ্তানিতে আয় কমে যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ অঞ্চল থেকে ৫ হাজার ৯৭১ দশমিক ৪০ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৮৬ দশমিক ১৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় কমেছে এক হাজার ৮৫ দশমিক ২২ টাকা।
রাশিয়া-ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং বিভিন্ন দেশের আরোপিত বাণিজ্যিক বাধার কারণে খুলনা অঞ্চল থেকে পাট, পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, শাক-সবজি এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে গেছে বলে খুলনাস্থ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সূত্র জানিয়েছে।
ইপিবি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত অর্থবছরে খুলনার রপ্তানিকারকরা ৪ হাজার ৮৮৬ দশমিক ১৮ কোটি টাকা আয় করেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১০ হাজার ১৯ দশমিক ৮০ টন হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে ৮৪ দশমিক ০৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এছাড়া, সাদা মাছ রপ্তানি করে ৪৫৮ দশমিক ১৯ কোটি টাকা, পাটজাত পণ্য থেকে ২ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা, কাঁচা পাট থেকে ২১৭ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা, কাঁকড়া থেকে ৯ দশমিক ২৪ কোটি টাকা, তৈরি পোশাক থেকে ৬০ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা এবং সুপারি রপ্তানি থেকে ১ হাজার ৫৬২ দশমিক ৩৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
তবে ‘কুচিয়া’ (এক ধরনের ইল মাছ), শাক-সবজি ও ফলের মতো অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। যশোর ও খুলনা অঞ্চলের প্রাকৃতিক খাল-বিল থেকে আহরিত ‘কুচিয়া’ চীন ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।
রপ্তানিকারক বাবুল সরকার বলেন, “ঢাকা থেকে নিয়মিত বিমানযোগে কুঁচিয়া চীন ও তাইওয়ানে পাঠানো হয়। তবে দেশে এখনো কুঁচিয়ার বাণিজ্যিক চাষ সফল হয়নি। ফলে এই ব্যবসা পুরোপুরি প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভরশীল।”
তাঁর মতে, কুঁচিয়া একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য, যার আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য কয়েক শ কোটি টাকা।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮ হাজার ৪০৮ মেট্রিক টন জীবন্ত কুঁচিয়া রপ্তানি করে বৈদেশিক আয় হয়েছে ৩৯৮ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ১৭ হাজার ৪৩৮ মেট্রিক টন, যার মূল্য ছিল ৯৯৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন কুঁচিয়া রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৬২০ কোটি টাকা।
খুলনার রূপসা এলাকার নিউ মামা এন্টারপ্রাইজ আড়তের স্বত্বাধিকারী মৃণাল কান্তি দে বলেন, “গত বছর (২০২৫) ১৫০ মেট্রিক টন কুঁচিয়া ঢাকার রপ্তানিকারকদের কাছে সরবরাহ করেছি।”
এ বিষয়ে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, “কুঁচিয়া অপ্রচলিত কৃষিপণ্য হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। তাই একটি প্রকল্পের আওতায় মনিরামপুর, অভয়নগরসহ বিভিন্ন মাছের বাজারে কুঁচিয়া বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে মৎস্যজীবীরা সহজেই কেনাবেচা করতে পারেন।”
জানতে চাইলে খুলনা ইপিবির পরিচালক জিনাত আরা বলেন, “বৈশ্মিক অস্থিরতার কারণে রপ্তানি কিছুটা কমে গেছে। বিশেষ করে পাট ও মাছ রপ্তানি তুলনামুলক একটু কম। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সরকারি পাটকল ও চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ নানাবিধ কারণে খুলনা থেকে পণ্য রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশ কর্তৃক সড়কপথে পাটজাত পণ্যের বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ রপ্তানি হ্রাসের অন্যতম কারণ। এছাড়া, বিকল্প রপ্তানি পথে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাট, চিংড়ি ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে খুলনা অঞ্চল তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার প্রসঙ্গ টেনে জিনাত আরা বলেন, “পণ্যের গুণমান নিশ্চিত করার পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে মাছ ও চিংড়ি উৎপাদনকারী, কারখানা মালিক এবং রপ্তানিকারকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।”
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সাবেক সহ-সভাপতি মো. আব্দুল বাকী বলেন, “খুলনার ব্যবসায়ীরা মনে করেন- দেশে পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়ীক পরিবেশ এখনও সৃষ্ট না হওয়ায় চিংড়ি, পাট, পাটজাত পণ্য ও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি কমে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “খুলনায় ৬৩টি চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ৩১টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন সরকারের উপর চ্যালেঞ্জ অনেক। নতুন বাজার খুঁজতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে, ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।”
পাট ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সাবেক সহ-সভাপতি শরীফ ফজলুর রহমান বলেন, “বিশ্ব বাজারে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যা খুলনায় এ খাতের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।”

খুলনা অঞ্চল থেকে পণ্য রপ্তানিতে আয় কমে যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ অঞ্চল থেকে ৫ হাজার ৯৭১ দশমিক ৪০ কোটি টাকা আয় হয়েছিল। কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি কমে দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৮৬ দশমিক ১৮ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় কমেছে এক হাজার ৮৫ দশমিক ২২ টাকা।
রাশিয়া-ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং বিভিন্ন দেশের আরোপিত বাণিজ্যিক বাধার কারণে খুলনা অঞ্চল থেকে পাট, পাটজাত পণ্য, চিংড়ি, শাক-সবজি এবং তৈরি পোশাক রপ্তানি কমে গেছে বলে খুলনাস্থ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সূত্র জানিয়েছে।
ইপিবি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত অর্থবছরে খুলনার রপ্তানিকারকরা ৪ হাজার ৮৮৬ দশমিক ১৮ কোটি টাকা আয় করেছেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ১০ হাজার ১৯ দশমিক ৮০ টন হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করে ৮৪ দশমিক ০৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে। এছাড়া, সাদা মাছ রপ্তানি করে ৪৫৮ দশমিক ১৯ কোটি টাকা, পাটজাত পণ্য থেকে ২ হাজার ৪৯৩ দশমিক ৮৪ কোটি টাকা, কাঁচা পাট থেকে ২১৭ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা, কাঁকড়া থেকে ৯ দশমিক ২৪ কোটি টাকা, তৈরি পোশাক থেকে ৬০ দশমিক ৫৯ কোটি টাকা এবং সুপারি রপ্তানি থেকে ১ হাজার ৫৬২ দশমিক ৩৫ কোটি টাকা আয় হয়েছে।
তবে ‘কুচিয়া’ (এক ধরনের ইল মাছ), শাক-সবজি ও ফলের মতো অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি কিছুটা বেড়েছে। যশোর ও খুলনা অঞ্চলের প্রাকৃতিক খাল-বিল থেকে আহরিত ‘কুচিয়া’ চীন ও তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়।
রপ্তানিকারক বাবুল সরকার বলেন, “ঢাকা থেকে নিয়মিত বিমানযোগে কুঁচিয়া চীন ও তাইওয়ানে পাঠানো হয়। তবে দেশে এখনো কুঁচিয়ার বাণিজ্যিক চাষ সফল হয়নি। ফলে এই ব্যবসা পুরোপুরি প্রাকৃতিক উৎসের ওপর নির্ভরশীল।”
তাঁর মতে, কুঁচিয়া একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় কৃষিপণ্য, যার আন্তর্জাতিক বাজার মূল্য কয়েক শ কোটি টাকা।

মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৮ হাজার ৪০৮ মেট্রিক টন জীবন্ত কুঁচিয়া রপ্তানি করে বৈদেশিক আয় হয়েছে ৩৯৮ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি ছিল ১৭ হাজার ৪৩৮ মেট্রিক টন, যার মূল্য ছিল ৯৯৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১২ হাজার ১০৮ মেট্রিক টন কুঁচিয়া রপ্তানি করে আয় হয়েছিল ৬২০ কোটি টাকা।
খুলনার রূপসা এলাকার নিউ মামা এন্টারপ্রাইজ আড়তের স্বত্বাধিকারী মৃণাল কান্তি দে বলেন, “গত বছর (২০২৫) ১৫০ মেট্রিক টন কুঁচিয়া ঢাকার রপ্তানিকারকদের কাছে সরবরাহ করেছি।”
এ বিষয়ে যশোর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল মামুন বলেন, “কুঁচিয়া অপ্রচলিত কৃষিপণ্য হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে এর চাহিদা রয়েছে। তাই একটি প্রকল্পের আওতায় মনিরামপুর, অভয়নগরসহ বিভিন্ন মাছের বাজারে কুঁচিয়া বিক্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যাতে মৎস্যজীবীরা সহজেই কেনাবেচা করতে পারেন।”
জানতে চাইলে খুলনা ইপিবির পরিচালক জিনাত আরা বলেন, “বৈশ্মিক অস্থিরতার কারণে রপ্তানি কিছুটা কমে গেছে। বিশেষ করে পাট ও মাছ রপ্তানি তুলনামুলক একটু কম। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে সরকারি পাটকল ও চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ নানাবিধ কারণে খুলনা থেকে পণ্য রপ্তানি হ্রাস পেয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী দেশ কর্তৃক সড়কপথে পাটজাত পণ্যের বাণিজ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ রপ্তানি হ্রাসের অন্যতম কারণ। এছাড়া, বিকল্প রপ্তানি পথে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা এ বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, পাট, চিংড়ি ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে খুলনা অঞ্চল তার হারানো গৌরব ফিরে পাবে।
সাম্প্রতিক সময়ে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে তার প্রসঙ্গ টেনে জিনাত আরা বলেন, “পণ্যের গুণমান নিশ্চিত করার পাশাপাশি রপ্তানি বাড়াতে মাছ ও চিংড়ি উৎপাদনকারী, কারখানা মালিক এবং রপ্তানিকারকদের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।”
বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) সাবেক সহ-সভাপতি মো. আব্দুল বাকী বলেন, “খুলনার ব্যবসায়ীরা মনে করেন- দেশে পরিবেশবান্ধব ব্যবসায়ীক পরিবেশ এখনও সৃষ্ট না হওয়ায় চিংড়ি, পাট, পাটজাত পণ্য ও অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি কমে যাচ্ছে।”
তিনি বলেন, “খুলনায় ৬৩টি চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ৩১টি কারখানা বন্ধ রয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন সরকারের উপর চ্যালেঞ্জ অনেক। নতুন বাজার খুঁজতে সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে, ব্যবসায়ীদের সুযোগ সুবিধা বাড়াতে হবে।”
পাট ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সাবেক সহ-সভাপতি শরীফ ফজলুর রহমান বলেন, “বিশ্ব বাজারে কাঁচা পাট ও পাটজাত পণ্যের চাহিদা বাড়ছে, যা খুলনায় এ খাতের উজ্জ্বল সম্ভাবনা তৈরি করেছে।”

গত ১৬ জুলাই স্বামীবাগ ইসকন মন্দির থেকে শুরু হওয়া রথযাত্রা ঘিরে একাধিক জঙ্গি হামলা হুমকির বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল ইউনিট রাজধানীজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল। এ দিন যদিও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে রথের সমাপনী উল্টোরথের আয়োজনে মিলল আইইডি।