
৭ বছরে যেভাবে বদলে গেল টেস্টের বাংলাদেশ
টি-টোয়েন্টির এই যুগে ক্রিকেটারদের টেস্টের প্রতি আকর্ষণ বজায় রাখতে এটি ছিল মাস্টারস্ট্রোক। এই কারণেই বাংলাদেশের টেস্ট দলের অংশ হতে চান সবাই। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করার পূর্বশর্ত একটা টেস্ট সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

বিশ্ববাজারের তুলা নির্ভর বা কটন পোশাকের চাহিদাকে পেছনে ফেলে শীর্ষে চলে এসেছে ম্যান-মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর পোশাক। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সচেতন ক্রেতাদের বড় একটি অংশ এখন কটন ছেড়ে ঝুঁকছে অ্যাথলেজার, স্পোর্টসওয়্যার ও সিন্থেটিক কাপড়ের তৈরি পোশাকে।
গ্লোবাল ফ্যাশন ইনডেক্স ও বৈশ্বিক পোশাক খাতের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে বিশ্বের মোট পোশাক চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশই দখল করে আছে পলিয়েস্টার, নাইলন ও ভিসকোসের মতো ম্যান-মেইড ফাইবার।
এখানে বাংলাদেশের গল্পটা ঠিক উল্টো। প্রায় পৌনে চার দশকের অভিজ্ঞতা নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও, বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই আটকে রয়েছে সেই কটন বা সুতি পোশাকে। বিশ্ববাজারের এই বিরাট পরিবর্তনের ঢেউ বাংলাদেশের কারখানাগুলোতে কিছুটা পৌঁছালেও, পরিবর্তনের গতি অত্যন্ত ধীর। তাই আন্তর্জাতিক বাজারের সিংহভাগ চাহিদা পূরণের পথে না এগিয়ে বাংলাদেশ পড়ে আছে সেই পুরানো, চেনা গণ্ডিতে।
আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা সংস্থা মোর্ডোর ইন্টেলিজেন্স ও গ্র্যান্ড ভিউ রিসার্চের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক ম্যান-মেইড ফাইবারে তৈরি পোশাকের বাজারের আকার বেড়ে প্রায় ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। আর বলা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে তা প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছে যাবে।

টেক্সটাইল এক্সচেঞ্জের বার্ষিক ‘ম্যাটেরিয়ালস মার্কেট রিপোর্ট’ এবং আন্তর্জাতিক কটন উপদেষ্টা কমিটির তথ্য বলছে, বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত মোট টেক্সটাইল ফাইবারের প্রায় ৭০ শতাংশই পলিয়েস্টার, নাইলন, স্প্যান্ডেক্স ও ভিসকোসের মতো সিন্থেটিক ম্যান-মেইড ফাইবার। এর পেছনে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে বিশ্বব্যাপী স্পোর্টসওয়্যার ও অ্যাথলেজারের বিপুল চাহিদা।
এছাড়া ওয়ার্ড ট্রেড সেন্টার ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যায়, কটন পণ্যের গড় রপ্তানি মূল্যের তুলনায় ম্যান-মেইডভিত্তিক উচ্চ মানসম্পন্ন পোশাক ইউরোপ-আমেরিকার বাজারে প্রায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশি দামে বিক্রি হয়।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বিশ্ববাজারে সিন্থেটিক পোশাকের বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ এই খাতের খুব সামান্য অংশই দখল করতে পেরেছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বলছে, বাংলাদেশের মোট তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ শতাংশই এখনো ঐতিহ্যবাহী কটন বা সুতি পোশাকনির্ভর। যেখানে বিশ্বের মোট পোশাকের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ সিন্থেটিকের দখলে, সেখানে বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানির মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আসে ম্যান-মেইড ফাইবার বা মিশ্র ফাইবার থেকে। মোট বৈশ্বিক বাজারের মাত্র ২ শতাংশেরও কম অংশ বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, চীন ও ভিয়েতনাম তাদের মোট পোশাক রপ্তানির যথাক্রমে প্রায় ৪০-৪৫ শতাংশ এবং ৫০-৫৫ শতাংশই ম্যান-মেইড ফাইভারে তৈরি পোশাকের মাধ্যমে করে থাকে। কটন থেকে ম্যান-মেইডে রূপান্তরের এই ধীরগতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মূল্যের পোশাকের বাজার ধরতে পারছে না বাংলাদেশ।
তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান চরচাকে বলেন, “ম্যান-মেইড ফাইবারটা পেট্রোকেমিক্যাল বেজড। আমরা এই ফাইবারটা কম খরচে তৈরি করতে পারছি না। অন্যদিকে আমাদের প্রতিযোগীরা, যেমন: চীন, তাইওয়ান ইত্যাদি দেশ খুব কম খরচে এগুলো তৈরি করে। তাই আমরা যখন বেশি টাকা খরচ করে ম্যান-মেইড ফাইবার তৈরি করছি এবং সেটা দিয়ে পোশাক তৈরি করছি, তখন আমাদের পোশাকের দাম বেড়ে যাচ্ছে। আর তখনই আমরা প্রতিযোগী দেশগুলো থেকে পিছিয়ে পড়ছি।”
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্টের এএমডি মহিউদ্দিন রুবেল চরচাকে বলেন, “আমরা ম্যান-মেইড ফাইবারের ‘র’ ম্যাটারিয়ালস উৎপাদন করতে পারছি না। চীন, তাইওয়ান ও ভারত থেকে এটা আমদানি করতে হয়। আর আমরা যখন এসব প্রতিযোগী দেশ থেকে আমদানি করে পোশাক তৈরি করছি, তখন এর খরচ বেড়ে যায়। এই খরচ দিয়ে আমরা বিশ্ব বাজারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারছি না। এছাড়াও নতুন এক শিল্প গড়তে যে ধরনের অবকাঠামো দরকার সেটা আমাদের দেশে নেই। এর জন্য আমরা সরকারের কাছে বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছি।”
মূলধনের সংকট, ঋণ জটিলতা ও অবকাঠামোর সমস্যা
পোশাক খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই বিশাল সম্ভাবনাময় বাজারে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার অন্যতম প্রধান কারণ হলো, প্রাথমিক মূলধনের ঘাটতি। কটন স্পিনিং বা কটন সুতা তৈরির কারখানার তুলনায় কৃত্রিম তন্তুর সুতা এবং বিশেষ ধরনের সিন্থেটিক কাপড় তৈরির কারখানা স্থাপনের প্রযুক্তি জটিল ও ব্যয়বহুল।
একটি পূর্ণাঙ্গ এমএমএফ বা ম্যান-মেইড ফাইবার কারখানা স্থাপন করতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন হয়, তার বড় অংশই উদ্যোক্তাদের ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভর করে জোগাড় করতে হয়। দেশের ব্যাংকিং খাতে সুদের উচ্চ হার এবং সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক ও স্থানীয় অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্র বা এলসি খোলার ক্ষেত্রেও কিছুটা বন্ধুর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এটা অনেক ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাকেই নতুন প্রযুক্তিতে বড় অংকের টাকা বিনিয়োগ করা থেকে বিরত রাখছে।
কাঁচামালের শতভাগ আমদানি নির্ভরতা এবং কাস্টমস ব্যবস্থার জটিলতা তৈরি পোশাক খাতের এই আধুনিকায়নে আরেক বড় সমস্যা তৈরি করেছে। ম্যান-মেইড ফাইবার তৈরির প্রধান উপাদান পেট্রোকেমিক্যালস ও আধুনিক ফিলামেন্ট ইয়ার্ন বাংলাদেশে তৈরি হয় না বললেই চলে। ফলে কারখানাগুলোকে এগুলো আমদানি করতে হয় চীন, তাইওয়ান বা ভারতের মতো দেশ থেকে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বজুড়ে ফাস্ট ফ্যাশনের মূল ভিত্তিই হলো, দ্রুততম সময়ে পণ্য বাজারে পাঠানো বা শর্ট লিড টাইম। কিন্তু বাংলাদেশে আমদানিকৃত কাঁচামাল বন্দর থেকে ছাড়ে কাস্টমসের দীর্ঘসূত্রিতা এবং বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধার নানা প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতায় এই লিড টাইম অনেক বেড়ে যাচ্ছে। দ্রুত কাঁচামাল না পাওয়ার ঝুঁকির কারণে আন্তর্জাতিক বায়িং হাউসগুলোও অনেক সময় বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের কাছে বড় আকারের ম্যান-মেইড ফাইবারের পোশাকের অর্ডার দিতে চায় না।
ফারুক হাসান বলেন, “এই ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার জন্য সরকারের আর্থিক সহায়তা দরকার। আমি প্রেসিডেন্ট থাকার সময় সরকারকে এই প্রস্তাব দিয়েছিলাম। যদি আমাদের ইনসেনটিভ দেওয়া যেত, তাহলে আমরা এটা করতে পারতাম। আর আমরা যদি এখানে ভালো ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাত তৈরি করতে না পারি তাহলে ম্যান-মেইড ফাইবার দিয়ে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ পাব না।”
অভাব আছে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও দক্ষ মানবসম্পদের
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ম্যান-মেইড ফাইবারে বাংলাদেশের পিছিয়ে থাকার অনেকগুলো কারণের মধ্যে একটি হলো, উচ্চ প্রযুক্তির এই বিশেষ খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাসের নিশ্চয়তা না থাকা। কটন পোশাকের ডাইং ও ওয়াশিং প্রসেসের সাথে সিন্থেটিক ফাইবার ডাইং এবং কেমিক্যাল প্রসেসিংয়ের প্রযুক্তিগত পার্থক্য রয়েছে। জ্বালানির সামান্য বিঘ্ন বা গ্যাসের চাপের ওঠানামা করলেই কারখানায় বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল নষ্ট হয় এবং উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। অর্থাৎ কটন বেজড মেশিনগুলো বিদ্যুৎ বা গ্যাসের যে প্রেসারে চলতে পারে, ম্যান-মেইড ফাইবারের মেশিনগুলো তাতে চলতে পারে না।
দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানির সরবরাহের নিশ্চয়তা না থাকাটা ম্যান-মেইড ফাইবার খাতের নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রধান ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বহু উদ্যোক্তা কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করেও শুধু টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার অনিশ্চয়তার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছে। এছাড়াও, প্রযুক্তি এবং অবকাঠামোর পাশাপাশি বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ ও গবেষণার। পেট্রোকেমিক্যাল পলিমার সায়েন্স, ফেব্রিক ডিজাইন এবং বিশেষ কেমিক্যাল ফিনিশিংয়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে অভিজ্ঞ টেকনিশিয়ান ও ট্রেন্ড অ্যানালিস্টের সংখ্যা খুবই কম।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের অনেক কারখানা এখনো বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিয়ে এই ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করছে, যা সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। একই সাথে কারখানা পর্যায়ে নিজস্ব গবেষণা ও উন্নয়ন বা রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ না থাকায় গ্লোবাল ফ্যাশন ট্রেন্ডের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবন কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, “আমরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যে লাইন ব্যবহার করি, সেটা ম্যান-মেইড ফাইবার ইন্ডাস্ট্রির জন্য উপযুক্ত নয়। এর ডাইংয়ের মেশিনগুলো চালানোর জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের বেশি প্রেসার দরকার। দেশে যেখানে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানিই নিশ্চিত হচ্ছে না, সেখানে উন্নতমানের লাইন একটু দূরের বিষয়। তারপরও সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, নতুন একটা শিল্পের জন্য এই ব্যবস্থাটা করা দরকার।”
ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জগুলো কী
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক নীতিমালার পরিবর্তন এবং এলডিসি উত্তরণের মতো বড় মাইলফলক বাংলাদেশের সামনে এসে হাজির হয়েছে। এখন বাংলাদেশকে দ্রুত এই খাতে অগ্রসর হতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন পরিবেশগত বিধান ও কার্বন ট্যাক্সের মতো বিষয়গুলো মোকাবিলা করতে হলেও উন্নত প্রযুক্তির ম্যান-মেইড ফাইবারের কোনো বিকল্প নেই। এছাড়াও, সরকারি পর্যায়ে কাস্টমস নীতি সহজীকরণ, কম সুদে বিশেষ ফান্ডের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী ঋণ সুবিধা এবং বিশেষ শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি নিশ্চিত করতে পারলে বাংলাদেশ দ্রুত এই সিন্থেটিক বিপ্লবে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান চরচাকে বলেন, “আমরা একের পর এক অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছি। এবারের সংকটটা একটু গভীর। তবে এই সংকট বর্তমান সরকারের নয়। এটা আগের সরকারের রেখে যাওয়া সংকট। আমরা বর্তমান সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি, খুব শিগগিরই সমস্যার সমাধান হবে। প্রতিনিয়ত সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়। তাই আমাদের সব কথাগুলো তাদেরকে জানাতে পারি।”

টি-টোয়েন্টির এই যুগে ক্রিকেটারদের টেস্টের প্রতি আকর্ষণ বজায় রাখতে এটি ছিল মাস্টারস্ট্রোক। এই কারণেই বাংলাদেশের টেস্ট দলের অংশ হতে চান সবাই। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করার পূর্বশর্ত একটা টেস্ট সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অন্যতম প্রধান বিষয়। গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশই এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে। তাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তা।

ট্রাম্প প্রশাসন যখন পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে, তখন আর্কটিক দিয়ে চীন-রাশিয়ার বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়তে থাকলে ওয়াশিংটনও বিষয়টির দিকে আরও নজর দেবে। এখানে ইউরোপ ও ন্যাটোর বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্কটিক কাউন্সিলের আট সদস্য দেশের মধ্যে সাতটিই ন্যাটোর সদস্য।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর গত ১০ জুন প্রকাশিত প্রতিবেদনের তথ্য মানলে, বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অর্ধ-ট্রিলিয়ন (৫০১ বিলিয়ন বা ৫০১০০ কোটি) ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশ ৮ বছরের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ কোটি ডলারের অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে চায়। বর্তমান সময়ের