জার্মানির প্লেমেকার জামাল মুসিয়ালা তার ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচে চার দিনের মধ্যে দুবার মাঠে ঢলে পড়েছেন। গত শনিবার মিউনিখে লাইপজিগের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমবার, এরপর গতকাল হাইডেনহাইমের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামার আট মিনিট পর আবার মাঠে ঢলে পড়েন মুসিয়ালা।
২০২১ ইউরোতে ডেনমার্কের ক্রিস্টিয়ান এরিকসেনের মাঠে অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনার ভয়াল স্মৃতির কারণে স্বাভাবিকভাবেই ফুটবলপ্রেমীদের মনে প্রশ্ন জেগেছে, কী হয়েছে জামাল মুসিয়ালার? তিনি আর ফুটবল খেলতে পারবেন কি না, এ প্রশ্নও উঠেছে।
কী হয়েছে, সেটার ব্যাখ্যা অবশ্য মুসিয়ালা নিজেই দিয়েছেন। জানিয়েছেন, তার একটি ‘স্নায়ুগত ত্রুটি’ ধরা পড়েছে, যেটার চিকিৎসা চলছে। রোগটার কেতাবি নাম ‘অ্যাবসেন্স সিজার’। ২৩ বছর বয়সী জার্মান ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, “আমার স্নায়ুগত একটা ত্রুটির কারণে ক্ষণস্থায়ী ও সাময়িক, কিন্তু সহজেই চিকিৎসা হয়–এমন অ্যাবসেন্স সিজার ধরা পড়েছে।”
এটা এখন তার জীবনের অংশ হয়ে গেছে জানিয়ে মুসিয়ালা লিখেছেন, “লাইপজিগ বা এখন হাইডেনহাইমের সঙ্গে ম্যাচে যা হলো, সাম্প্রতিক এমন ঘটনাগুলো এই রোগের কারণেই হয়েছে। বুঝতে পারছি, এই ব্যাপারগুলো প্রথমে দেখলে খুব ভয়াবহ মনে হয়। তবে আমার কাছে, এগুলো এখন নিত্যদিনের জীবনের অংশ হয়ে গেছে।”
আবার দ্রুত মাঠে ফেরার ব্যাপারেও আশার বাণী শুনিয়েছেন মুসিয়ালা, “আমি দারুণ চিকিৎসা পাচ্ছি, (দ্রুত ফেরার ব্যাপারে) দারুণ আশাবাদী।” মুসিয়ালা আরও জানিয়েছেন, ডাক্তাররা তার অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা বা ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছেন।
মুসিয়ালার রোগটা আসলে কী, তিনি এভাবে খেলা চালিয়ে যেতে পারবেন কি না, এসব ব্যাপারে জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড-এ কথা বলেছেন জার্মানির ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এসেন-এর নিউরোলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ক্রিস্টোফ ক্লাইনশনিটজ। মুসিয়ালার রোগের ব্যাপারে ধারণা দিয়ে তিনি বলেছেন, “নিউরোলজিক্যাল দিক থেকে দেখলে, এটা খুব সম্ভবত এপিলেপটিক সিজার হতে পারে। অ্যাবসেন্স এপিলেপ্সির একটা ধরন হতে পারে এটা, যেহেতু এখানে অল্প সময়ের জন্য শরীর অসাড় হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। যা-ই হোক, কী হয়েছে সেটা ঠিকভাবে বুঝতে আগে আমাদের আরও নিউরোলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার তথ্য হাতে পেতে হবে।”
তবে মুসিয়ালার খেলা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশা দেখাচ্ছেন প্রফেসর ক্লাইনশনিটজ, “এই রোগটার ভালো চিকিৎসা আছে, তবে এ ক্ষেত্রে লম্বা সময় ধরে থেরাপি চালিয়ে যেতে হবে। মুসিয়ালা ফুটবল খেলা চালিয়ে যেতে পারবে।”
২০২৫ ক্লাব বিশ্বকাপে অ্যাঙ্কেলের চোট পাওয়ায় গত মৌসুমের প্রথম ছয় মাস মাঠের বাইরে ছিলেন মুসিয়ালা। পরে ফিরে এলেও ফিটনেস নিয়ে ভুগেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে জার্মানি যে চারটি ম্যাচ খেলেছে, তার তিনটিতে শুরু থেকে খেলেছেন মুসিয়ালা।