বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স তাদের বহর আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণে ছয় বছরের জন্য তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার উড়োজাহাজ ড্রাই লিজ নিতে আন্তর্জাতিক প্রস্তাব আহ্বান করেছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত করার লক্ষ্য নিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনটি।
বার্তা সংস্থা ইউএনবি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রথম দফায় প্রস্তাব আহ্বানে সাড়া কম পাওয়ায় নতুন করে প্রস্তাব আহ্বান করা হয়েছে।
বিমানের করপোরেট প্ল্যানিং বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ আগস্ট নতুন করে রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল (আরএফপি) জারি করা হয়। প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৫ আগস্ট সকাল ১০টা।
বিমান বাংলাদেশ গত ১৫ জুলাই আগের দরপত্র আহ্বান করেছিল। এতে প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৯ আগস্ট।
বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, চারটি বোয়িং ৭৩৭ এবং পাঁচটি ড্যাশ ৮-৪০০।
২০০৮ সালের এপ্রিল ও মে মাসে বোয়িংয়ের সঙ্গে চারটি ৭৭৭-৩০০ইআর, চারটি ৭৮৭-৮ এবং দুটি ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করে বিমান। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ দিয়ে বহর আধুনিকায়ন শুরু করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠানটি।
চারটি ৭৭৭-৩০০ইআর উড়োজাহাজ ২০১১ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের মার্চের মধ্যে বিমানের বহরে যুক্ত হয়। আর ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজগুলো ২০১৫ ও ২০১৯ সালে বহরে যুক্ত করা হয়। চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ উড়োজাহাজ ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে বহরে যুক্ত হয়।
বাংলাদেশ ও কানাডার মধ্যে সরকারি পর্যায়ে (জি-টু-জি) চুক্তির আওতায় বিমান আরও তিনটি ড্যাশ ৮ উড়োজাহাজ সংগ্রহ করে। উড়োজাহাজ তিনটি যথাক্রমে ২০২০ সালের ডিসেম্বর, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি ও ২০২১ সালের মার্চে বিমানের বহরে যুক্ত হয়।
নতুন আরএফপিতে ৭২ মাসের জন্য তিনটি বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজ লিজ নিতে চেয়েছে বিমান। দ্রুত বহরে যুক্ত করা এবং ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে উড়োজাহাজ সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সরবরাহ করা সম্ভব এমন উড়োজাহাজও কারিগরি মূল্যায়নের সময় বিবেচনা করা হবে।
ড্রাই লিজের ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠান উড়োজাহাজ সরবরাহ করে। আর উড়োজাহাজ পরিচালনা, পাইলট, কেবিন ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিমা সংক্রান্ত দায়িত্ব নেয় এয়ারলাইনটি।
বিমান জানিয়েছে, ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত উড়োজাহাজগুলোর বয়স ১৫ বছরের বেশি হওয়া যাবে না। উড়োজাহাজগুলোতে জিইএনএক্স-১বি৭৪/৭৫ ইঞ্জিন থাকতে হবে এবং সর্বোচ্চ উড্ডয়ন ওজন হতে হবে ২ লাখ ৫৪ হাজার কেজি।
একই লিজদাতার কাছ থেকে সরবরাহ করা ‘সিস্টার-শিপ’ উড়োজাহাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রতিটি উড়োজাহাজে দুই শ্রেণির কনফিগারেশনে ৩০০টির বেশি আসন থাকতে হবে। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাসে ১৮০ ডিগ্রি সম্পূর্ণ সমতল হওয়ার সুবিধাযুক্ত আসন এবং ইকোনমি ক্লাসে কমপক্ষে ৩১ ইঞ্চি সিট পিচ থাকতে হবে। সব আসনই নতুন হতে হবে বলে জানিয়েছে বিমান।
উড়োজাহাজগুলোকে সম্পূর্ণ সচল অবস্থায় সরবরাহ করতে হবে। পাশাপাশি বৈধ এয়ারওয়ার্থিনেস ও রেজিস্ট্রেশন সনদ থাকতে হবে এবং নতুন করে সি-চেক সম্পন্ন করার পরপরই সরবরাহ করতে হবে।
বিমান আরও জানিয়েছে, লিজের প্রথম ২৪ মাসের মধ্যে হেভি মেইনটেন্যান্স চেক ও ল্যান্ডিং গিয়ার ওভারহলসহ বড় ধরনের নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের সময়সীমা পড়া যাবে না।
লিজদাতার খরচে উড়োজাহাজগুলোতে বিমানের নির্ধারিত রঙ ও নকশা করতে হবে। উড়োজাহাজগুলো ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভিত্তি করে পরিচালনা করতে হবে।
আরএফপিতে ইঞ্জিন হেলথ মনিটরিং, এয়ারক্রাফট হেলথ মনিটরিং, ফ্লাইট ডাটা মনিটরিং, উন্নত ফ্লাইট রেকর্ডার, টিসিএএস ভার্সন ৭.১, এসিএআরএস, টেরেইন অ্যাওয়ারনেস অ্যান্ড ওয়ার্নিং সিস্টেম, স্যাটেলাইট যোগাযোগ এবং জিপিএস/জিএনএসএস নেভিগেশনসহ উন্নত অ্যাভিওনিকস ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকার কথা বলা হয়েছে।
উড়োজাহাজগুলোকে প্রযোজ্য ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ), ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এভিয়েশন সেফটি এজেন্সি (ইএএসএ) এবং বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) বিধিবিধান মেনে চলতে হবে।
বিমান আশা করছে, প্রতিটি উড়োজাহাজ বছরে প্রায় ৪ হাজার ঘণ্টা উড়বে।
আর্থিক প্রস্তাবে মাসিক লিজ ভাড়া, গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের রক্ষণাবেক্ষণ রিজার্ভ এবং নিরাপত্তা জামানতের পরিমাণ আলাদাভাবে উল্লেখ করতে হবে।
মূল্যায়নে কারিগরি মানদণ্ডে ২৫ শতাংশ এবং আর্থিক সক্ষমতায় ৭৫ শতাংশ গুরুত্ব দেওয়া হবে। ৭২ মাসের লিজ মেয়াদে নগদ অর্থপ্রবাহের নেট প্রেজেন্ট ভ্যালুর (এনপিভি) ভিত্তিতে আর্থিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।
কারিগরি দিক থেকে যোগ্য দরদাতাদের পরবর্তী সময়ে ঢাকায় বিমানের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই যেকোনো একটি বা সব প্রস্তাব গ্রহণ কিংবা বাতিল করতে পারবে বিমান।