ads

যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন সেনাদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা কেন?

যুদ্ধের মধ্যে মার্কিন সেনাদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা কেন?
হেগসেথ চান তার সৈন্যরা টেস্টোস্টেরন বাড়িয়ে যুদ্ধক্ষেত্র দাপিয়ে বেড়াক। ছবি: রয়টার্স

মার্কিন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ চলতি সপ্তাহে ঘোষণা করেছেন যে, পেন্টাগন এখন থেকে ৩০ বছরের বেশি বয়সী সকল সামরিক কর্মকর্তার বার্ষিক নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা শুরু করবে। আর এই পরীক্ষায় কোনো কর্মকর্তার শরীরে টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি পাওয়া গেলে, তিনি চাইলে ‘টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি’ গ্রহণ করতে পারবেন।

টেস্টোস্টেরন হলো মানুষের শরীরের অন্যতম প্রধান হরমোন। এটি এক ধরনের অ্যান্ড্রোজেন। এটি নারী এবং পুরুষ উভয়ের শরীরেই উৎপন্ন হয়, তবে পুরুষদের শরীরে এর পরিমাণ ও প্রভাব অনেক বেশি থাকে। এই হরমোনের আধিক্য পুরুষকে নারীদের থেকে আলাদা করে তোলে। পুরুষদের পেশী ও হাড়ের গঠন, যৌন ক্ষমতা ও প্রজনন, শারীরিক লোম ও কণ্ঠস্বর ইত্যাদি গঠনের পেছনে রয়েছে টেস্টোস্টেরন।

Advertisement

পুরুষদের বয়স ৩০ পার হওয়ার পর প্রতি বছর স্বাভাবিক নিয়মেই শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা প্রায় ১ শতাংশ হারে কমতে শুরু করে। তবে এর মাত্রা অতিরিক্ত কমে গিয়ে হাইপোগোনাডিজম হতে পারে। এর লক্ষণ হলো- তীব্র ক্লান্তি ও অবসাদ, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া, পেশীর শক্তি কমে যাওয়া এবং চর্বি (বিশেষ করে পেটে) বেড়ে যাওয়া। এছাড়া টেস্টোস্টেরন কমে গেলে বিষণ্ণতা গ্রাস করে, কমে মনোযোগ।

এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে হেগসেথ বলেন, “এটি কৃত্রিমভাবে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিষয় নয়। বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো আপনার প্রাকৃতিক কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধার ও তার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা, আপনার দীর্ঘায়ু রক্ষা করা এবং লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকার জন্য যে জৈবিক ভিত্তির প্রয়োজন, তা সুদৃঢ় করা।”

মানে হেগসেথ চান না তার সৈন্যরা টেস্টোস্টেরনের অভাবে তীব্র ক্লান্তি ও অবসাদ তাদের ওপর ভর করুক এবং তাদের মাসল কমে যাক। তিনি চান পেটানো শরীর নিয়ে কঠোর মনোযোগ ধরে রেখে মার্কিন সৈন্যরা যেন যুদ্ধক্ষেত্র দাপিয়ে বেড়াতে পারে।  

তবে সমালোচকদের মতে, এটি হেগসেথ কর্তৃক মার্কিন সামরিক বাহিনীর শীর্ষ পদে বসার পর থেকে প্রদর্শিত সস্তা পুরুষত্ব জাহির করার আরও একটি নজির মাত্র। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি প্রতিরক্ষা বিভাগকে তথাকথিত ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার (নতুন নাম হতে যাচ্ছে হাই-টি ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) হিসেবে নতুন রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। প্রতিনিয়ত প্রচার করছেন এক ‘যোদ্ধা’ সুলভ মানসিকতার। 

হেগসেথ প্রতিনিয়ত প্রচার করছেন এক ‘যোদ্ধা’ সুলভ মানসিকতার। ছবি: রয়টার্স
হেগসেথ প্রতিনিয়ত প্রচার করছেন এক ‘যোদ্ধা’ সুলভ মানসিকতার। ছবি: রয়টার্স

এখন প্রশ্ন উঠছে, এই নীতি কি নারীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? এ ব্যাপারে হেগসেথ স্পষ্ট করে কিছু বলেনি। তবে নিউইয়র্ক টাইমস তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে নারীদেরও টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা করা হবে। এই নতুন নীতির বিস্তারিত দিকগুলো এখনো অস্পষ্ট।

সেনাবাহিনীতে নারীদের উপস্থিতির বিষয়ে হেগসেথের স্পষ্ট অনীহা রয়েছে। তাই তিনি যদি তার তথাকথিত ‘হাই-টি ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার’ থেকে নারীদের তাড়ানোর অজুহাত হিসেবে ‘কম টেস্টোস্টেরন’-এর বিষয়টিকে ব্যবহার করেন, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু নেই। শুরু থেকে হেগসেথ আসলে যুদ্ধক্ষেত্রে নারীদের দেখতে চাইতেন না। তবে যুদ্ধমন্ত্রী হিসেবে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হওয়ার প্রক্রিয়ার সময় তিনি এ অবস্থান থেকে সরে আসেন। সম্ভবত তার মনোনয়নের পক্ষে থাকা সিনেটরদের চাপেই তিনি এমনটা করেছিলেন।

অবশ্য মন্ত্রিত্ব পেয়ে হেগসেথ সামরিক বাহিনীতে বৈচিত্র্য, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি সংক্রান্ত নীতিগুলো বাতিল করেছেন, অন্যদিকে নারী কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দিচ্ছেন এবং অদ্ভুতভাবে সৈন্যদের দাড়ি রাখার নানাবিধ নিয়মকানুনের দিকে গভীর মনোযোগ দিচ্ছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ভক্স বলছে, টেস্টোস্টেরন নিয়ে এই অতি-আগ্রহ মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ (আমেরিকাকে আবারও সুস্থ করে তুলুন) আন্দোলনের দিকে ধাবিত করার কয়েকটি খণ্ডচিত্রের একটি। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, গত বসন্তে হেগসেথ ঘোষণা করেছিলেন, সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য এখন থেকে আর বার্ষিক ফ্লু ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। পরবর্তীতে একটি বুট ক্যাম্পে ব্যাপকভাবে ফ্লু ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের জন্য এই নিয়ম আবারও চালু করতে বাধ্য হয় সামরিক বাহিনী।

সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নারী সৈন্যদের পাঠানোর ক্ষেত্রে হেগসেথ বিরোধিতা করেছে বহুবার। ছবি: রয়টার্স
সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে নারী সৈন্যদের পাঠানোর ক্ষেত্রে হেগসেথ বিরোধিতা করেছে বহুবার। ছবি: রয়টার্স

এছাড়া, চলতি সপ্তাহেই হেগসেথ ২০২১ সালে পেন্টাগনের নেওয়া কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্তটি খতিয়ে দেখতে নতুন করে একটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন-যার সাথে মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগে রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর স্পষ্ট মিল রয়েছে। কেনেডি জুনিয়র আবার টেস্টোস্টেরন থেরাপি নিজে গ্রহণ করেন, অন্যদেরও গ্রহণ করতে উৎসাহিত করেন।

এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পক্ষ থেকে পুরুষদের স্বাস্থ্যবিষয়ক ছয়জন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন জানিয়েছেন, টেস্টোস্টেরন পরীক্ষার এই ঘোষণায় তারা বিস্মিত হয়েছেন। এটি অপ্রয়োজনীয়, এমনকি ক্ষতিকর চিকিৎসার দিকে সেনাসদস্যদের নিয়ে যেতে পারে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

টেস্টোস্টেরন নিয়ে এই মাতামাতি কেবল কেনেডি জুনিয়র কিংবা পিট হেগসেথের একক কোনো খেয়াল নয়। ভক্সের এক প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে সব বয়সী মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেই টেস্টোস্টেরন নেওয়ার প্রবণতা ব্যাপক হারে বাড়ছে। এক হিসাব অনুযায়ী, এই হরমোনের প্রেসক্রিপশন বা ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার সংখ্যা ২০১৯ সালের ৭৩ লাখ থেকে লাফিয়ে ২০২৪ সালে ১ কোটি ১০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, মানুষকে অতিরিক্ত এই টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার দিকে ঠেলে দেওয়া কি আসলেই বুদ্ধিমানের কাজ হবে? কিংবা হেগসেথ যেভাবে ৩০ ঊর্ধ্ব সামরিক কর্মকর্তাদের স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিচ্ছেন, তা কি সবার জন্যই প্রযোজ্য হওয়া উচিত?

হেগসেথের এই ঘোষণার পর ‘দ্য এন্ডোক্রাইন সোসাইটি’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, উপসর্গহীন মার্কিন নাগরিকদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা পরীক্ষা করার পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। আগের বিভিন্ন গবেষণা বরং ইঙ্গিত করে যে, যুক্তরাষ্ট্রে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত মাত্রায় টেস্টোস্টেরন প্রেসক্রাইব করা হচ্ছে। হরমোনটি গ্রহণ করা পুরুষদের মধ্যে মাত্র ১২ শতাংশের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম মেনে রোগ নির্ণয় বা ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা করা হয়েছিল।

এটি সত্য যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে এবং অতীতের পুরুষদের তুলনায় বর্তমান প্রজন্মের পুরুষদের মাঝে সামগ্রিকভাবেই টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। কিন্তু ব্যাপক হারে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা এবং সাপ্লিমেন্ট দেওয়াই এর একমাত্র সমাধান কি না-তা এখনো স্পষ্ট নয়।

প্রথমত, হরমোনের এই ঘাটতি কি বয়স বাড়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া এবং এর জন্য চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন কি না-তা নিয়ে চিকিৎসকদের মধ্যে এখনো বিতর্ক চলছে। এছাড়া, শরীরে টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণও হতে পারে, যা আগে নিরাময় করা জরুরি।

উদাহরণস্বরূপ, স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের কারণে যদি কারোর ‘টি’ লেভেল কমে যায়, তবে টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার চেয়ে ওজন কমানো (কিংবা জিএলপি-১ ড্রাগ নেওয়া) বেশি কার্যকরী সমাধান। অন্যদিকে, কৃত্রিম উপায়ে টেস্টোস্টেরন গ্রহণ করলে মেজাজ, কর্মশক্তি, যৌন সক্ষমতা-কিংবা সামরিক দক্ষতা-কতটুকু উন্নত হয়, সে ব্যাপারেও মিশ্র প্রমাণ রয়েছে।

মাত্রারিক্ত টেস্টোস্টেরন গ্রহণের কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকিও রয়েছে। এতে শরীরে হরমোনের স্বাভাবিক ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে রক্ত ঘন হয়ে স্ট্রোকের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ে এবং লিভারের কার্যক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত হরমোনের প্রভাবে অণ্ডকোষ সংকুচিত হওয়া, শুক্রাণু উৎপাদন কমে গিয়ে বন্ধ্যাত্ব দেখা দেওয়া এবং ত্বকে তীব্র ব্রণের সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইসাথে এটি মানুষের মেজাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে চরম খিটখিটে মেজাজ, অতিরিক্ত আগ্রাসন এবং তীব্র মানসিক অবসাদের জন্ম দেয়।

টেস্টোস্টেরন সাপ্লিমেন্ট নিয়ে এই চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোচনা এখনো পরিবর্তনশীল। একসময় চিকিৎসকরা আশঙ্কা করতেন যে অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো সেই ভয় অনেকটাই দূর করেছে। আর এই কারণেই ট্রাম্প প্রশাসনের সমর্থকরা হরমোনটির ব্যবহার বাড়ানোর পক্ষে জোর দিচ্ছেন। তবে, সামরিক বাহিনীর এই নতুন কর্মসূচির আওতায় যেভাবে ঢালাওভাবে টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা ও সাপ্লিমেন্টেশনের কথা বলা হচ্ছে, চিকিৎসাবিজ্ঞান এখনো পুরোপুরি তার পক্ষে কথা বলছে না।

হেগসেথ যেদিন সৈন্যদের জন্য বিতর্কিত টেস্টোস্টেরন স্ক্রিনিং নীতি ঘোষণা করেন, ঠিক সে দিনই মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক বিপর্যয় তৈরি হয়। ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের জের ধরে ইরান পুরো মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয়। একইসাথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানে সামরিক হামলা আরও জোরদার করার হুঁশিয়ারি দেন।

দ্য গার্ডিয়ানে কলামিস্ট আরওয়া মাহদাউই লিখেছেন যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনকারী এই অপ্রয়োজনীয় ও অন্তহীন যুদ্ধের কারণে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের শত শত কোটি ডলার অপচয় হয়েছে। এই সংঘাত কেবল বিশ্বকে অস্থিতিশীল করছে না, বরং জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও ব্যয়বহুল এবং বিপজ্জনক করে তুলছে।

যখন বিশ্বজুড়ে এমন একটি যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে, তখন পেন্টাগন প্রধানের মনোযোগ সৈন্যদের হরমোন পরীক্ষার মতো একটি গৌণ বিষয়ে থাকা মোটেও সমীচীন নয়। মাহদাউই প্রশ্ন করেছেন, “এই মুহূর্তে হেগসেথের কাছে কি এর চেয়ে বড় কোনো কাজ নেই?”

মাহদাউই আরও বলেছেন, “আমার মনে হয় হেগসেথ হয়তো ধীরে ধীরে বুঝতে পারছেন যে ভূরাজনীতি বেশ কঠিন একটা বিষয়। সামরিক কৌশল ও কূটনীতিও যথেষ্ট কঠিন। এর চেয়ে দাড়িওয়ালাদের নিয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করা অনেক সহজ। হরমোন স্ক্রিনিংয়ের ভিডিও বানিয়ে টেস্টোস্টেরন-পাগল পুরুষতান্ত্রিক ভক্তদের তোষামোদ করাটাও সোজা।”  

সম্পর্কিত