Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ইরানে ট্রাম্পের নতুন ‘আমৃত্যু যুদ্ধের’ ঝুঁকি

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ১৯: ৪৯
ইরানে ট্রাম্পের নতুন ‘আমৃত্যু যুদ্ধের’ ঝুঁকি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কি তার পূর্বসূরিদের মতোই একটি দীর্ঘমেয়াদী সামরিক ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছেন? বার্লিনভিত্তিক এই নিরাপত্তা ও কূটনীতি বিষয়ক লেখক স্টিভেন এরলাঙ্গার নিউইয়র্ক টাইমসে তার “ইন ইরান, ট্রাম্প রিস্কস অ্যানাদার আমেরিকান ‘ফরএভার ওয়ার’” শীর্ষক নিবন্ধে অত্যন্ত সুচারুভাবে তুলে ধরেছেন যে, যে প্রেসিডেন্ট একসময় বিশ্বমঞ্চে আমেরিকার চিরতরে চলতে থাকা যুদ্ধ বা ‘ফরএভার ওয়ার’ বন্ধ করার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তিনিই এখন ইরানের সাথে এক নতুন ও অন্তহীন সংঘাতের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। কোনো নেতাই আসলে একটি যুদ্ধ শুরু করার সময় ভাবেন না যে এটি অনন্তকাল ধরে চলবে, কিন্তু মার্কিন ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে শুরু করে পরবর্তী প্রায় প্রতিটি বড় সংঘাতই একসময় মার্কিন প্রেসিডেন্টদের জন্য এক অন্তহীন ফাঁদে পরিণত হয়েছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই ধরনের যুদ্ধগুলো ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যতক্ষণ না কোনো এক প্রেসিডেন্ট এসে সিদ্ধান্ত নেন যে এই যুদ্ধের পেছনে বিপুল অর্থ ব্যয় ও রাজনৈতিক ক্ষতি আর মেনে নেওয়া সম্ভব নয় এবং তারপর কোনোমতে নিজেদের বিজয় ঘোষণা করে তারা দেশে ফিরে যান। বর্তমান সময়ে ইরানের ক্ষেত্রেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঠিক একই ধরণের ঐতিহাসিক ও কৌশলগত ভুলের পুনরাবৃত্তি করছেন বলে তার সমালোচকেরা কঠোরভাবে সতর্ক করে দিচ্ছেন।

স্টিভেন এরলাঙ্গার তার বিশ্লেষণে স্পষ্ট করেছেন যে, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছিলেন, তখন তার অন্যতম প্রধান স্লোগানই ছিল তিনি নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু করবেন না। বরং মধ্যপ্রাচ্যসহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে চলতে থাকা আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতগুলোর অবসান ঘটাবেন। কিন্তু বাস্তবতার নির্মম পরিহাস এই যে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে তীব্র সামরিক অভিযান শুরু করেছিল, তা এখন এক গোলকধাঁধায় রূপ নিয়েছে। এই যুদ্ধটি কখনো আলোচনার টেবিলে সমঝোতার চেষ্টা, আবার কখনো আকস্মিক ও তীব্র সামরিক বিমান হামলার মধ্য দিয়ে ওঠানামা করছে। তবে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষিত মূল লক্ষ্যগুলো– যেমন ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ) করা কিংবা দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া– তার একটিও এখন পর্যন্ত অর্জিত হয়নি।

উল্টো এই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে এমন এক নতুন ও জটিল সংকটের জন্ম দিয়েছে যা সমাধান করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যার অন্যতম উদাহরণ হলো হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও জ্বালানি চলাচলের পথ অবরুদ্ধ হয়ে পড়া। বর্তমানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সাময়িক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর একটি চরম হতাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় নিজেদের যুদ্ধের মাঠে আবিষ্কার করেছে, যেখানে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান ধমনী হরমুজ প্রণালি ইরানের নিয়ন্ত্রণে অবরুদ্ধ হয়ে আছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই সংকটের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে নিবন্ধটিতে আন্তর্জাতিক ক্রাইসিস গ্রুপের ইরান প্রকল্পের পরিচালক আলী ভায়েজের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। আলী ভায়েজ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান– উভয় পক্ষই তাদের মধ্যকার সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারককে আসলে শান্তির সেতু হিসেবে বিবেচনা করেনি। বরং তারা এটিকে যুদ্ধেরই একটি ভিন্ন রূপ বা অন্য উপায়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হাতিয়ার হিসেবে দেখেছিল। আর এই কারণেই এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে অত্যন্ত ঢাকঢোল পিটিয়ে করা সেই সমঝোতা স্মারকটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। যদিও ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে এই চুক্তিটি তাদের সমস্ত লক্ষ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। ভায়েজের মতে, একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক সমাধানের সুনির্দিষ্ট কৌশল ছাড়া এই ধরণের সাময়িক চুক্তিগুলো মূলত আরেকটি ‘আমৃত্যু যুদ্ধ’ বা চিরস্থায়ী সংঘাতের ক্ষেত্র তৈরি করে দিচ্ছে।

স্টিভেন এরলাঙ্গার এখানে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, এই ‘ফরএভার ওয়ার’ বা চিরস্থায়ী যুদ্ধের ধারণাটি মূলত ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলা এবং তার পরবর্তী মার্কিন ‘গ্লোবাল ওয়ার অন টেরর’ বা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত হয়েছিল। যা ওয়াশিংটনকে আফগানিস্তান ও ইরাকের মতো দেশে বছরের পর বছর ধরে মাটিতে সেনা মোতায়েন রেখে যুদ্ধ করতে বাধ্য করেছিল। সেই যুদ্ধগুলো শত্রুভাবাপন্ন স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করার মাধ্যমে শুরু হলেও পরবর্তীতে তা দীর্ঘমেয়াদী ও ক্ষয়িষ্ণু উগ্রপন্থা-বিরোধী অভিযানে পরিণত হয় এবং শেষ পর্যন্ত বিপুল অর্থ ও মার্কিন সেনার প্রাণহানির পর এক চরম অনিশ্চয়তা বা পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

যুক্তরাষ্ট্র কি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপগুলোর নিয়ন্ত্রণ নেবে?Kharg Island–reuters

লন্ডনের কিংস কলেজের যুদ্ধবিদ্যা বিষয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক লরেন্স ডি. ফ্রিডম্যান, যিনি গত বছরই ‘দ্য এজ অব ফরএভার ওয়ারস’ নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ লিখেছিলেন, তার বরাত দিয়ে এরলাঙ্গার শক্তিশালী সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের একটি মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছেন। একে তিনি বলেছেন ‘স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধের মোহ’। ফ্রিডম্যানের মতে, বিশ্বমঞ্চের শক্তিশালী নেতারা যখন একটি যুদ্ধ শুরু করেন, তখন তারা ধরে নেন যে তাদের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের কারণে তারা খুব দ্রুত ও অনায়াসে জয়লাভ করতে পারবেন এবং এর কোনো বিরূপ বা দীর্ঘমেয়াদী পরিণতি তাদের ভোগ করতে হবে না।

ইরান ও আমেরিকার পতাকা। ছবি: রয়টার্স
ইরান ও আমেরিকার পতাকা। ছবি: রয়টার্স

এই একই মোহের শিকার হয়েছেন ইউক্রেন আক্রমণের ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং বর্তমান ইরানি সংকটের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তারা সামরিক শক্তির চূড়ান্ত সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝতে ব্যর্থ হন এবং এমন কিছু অবাস্তব লক্ষ্য নির্ধারণ করেন যা কেবল বছরের পর বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী ও দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রামের মাধ্যমেই হয়তো আংশিক অর্জন করা সম্ভব, অন্যথায় নয়। ফ্রিডম্যান আরও যুক্তি দেন যে, একটি দেশের সামরিক বাহিনী যতই আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হোক না কেন, যুদ্ধক্ষেত্রের সাময়িক শ্রেষ্ঠত্বকে যদি একটি স্থায়ী রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সাফল্যে রূপান্তর করার মতো দূরদর্শী কৌশল না থাকে, তবে সেই সামরিক শক্তি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হতে বাধ্য।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য এই ইরান যুদ্ধটি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। কারণ তিনি মার্কিন মাটিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য ইরানে কোনো স্থলসেনা পাঠাতে পারছেন না। ফলে তাকে কেবল বিমান ও নৌবাহিনীর শক্তির ওপর নির্ভর করেই এই যুদ্ধ জেতার চেষ্টা করতে হচ্ছে। যা কার্যকারিতার দিক থেকে অত্যন্ত সীমিত।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে স্টিভেন এরলাঙ্গার দেখিয়েছেন যে, ১৯৯১ সালের পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধ অত্যন্ত দ্রুত শেষ হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র তার লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছিল কারণ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও সীমিত– তা হলো কুয়েত থেকে সাদ্দাম হোসেনের বাহিনীকে বিতাড়িত করা। কিন্তু তার ছেলে, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ. বুশ, ২০০৩ সালে ইরাকে দ্বিতীয়বার আক্রমণ করার সময় সেই ঐতিহাসিক শিক্ষাটি ভুলে যান, যার চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে ইরাকের পতন ঘটে এবং পরোক্ষভাবে ওই অঞ্চলে ইরানের ক্ষমতা ও প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। একইভাবে আফগানিস্তানে তালেবান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর জর্জ ডব্লিউ. বুশ এবং তার পরবর্তী মার্কিন প্রশাসনগুলো বছরের পর বছর ধরে আফগান সমাজ ও রাজনীতিকে নিজেদের মতো করে পুনর্গঠন করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ দুই দশক পর যখন ওয়াশিংটন এই অন্তহীন যুদ্ধের ব্যয় ও ক্ষতি বহন করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন মার্কিন সেনারা চলে যায় এবং তালেবান পুনরায় সাড়ম্বরে ক্ষমতায় ফিরে আসে।

অবশ্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজের ও তার সমর্থকদের একটি ভিন্ন যুক্তি রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, তিনি মূলত ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামিক বিপ্লব এবং তেহরানে ৫২ জন আমেরিকান নাগরিককে দীর্ঘ ৪৪৪ দিন জিম্মি করার ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে ৪৭ বছর ধরে অলিখিত ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চলছে, সেটির একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী অবসান ঘটানোর জন্যই এই সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে জনস হপকিন্স স্কুল অব অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের অধ্যাপক ভ্যালি নাসর এই যুক্তিকে ভিন্নভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। তার মতে, এই মার্কিন-ইরান সংঘাত আসলে একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক চক্রের অংশ, যা কখনো চরম উত্তেজনার দিকে যায় আবার কখনো বা চুক্তির মাধ্যমে শান্ত হয়। যেমন ২০১৫ সালে বারাক ওবামার আমলে হওয়া ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিটি (JCPOA), যা পরবর্তীতে ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বাতিল করে দিয়েছিলেন। ফলে এই সংঘাত হুট করে শুরু হওয়া কোনো বিষয় নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী শত্রুতারই নতুন রূপ।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের সিনিয়র ফেলো অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ট্রাম্প প্রশাসন মূলত ইসরায়েলের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে আরেকটি সমান্তরাল চিরস্থায়ী যুদ্ধের ভেতরে নিজেদের জড়িয়ে ফেলেছে। এটি হলো ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ছায়া যুদ্ধ, যা লেবানন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড এবং ইয়েমেনে ইরানের সমর্থিত প্রক্সি বা ছদ্মবেশী বাহিনীগুলোর মাধ্যমে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে পরিচালিত হচ্ছে। এই যুদ্ধটি এখন আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সমগ্র অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে গ্রাস করেছে। ট্রাম্পের সামনে এখনো সুযোগ আছে যে তিনি তার নিজের কট্টর সমর্থক গোষ্ঠীর কাছে এই অজনপ্রিয় যুদ্ধটিকে যেকোনো উপায়ে একটি ‘বিজয়’ হিসেবে উপস্থাপন করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সম্পৃক্ততা গুটিয়ে নিতে পারেন। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ট্রাম্প এখন এই সংকটে আরও বেশি জড়িয়ে পড়ছেন এবং আক্রমণাত্মক নীতি দ্বিগুণ করছেন। যদিও তার সামনে একটি স্থায়ী কূটনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর কোনো স্পষ্ট রোডম্যাপ বা পথ উন্মুক্ত নেই। বিশেষ করে, হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ মুক্ত ও সচল রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের যে বৈশ্বিক অঙ্গীকার রয়েছে, আর অন্যদিকে ইরান যেভাবে এই কৌশলগত জলপথের ওপর নিজের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া, তাতে স্পষ্ট বোঝা যায় যে মার্কিন মিত্রদের সাহায্য থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনকে এখানে একটি অত্যন্ত দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সামরিক উপস্থিতির খেসারত দিতে হবে।

তবুও স্টিভেন এরলাঙ্গার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন যে, এই ইরান যুদ্ধটি পূর্ববর্তী আফগানিস্তান বা ইরাক যুদ্ধের তুলনায় বেশ কিছু মৌলিক দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। আফগানিস্তান ও ইরাকের দ্বিতীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে হাজার হাজার স্থলসেনা দীর্ঘ সময়ের জন্য মোতায়েন রাখতে হয়েছিল এবং সেখানে মার্কিন বাহিনীকে কোনো প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়তে হয়নি, বরং লড়তে হয়েছিল মার্কিন সমর্থিত নতুন সরকারের বিরোধী বিভিন্ন মিলিশিয়া গোষ্ঠী ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে।

কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন; এখানে আমেরিকা সরাসরি একটি সুসংগঠিত, বিশাল ভৌগোলিক আয়তন ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর অধিকারী একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভিয়েতনাম, ইরাক বা আফগানিস্তানের মতো দেশগুলোর মার্কিন অর্থনীতিকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করার কোনো বৈশ্বিক সক্ষমতা ছিল না। কিন্তু ইরান বিশ্ব বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তথা সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ভয়াবহ বিপর্যয় ও অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করতে পারে। তেহরানের কাছে এই অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা থাকার কারণেই তারা কোনো অবস্থাতেই এই প্রণালির ওপর থেকে নিজেদের আধিপত্য ছেড়ে দেবে না এবং আমেরিকার কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের বৈদেশিক নীতি বিষয়ক পরিচালক সুজান ম্যালোনি এই প্রসঙ্গে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও দূরদর্শী একটি মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এই যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। ইরাক যুদ্ধের মতোই মার্কিন প্রশাসনের ভুল ধারণা এবং ভুল হিসাব-নিকাশ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যকে চিরতরে ওলটপালট করে দিয়েছে। ম্যালোনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর সম্পূর্ণ অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াতের দিন হয়তো এখন চিরতরে শেষ হয়ে গেছে। এখন হয়তো একটি ‘নতুন স্বাভাবিক পরিস্থিতি’ বা ‘new normal’ তৈরি হবে, যেখানে ইরান যখন খুশি তখন যেকোনো জাহাজে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখবে, আর তা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই অঞ্চলে আগের চেয়ে অনেক বেশি বিশাল ও স্থায়ী নৌ ও বিমান বাহিনীর বহর মোতায়েন রাখতে হবে, যা আমেরিকার জন্য দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত ব্যয়বহুল।

ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

সবশেষে, জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ভ্যালি নাসর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই লড়াইয়ের মূল মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত পার্থক্যটি তুলে ধরেছেন। তার মতে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বা বাজি ইরানের তুলনায় অনেক ছোট। আমেরিকার জন্য এটি একটি দূরবর্তী অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্যের বিষয়, কিন্তু ইরানের জন্য এটি তাদের অস্তিত্ব ও সার্বভৌমত্বের লড়াই। আর এই কারণেই সময়ের সাথে সাথে আমেরিকার যুদ্ধ করার আগ্রহ ও গতি মন্থর হতে শুরু করবে, ঠিক যেমনটি হয়েছিল ভিয়েতনাম ও আফগানিস্তানে। যখনই আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়বে, তখনই ওয়াশিংটন তার তীব্রতা কমিয়ে দেবে। কিন্তু ইরান তার পুরো শক্তি ও তীব্রতা নিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে এবং এর ফলে যুদ্ধের ভারসাম্য ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের হাত থেকে ফসকে ইরানের দিকে চলে যাবে। আলী ভায়েজের চূড়ান্ত সতর্কবাণী দিয়ে এরলাঙ্গার তার প্রতিবেদনটি শেষ করেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে যদি উভয় পক্ষ একটি ন্যূনতম রূপরেখা চুক্তিতে পৌঁছাতেও ব্যর্থ হয়, তবে তাদের মধ্যকার এই সাময়িক ও খণ্ড খণ্ড সামরিক সংঘাতের মাঝে থাকা শেষ দেওয়ালটিও ভেঙে পড়বে এবং যুক্তরাষ্ট্র অবধারিতভাবে আরেকটি চিরস্থায়ী ও আমৃত্যু যুদ্ধের অন্ধকূপে পতিত হবে।

বিষয়: সংঘাতআমেরিকাইরানবিশ্ববিদ্যালয়মধ্যপ্রাচ্যডোনাল্ড ট্রাম্পপ্রেসিডেন্টযুদ্ধ
সর্বশেষ
  • ১

    এশিয়া কাপ: শিরোপায় চোখ রেখে বাংলাদেশের ‘ভারত পরীক্ষা’

  • ২

    সিএমএসএমই খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনআরবি ব্যাংকের চুক্তি

  • ৩

    উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে সিকৃবিতে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত

  • ৪

    ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোট ২৯ অক্টোবর

  • ৫

    হত্যা মামলায় আবার গ্রেপ্তার দেখানো হলো কলিমুল্লাহকে

সম্পর্কিত
  • লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    লং মার্চ থেকে কী পেল বিরোধীরা?

    চলতি মাসে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যে লং মার্চ করেছে তাকে সরকারের জন্য ‘ওয়েক আপ কল’ বলে উল্লেখ করছেন জোটটির নেতারা। প্রায় ১ হাজার গাড়ি নিয়ে এই লং মার্চ করে জোটের পক্ষ থেকে সরকারকে ৬ দফা দাবি দেওয়া হয়েছে। জোট নেতারা ওই ৬ দফায় বিদ্যুৎ, গ্যাস সংকট

  • বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    বিএনপি ক্ষমতায় সাত মাস : সরকার তো চলছে, দলের কী অবস্থা?

    ১৭ বছরের বেশি সময় ক্ষমতার বাইরে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম, মামলা-গ্রেপ্তার আর রাজনৈতিক চাপ সামলে এখন সরকারে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর দলের শীর্ষ নেতাদের বড় একটি অংশ এখন সরকারের দায়িত্বে ব্যস্ত। মন্ত্রিসভা, সংসদ, প্রশাসন, অর্থনীতি ও আইনশৃঙ্

  • কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    কমেডিও কাঠগড়ায়! চীনে বাকস্বাধীনতা কি ডিপ ফ্রিজে?

    চীনের সরকার আসলে কী কী বন্ধ করে দেয় – শুধুই কি বিদেশি ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেয়, নাকি দেশের ভেতরে থাকা সমালোচকদের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা আছে, এমন চিন্তাটা আসা খুবই স্বাভাবিক। তবে এখানে সরকারের লক্ষ্য এর চেয়েও বড়।

  • ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধ কি বদলে দিল বিশ্ব তেলের বাজার?

    ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পেরিয়েছে। এই যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিভিন্ন খাতে বিশেষ করে তেলের বাজার তীব্রভাবে প্রভাবিত হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে আমেরিকানদের ওপর। গ্যাসের দাম কয়েক সপ্তাহ ধরে ৪ ডলারের বেশি। বন্ধকী ঋণের সুদের হারও বেড়ে প্রায় ৭ শতাংশের দিকে যাচ্ছে। আবার ডিজেলের রেকর্ড