Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> বিশ্লেষণ

ফরেন পলিসির বিশ্লেষণ: হেগসেথকে বরখাস্ত করা উচিত

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১৭: ৫৭
ফরেন পলিসির বিশ্লেষণ: হেগসেথকে বরখাস্ত করা উচিত
পিট হেগসেথ প্রতিনিয়ত প্রচার করছেন এক ‘যোদ্ধা’ সুলভ মানসিকতার। ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নেতৃত্ব, সামরিক কৌশল এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রকৃত সক্ষমতা বাড়ানোর চেয়ে রাজনৈতিক আনুগত্য, বাহ্যিক শৃঙ্খলা এবং প্রচারসর্বস্ব সংস্কারের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। ইরান যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ব্যয়, ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি, সামরিক ঘাঁটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার মতো ঘটনাগুলো তার নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতা সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ জবাবদিহি, আন্তর্জাতিক আইন এবং কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিও বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে। এসব কারণে হেগসেথ এখন শুধু একজন বিতর্কিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী নন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের জন্যও ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক দায় হয়ে উঠছেন।

Advertisement

বিখ্যাত মার্কিন সাময়িকী ফরেন পলিসিতে গত ১৪ অক্টোবর ‘হোয়াই হেগসেথ শ্যুড গো’ শীর্ষক নিবন্ধে লেখক ক্রিশ্চিয়ান ক্যারিল এই পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করেছেন। তার বক্তব্যের মূল কথা হলো, হেগসেথের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ প্রয়োজনীয় কৌশলগত সংস্কারের বদলে রাজনৈতিক প্রদর্শনীতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। এর পরিণতি শুধু সামরিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

ক্যারিল তার বিশ্লেষণের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে একটি অস্বস্তিকর ঘটনার উল্লেখ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “ব্রিটেনের ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এক ডজন বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।”

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সামরিক বাহিনী আশঙ্কা করেছিল, ইরান ড্রোন হামলা চালাতে পারে। সেই হামলার ধরন হতে পারত ২০২৫ সালে ইউক্রেনের পরিচালিত ‘অপারেশন স্পাইডারওয়েব’- এর মতো। ওই অভিযানে ইউক্রেনীয়রা মালবাহী কনটেইনারে রাখা ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার বহু দূরের বিমানঘাঁটিতে আকস্মিক আক্রমণ চালিয়েছিল।

ফেয়ারফোর্ড থেকে বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে ক্যারিল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির জন্য অপমানজনক পশ্চাদপসরণ হিসেবে দেখেছেন। তার যুক্তি, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনীও যদি ড্রোনের ঝাঁক থেকে নিজেদের ঘাঁটি সুরক্ষিত রাখতে না পারে, তাহলে আধুনিক যুদ্ধের বাস্তবতা মোকাবিলায় তার প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই। রাশিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রও যদি এ ধরনের আক্রমণ প্রতিরোধে দুর্বলতা দেখায়, তবে সামরিক শক্তির প্রচলিত হিসাব নতুন করে বিবেচনা করতে হবে। এই ঘটনা বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর কয়েক দিন আগেই হেগসেথ সামরিক কর্মকর্তাদের সামনে দেওয়া এক ভাষণে নিজের নেতৃত্ব ও সংস্কার কার্যক্রমের প্রশংসা করেছিলেন।

ইরান চুক্তি প্রত্যাখ্যান করলে আবারও হামলার হুমকি হেগসেথেরhegseth

ভার্জিনিয়ার কোয়ান্টিকোতে দেওয়া ওই ভাষণে হেগসেথ মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী থেকে কথিতভাবে ‘ট্রানিস’ ও ‘বিয়ার্ডোস’ দের সরিয়ে দেওয়ার কথা বলে নিজেই নিজের প্রশংসা করেন। তার বক্তব্যে, সামরিক বাহিনীর সদস্যদের লিঙ্গ পরিচয়, দাড়ি রাখা এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিদ্রূপের পাশাপাশি পুরুষদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা চালুর কথাও উঠে আসে। ক্যারিলের দৃষ্টিতে, এসব বক্তব্য সামরিক বাহিনীর প্রকৃত সমস্যাগুলোর দিকে মনোযোগ দেওয়ার পরিবর্তে বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য ও আদর্শিক আনুগত্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিচায়ক।

একই ভাষণে হেগসেথ নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের উদ্যোগের কথাও জানান। এ কাজে তিনি ইলন মাস্ক, প্রতিরক্ষাশিল্পের উদ্যোক্তা পামার লাকি এবং সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য নিউট গিংরিচের সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন। কিন্তু ক্যারিলের প্রশ্ন হলো, এই ব্যক্তিদের নির্বাচন কতটা দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে করা হয়েছে? তার মতে, মাস্কের প্রতিরক্ষাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিনিয়োগের কারণে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন রয়েছে। লাকির ক্ষেত্রেও প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি প্রাসঙ্গিক। আর গিংরিচের প্রযুক্তিগত দক্ষতা নিয়েও নিবন্ধে সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।

অর্থাৎ, প্রযুক্তিনির্ভর সামরিক আধুনিকায়নের কথা বললেই যে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত হয়, তা নয়। এর জন্য প্রয়োজন সুস্পষ্ট লক্ষ্য, প্রযুক্তিগত জ্ঞান, পেশাগত দক্ষতা ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন। ক্যারিলের মতে, হেগসেথ এসব বিষয়ে যথেষ্ট মনোযোগ না দিয়ে সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলেছেন। ইরান যুদ্ধে সাফল্যের দাবি করেছেন এবং বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের মনোবলসংক্রান্ত গুরুতর সংকট অস্বীকার করেছেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের বৃহত্তর লক্ষ্য কী, কিংবা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে বজায় রাখা হবে, সে বিষয়ে তিনি কার্যকর কোনো ব্যাখ্যা দেননি। অথচ এসব মিত্রই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তিকে বহুগুন বাড়িয়ে দেওয়ার অন্যতম প্রধান উপাদান।

ক্যারিলের বিশ্লেষণে ইরান যুদ্ধ হেগসেথের নেতৃত্বের ব্যর্থতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলেছে বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, যুদ্ধটি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের জন্য গুরুতর ক্ষতি ডেকে এনেছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি বাহরাইনের স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দুর্বল হয়েছে এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

শেষোক্ত বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্র ভান্ডার শুধু চলমান যুদ্ধের প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়; বিশ্বের অন্য অঞ্চলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করার জন্যও অপরিহার্য। ইরান যুদ্ধে বিপুল পরিমাণ নির্ভুল অস্ত্র ব্যবহার করা হলে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা কিংবা ইউরোপে মার্কিন স্বার্থ রক্ষার সক্ষমতা সীমিত হতে পারে। ফলে একটি অঞ্চলে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত অন্য অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানকে দুর্বল করে দিতে পারে।

ছবি: রয়টার্স
ছবি: রয়টার্স

এখানেই হেগসেথ ও ট্রাম্প প্রশাসনের কৌশলগত পরিকল্পনা নিয়ে ক্যারিলের মৌলিক আপত্তি। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার জন্য কেন একটি দেশের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে সর্বাত্মক যুদ্ধ প্রয়োজন হলো, সেই ব্যাখ্যা ট্রাম্প বা হেগসেথ কেউই দেননি। প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের একটি দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালানোর রাজনৈতিক ও সামরিক যৌক্তিকতা কী, তা স্পষ্ট করা হয়নি। একই সঙ্গে এই যুদ্ধের সঙ্গে চীনকে প্রতিরোধ করা এবং ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য কীভাবে সমন্বয় করা হবে, সে প্রশ্নেরও উত্তর নেই।

এই অনুপস্থিতি শুধু বক্তব্যের দুর্বলতা নয়; এটি নীতিনির্ধারণের গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। সামরিক অভিযান শুরু করা এবং সেই অভিযানকে বৃহত্তর জাতীয় কৌশলের সঙ্গে যুক্ত করা এক বিষয় নয়। একটি যুদ্ধের লক্ষ্য, সম্ভাব্য ব্যয়, প্রত্যাশিত ফলাফল এবং যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকলে সামরিক সাফল্যের সংজ্ঞাই অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। ক্যারিলের মতে, হেগসেথের কৌশলগত চিন্তার ঘাটতি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতি তার অনড় সমর্থনের কারণে আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব কেবল সর্বাধিনায়কের নির্দেশ বাস্তবায়ন করা নয়; সামরিক ঝুঁকি, সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে তাকে বাস্তবসম্মত মূল্যায়নও দিতে হয়। কিন্তু ক্যারিলের বর্ণনায় হেগসেথকে এমন একজন ব্যক্তি হিসেবে দেখা যায়, যিনি প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত অনুসরণ করতে আগ্রহী, অথচ সেই সিদ্ধান্তের কৌশলগত পরিণতি নিয়ে পর্যাপ্ত প্রশ্ন তোলেন না। ফলে তার নেতৃত্বে প্রতিরক্ষা বিভাগ স্বাধীন ও পেশাদার মূল্যায়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইচ্ছা বাস্তবায়নের যন্ত্রে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

হেগসেথের বিরুদ্ধে ক্যারিলের আরেকটি অভিযোগ হলো, তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক দুর্বল করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির একটি বড় অংশীদারত্বনির্ভর ভিত্তি রয়েছে। ন্যাটোসহ বিভিন্ন মিত্রের সঙ্গে সমন্বয়, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ এবং যৌথ প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রভাব বজায় রাখতে সহায়তা করে। কিন্তু প্রতিরক্ষামন্ত্রী যদি মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কের গুরুত্ব উপেক্ষা করেন, তবে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক বেশি দায়িত্ব এককভাবে বহন করতে হতে পারে। এর ফলে সামরিক ব্যয় বাড়বে এবং একাধিক অঞ্চলে একসঙ্গে সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।

ক্যারিল আরও উল্লেখ করেছেন, হেগসেথ পেন্টাগনের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের বড় অংশকে সরিয়ে দিয়েছেন, কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের মানদণ্ড স্পষ্ট করেননি। অপসারিত কর্মকর্তাদের মধ্যে আফ্রিকান-আমেরিকান ও নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল বলে লেখক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তার বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, এসব পরিবর্তনের পেছনে পেশাগত দক্ষতা বা কার্যকারিতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব নির্বাচন যদি যোগ্যতার বদলে রাজনৈতিক বা আদর্শিক বিবেচনার দ্বারা পরিচালিত হয়, তবে প্রতিষ্ঠানটির পেশাদারত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

আমেরিকা-চীন সামরিক চ্যানেল স্থাপনে সম্মত হয়েছে: হেগসেথtrump xinping scatch

এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বিভাগের অভ্যন্তরে আইন মেনে চলা এবং আন্তর্জাতিক আচরণবিধি অনুসরণের বিষয়টি তদারক করে এমন সংস্থাগুলোর ক্ষমতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ক্যারিল। সামরিক বাহিনীর কার্যকারিতা শুধু আক্রমণ পরিচালনার ক্ষমতা দিয়ে বিচার করা যায় না। আইনগত সীমারেখা মেনে চলা, বেসামরিক মানুষের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং ক্ষমতার অপব্যবহার প্রতিরোধ করাও সামরিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বের অংশ। এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে স্বল্পমেয়াদে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা জবাবদিহির সংকট এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষতি ডেকে আনতে পারে।

ক্যারিলের বক্তব্যে ক্যারিবীয় সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরে কথিত মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের অভিযানও এসেছে। তার মতে, এসব অভিযানে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। নিবন্ধে উদ্ধৃত এক অবসরপ্রাপ্ত জেনারেলের তুলনাটি বিষয়টি সহজভাবে তুলে ধরে: টেক্সাসের একটি মহাসড়কে কোনো ট্রাক দেখে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে সেটিকে গুলি করে থামিয়ে দেওয়া যায় না; ট্রাকে মাদক রয়েছে বলে অনুমান করলেই আইনগত প্রক্রিয়া উপেক্ষা করার অধিকার তৈরি হয় না। একই যুক্তি সামরিক অভিযানেও প্রযোজ্য। সন্দেহ, অনুমান কিংবা রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

হেগসেথের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি সমালোচনার প্রতি উদাসীন থেকেছেন বলে ক্যারিলের দাবি। কংগ্রেসের সদস্যদের বাজেট ও হতাহতের পরিসংখ্যান সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবিও তিনি যথাযথ গুরুত্ব দেননি। সামরিক বাহিনীর কার্যক্রম সম্পর্কে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তথ্য জানার অধিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার একটি মৌলিক অংশ। প্রতিরক্ষা বিভাগ যদি এই অধিকারকে উপেক্ষা করে, তবে যুদ্ধ পরিচালনার সিদ্ধান্তের ওপর কার্যকর নজরদারি দুর্বল হয়ে পড়ে।

ক্যারিলের মতে, ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়ার নিশ্চয়তা হেগসেথকে এমন এক ধরনের দায়মুক্তির অনুভূতি দিয়েছে, যা তার আচরণকে আরও বেপরোয়া করে তুলেছে।

তবে লেখকের মতে, সম্প্রতি পরিস্থিতিতে পরিবর্তনের কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। ৮ অক্টোবর হেগসেথ ঘোষণা করেন, ২০০৯ সালে একটি সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জনকে হত্যা করার দায়ে দণ্ডিত সন্ত্রাসী নিলাল হাসানের মৃত্যুদণ্ডের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করবে প্রতিরক্ষা বিভাগ। এই ঘোষণায় ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- উভয় দলের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এমনকি ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও প্রকাশ্যে জানান, তিনি ওই সম্প্রচার দেখার পরিকল্পনা করছেন না। কয়েক দিন পর ট্রাম্প নিজেও বলেন, মৃত্যুদণ্ড সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে তিনি তার কয়েকজন উপদেষ্টার কাছে সংশয় প্রকাশ করেছেন বলেও নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনাটি হেগসেথের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ধরন নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একটি রাষ্ট্রের সামরিক ও প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শুধু শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, সেটিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। সামরিক বিচার, শাস্তি কার্যকর করা এবং অপরাধের প্রতি রাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া- এসব বিষয়ে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিবেচনা থাকা প্রয়োজন। কোনো সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক বা প্রচারমূলক আকর্ষণ থাকলেই তা দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ হয়ে ওঠে না। মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের উদ্যোগটি তাই হেগসেথের সমালোচকদের কাছে তার অগ্রাধিকারের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

ফাইল ছবি: রয়টার্স
ফাইল ছবি: রয়টার্স

এই প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসির হেগসেথকে অভিশংসনের প্রস্তাব নতুন গুরুত্ব পেয়েছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ম্যাসি এই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। শুরুতে অনেক সংবাদমাধ্যম বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসও প্রথম দিকে প্রস্তাবটির উল্লেখ করেনি বলে ক্যারিল লিখেছেন। কারণ, সিনেটে অভিশংসনের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন পাওয়া কঠিন বলে অনেকেই মনে করেছিলেন। ট্রাম্পবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ম্যাসি নিজের কেনটাকির রিপাবলিকান প্রাইমারিতেও ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। ফলে তার উদ্যোগকে কার্যকর রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি।

কিন্তু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে প্রস্তাবটির রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে। ম্যাসির উদ্যোগের পর দিনই প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন আকস্মিকভাবে ঘোষণা করেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত প্রতিনিধি পরিষদের অধিবেশন মুলতবি থাকবে।

ক্যারিলের মতে, এই সিদ্ধান্ত হেগসেথের অভিশংসন নিয়ে প্রতিনিধি পরিষদে ভোট এড়ানোর চেষ্টা কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়। একই সময়ে পরিচালিত জনমত জরিপে দেখা যায়, ৫১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক হেগসেথের অভিশংসনের পক্ষে। নিজেদের রিপাবলিকান হিসেবে পরিচয় দেওয়া নাগরিকদের মধ্যেও ২২ শতাংশ এ অবস্থান সমর্থন করেন।

এই পরিসংখ্যান ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভিত্তির ভেতরেও ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষের ইঙ্গিত দেয়। যুদ্ধটি শুধু বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের সমালোচনার বিষয় নয়; রিপাবলিকানদের একটি অংশও এর বিরোধিতা করছে। এমনকি ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের সমর্থকদের মধ্যেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে বলে ক্যারিল উল্লেখ করেছেন। কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যদের সঙ্গে হেগসেথের বিরোধের আরেকটি কারণ হলো, সামরিক বাজেট ও হতাহতের তথ্য প্রকাশে তার অনীহা। অর্থাৎ, তার বিরুদ্ধে সমালোচনা এখন কেবল নীতিগত মতপার্থক্যে সীমাবদ্ধ নেই; তা জবাবদিহি ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার প্রশ্নেও বিস্তৃত হয়েছে।

ম্যাসির অভিশংসন প্রস্তাবে আটটি অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৯৭৩ সালের ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট উপেক্ষা করে যুদ্ধ পরিচালনা, ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রসঙ্গে বেসামরিক হতাহত কমানোর আইন উপেক্ষা এবং ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বেআইনিভাবে অপহরণের অভিযোগ। এছাড়া, মাদকবিরোধী অভিযানে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, সাবেক মার্কিন সিনেটর ও সামরিক কর্মকর্তা মার্ক কেলিকে হুমকি দেওয়া এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের সমালোচনাকারী সাবেক সামরিক সদস্যদের শাস্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিষয়ও এতে রয়েছে।

তবে ক্যারিল মনে করেন, হেগসেথের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ সাংবিধানিকভাবে অভিশংসনের জন্য প্রয়োজনীয় ‘গুরুতর অপরাধ ও অসদাচরণ’- এর মানদণ্ডে পড়বে, এমন নয়। কিন্তু নীতিগত ব্যর্থতা এবং প্রশাসনিক অদক্ষতার গুরুত্ব তাতে কমে যায় না। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর কৌশলগত পরিকল্পনায় অনাগ্রহ, যুদ্ধের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করতে ব্যর্থতা এবং সামরিক আধুনিকায়ন সম্পর্কে অপর্যাপ্ত ধারণা- এসব বিষয়ও তার দায়িত্ব পালনের উপযুক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রযুদ্ধমধ্যপ্রাচ্যইরানপ্রতিরক্ষা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে ঢাকা

  • ২

    বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কারিগরি-প্রকৌশলে আধুনিক শিক্ষা প্রদানের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • ৩

    কুড়িগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

  • ৪

    ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার: রাষ্ট্রপতি

  • ৫

    অস্ত্রোপচারের পর রোববার প্রকাশ্যে অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন পোপ লিও

সম্পর্কিত
  • অর্থনীতি নিয়ে সরকারের উচ্চাশা, পূর্বাভাসে হতাশা, আসলে কী দশা?

    অর্থনীতি নিয়ে সরকারের উচ্চাশা, পূর্বাভাসে হতাশা, আসলে কী দশা?

    চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নতুন পূর্বাভাস বলছে, প্রবৃদ্ধি হতে পারে মাত্র ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ, সরকারের লক্ষ্যের চেয়ে আইএমএফের পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ পয়েন্ট কম। একই সঙ্গে

  • দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা কেন বাড়ছে

    দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা কেন বাড়ছে

    প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকারের কারণে বসতি স্থাপনকারীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তার সরকারের আমলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি ও ছোট ছোট অবৈধ বসতির দ্রুত সম্প্রসারণ ঘটেছে।

  • ঢাকা উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি: পুরনো নেতৃত্ব, নাকি নতুন মুখ?

    ঢাকা উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি: পুরনো নেতৃত্ব, নাকি নতুন মুখ?

    ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি ঘিরে দলের ভেতরে আলোচনা এখন তুঙ্গে। আহ্বায়ক বা সভাপতি পদে সাবেক ও বর্তমান নেতৃত্বের একাধিক নেতার নাম যেমন আলোচনায় আছে, তেমনি সদস্য সচিব বা সাধারণ সম্পাদক পদেও তৈরি হয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ। সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল হককে আবার নেতৃত্বে ফিরিয়ে আনার

  • মোদির দমন-পীড়ন: চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতের গণতন্ত্র

    মোদির দমন-পীড়ন: চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতের গণতন্ত্র

    ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রতিবাদে আন্দোলন দমনে ব্যাপক ধরপাকড়, পুলিশি সহিংসতা এবং আধাসামরিক বাহিনীর বিপুল উপস্থিতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। যে সরকার দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী নেতৃত্ব, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির