
ভারতের নতুন ‘জাতির পিতা’ কারা?
স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তো একাধিক হতে পারেন না! বিজেপি হয়তো ভারতের জাতীয় পরিচয় ও প্রতীকে নতুন রং যোগ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইতিহাসকে নতুনভাবে সাজানোর এই চেষ্টা মানুষের মধ্যে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়নি।

সরকারের বয়স ছয় মাস। অথচ মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য যেন সময়টা আরও কম। দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যে বার্তা দিয়েছিলেন, তার সারকথা ছিল, সরকারকে দ্রুত কাজ করতে হবে; প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জন্য নির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকতে হবে এবং নির্ধারিত সময় শেষে সেই কাজের হিসাবও দিতে হবে।
ছয় মাসের সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মন্ত্রিসভায় প্রথম বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। একজন প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রী হয়েছেন, একজন মন্ত্রীর দপ্তর বদলেছে এবং একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন যে প্রশ্নটি ঘুরছে তা হলো, এই রদবদল কি কেবল শুরু? নাকি সামনে আরও বড় ধরনের ‘পারফরম্যান্স রিভিউ’ অপেক্ষা করছে মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য?
সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দ্বিতীয় সম্ভাবনাটিই এখন বেশি আলোচনায়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় মন্ত্রণালয়গুলোর প্রথম ১৮০ দিনের অর্জন, সীমাবদ্ধতা ও কাজের গতি পর্যালোচনা করছে।
শুরুতেই ১৮০ দিনের হিসাব
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়ে সরকার গঠনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল তারেক রহমানের নেতৃত্বের সরকার। প্রধানমন্ত্রীকে বাদ দিলে মন্ত্রিসভায় ছিলেন ৪৯ জন সদস্য।
সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী ১৮০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচির ওপর গুরুত্ব দেন। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মতো বিষয়কে সামনে রেখে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার কথা বলা হয়।
পরে সংসদেও প্রধানমন্ত্রী জানান, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়গুলো ১৮০ দিন, ২০২৬-২৭ অর্থবছর এবং পুরো পাঁচ বছরের জন্য পৃথক কর্মপরিকল্পনা করছে। অর্থাৎ ছয় মাসের মূল্যায়নটি হঠাৎ করে তৈরি কোনো রাজনৈতিক বয়ান নয়; সরকার গঠনের শুরুতেই এর ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল।
আর সেই কারণেই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের জন্য ছয় মাসের সময়টা ছিল এক ধরনের ‘ডেডলাইন’।
‘কাজের হিসাবের’ বার্তা কতটা স্পষ্ট?
প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছয় মাসের কাজের অগ্রগতি বিবেচনায় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে। গাফিলতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিতও এসেছে।
আগস্ট মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও বলেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন-সেটি আমলা হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি।
এখানেই বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা পরিচালনার ধরনটি আগের অনেক সরকারের তুলনায় আলাদা হয়ে উঠছে।

রাজনীতিতে সাধারণত মন্ত্রী হওয়ার পর একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পদটি অনেকটাই নিরাপদ মনে করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের বার্তায় অন্তত এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। কাজের ফলাফলই হবে পরবর্তী সিদ্ধান্তের অন্যতম ভিত্তি।
প্রধানমন্ত্রীর এই মূল্যায়ন ও পুনর্বিন্যাসের পদ্ধতি শুধু সরকারেই সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে প্রথমে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং পরে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অথচ মহাসচিব হিসেবে দলের ভেতরে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল সালাহউদ্দিন আহমেদের নাম।
ক্ষমতাসীন দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টিকে তারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ, দলের প্রতি আনুগত্য এবং ধারাবাহিকভাবে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এটি একই সঙ্গে দলের ভেতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছে। আর তা হলো, দলের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে শুধু প্রচলিত সমীকরণ নয়, নেতৃত্বের নিজস্ব মূল্যায়নও বড় ভূমিকা রাখছে।
দলের নেতাদের অনেকেই মনে করেন, দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তকে আগেভাগে অনুমান করা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। তবে তাদের দৃষ্টিতে, এই ‘আনপ্রেডিক্টেবিলিটি’ নেতিবাচক নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে দলকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করার ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
দলের এক ভাইস চেয়ারম্যান চরচাকে বলেন, “আমাদের চেয়ারম্যান খুবই নিখুঁতভাবে মন্ত্রিসভা ও দল-দুটোই পরিচালনা করছেন। দিন দিন তাকে প্রেডিক্ট করা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। প্রাথমিকভাবে অনেকেই কোনো কোনো সিদ্ধান্তে মনে কষ্ট পেতে পারেন, কিন্তু দূরদৃষ্টি দিয়ে দেখলে, সিদ্ধান্তগুলো দলের স্বার্থ এবং দেশের জনগণের জন্যই ইতিবাচক।”
সরকারের গতির সঙ্গে ঠিক আমরা পেরে উঠছি না। এখানে সদিচ্ছার অভাব নেই। অন্যান্য নানান প্রতিকূলতা রয়েছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।
দলের কেন্দ্রীয় কমিটির একাদিক নেতার বক্তব্য থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট, তারেক রহমানের নেতৃত্বে এখন শুধু মন্ত্রীদের নয়, দলের নেতাদের ক্ষেত্রেও দায়িত্ব, ভূমিকা ও অবস্থান নিয়ে ধারাবাহিক মূল্যায়ন চলছে। কে কতটা কার্যকর, কে দীর্ঘদিন দলের কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন, কে নতুন দায়িত্ব সামলানোর সক্ষমতা রাখেন-এসব বিবেচনাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ফলে মন্ত্রিসভার মতো দলের ভেতরেও পদ-পদবি এখন আর একবার পাওয়া মানেই স্থায়ী নিশ্চয়তা—এমন ধারণা ক্রমেই দুর্বল হচ্ছে। বরং নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে পারফরম্যান্স, আনুগত্য, রাজনৈতিক প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি সাংগঠনিক পরিকল্পনা-এই চারটি বিষয়ই একসঙ্গে কাজ করছে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
সেদিক থেকে দেখলে, মন্ত্রিসভায় যেমন ‘কাজ করুন, ফল দেখান’-এই বার্তা দেওয়া হচ্ছে, দলের সাংগঠনিক কাঠামোতেও অনেকটা একই দৃষ্টিভঙ্গীর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। পার্থক্য শুধু এতটুকু—মন্ত্রিসভায় এর প্রকাশ ঘটছে দপ্তর বদল, পদোন্নতি কিংবা দায়িত্ব হারানোর মধ্য দিয়ে। আর দলে দেখা যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে নতুন মুখের উত্থান ও পুরনো সমীকরণের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে।
অর্থাৎ তারেক রহমানের নেতৃত্বে মূল্যায়নের রাজনীতি এখন সরকার ও দল-দুই জায়গাতেই সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে।
ছয় মাস শেষে প্রথম ধাক্কা
গত ১৭ আগস্ট সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ২১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় প্রথম বড় পরিবর্তন আসে। নতুন করে চারজন মন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নেন। চার মন্ত্রী হলেন-ড. আবদুল মঈন খান, আন্দালিভ রহমান পার্থ, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সাচিং প্রু জেরী। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হন হুমায়ুন কবির ও মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন।
এর মধ্যে রশিদুজ্জামান মিল্লাত আগে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন; এবার তাকে মন্ত্রী করা হয়েছে। আফরোজা খানম রিতার দপ্তর পরিবর্তন করে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ড. আবদুল মঈন খান পেয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। বিএনপির শরিক দল জাতীয় পার্টি-বিজেপির আন্দালিভ রহমান পার্থ পেয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। সাচিং প্রু জেরী পেয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। হুমায়ুন কবির পেয়েছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব এবং শামীম কায়সার লিংকন হয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী।
সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তন হলো- তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। অর্থাৎ মন্ত্রিসভা থেকে বেরিয়ে গেলেও তিনি সরকারের বাইরে চলে যাচ্ছেন না; বরং দায়িত্বের ধরন বদলেছে।
এ কারণে এবারের রদবদলকে সরাসরি ‘ব্যর্থদের বাদ’ দেওয়ার তালিকা বলা যাবে না। কারণ শূন্য পদ পূরণ, রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া শূন্যতা, রাজনৈতিক সমন্বয় এবং দপ্তরের ভারসাম্য—সবকিছুর হিসাবই এখানে রয়েছে। তবে এটাও সত্য, ছয় মাসের কর্মমূল্যায়নের সময়েই এই পরিবর্তন হওয়ায় এর সঙ্গে পারফরম্যান্স রিভিউয়ের সম্পর্ক খুব নিবিড়।
তবে গত ২১ আগস্টের রদবদলকে সরকারের চূড়ান্ত মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হিসেবে দেখছেন না সংশ্লিষ্টদের অনেকেই। বরং কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আরেক দফা পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া গড়াতে পারে-এমন আলোচনাও রয়েছে ক্ষমতাসীন দল, সরকার ও রাজনৈতিক মহলে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীও রদবদলের পর গণমাধ্যমে বলেছেন, নির্দিষ্ট সময় পর মন্ত্রিসভার কার্যক্রম মূল্যায়ন হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরিবর্তন আনা হবে। ভবিষ্যতেও মূল্যায়ন হবে এবং মন্ত্রিসভায় আরও পরিবর্তন আসতে পারে।
অর্থাৎ ছয় মাসের মূল্যায়নকে এককালীন পরীক্ষা হিসেবে না দেখে চলমান প্রক্রিয়া হিসেবেই সংশ্লিষ্টরা দেখছেন।
এখন ছয় মাস। সামনে এক বছর। তারপর বাজেট, নির্বাচনী ইশতেহারের অগ্রগতি, বড় প্রকল্প, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা—প্রতিটি পর্যায়েই আবার প্রশ্ন উঠতে পারে, কে কতটা কাজ করলেন?
নজরে একাধিক মন্ত্রণালয়
সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাত-আটটি মন্ত্রণালয়ের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। এর কয়েকটিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের কারও কারও দায়িত্ব কমিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা আছে, সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো মন্ত্রণালয় বা মন্ত্রীর নাম ‘দুর্বল পারফরমার’ হিসেবে ঘোষণা করেনি। ফলে নির্দিষ্ট মন্ত্রীর নাম ধরে সম্ভাব্য অপসারণের কথা বলা সরাসরি বলা যাচ্ছে না। তবে কয়েকটি জায়গায় পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কারণ বোঝা যায়।

বর্তমানে কৃষি ও প্রাণিসম্পদ, বাণিজ্য-শিল্প-বস্ত্র ও পাট, রেল-সড়ক পরিবহন ও সেতু-নৌপরিবহনসহ কয়েকটি বড় দায়িত্ব একজন মন্ত্রীর হাতে রয়েছে। আবার কিছু মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-তিন স্তরের রাজনৈতিক নেতৃত্ব রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে কথা বলে কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সম্ভাব্য পরিবর্তন এবং নতুনরাও প্রত্যাশার চাপে কতটা পারফরম্যান্স করবেন এমন কিছু বিষয় উঠে এসেছে।
যেমন-আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাতে অর্থ ও পরিকল্পনা দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, বাজেট বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি-সব মিলিয়ে এই দুটি মন্ত্রণালয় সরকারের পারফরম্যান্সের অন্যতম প্রধান সূচক। এখানে তাই প্রশ্নটা শুধু মন্ত্রী থাকবেন কি না, তা নয়। বরং দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজনের হাতে রাখা কতটা কার্যকর-সেটিও আলোচনার বিষয় হতে পারে।
যদি সরকারের লক্ষ্য হয় দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং দ্রুত বাস্তবায়ন, তাহলে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার যুক্তি তৈরি হতে পারে।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের হাতে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট-তিনটি মন্ত্রণালয়। তিনটি মন্ত্রণালয়ই অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলেও প্রত্যেকটির কাজের ধরন আলাদা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ওপর দ্রব্যমূল্য ও বাজার ব্যবস্থাপনার চাপ। শিল্প মন্ত্রণালয়ের সামনে বিনিয়োগ ও উৎপাদন বাড়ানোর প্রশ্ন। আর বস্ত্র ও পাটের সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের রপ্তানি অর্থনীতি ও শিল্পখাত।
ফলে একজন মন্ত্রীর পক্ষে তিনটি মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রমে সমান মনোযোগ দেওয়া কতটা সম্ভব, সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে সরকারের মধ্যে। এখানে সম্ভাব্য পরিবর্তন হলে সেটি মন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়ার চেয়ে দায়িত্ব ভাগ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
শুরুতে কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—তিনটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ছিল মোহাম্মদ আমিন উর রশীদের হাতে। পরবর্তী রদবদলে খাদ্য মন্ত্রণালয় আলাদা করে আফরোজা খানম রিতাকে দেওয়া হয়েছে।
অর্থাৎ সরকার কার্যত স্বীকার করেছে যে, একাধিক বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়ার প্রয়োজন পড়তে পারে।
এখন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ আমিন উর রশীদের হাতে। কৃষিপণ্যের দাম, উৎপাদন, কৃষকের আয়, খাদ্যনিরাপত্তা এবং মৎস্য-প্রাণিসম্পদ খাত—সবকিছুর ওপর এই মন্ত্রণালয়গুলোর সরাসরি প্রভাব রয়েছে। তাই এখানেও ফলাফল বনাম প্রত্যাশা- হিসাবটি গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমন একটি জায়গা যেখানে পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন শুধু মন্ত্রণালয়ের ভেতরের হিসাব দিয়ে হয় না। পরীক্ষা, প্রশ্নপত্র, ফলাফল, শিক্ষক নিয়োগ কিংবা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন-যে কোনো বিষয় দ্রুত জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে নতুন সরকারের প্রথম বছরেই শিক্ষাব্যবস্থায় দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে না পারলে চাপ তৈরি হতে পারে।
তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা যায় ‘হাই-রিস্ক, হাই-ভিজিবিলিটি’ পোর্টফোলিও।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের জনপ্রিয়তা ও জনআস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন অন্য অনেক মন্ত্রণালয়ের তুলনায় আলাদা।
এই মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কী ধরনের মূল্যায়ন করছেন, তা বাইরে থেকে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এটি এমন একটি মন্ত্রণালয় যেখানে সফলতার সংজ্ঞা খুব সরাসরি-আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন?
অপরাধ, মব, রাজনৈতিক সহিংসতা, পুলিশের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি—সবকিছু মিলিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাই সরকারের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জায়গা।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক সময়ে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের পাশাপাশি তার বিভিন্ন বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রংপুরের একটি হত্যাকাণ্ড এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা ও বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ফটোকার্ডে রংপুরের ঘটনাকে ইঙ্গিত করে লেখা হয়েছে, ‘ছাদে ইয়াবা সেবনের স্ক্রিপ্ট বানিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’। ফটোকার্ডটিতে মন্ত্রীর বক্তব্যকে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঘটনা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আরেকটি ফটোকার্ড ছড়িয়েছে। সেখানে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে ভিন্ন রাষ্ট্র ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর’—এমন শিরোনাম ব্যবহার করা হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো একটি সংবেদনশীল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বক্তব্যের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রীর একটি বক্তব্যও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ এবং সরকারের প্রতি আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
তাদের মতে, বিশেষ করে হত্যাকাণ্ড, মব সহিংসতা, রাজনৈতিক সংঘাত কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মতো ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে ঘটনার গুরুত্ব, ভুক্তভোগীদের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং সরকারের কঠোর অবস্থান—তিনটিই স্পষ্ট থাকা জরুরি।
ফলে মন্ত্রিসভার মূল্যায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে শুধু অপরাধের পরিসংখ্যান কিংবা পুলিশের কার্যক্রম নয়, মন্ত্রী হিসেবে জননিরাপত্তার প্রশ্নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতটা দায়িত্বশীল ও সংবেদনশীলভাবে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই বিবেচনায় আগামী দিনের মন্ত্রিসভা মূল্যায়নে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিঃসন্দেহে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার জায়গা।
“সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যেমন সম্মানের, তেমনি সেই দায়িত্বের সঙ্গে জনগণের কাছে জবাবদিহিও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন কোথাও পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটা তার এখতিয়ার।
অন্যদিকে, আবদুল মঈন খানকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাম্প্রতিক রদবদলে। তার ক্ষেত্রে তাই এখনই ‘চাপের মধ্যে’ বলা ঠিক হবে না। বরং তার জন্য বিষয়টি উল্টো। নতুন দায়িত্বে দ্রুত ফল দেখানোর সুযোগ এবং একই সঙ্গে প্রত্যাশার চাপও রয়েছে।
স্থানীয় সরকার জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রশাসনিক কাঠামো। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে স্থানীয় অবকাঠামো-সরকারের সেবা জনগণের কাছে পৌঁছানোর বড় অংশই এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। ফলে মঈন খানের পারফরম্যান্সও আগামী মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সাম্প্রতিক রদবদলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নতুন করে একজন প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। ফলে এখন একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে দুজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। এটি মন্ত্রীর ওপর অনাস্থা নয়। বরং সরকারের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনায় রাজনৈতিক টিম আরও শক্তিশালী করার কৌশল হিসেবেও দেখা যায়।
ভারত, আঞ্চলিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যু, প্রত্যর্পণ, বাণিজ্যিক কূটনীতি-সব মিলিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি বড়। ফলে এখানে একজনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দায়িত্ব ভাগ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এটি একজন মন্ত্রীর অতিরিক্ত কাজ কমিয়ে আলাদা মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দেওয়া।
বিশেষ করে বড় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের কাজের চাপ বিবেচনায় নিয়ে দায়িত্ব ভাগ করা হলে সেটি ‘ব্যক্তিকে সরানোর’ পরিবর্তে ‘কাজের গতি বাড়ানোর’ কৌশল হতে পারে।
মন্ত্রীরা কি তটস্থ?
রাজনৈতিক ভাষায় ‘তটস্থ’ শব্দটি হয়তো নাটকীয়। কিন্তু মন্ত্রিসভার ভেতরে মূল্যায়ন নিয়ে সতর্কতা যে বেড়েছে, তার বেশ কিছু দৃশ্যমান প্রমাণ আছে।
ছয় মাসের কাজের অর্জন ও কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতির তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়গুলো নিজেদের অর্জনের হিসাব তৈরি করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জন, কর্মকাণ্ড ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনা করছে।
ফলে একজন মন্ত্রীর জন্য এখন শুধু রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়া যথেষ্ট নয়। তাকে দেখাতে হচ্ছে-কী প্রতিশ্রুতি ছিল, কী কাজ হয়েছে, কতটা হয়েছে, কেন বাকি আছে, কোথায় প্রশাসনিক বাধা, এবং আগামী ছয় মাসে কী করা হবে।
এটি যদি নিয়মিত হয়, তাহলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে একটি পরিষ্কার বার্তা যায়—মন্ত্রিত্ব স্থায়ী কোনো রাজনৈতিক পুরস্কার নয়।
জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খান চরচাকে বলেন, “সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া যেমন সম্মানের, তেমনি সেই দায়িত্বের সঙ্গে জনগণের কাছে জবাবদিহিও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন কোথাও পরিবর্তন প্রয়োজন, সেটা তার এখতিয়ার। একটি সরকারকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে হলে সময় সময় মূল্যায়ন করতেই হবে। কে কোথায় কতটা ভালো করছেন, কোথায় কাজের গতি বাড়ানো প্রয়োজন-এসব বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব।”
মঈন খানের ভাষায়, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, “এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। ফলে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করা। মন্ত্রিসভায় কে থাকল, কে গেল—এটা শেষ কথা নয়; জনগণ সরকারকে কীভাবে মূল্যায়ন করছে, সেটিই শেষ কথা।”
পরিবর্তনের আরেকটি কারণ, ‘গতি’
তারেক রহমান সরকারের সবচেয়ে দৃশ্যমান রাজনৈতিক বার্তাগুলোর একটি হলো ‘গতি’। সরকারের পাঁচ বছরের মেয়াদ দীর্ঘ হলেও প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই ১৮০ দিনের কর্মসূচি সামনে এনেছেন। এর অর্থ, পাঁচ বছর অপেক্ষা করে সাফল্য দেখানোর সুযোগ নেই। প্রথম কয়েক মাসেই জনগণের কাছে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার চাপ রয়েছে।
এই জায়গায় কোনো মন্ত্রণালয় যদি ফাইল আটকে রাখে, সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করে, মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করতে না পারে কিংবা নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকে-তাহলে সেই মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
আর এখানেই ‘তারেক রহমানের গতির ভয়’ কথাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য।
প্রধানমন্ত্রী যদি ধারাবাহিকভাবে কাজের গতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নকে মন্ত্রিত্বের অন্যতম মাপকাঠি করেন, তাহলে মন্ত্রীদেরও নিজেদের কাজের দৃশ্যমান ফল দেখানোর চাপ থাকবে।
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনায় আলাদাভাবে নজরে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেল এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা রবিউল ইসলামের ওপরও। কারণ একই সঙ্গে একাধিক বড় অবকাঠামো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব তার হাতে। সড়ক ও মহাসড়ক, রেল যোগাযোগ, সেতু এবং নৌপরিবহন-সরকারের উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ প্রায় পুরো একটি অংশই তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ছে।
তবে রবিউল ইসলামের নিজের বক্তব্যেই এই দায়িত্বের চাপ ও সরকারের প্রত্যাশিত গতির সঙ্গে তাল মেলানোর চ্যালেঞ্জের বিষয়টি উঠে এসেছে। সরকারের ছয় মাসের মূল্যায়ন ও মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে চরচাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সরকারের গতির সঙ্গে ঠিক আমরা পেরে উঠছি না। এখানে সদিচ্ছার অভাব নেই। অন্যান্য নানান প্রতিকূলতা রয়েছে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”
একই সঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসা এই সরকারের সামনে প্রত্যাশা অনেক বেশি। ফলে সরকার ঘোষিত কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে গিয়ে নানা ধরনের বাস্তবতা ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
রবিউলের এই বক্তব্যকে মন্ত্রিসভার ভেতরের চাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবেও দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ তিনি সরাসরি স্বীকার করছেন, সরকার যে গতিতে এগোতে চাইছে, মন্ত্রণালয়গুলো সব ক্ষেত্রে সেই গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না। একই সঙ্গে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে এর পেছনে সদিচ্ছার অভাব নয়, বরং প্রশাসনিক, বাস্তবায়নগত ও অন্যান্য প্রতিকূলতা রয়েছে।
এখানে মূল প্রশ্নটি তাই শুধু রবিউল ইসলাম কতটা ভালো করছেন, তা নয়; বরং একজন মন্ত্রীর হাতে এতগুলো বড় অবকাঠামো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব রেখে সরকারের কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জন করা সম্ভব কি না।
সামনের পরিবর্তন কোথায়?
এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না আবার কার মন্ত্রিত্ব যাচ্ছে বা কে দায়িত্ব পাচ্ছেন। একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে কিছু বিষয় স্পষ্ট হয়েছে।
প্রথমত, একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের ভার কমানো হতে পারে। বড় কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজনের হাতে থাকায় কাজ ভাগ করে দেওয়া হতে পারে।
দ্বিতীয়ত, যেসব মন্ত্রণালয়ের কাজ প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না, সেখানে নেতৃত্ব পরিবর্তন আসতে পারে। সরকারসংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী সাত-আটটি মন্ত্রণালয়ের কাজ নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
তৃতীয়ত, কয়েকজন প্রতিমন্ত্রীকে মন্ত্রী করা এবং নতুন মুখ আনা হতে পারে। ছয় মাসের মূল্যায়ন ঘিরে এই সম্ভাবনার কথাও আগেই আলোচনায় ছিল।
অর্থাৎ সামনে পরিবর্তন মানেই শুধু ‘বাদ’ নয়। কেউ পদ হারাতে পারেন, কেউ দপ্তর হারাতে পারেন, কেউ বড় দায়িত্ব পেতে পারেন, আবার কেউ প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রীও হতে পারেন।
নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরীক্ষা?
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যদি সত্যিই মন্ত্রীদের নিয়মিত পারফরম্যান্স মূল্যায়নের সংস্কৃতি চালু করে, তাহলে এটি শুধু বর্তমান মন্ত্রিসভার জন্য নয় বরং বাংলাদেশের রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হতে পারে।
অতীতে মন্ত্রিসভায় রদবদল অনেক সময় রাজনৈতিক ভারসাম্য, দলীয় সমীকরণ, জোটের হিসাব কিংবা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক গুরুত্বের সঙ্গে বেশি যুক্ত ছিল। এবার তার সঙ্গে যদি মন্ত্রণালয়ের বাস্তব কর্মদক্ষতা একটি দৃশ্যমান মানদণ্ড হিসেবে যুক্ত হয়, তাহলে মন্ত্রীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি প্রশাসনিক সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে এর উল্টো ঝুঁকিও রয়েছে।
ঘন ঘন রদবদল হলে মন্ত্রণালয়ে নীতির ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে। একজন মন্ত্রী একটি পরিকল্পনা শুরু করার পর অন্যজন এসে সেটি বদলে দিলে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আবার একই মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টার সংখ্যা বাড়লে সমন্বয়ের বদলে দ্বন্দ্বও তৈরি হতে পারে।
সবশেষ রদবদলের পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে দুজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন-যা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নজিরবিহীন।
তাই শুধু ‘আরও মন্ত্রী’ বা ‘আরও রদবদল’ দিয়ে সরকারের গতি বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং প্রশ্ন হবে, কে কোন কাজের জন্য দায়ী এবং সেই কাজের ফলাফল কীভাবে মাপা হচ্ছে।
ছয় মাসে প্রথম রদবদল হয়েছে। কিন্তু এটিকে শেষ পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুরু থেকেই দেওয়া ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা, মন্ত্রণালয়গুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা, প্রথম রদবদল এবং অর্থমন্ত্রীর ‘ভবিষ্যতেও পরিবর্তন হতে পারে’ বক্তব্য; এর ধারাবাহিকতার বিষয় স্পষ্ট করছে। মন্ত্রিত্ব পাওয়া হয়তো রাজনৈতিক অর্জন; কিন্তু মন্ত্রিত্ব ধরে রাখার জন্য এখন কাজের হিসাব দিতে হবে। ফলে আগামী কয়েক মাসে মন্ত্রীদের সামনে শুধু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়, আরেকটি প্রতিপক্ষও থাকবে—নিজেদের পারফরম্যান্সের হিসাব।
আজ যিনি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, আগামীর মূল্যায়নে তার দপ্তর বদলে যেতে পারে। যে প্রতিমন্ত্রী এখন অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে, তিনি উঠে যেতে পারেন মন্ত্রীর কাতারে। আবার যে মন্ত্রী মনে করছেন তার চেয়ার নিরাপদ, পরবর্তী রদবদলে তার হাত থেকে চলেও যেতে পারে মন্ত্রণালয়।
এই অনিশ্চয়তাই হয়তো তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বার্তা, ‘কাজ করুন, ফল দেখান-না হলে জায়গা অন্য কেউ নেবে।’

স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তো একাধিক হতে পারেন না! বিজেপি হয়তো ভারতের জাতীয় পরিচয় ও প্রতীকে নতুন রং যোগ করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু ইতিহাসকে নতুনভাবে সাজানোর এই চেষ্টা মানুষের মধ্যে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য হয়নি।

আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে বিমসটেক সভাপতি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সঙ্গে তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে আমন্ত্রণ পেলেও প

গত শুক্রবারের একটি ঘটনা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে আয়ুশ চক্রবর্তী প্রিয়ম নিজ বাসায় হত্যার শিকার হন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইয়াবা আসক্ত দুই প্রতিবেশী যুবক সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস

সামরিক ইতিহাসে এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যেখানে রণাঙ্গনে অসাধারণ পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শনের পরও কৌশলগত ভুলের কারণে চূড়ান্ত পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। ইতিহাসবিদ ব্রেট ডেভোরো, যিনি রোমান অর্থনীতি ও সামরিক ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ, ফরেইন পলিসি পত্রিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক