Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশ্লেষণ

ট্রাম্পের হুমকির পর কিউবার পাশে চীন

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১: ১৫
ট্রাম্পের হুমকির পর কিউবার পাশে চীন
ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যবর্তী উত্তেজনা একটি দীর্ঘমেয়াদী ইস্যু হলেও এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে এটি নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের পর চীন সরাসরি কিউবার সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

Advertisement

ট্রাম্পের মন্তব্য ও চীনের পাল্টা বার্তা

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে একটি ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দোরগোড়ায় অবস্থিত দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে ‘বিদেশি শত্রুদের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সেখানে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ তথা রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। ট্রাম্প সরাসরি দাবি করেন যে, কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থা খুব শিগগিরই ভেঙে পড়বে বা এর পতন ঘটবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে চীন। বেইজিং ও হাভানার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, চীন যেকোনো ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কিউবাকে সমর্থন করবে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বেইজিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কিউবার নিজস্ব জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিজ দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী উন্নয়ন পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতায় চীন সবসময় তাদের পাশে থাকবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে চীন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনের চক্রান্তে তারা কিউবাকে একলা ছেড়ে দেবে না।

কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবা বর্তমানে তাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করছে। দেশটিতে তীব্র খাদ্য সংকট, জ্বালানি অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ বিভ্রাট (ব্ল্যাকআউট) নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলা মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিউবার অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া দেশের জীর্ণ অবকাঠামো ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়া সংকটকে আরও গভীর করেছে।

২০২৬ সালে এই সংকট অত্যন্ত মারাত্মক রূপ নেয়, যার অন্যতম মূল কারণ ছিল ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকো থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের তথ্যমতে, গত বছর কিউবার মোট আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৬ শতাংশই আসত এই দুটি দেশ থেকে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর সেখান থেকে তেল আসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, যেসব দেশ কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে তাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেয় ওয়াশিংটন, যার ফলে মেক্সিকোও তেল পাঠানো স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পুরো দ্বীপ দেশটি এক অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকটে পড়ে।

ট্রাম্প কি ক্ষমতার চূড়া ছুঁয়ে পতনের দিকে যাচ্ছেন? trump new

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যবর্তী উত্তেজনা একটি দীর্ঘমেয়াদী ইস্যু হলেও এ বছর সেপ্টেম্বর মাসে এটি নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বক্তব্যের পর চীন সরাসরি কিউবার সার্বভৌমত্বের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্য ও চীনের পাল্টা বার্তা

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে একটি ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের দোরগোড়ায় অবস্থিত দ্বীপ রাষ্ট্রটিকে ‘বিদেশি শত্রুদের একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং সেখানে ‘মৌলিক পরিবর্তন’ তথা রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানান। ট্রাম্প সরাসরি দাবি করেন যে, কিউবার বর্তমান শাসনব্যবস্থা খুব শিগগিরই ভেঙে পড়বে বা এর পতন ঘটবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে চীন। বেইজিং ও হাভানার মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৬৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, চীন যেকোনো ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কিউবাকে সমর্থন করবে।

বেইজিং স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কিউবার নিজস্ব জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিজ দেশের পরিস্থিতি অনুযায়ী উন্নয়ন পথ বেছে নেওয়ার স্বাধীনতায় চীন সবসময় তাদের পাশে থাকবে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে চীন স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনের চক্রান্তে তারা কিউবাকে একলা ছেড়ে দেবে না।

কিউবার বর্তমান অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট

রুশ সংবাদমাধ্যম আরটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবা বর্তমানে তাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করছে। দেশটিতে তীব্র খাদ্য সংকট, জ্বালানি অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ বিভ্রাট (ব্ল্যাকআউট) নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দশকের পর দশক ধরে চলা মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কিউবার অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া দেশের জীর্ণ অবকাঠামো ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন কমে যাওয়া সংকটকে আরও গভীর করেছে।২০২৬ সালে এই সংকট অত্যন্ত মারাত্মক রূপ নেয়, যার অন্যতম মূল কারণ ছিল ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকো থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া। এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের তথ্যমতে, গত বছর কিউবার মোট আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৮৬ শতাংশই আসত এই দুটি দেশ থেকে। তবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো অপসারিত হওয়ার পর সেখান থেকে তেল আসা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে, যেসব দেশ কিউবাকে তেল সরবরাহ করবে তাদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেয় ওয়াশিংটন, যার ফলে মেক্সিকোও তেল পাঠানো স্থগিত করতে বাধ্য হয়। এর ফলে পুরো দ্বীপ দেশটি এক অভূতপূর্ব জ্বালানি সংকটে পড়ে।

কেমন হবে লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিকীকরণ?militarization in latin america

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ ও রাজনৈতিক অবস্থান

যুক্তরাষ্ট্র কেন কিউবার ওপর এই মাত্রায় চাপ প্রয়োগ করছে, তার ব্যাখ্যা পাওয়া যায় ট্রাম্পের নীতিতে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে তিনি কিউবার বর্তমান নীতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতির জন্য ‘একটি অসাধারণ ও অস্বাভাবিক হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করেন। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, কিউবা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রাশিয়া, চীন ও ইরানের সাথে ঘনিষ্ঠ অক্ষ গড়ে তুলেছে এবং একই সাথে হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সংগঠনগুলোকে সমর্থন দিচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের মতে, তাদের বর্তমান নীতির উদ্দেশ্য হলো এসব হুমকি দূর করা এবং কিউবায় গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনা।

তবে কিউবা সরকারের পক্ষ থেকে এই সব অভিযোগ কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। হাভানার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করে দেশের সরকারকে উৎখাত করা। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে কিউবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক বিধিনিষেধকে একটি ‘নৌ অবরোধের’ সাথে তুলনা করেন এবং এটিকে এক প্রকার ‘যুদ্ধ অপরাধ’ বা ‘যুদ্ধের শামিল’ বলে অভিহিত করেন। কিউবা সরকারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক যুদ্ধ চালাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চীনের কৌশলগত নীতি ও সহায়তা

চীন তার পররাষ্ট্রনীতিতে যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতার কথা বলে আসছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের একটি বহুমুখী বা বহুমুখী বিশ্বব্যবস্থার সমর্থক হিসেবে তুলে ধরতে চায় বেইজিং, যেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সার্বভৌম সমতা নিশ্চিত হবে। কিউবা ছাড়াও ইরান ও ইসরায়েল যুদ্ধের সময় চীন একই ধরনের নীতি গ্রহণ করে সামরিক শক্তি প্রয়োগ ও শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টার বিরোধিতা করেছে।

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে চীনা ভাইস প্রেসিডেন্ট হান ঝেং সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নাম না করে প্রাসঙ্গিক দেশকে কিউবার বিরুদ্ধে শক্তির ব্যবহার বন্ধ করা এবং সমস্ত নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

কূটনৈতিক সমর্থনের পাশাপাশি চীন কিউবাকে সরাসরি অবকাঠামোগত ও মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে কিউবার বিদ্যুৎ সংকটের নিরসনে চীন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও অর্থায়ন সরবরাহ করেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কিউবার মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরবিদ্যুতের অবদান ছিল মাত্র ২ শতাংশ, যা চীনের সহায়তায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির অবদান ২১.৪ শতাংশে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া চীন জরুরি খাদ্য সহায়তা প্রদান, কিউবার পুরোনো ঋণ পুনর্গঠন এবং নতুন আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে।

ট্রাম্প সম্পর্কে সি আসলে কী ভাবেনtrump and xi

বেইজিংয়ের নিজস্ব স্বার্থ ও অর্থনৈতিক লাভ

চীন কিউবাকে কেবল মানবিক কারণে সাহায্য করছে না, বরং এর পেছনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ জড়িত রয়েছে। লাতিন আমেরিকায় নিজেদের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামোগত ভিত্তি শক্ত করতে কিউবা চীনের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার।

১. বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ: কিউবা ২০১৮ সাল থেকেই চীনের বিশ্বব্যাপী অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’-এ অংশ নিয়েছে, যা লাতিন আমেরিকায় বেইজিংয়ের প্রভাব বিস্তারে সহায়তা করে।

২. আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে সমর্থন: তাইওয়ান, হংকং ও জিনজিয়াংয়ের মতো স্পর্শকাতর কূটনৈতিক ইস্যুতে কিউবা সবসময় বেইজিংয়ের অবস্থানকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে এসেছে।

৩. গ্লোবাল সাউথের নেতৃত্ব: প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈশ্বিক উদ্যোগগুলোকে সমর্থন করার মাধ্যমে কিউবা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে চীনের নেতৃত্ব জোরদার করতে সাহায্য করছে।

কিউবার প্রতি অন্যান্য দেশের অবস্থান ও সমর্থন

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জাতিসংঘে কিউবার প্রতি আন্তর্জাতিক বিশ্বের ব্যাপক সমর্থন দেখা গেছে। ২০২৫ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে ১৬৫টি দেশ ভোট দিয়েছিল, যেখানে মাত্র ৭টি দেশ বিপক্ষে ভোট দেয় এবং ১২টি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

চীন ছাড়াও বিশ্বের বেশ কিছু দেশ কিউবার এই সংকটময় মুহূর্তে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। এরা হলো মেক্সিকো (খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠিয়েছে), স্পেন (ঋণ রূপান্তর কর্মসূচি চালু করেছে), ইউরোপীয় ইউনিয়ন (মানবিক সহায়তার জন্য তহবিল বরাদ্দ করেছে) ও রাশিয়া।

মস্কো দীর্ঘদিন ধরে কিউবার অন্যতম বিশ্বস্ত অংশীদার। ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে জাতিসংঘের মাধ্যমে ১৮ মিলিয়ন ডলারের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পর ২০২৬ সালেও রাশিয়া আরও ২ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। এছাড়া ২০২৬ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে একটি রুশ ট্যাঙ্কার ৭,৩০,০০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল নিয়ে কিউবায় পৌঁছায়, যা এই বছরের মধ্যে দেশটিতে আসা একমাত্র বড় তেলের চালান।

জাতিসংঘের অধিবেশনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ কিউবার বর্তমান মানবিক পরিস্থিতিকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া ও সন্ত্রাসবাদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকদের তালিকা থেকে কিউবাকে বাদ দেওয়া।

ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে কিউবা যখন এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখোমুখি, তখন চীন ও রাশিয়া তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চীনের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং জাতিসংঘের প্ল্যাটফর্মে কিউবার পক্ষে জোরালো অবস্থান প্রমাণ করে যে, লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বেইজিং পুরোপুরি প্রস্তুত। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের এই সামনা-সামনি অবস্থান কিউবাকে কেন্দ্র করে নতুন এক ভূ-রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধের সূচনা করেছে।

বিষয়: যুক্তরাষ্ট্রচীনশুল্কভেনেজুয়েলাডোনাল্ড ট্রাম্পকিউবা
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    জনশক্তি রপ্তানির গণ্ডি ছাড়িয়ে ঢাকা-রিয়াদকে বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়তে হবে

  • ২

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

  • ৩

    ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী নিয়ে করা প্রশ্নগুলোর ইন্টেনশন ঠিক নাই’

  • ৪

    ‘এনজিও সরকার ২ বছরের শাসনে দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেল’

  • ৫

    ‘আমাদের হাতে অন্য ধর্মের লোকেরা অনিরাপদ-এটা আওয়ামী লীগের পুরনো খেলা’

সম্পর্কিত
  • ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের নির্বাচন ও লাতিন আমেরিকায় মার্কিন আধিপত্য

    ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের কৌশল, রাজনৈতিক মেরুকরণ, ডিজিটাল প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে

  • মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ

    বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় প্রতিদিনের বিক্ষোভ মোদির সামনে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এর মাত্র কয়েক মাস আগেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একই ধরনের বিক্ষোভের মুখে তার শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল।

  • নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    নড়বড়ে মুশফিকুরকে কেন খেলাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের একমাত্র টেস্টের স্কোয়াড যখন ঘোষিত হয়, তখন থেকেই আলোচনা ছিল মুশফিকুর রহিমকে নিয়ে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এরকম একটা অগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে কেন মুশফিকুরকে দলে রাখা হলো, সেটা প্রশ্নের উদ্রেক করেছিল। কেননা মুশফিকুরের স্কোয়াডে থাকা মানেই একাদশে থাকাটাও ন

  • নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    নিউইয়র্ক টাইমস: ট্রাম্পের প্রতি রিপাবলিকানদের হতাশা বাড়ছে

    ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। পরিবর্তনটি সরাসরি ডেমোক্র্যাটদের প্রতি মানুষের ভালোবাসা বা রিপাবলিকান ভোটারদের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বরং এর কেন্দ্রে রয়েছে ক্লান্তি