
টিকাদানে রেকর্ডের পরেও দেশে হামে এত মৃত্যু কেন?
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ মাত্র এক বছর আগে, ২০২৫ সালজুড়ে হাম শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ শিশুর এবং কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
গণতন্ত্রের কথা উঠলেই নির্বাচনের কথা আসে। বর্তমান বিশ্বে নির্বাচন ও গণতন্ত্র আসলে একে অন্যের প্রতিচ্ছবি মাত্র। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন যে গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তি, তা নিয়ে তাই কোনো প্রশ্ন নেই। কিন্তু এটিই গণতন্ত্রের একমাত্র ভিত্তি নয়।
লিবার্টিজ ডট ইইউ–এর এক প্রতিবেদনে গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে নির্বাচনসহ ১৪টি মূলনীতির কথা বলা হয়েছে। যেখানে নির্বাচন ছাড়াও রয়েছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, রাজনৈতিক সহনশীলতা, সমতা ও বহুদলীয় ব্যবস্থার মতো উপাদানগুলোর কথা। এগুলোই মূলত একটি গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি তৈরি করে দেয়। আর সেই প্রসঙ্গেই আমাদের দেশের বাস্তবতায় প্রশ্ন ওঠে যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্র কী অবস্থায় আছে? সারা দুনিয়ার তুলনায় কোথায় দাঁড়িয়ে?
কী বলছে ভি–ডেম
আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভি-ডেমের ডেমোক্রেসি রিপোর্ট ২০২৬–এ ২০২৫ সালের উদার গণতন্ত্র সূচক (এলডিআই) এবং এর সব উপসূচকে দেশগুলোর স্কোরের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তাতে বাংলাদেশ চলে গেছে ‘ক্লোজড অটোক্রেসি’ ক্যাটাগরিতে। ইংরেজি শব্দ অটোক্রেসির বাংলা হয় একনায়কতন্ত্র।
ভি-ডেমের ডেমোক্রেসি রিপোর্ট ২০২৬–এ অন্যান্য দেশের সাথে বাংলাদেশেরও বিভিন্ন সময়ের গণতান্ত্রিক অবস্থান উঠে আসে। সেখানে ১৭৯ দেশের তালিকায় লিবারেল ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩, ইলেক্টোরাল ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে ১৪০তম, লিবারেল কম্পোনেন্ট ইনডেক্সে ১৩০তম, ইগ্যালিটারিয়ান কম্পোনেন্ট ইনডেক্সে ১৫০তম, পার্টিসিপেটরি কম্পোনেন্ট ইনডেক্সে ১৪৭তম, ডেলিবারেটিভ কম্পোনেন্ট ইনডেক্সে ১১৮তম।
লিবারেল ডেমোক্রেসি ইনডেক্সে (এলডিআই) দেশগুলোর স্কোর নিয়ে একটি তুলনাও করা হয়েছে। মূলত ২০১৫ সাল বনাম ২০২৫ সালের ওই তুলনায় ১০ বছরের ব্যবধানে দেশগুলো কতটা এগিয়েছে বা পিছিয়েছে, সেটি দেখানো হয়েছে। তাতে বিশ্বের নিচের দিকের বা খারাপ অবস্থার ৫০ শতাংশ দেশের তালিকাও আছে। আর সেখানেই বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকের ২০-৩০ শতাংশে।
হিস্ট্রি অব রেজিমস অব দ্য ওয়ার্ল্ড বাই কান্ট্রি-ইয়ার, ১৯৭৫–২০২৫—এই ক্যাটাগরিতে দেখা যায়, দেশগুলোকে লিবারেল ডেমোক্রেসি, ইলেক্টোরাল ডেমোক্রেসি, ডেমোক্রেটিক গ্রে জোন, অটোক্র্যাটিক গ্রে জোন, ইলেক্টোরাল অটোক্রেসি ও ক্লোজড অটোক্রেসি এই বৈশিষ্ট অনুযায়ী ভাগ করা হয়েছে ।
সেখানে দেখা যায় বাংলাদেশ ১৯৯০ সালের পর থেকে ২০০০ সালের পরবর্তী কিছু সময় পর্যন্ত ছিল ‘ডেমোক্রেটিক গ্রে’ জোনে। এর আগে ও পরে আমাদের দেশ ‘ইলেক্টোরাল অটোক্রেসি’ ও ‘ক্লোজড অটোক্রেসি’ ক্যাটাগরিতে ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালে বেশ লম্বা সময় পর আবার ‘ক্লোজড অটোক্রেসি’ ক্যাটাগরিতে নেমেছে বাংলাদেশ। উল্লেখ্য, ভি–ডেম–এর হিসাব অনুযায়ী এই ক্যাটাগরিটি গণতন্ত্রের সর্বনিম্ন অবস্থা নির্দেশ করে।
আইডিইএ যা বলছে
ইন্টারন্যাশনাল আইডিইএ একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা, যা বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে কাজ করে। আইডিইএ–এর ২০২৫ সালের ‘গ্লোবাল স্টেট অব ডেমোক্রেসি’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের দেশগুলোর গণতন্ত্রের অবস্থার একটি পরিসংখ্যানভিত্তিক উত্তর দিয়েছে। ১৭৩টি দেশের গণতান্ত্রিক অবস্থা উঠে এসেছে তাতে।
চারটি বড় ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এগুলো হলো প্রতিনিধিত্ব, অধিকার, আইনের শাসন ও জনগণের অংশগ্রহণ। চারটির কোনোটিতেই বাংলাদেশ শক্তিশালী অবস্থানে নেই। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে, যেখানে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের স্কোর নেমে এসেছে শূন্যে।
২০২৪ সালে প্রতিনিধিত্বের সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১৫১তম, স্কোর ০। অর্থাৎ গণতন্ত্রের এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে মূল্যায়ন করা দেশগুলোর একেবারে নিচের দিকে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা আরও গুরুত্বপূর্ণ। রেখাচিত্রে দেখা যায়, ১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে প্রতিনিধিত্বের সূচক তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে ছিল। এরপর এতে বড় ধরনের পতন ঘটে। ২০২৪ সালে সূচকটি শূন্যে পৌঁছায়।
ইন্টারন্যাশনাল আইডিইএ–এর হিসাবে, প্রতিনিধিত্বের মধ্যে রয়েছে বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, কার্যকর সংসদ, নির্বাচিত সরকার, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এবং স্থানীয় গণতন্ত্রের মতো বিষয়। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের গত পাঁচ বছরের প্রবণতাও সুবিধার নয়। আইডিএ বলছে, বাংলাদেশে প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, নির্বাচিত সরকার এবং কার্যকর সংসদের ক্ষেত্রেও অবনতি হয়েছে।
ফলে শুধু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নের বাইরে গিয়ে নির্বাচনে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, ভোটারের পছন্দ এবং নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের কার্যকারিতা কতটা ছিল, সেই প্রশ্নও সামনে আসে।
ইন্টারন্যাশনাল আইডিইএ বলছে, অধিকার সূচকে বাংলাদেশের ২০২৪ সালের স্কোর ০.৩২৮। র্যাংকিংয়ে ১৩৪তম। এই সূচকে নাগরিক স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সমতা, বিচার পাওয়ার সুযোগ, মৌলিক কল্যাণের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ গণতন্ত্র শুধু ব্যালট বাক্সে সীমাবদ্ধ নয়, নাগরিক তার অধিকার কতটা স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারছেন, সেটিও এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আইনের শাসনে অবশ্য বাংলাদেশের অবস্থা তুলনামূলক ভালো, কিন্তু ঠিক স্বস্তির নয়। চারটি ক্ষেত্রের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে ভালো র্যাংকিং আইনের শাসনে। এখানে বাংলাদেশ ১০৬তম, স্কোর ০.৩৯৪। তবে এই অবস্থানকে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ আইনের শাসনের সূচকেও বাংলাদেশের স্কোর ০.৪-এর নিচে। এই সূচকে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, আইন প্রয়োগের পূর্বানুমানযোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত নিরাপত্তার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়।
অর্থাৎ আদালত কতটা স্বাধীন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগ কতটা নিয়মের মধ্যে হচ্ছে এবং নাগরিক কতটা নিরাপদ ও আইনের সমান সুরক্ষা পাচ্ছেন, এসব প্রশ্নও বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সামগ্রিক অবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
এবার আসা যাক অংশগ্রহণের প্রশ্নে। অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্কোর ০.৪৩০ এবং র্যাংকিং ১৩২তম। চারটি ক্ষেত্রের মধ্যে স্কোরের দিক থেকে এটিই সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এখানেও দীর্ঘমেয়াদি চিত্র পুরোপুরি আশাব্যঞ্জক নয়। আইডিইএ–এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সূচক ২০০০-এর দশকে প্রায় ০.৬-এর কাছাকাছি উঠেছিল। এরপর তা ধীরে ধীরে কমেছে এবং ২০২৪ সালে ০.৪৩-এ দাঁড়িয়েছে।
এই সূচকে নাগরিক সমাজ, নাগরিক সম্পৃক্ততা এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ, বাংলাদেশের মানুষ রাজনীতি ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার সক্ষমতা পুরোপুরি হারিয়ে ফেলেনি। বরং নাগরিক অংশগ্রহণ এখনও গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। কিন্তু সেই অংশগ্রহণ রাষ্ট্রের সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা কার্যকর প্রভাব ফেলতে পারছে, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ওপরের এই চার সূচক একসঙ্গে তাহলে কী বলছে? বাংলাদেশের এই চারটি স্কোরকে আলাদা আলাদাভাবে দেখলে একটি অসম গণতান্ত্রিক কাঠামোর ছবি পাওয়া যায়। অংশগ্রহণ স্কোর সবচেয়ে বেশি। আইনের শাসন তার পরের অবস্থানে। অধিকার আরও নিচে। আর প্রতিনিধিত্বে স্কোর একেবারে শূন্য।
এর অর্থ দাঁড়ায়, নাগরিকদের অংশগ্রহণের কিছু সুযোগ থাকলেও সেই অংশগ্রহণ রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের রূপান্তরে অবদান রাখছে না। একই সঙ্গে অধিকার ও আইনের শাসনের দুর্বলতা নাগরিকের রাজনৈতিক ক্ষমতাকে আরও সীমিত করে ফেলছে।
অথচ, একটি কার্যকর গণতন্ত্রে এই চারটি বিষয় একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন ছাড়া প্রতিনিধিত্ব দুর্বল হয়। কার্যকর সংসদ না থাকলে সরকারের ওপর রাজনৈতিক জবাবদিহি কমে যায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা দুর্বল হয়ে পড়লে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা কমে যায়। আর নাগরিক অধিকার ও অংশগ্রহণ দুর্বল হলে জনগণের রাজনৈতিক প্রভাবও কমে যায়।
সুতরাং, এই দুই আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সূচক বিবেচনায় নিলে বলতেই হয় যে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অবস্থা খুব একটা সুবিধার। এ দেশে গণতান্ত্রিক পরিস্থিতির অভাবিত উন্নতি কখনও হয়নি। মূলত তালিকার নিচের দিকেই বাংলাদেশের আনাগোণা। কখনও অবনতিই হয়, কখনও কিছুটা উন্নতি। তবে এক্ষেত্রে ধারাবাহিক উন্নতির পথে বাংলাদেশ আসলে কবে যেতে পারবে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানাই।

টিকাদানে রেকর্ডের পরেও দেশে হামে এত মৃত্যু কেন?
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে ১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। অথচ মাত্র এক বছর আগে, ২০২৫ সালজুড়ে হাম শনাক্ত হয়েছিল ১৩২ শিশুর এবং কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

ব্রিকস আর কেবল স্লোগান নয়
দিল্লিতে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলনটি এমন এক সময়ে আয়োজিত হয়েছে, যখন এই জোটটি উদীয়মান অর্থনীতির ক্লাব থেকে বিশ্ব বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক কাঠামোর রূপরেখা তৈরির এক অন্যতম শক্তিশালী মঞ্চ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। জোটে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর সাথে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কের

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টা: সরকার কি সমন্বয়ের জটিলতায়?
দীর্ঘদিন পর ক্ষমতায় ফিরে সরকার গঠনের সময় বিএনপি আকারে ছোট, দক্ষ ও গতিশীল প্রশাসনের কথা বলেছিল। কিন্তু সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় মন্ত্রিসভা আরও বড় হয়েছে। শুধু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারাও। কোথাও একজন মন্ত্রীর সঙ্গে একাধিক প্রতিমন্ত্রী

নারী ক্রিকেট: নিগারের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ
অনেকটা সময় ধরেই নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন ধরা হয় নিগার সুলতানাকে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কও তিনি। তবে এশিয়া কাপে ভরাডুবির পর একই সঙ্গে দলে তার ভূমিকা এবং নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দলের ভেতর তো বটেই, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডেও (বিসিবি) নিগারকে নিয়ে বাড়ছে অসন্তোষ।