
মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ বাংলাদেশ হাইকমিশনের
মালয়েশিয়ায় যেকোনো দাপ্তরিক কাজে চলাচলের ক্ষেত্রে সবসময় প্রয়োজনীয় ও বৈধ নথিপত্র সঙ্গে রাখার জন্য সকল প্রবাসীদেরকে অনুরোধ করেছে হাইকমিশন।
চরচা প্রবাস ডেস্ক

আয়ারল্যান্ডে নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য নতুন নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে। আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা এ সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন দেশটির বিচারমন্ত্রী জিম ও’ক্যালাহান।
সংস্কারের পরিকল্পনার মধ্যে অন্যতম হলো—আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনকারীদের দেশটিতে আট বছর বসবাস করতে হবে, যা বর্তমানে পাঁচ বছর।
এ ছাড়া, নাগরিকত্বপ্রত্যাশীদের একটি ভাষা পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এবং তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর—এমন প্রমাণও দিতে হবে।
আয়ারল্যান্ডের গণমাধ্যম আরটিই–এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নাগরিকত্ব ‘অধিকার নয়, বিশেষ সুবিধা’
আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্ব পেতে আগ্রহীদের জন্য নতুন নিয়ম চালুর আগে আরটিই সিক্স ওয়ান নিউজকে জিম ও’ক্যালাহান বলেছেন, “নাগরিকত্ব একটি বিশেষ সুবিধা, অধিকার নয়।”
ও’ক্যালাহান বলেন, অভিবাসন ও নাগরিকত্বের বিষয়ে তিনি “সাধারণ বোধসম্পন্ন যুক্তিবাদী মানুষের” সমর্থন ধরে রাখার লক্ষ্যেই এসব প্রস্তাব আনছেন।
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইরিশ নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তিনি বলেন, “গত বছর ২৫ হাজার নতুন নাগরিককে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছে—এটি একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যা।”
মন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবটি ‘যৌক্তিক’। অন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের সঙ্গে আয়ারল্যান্ডকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করাও ‘অযৌক্তিক নয়’ বলে তিনি মন্তব্য করেন।
কাউন্টি অফলির টুলামোরে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ফিনা ফলের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন নিশ্চিত করেন, আইরিশ নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার একটি ‘ভারসাম্য’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে এবং এ বিষয়ে প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নাগরিকত্বের প্রস্তাবগুলোর মাধ্যমে আমরা অন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যরাষ্ট্রের ব্যবস্থার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হচ্ছি।”
মার্টিন আরও বলেন, ‘স্বাধীনতা ও আত্মনির্ভরতার’ সঙ্গে ‘সম্পূর্ণ নির্ভরশীলতার’ মধ্যে একটি ‘ভারসাম্য’ থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা প্রস্তাবগুলো নিয়ে আলোচনা করবে এবং সেগুলো এগিয়ে নেবে।
তিনি বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জোট সরকার অভিবাসন ব্যবস্থায় ‘উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন’ এনেছে।
“আমি মনে করি, এই সরকার একটি উল্লেখযোগ্য ও দৃঢ় পরিবর্তন এনেছে। এখন আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থা আরও কঠোর ও শক্তিশালী। আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা কমছে এবং গত ১২ মাসে তা কমেছে। এ ছাড়া, প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রেও সবকিছু আরও দক্ষ ও কার্যকরভাবে হচ্ছে,” তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়নের আশ্রয় চুক্তি কাজ করছে এবং আমরা ভালোভাবে প্রস্তুত। চুক্তিটি বাস্তবায়নের সক্ষমতার দিক থেকেও বিচারমন্ত্রী ভালোভাবে প্রস্তুত। আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসনের খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসছে।”
‘বৃদ্ধির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ’
ও’ক্যালাহান নিশ্চিত করেছেন, ইউক্রেনীয়রা অস্থায়ী সুরক্ষা নির্দেশনার আওতায় আয়ারল্যান্ডে কাটানো সময়কে আট বছরের বসবাসের মেয়াদের মধ্যে হিসাব করতে পারবেন না।
তিনি বলেন, “কখনোই এমনটা ভাবা হয়নি যে ইউক্রেন থেকে আসা ব্যক্তিরা এখানে পাঁচ বছর থাকলেই আইরিশ নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী হবেন। সেটি অস্থায়ী সুরক্ষার পুরো উদ্দেশ্যকেই ব্যাহত করবে, কারণ এই সুরক্ষা অস্থায়ী।”
ও’ক্যালাহান বলেন, নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত নতুন নিয়মগুলো “এক প্রজন্মের মধ্যে আয়ারল্যান্ডের নাগরিকত্বের নিয়মে সবচেয়ে বড় সংস্কার”।
মন্ত্রী বলেন, নাগরিকত্বের আবেদন করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হবে আবেদনকারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার প্রমাণ দেওয়া, যাতে তিনি ‘রাষ্ট্রের ওপর বোঝা’ হয়ে না দাঁড়ান।
এর মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমায়, আবেদন করার তারিখের আগের নির্ধারিত সময়ে, নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক সুরক্ষা ভাতা না নেওয়ার শর্তও থাকবে।
ও’ক্যালাহান বলেন, আরও কিছু সংশোধনীর মাধ্যমে জনশৃঙ্খলা ও জাতীয় নিরাপত্তার কারণে নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য মন্ত্রীর একটি পৃথক ক্ষমতা নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া দ্রুত করার জন্য একটি সহজতর ব্যবস্থাও চালু করা হবে।
নতুন আইনে স্পষ্টভাবে বলা হবে, কোনো আবেদনকারী অভিবাসন আইন লঙ্ঘন করলে তাকে নাগরিকত্ব দেওয়া থেকে বিরত রাখা হতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, অভিবাসন ও নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার অপব্যবহার নিরুৎসাহিত করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আইরিশ নাগরিক নন—এমন স্বামী, স্ত্রী বা সঙ্গীকেও নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার আগে আরও দীর্ঘ সময় আয়ারল্যান্ডে বসবাস করতে হবে।
আইরিশ ন্যাশনালিটি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ২০২৬ আগামীকাল বুধবার মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে।
এদিকে লেবার পার্টির বিচারবিষয়ক মুখপাত্র অ্যালান কেলি বিচারমন্ত্রীর প্রতি বসবাসের শর্ত পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আট বছরের বসবাসের শর্ত আসলে কোন সমস্যার সমাধান করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, তা মন্ত্রী ও’ক্যালাহানকে ব্যাখ্যা করতে হবে। নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করা আমাদের অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নত করার গুরুতর প্রচেষ্টার চেয়ে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরির অনুশীলন বলেই বেশি মনে হচ্ছে।”
কেলি বলেন, “যারা বছরের পর বছর এখানে বসবাস করেছেন, এখানে কাজ করেন, কর দেন, এখানে সন্তানদের বড় করছেন এবং নিজেদের সম্প্রদায়ে অবদান রাখছেন, তাদের আইরিশ নাগরিক হওয়ার জন্য একটি স্পষ্ট ও যুক্তিসংগত পথ থাকা উচিত।”
তিনি বলেন, “সফলভাবে সমাজের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে কর্মী আকর্ষণের ক্ষেত্রে একটি দেশ হিসেবে আমাদের সক্ষমতার ওপর বাস্তব নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”
‘কঠোর’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’
অভিবাসন সহায়তা সংগঠন ডোরাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন প্রস্তাবগুলোর “কোনো কার্যকর উদ্দেশ্য নেই”।
জন ল্যানন আরটিই’স নিউজ অ্যাট ওয়ান–কে বলেন, আইরিশ নাগরিকত্ব পাওয়া এমনিতেই খুব কঠিন। তিনি প্রস্তাবগুলোকে ‘বেশ কঠোর’ ও ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে বর্ণনা করেন।
ল্যানন বলেন, ডোরাস এমন অনেক মানুষকে দেখেছে, যাদের নাগরিকত্বের আবেদন গ্রহণের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, অথবা দেশের বাইরে কাটানো সময়ের কারণে তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।
তিনি বলেন, “বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই যারা আইরিশ সমাজ ও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন, মনে হচ্ছে তাদেরই শাস্তি দেওয়া হচ্ছে।”
“আট বছর সময়সীমা কঠোর ও অপ্রয়োজনীয়। তবে এর পাশাপাশি আরও একটি বিষয় বিশেষভাবে কঠোর—মনে হচ্ছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে মানুষকে নির্দিষ্ট কিছু সামাজিক কল্যাণ ভাতা নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
প্রস্তাবিত ভাষাগত শর্তের বিষয়ে অর্থাৎ যার আওতায় ভাষা পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, সে বিষয়ে ল্যানন বলেন, সরকার যদি এটি প্রত্যাশা করে, তাহলে পর্যাপ্ত ভাষা শেখার ক্লাসের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, অধিকাংশ অভিবাসী ইংরেজি শিখতে চান, কিন্তু তাদের সেই সুযোগ নেই। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সমাজের সঙ্গে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে ভাষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
“সামগ্রিকভাবে অভিমুখী করার (ওরিয়েন্টেশন) কর্মসূচিতে আরও বিনিয়োগ প্রয়োজন। কারণ এগুলো ছাড়া এসব মানুষ আমাদের সম্প্রদায়ের সঙ্গে একীভূত হতে পারবেন না,” বলেন ল্যানন।
তিনি বলেন, নাগরিকত্ব না থাকলে অভিবাসীদের তাদের অভিবাসন-অনুমতি বা স্ট্যাম্পের জন্য নিয়মিত আবেদন করতে হয় এবং প্রতিবার এর জন্য ৩০০ ইউরো খরচ হয়।
“এর অর্থ হলো, এখানে তাদের অবস্থান নিয়ে তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন এবং যেকোনো সময় তাদের অভিবাসন-অনুমতি প্রত্যাখ্যাত হতে পারে,” বলেন তিনি।

মালয়েশিয়ায় প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ বাংলাদেশ হাইকমিশনের
মালয়েশিয়ায় যেকোনো দাপ্তরিক কাজে চলাচলের ক্ষেত্রে সবসময় প্রয়োজনীয় ও বৈধ নথিপত্র সঙ্গে রাখার জন্য সকল প্রবাসীদেরকে অনুরোধ করেছে হাইকমিশন।

ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাসের কনস্যুলার সেবা পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ দূতাবাস, মাসকাটের চ্যান্সারি ১৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) বর্তমান স্থান থেকে নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হবে। ভবন স্থানান্তরের কার্যক্রমের কারণে ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কনস্যুলার সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে।

ফিনল্যান্ডে থাকি, কিন্তু হৃদয় পড়ে থাকে জন্মভূমির বুকে
আমি জানি, একটি রাস্তা কোনো দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা নয়। কিন্তু একটি গ্রামের মানুষের দীর্ঘ ২৩ বছরের অপেক্ষা নিশ্চয়ই গুরুত্বহীন হতে পারে না। আমার জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই লেখা।

স্বপ্নের দামে স্বর্গসুখ
আজকের ব্যর্থতাকে জীবনের শেষ অধ্যায় মনে করবেন না। একটু থামুন। নিজের ভেতরে ফিরে তাকান। আশা ধরে রাখুন। আপনার সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যান। আর মনে রাখুন, কষ্টের সময়টি আপনার পুরো জীবন নয়, এটি আপনার জীবনের একটি অধ্যায় মাত্র।