জিম্বাবুয়ে সফরে তিন পেসারের চোটের ধাক্কা নিয়ে অত আলোচনা হয়তো হয়নি, তবে লিটন দাসের চোটের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা একেবারে কম আলোচনাও হয়নি! আরও এক মাস আগেই যার মাঠে ফেরার কথা ছিল, সেই লিটনই কিনা এখনো লড়ছেন ফিটনেস ফিরে পেতে!
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে শুরুতে না রাখা হলেও পরে লিটন দলে জায়গা করেছে নিয়েছেন নাটকীয়ভাবে। কিন্তু লিটনের এই চোট সেরে উঠতে দেরি হওয়া এবং দলে ঢোকার নাটকীয়তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মেডিকেল বিভাগের কর্মকাণ্ড নিয়ে জন্ম দিচ্ছে অনেক প্রশ্নের।
গত ১৪ জুন দেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে কাফ মাসলে চোট পান লিটন। সেই সময় মেডিকেল বিভাগ বিসিবিকে জানায়, চোট গুরুতর নয়। ফলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজের দলেও রাখা হয় তাকে। তবে স্কোয়াডে থাকলেও একটি ম্যাচেও খেলা হয়নি লিটনের।
তবুও টনক নড়েনি বিসিবির। মেডিকেল বিভাগের আশ্বাসে লিটনকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দলে রাখা হয়। তবে আনফিট থাকায় তাকে টেস্টের আগেই সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপরও অবশ্য জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে লিটনের খেলা প্রায় নিশ্চিতই ছিল। বিশেষ করে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তিনি খেলবেন, এটাও বলা হয়। তবে আরও একবার দর্শক হয়ে থাকতে হয় লিটনকে। ফিরিয়ে আনা হয় দেশে।
বিসিবির মেডিকেল বিভাগের দাবি, এভারকেয়ার হাসপাতালে লিটনের এমআরআই স্ক্যান করিয়ে তারা কোনো সমস্যা পাননি। সেই কারণেই খেলার জন্য সবুজ সংকেত দিয়েছেন তারা। অন্যদিকে, পরে জানা যায়, এই পুরো সময়ে ব্যথা থেকে যাওয়ার কথা লিটন বারবার জানিয়েছেন।
এভারকেয়ারের সেই স্ক্যান রিপোর্টে বিসিবির ভরসা না থাকলেও মেডিকেল বিভাগ ছিল অনড়। শেষমেশ অবস্থা বেগতিক দেখে লিটনকে সিঙ্গাপুরে পাঠিয়ে স্ক্যান করানো হয়। সেখানে সমস্যা ধরা পড়ে। সেখানে অবশেষে চিকিৎসা হয় লিটনের, চিকিৎসা শেষে কয়েকদিন অনুশীলন করে প্রথম টেস্টের দলে ডাক পেয়েছেন তিনি।
তবে এর মাঝে পুরো প্রক্রিয়াটি যেভাবে এগিয়ে গেছে, সেটা বিসিবিকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দিয়েছে। লিটনের জিম্বাবুয়ে ও সিঙ্গাপুরে যাওয়া-আসার পেছনে বিশাল খরচ (২৫ লাখ টাকা) ছাড়াও যে বিভ্রান্তি হয়েছে, সেটা মোটেও পেশাদার ছিল না।
বিসিবির একটি সূত্র চরচাকে জানিয়েছেন তাদের হতাশার কথা, “২৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে, এটা নিয়ে মিডিয়াতে যেভাবে আলোচনা হচ্ছে, সেটা কিন্তু আমাদের মূল সমস্যা না। আমরা তাদের (মেডিক্যাল বিভাগ) কাছে জানতে চেয়েছি, তিন ফরম্যাটে দলের গুরুত্বপূর্ণ একজন খেলোয়াড়ের চোট নিয়ে কেন তারা নিশ্চিত হতে পারল না। এই সিরিজ শেষে তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখা হবে।”
লিটনের চোট ছাড়াও, সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক পেসারের চোট পেয়ে ছিটকে যাওয়া চিন্তায় ফেলেছে বিসিবিকে। মুস্তাফিজুর রহমান জিম্বাবুয়ে সফরের শুরুতেই পান চোট, আর শরীফুল ইসলাম ওয়ানডে সিরিজ চলাকালীন। তাদের দুজনের চেয়েও বেশি আলোচনা হচ্ছে নাহিদ রানার চোট নিয়ে, যে চোটের কারণে নাহিদ মিস করবেন অস্ট্রেলিয়া সফরও।
টিম ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, নাহিদের চোট দুর্ভাগ্যজনক। কারণ, তার ওয়ার্কলোড যথাযথভাবে দেখভাল করেই খেলানো হয়েছে। তবে এখানেও ছিল মেডিকেল বিভাগের পক্ষ থেকে সম্মতি। অর্থাৎ, এখানেও তারা গড়বড় করেছেন।
মেডিকেল বিভাগের কাজের শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতা বাড়াতে তাই শোকজ করা হয়েছে বিসিবির পক্ষ থেকে। পাশাপাশি আগে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করা শ্রীলঙ্কার মারিও ভিল্লাভারায়নকে রিহ্যাব ম্যানেজার হিসেবে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা এসেছে।
সর্বশেষ বোর্ড মিটিংয়ের পর সভাপতি তামিম ইকবাল যেভাবে এই ব্যাপারে কথা বলেছিলেন, তাতে মনে হয়েছিল, আপাতত মেডিকেল বিভাগ হয়তো সব ঠিকঠাকই করবে। তবে এরপরও লিটনকে যেভাবে কয়েকদিনের মধ্যে প্রথম টেস্টের জন্য ফিট ঘোষণা করা হয়েছে, সেটা বিস্ময়করই ছিল।
যেখানে লিটনের ফিটনেস টেস্ট করানোর কথা ছিল দেশের মাটিতে ১২ আগস্ট, সেখানে তিনি কিনা ১০ দিন আগেই পুরোদমে ব্যাটিং অনুশীলন করেছেন। এত দ্রুত সেরে উঠেছেন যে, তাকে প্রথম টেস্টের জন্য দলেও নিয়েছে বাংলাদেশ।
১৩ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া প্রথম টেস্টে লিটন যদি শেষ পর্যন্ত খেলতে পারেন, সেটাও জন্ম দেবে প্রশ্নের। আর যদি নাও খেলেন, তাহলে নিশ্চিতভাবেই মেডিকেল বিভাগকে পড়তে হবে জবাবদিহিতার মুখে।