
রাষ্ট্রপতি নিয়ে বিএনপির বৈঠকে ‘চমক’ কোথায়?
বৈঠকের আগে থেকেই বিএনপির একাধিক নেতা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণই হবে বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।

বেশ কিছুদিন ধরেই সারা দেশে চলছে তীব্র গ্যাস সংকট। কক্সবাজারের মহেশখালীতে থাকা দুটি ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনালের একটিতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দৈনিক প্রায় ৪৫০-৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়। শুরুতে দেশীয় বিশেষজ্ঞরা ত্রুটি শনাক্ত করতে পারেননি। পরে যুক্তরাজ্য ও আরব আমিরাত থেকে বিশেষজ্ঞ নিয়ে আসার কারণে মেরামত প্রক্রিয়া আরো দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
এ কারণে গত কয়েকদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্যাসের সংকটের কারণে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জনদুর্ভোগ। দেশের শিল্প-বাণিজ্যসহ সাধারণ নাগরিক জীবনও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল। দৈনন্দিন জীবনে গ্যাসের অভাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হচ্ছে সিএনজিচালিত পরিবহন আর বাসায় রান্নার জন্য গ্যাস লাইনের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো।
রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকা যেমন- মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, কাঁঠালবাগান, হাতিরপুল, মিরপুর, বাড্ডা, রামপুরা, বাসাবো, উত্তরা ইত্যাদি এলাকায় গ্যাসের লাইনযুক্ত বাসাগুলোতে প্রতিদিনের রান্নার জন্য সময়মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। অল্পকিছু সময়ের জন্য গ্যাস থাকলেও, সেটা যথেষ্ট না।
ধানমন্ডির শংকর এলাকার বাসিন্দা তৌহিদা ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন গ্যাস আসে রাত ১২টার পরে। আবার ভোর ৫টায় গ্যাস চলে যায়। এত রাতে রান্না করা তো সম্ভব না। সারা দিনে একদমই গ্যাস থাকে না। আর রাতে যে গ্যাস পাই, সেটার প্রেশার খুব কম থাকে। একটা রান্না চড়ালে সেটা হতে সময় লাগে দুই ঘণ্টা। যার কারণে এখন ইনডাকশন চুলা ব্যবহার করা শুরু করেছি।”
উত্তরার বাসিন্দা শম্পা বেগম বলেন, “সকাল ৮টা থেকে বিকেল পর্যন্ত গ্যাস থাকে না। গ্যাস আসার পরও একসাথে দুই চুলা জ্বলে না। এক চুলায় আগুন দিলে অন্য চুলায় মোমবাতির মতো টিমটিম করে আগুন জ্বলে। প্রতিদিনের রান্না আর খাওয়া-দাওয়ার অনিয়ম হয়ে যাচ্ছে। এভাবে আর কয়েকদিন চললে সিলিন্ডার কেনা ছাড়া উপায় থাকবে না আর। গ্যাসের বিলও দেব, আবার সিলিন্ডারও কিনব- খরচ বাড়ছেই।”

গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী ব্যাচেলর বা মেসের বাসিন্দারা। ফ্যামিলি বাসায় গ্যাস না থাকলে ইনডাকশন বা সিলিন্ডার ব্যবহার করে বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া গেলেও, ব্যাচেলর বাসায় সে ব্যবস্থা করা বেশ কঠিন। যার ফলে প্রতি বেলাতেই বাইরে খেতে হচ্ছে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার ব্যাচেলরদের। রেস্টুরেন্টগুলোয় সিলিন্ডার দিয়ে রান্না হওয়ার কারণে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েনি খুব একটা।
হাতিরপুল এলাকার রেস্টুরেন্ট মালিক শোয়েব আলী বলেন, “গত কয়েকদিন ধরে দুপুরে খাওয়ার সময় ক্রেতার চাপ বেড়েছে।”
ঢাকা শহরের অন্যতম জনপ্রিয় পরিবহন ব্যবস্থা সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সিএনজিচালক আর যাত্রী- উভয়ের জন্যই চলমান গ্যাস সংকট এক বিভীষিকার নাম। আজ রোববার ঢাকার বিভিন্ন গ্যাস পাম্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিএনজি আর গাড়ির দীর্ঘ লাইন। মাসখানেক আগে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে এমন চিত্র দেখা গিয়েছিল ফিলিং স্টেশনের সামনে। এখন যেন একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
মতিঝিলের নাভানা সিএনজি ফিলিং স্টেশনে আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সাইনবোর্ডে লেখা, “গ্যাস সরবরাহ সাময়িক বন্ধ আছে”। শাহবাগের পূর্বাচল ফিলিং স্টেশনে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস আসে রাত ১১টার দিকে আর বন্ধ হয়ে যায় ভোরবেলা। গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গ্যাস অপারেটর জামান বলেন, “গ্যাসের প্রেশার কম থাকার কারণে আমাদের ক্ষতি হচ্ছে। সাধারণ সময়ে প্রেশার থাকে ১৬০ থেকে ২০০ এর মধ্যে। এখন প্রেশার কমে হয়ে থাকে ১১০ থেকে ১৩০। যার কারণে মেশিনে চাপ বেশি পড়ে, কারেন্ট বিলও অনেক বেশি আসে। গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে কি না জানিনা, কিন্তু এই অবস্থা বেশি দিন চললে সবার অবস্থা খারাপ হয়ে যাবে।”
সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সামনে কমপক্ষে ছয় থেকে আট ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস পাচ্ছেন সিএনজি অটোরিকশাচালকরা। অনেক ফিলিং স্টেশনে সিএনজি ঢুকতেও দেওয়া হয় না। শুধু গাড়ি থাকলে গ্যাস নিতে দেওয়া হয়।
সিএনজিচালক আব্দুল আলীম আক্ষেপ করে বলেন, “প্রতিদিন যদি সাত ঘণ্টা লাইনে দাঁড়াই, তাহলে খ্যাপ কখন মারবো? দিন শেষে জমার টাকা দিলে হাতে কিছুই থাকে না। ভাড়াও বাড়াতে পারছি না, কাস্টমার মানে না। মানবেতর জীবনযাপন করছি আমরা।”
উবার-পাঠাও ইত্যাদি অ্যাপে রাইড শেয়ার সার্ভিস যারা ব্যবহার করেন তারা পড়েছেন অন্যরকম বিড়ম্বনায়। অ্যাপ ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, গাড়ি আর সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি দেখায়। যেসব গাড়ি তেল ব্যবহার করে, সেগুলোর ভাড়াও বেশি দেখায়। আর গ্যাসে চলা গাড়ি আর সিএনজি অটোরিকশার ভাড়া গড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকা বেশি দেখাচ্ছে।
এই গ্যাস সংকটের সমাধান কবে এবং কীভাবে হবে সে উত্তর জানা নেই কারো। পেট্রোবাংলার একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলেও কেউ কথা বলতে চাননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা আশ্বস্ত করে বলেন, “আগামীকাল সোমবারের মধ্যে আরো ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করার সক্ষমতা ফিরে আসতে পারে। এমনটা হলে সংকটের কিছুটা হলেও সমাধান হবে।”
তবে গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কেমন সময় লাগবে এ বিষয়ে কোন ধারণা দেননি পেট্রোবাংলার এই কর্মকর্তা।
গ্যাস সংকটের সমাধান কবে হবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো বিবৃতি দেওয়া না হলেও, সবশেষ ৩১ জুলাই কিছুটা ধারণা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। একটি অনলাইন সেমিনারে যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, “১০ আগস্টের মধ্যে গ্যাসের সংকট কিছুটা কমতে পারে। সমস্যা পুরোপুরি ঠিক হবে সেই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি না, তবে সংকট সমাধানে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক।”

বৈঠকের আগে থেকেই বিএনপির একাধিক নেতা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় প্রার্থী নির্ধারণই হবে বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অংশ নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে সংসদের বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ দাবিতে বুধবার নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকও করেছে দলটি। নির্বাচন কমিশনের নতুন আইন অনুযায়ী, এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্র

চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ বাতিল করে গত ১৪ জুন ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে পর্ষদের সব ক্ষমতা ও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

বৃষ্টির মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সিলেটের সাদাপাথর এলাকা দেখতে প্রতিদিন আসছেন অসংখ্য পর্যটক। সপ্তাহজুড়েই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত এই পর্যটন কেন্দ্রটি। সাদাপাথর এলাকায় ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়ি ঝরনার পানি এসে মিশেছে ধলাই নদে।