দেশে চলমান হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব সত্ত্বেও ভাইরাসটির মধ্যে এমন কোনো জিনগত পরিবর্তন (মিউটেশন) ঘটেনি, যা বিদ্যমান টিকার সুরক্ষা বলয়কে ভেঙে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সাম্প্রতিক এক গবেষণার প্রাথমিক ফলাফলে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
৯ মাসের কম বয়সী শিশু- যাদের এখনও নিয়মিত হামের টিকা দেওয়ার সময় হয়নি- তারাই এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বার্তা সংস্থা ইউএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণকৃত উপাত্ত টিকার কার্যকারিতা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাকে সমর্থন করে না বলে জানিয়েছে গবেষকরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব সন্দেহভাজন শিশু টিকার পূর্ণাঙ্গ দুটি ডোজ গ্রহণ করেছে, তাদের পজিটিভ হওয়ার হার অন্য শিশুদের তুলনায় অনেক কম। ভাইরাসটির জিনোম বিশ্লেষণ করে জানা যায়, বাংলাদেশে ছড়ানো এই ধরনটি মূলত বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘বি৩’ জিনোটাইপের অন্তর্ভুক্ত।
আইসিডিডিআর,বির ভাইরোলজি ল্যাবরেটরির অ্যাসোসিয়েট বিজ্ঞানী ড. নুরুজ্জাহান মালিহা বলেন, ‘‘সংক্রমণের ভয়াবহতার কারণে টিকা অকার্যকর হওয়ার ভয় তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তবে আমাদের অনুসন্ধানে ভাইরাসটি টিকার প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেদ করার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। দুই ডোজ পাওয়া শিশুদের আক্রান্তের হার তুলনামূলক কম, যা টিকার কার্যকারিতাকেই নির্দেশ করে।’’
আইসিডিডিআর,বির নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ জানান, সম্পূর্ণ টিকাদানের পরও আক্রান্ত হওয়ার কারণ, মৃত্যুর ঝুঁকির কারণসমূহ, অপুষ্টির প্রভাব এবং মায়ের অ্যান্টিবডির স্থায়িত্ব চিহ্নিত করতে তারা আরও একটি বিস্তৃত গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) প্রাপ্ত উপাত্ত অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ জুলাইয়ের মধ্যে দেশজুড়ে এক লাখ ২২ হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে ল্যাবরেটরিতে ১৫ হাজার ২৭২ জনের শরীরে সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। একই সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে সন্দেহভাজন ৭২১ জন এবং ল্যাবে নিশ্চিত ৯৫ জন শিশুর মৃত্যু নথিভুক্ত করা হয়েছে।