“ছয় মাস পরপর গ্যাস বিল দিয়া আসি ফাও৷ সারা দিনে গ্যাস থাকেই না। যাইয়া দেহেন চুলা চেক কইরা। আজকে চার বছর ধইরা পাই না। বিল দিতাসি ফাও৷”
আজ রোববার এভাবেই গ্যাসের সংকটের কথা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন রাজধানীর ইসলামবাগ এলাকার বাড়িওয়ালা মো. হারুন রশিদ।
ওই এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মো. শরিফ উদ্দিন বলেন, “ভাই গতকাল রাত ৩টার সময় চুলা চেক করে দেখলাম গ্যাস নেই৷ আজকে বিকেল ৩টা বাজে, এখনো রান্না হয় নাই। হোটেলে খেতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমি না হয় হোটেলে খাইলাম, কিন্তু বাসার সবাই কী করবে?”
স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ইয়াসির আরাফাত বলেন, “একসময় প্রকৃতিতে গ্যাসের সংকট ছিল না। আমরা যেমনে খুশি ব্যবহার করেছি। আর এখন চুলাই জ্বলে না অনেকের। গ্যাস তো আর চাইলেই তৈরি করা যায় না। এখন অপেক্ষা করতে হবে৷ এ ছাড়া তো আর উপায় নেই৷ আর জরুরি ভিত্তিতে সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হবে৷ এই আরকি!”
আরেক ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, “গ্যাসের সংকট মূলত বাসা-বাড়িতে। ছোট-বড় কারখানার প্রায় সবগুলোই চলে বিদ্যুতের মাধ্যমে৷ সব কারখানাই চলছে ভালোভাবে৷”
বাড়িওয়ালা মো. আব্দুল আজিজ বলেন, “এই যে লাইন দেখেন। গ্যাস তো নাই। সিলিন্ডার আর বিদ্যুতের চুলায় রান্না করি৷ কোনো সময় লাকড়ির চুলা। আমি একা না, সবাই বলব।”
আরেক বাড়িওয়ালা এনামুর রহিম বলেন, “ভাই আমাগোর বাড়ির ভিতরে কোনো গ্যাস নাই৷ বাড়ির ভিতরে কী, এই মহল্লায় কোনো গ্যাস নাই। গ্যাসের কারণে বাড়িতে কোনো ভাড়াটিয়া থাকে না, চইলা যায়৷ এখন বাড়ি পুরাটাই খালি।”
গ্যাসের চুলায় আগুন ধরিয়ে গৃহকর্মী শাহিনুর বেগম দেখান চুলা জ্বলছে না। তিনি বলেন, “আমাদের মাঝরাতে রান্না করতে হয়৷ আর দিনে রান্না করলে করতে হয় সিলিন্ডার গ্যাস দিয়ে৷ মধ্যরাতে ছাড়া গ্যাস থাকেই না৷”