গত ১৬ বছরে দেশের গণমাধ্যম স্বৈরাচারী ব্যবস্থার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
আজ রোববার বিকেল ৪টায় রাজধানীর বিআইএএম ফাউন্ডেশন মিলনায়তনে ‘জুলাই রেভোলিউশনারি অ্যালায়েন্স ফাউন্ডেশন’ আয়োজিত ‘কনক্লেভ অন জুলাই রেভোলিউশনারি’ শীর্ষক এক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। এ সম্মেলনের একটি বিশেষ অধিবেশনে জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে গণমাধ্যম ও সংস্কৃতির সার্বিক ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
আলোচনায় বিগত আওয়ামী শাসনামলে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, “বিগত সরকার আমলে গণমাধ্যমের একটি বড় অংশ ‘কালচারাল ফ্যাসিবাদের’ জন্ম দিয়েছিল এবং ২৪-এর জুলাই বিপ্লব সেই তৈরি করা কৃত্রিম বয়ানকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।”
ফারুকী আরও বলেন, “আমাদের গণমাধ্যম চাটুকারিতার প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। বিগত ১৬ বছরে মিডিয়া একটি কালচারাল ফ্যাসিস্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল, যেখানে শাসকদলের বাইরের মানুষদের প্রায় 'অমানুষ' হিসেবে উপস্থাপন করা হতো।” তিনি আরও যোগ করেন, ২৪-এর অভ্যুত্থান এই বিভাজনের বয়ানকে তছনছ করে দিয়েছে এবং জুলাইয়ের আসল অঙ্গীকার ছিল সব রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ধারাকে এক মঞ্চে আনা।
গণমাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের দোসরদের প্ল্যাটফর্ম দেওয়া প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রেস সচিব ও ‘দ্য ডেইলি ওয়াদা’-এর সম্পাদক শফিকুল আলম বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে বলেই কঠোর পদক্ষেপ নেয়নি। তবে যেসব আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক ও গণমাধ্যম জুলাই বিপ্লবের চেতনা নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং অপতথ্য ছড়ায়, তাদের বিষয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।” তিনি আরও জানান, বিগত গণহত্যার দোসর হিসেবে কাজ করা সাংবাদিকদের প্রকাশ্যে ক্ষমা না চাওয়া পর্যন্ত মূলধারার গণমাধ্যমে ফিরিয়ে আনা উচিত নয়।
একই প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক আশরাফ কায়সার বলেন, “যারা সরাসরি হত্যার পেছনে না থেকেও নিজেদের কলম ও বক্তব্য দিয়ে গণহত্যার পক্ষে প্লট বা আবহ তৈরি করেছে, তারাও সমান অপরাধে অভিযুক্ত।” তিনি সতর্ক করে বলেন, কালচারাল ফ্যাসিবাদের প্রকৃত মুখোশ উন্মোচন করা না গেলে ভবিষ্যতে আবারও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের ঝুঁকি থেকে যাবে বলে জানান তিনি।
বিডিজবস-এর প্রতিষ্ঠাতা এ কে এম ফাহিম মাশরুর ২৪-এর বিপ্লবকে এক অভূতপূর্ব ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবী ও গণমাধ্যম জনগণের পাশে থাকলেও ২৪-এর আন্দোলনে প্রায় শতভাগ মিডিয়া ছিল গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্টদের পক্ষে। তিনি বলেন, “জুলাইয়ের আন্দোলনে গণমাধ্যমের এই অনুপস্থিতি ও ভূমিকার কথা স্বীকার করেই ভবিষ্যতের মুক্ত বাকস্বাধীনতার নতুন কাঠামো গড়ে তুলতে হবে।”