Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
১৭ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

বিরোধী দলের কাজটা কী আসলে?

সরকারি দল স্বাভাবিকভাবেই সরকারি নীতিকে পাস করাতে চায়, সেটির মান্যতাই প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অন্যদিকে বিরোধী দলের কাজ হলো, নানা প্রশ্নে জেরবার করে, যৌক্তিক বিরোধিতার মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলকে স্বেচ্ছাচারী হতে না দেওয়া।

অর্ণব সান্যাল

অর্ণব সান্যাল

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৪: ৪২
বিরোধী দলের কাজটা কী আসলে?

বিরোধী শব্দটি শুনলে আপনাদের চোখের সামনে কী ভেসে ওঠে? বা কী মনে হয়, বলুন তো?

Advertisement

হ্যাঁ, একদল মানুষ কোমর বেঁধে বিরোধিতা করছে, স্লোগান দিচ্ছে–এমনটা অনেকের মানসপটে আঁকা হয়ে যেতে পারে। যেহেতু বিরোধিতা বলতে আমাদের এই দেশে অনেকাংশে শুধু বিরোধিতা করে যাওয়াকেই বোঝানো হয়, তাই এ রকম ভাবাটা অযৌক্তিক কিছু নয়। এ দেশের অনেকে অবশ্য বিরোধিতা বলতে শুধু ঝগড়া করাকেও বোঝে। সেক্ষেত্রে তাই ডানে গেলেও বিরোধিতা হয়, বামে গেলেও হয়। কিন্তু সমাধান আর কেউ খোঁজে না।

বিরোধী–পদের হিসেবে এটি বিশেষণ। আভিধানিকভাবে এর অর্থ হলো, বিরুদ্ধ বা প্রতিকূল। কূলের বিরুদ্ধে বা স্রোতের বিপরীতে যেতে থাকলেও বিরোধী তকমা পাওয়া যায়। আর এমনটা করাকেই বলে বিরোধিতা।

এই বিরোধিতা নানাভাবে করা যায়। একটি হলো যৌক্তিক উপায়ে। আরেকটি হলো অযৌক্তিক উপায়ে যেকোনো কিছুতেই বিরোধিতার ঝান্ডা তুলে ধরা। গণতন্ত্রে রাজনীতিসহ অন্য যেকোনো বিষয়ে বিরোধিতা করার ক্ষেত্রে অন্ততপক্ষে গঠনমূলক পথে হাঁটার একটা তাগিদ থাকে। গণতন্ত্র তাত্ত্বিকভাবেই এমন। এই কারণেই এ পন্থার নাম গণের তন্ত্র।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

আমাদের দেশেও বর্তমানে এই তন্ত্রই চলছে। মাঝে গণ অনুপস্থিত ছিল দুই বছর। এখন আবার নির্বাচনের পর তা ফিরে এসেছে। আর এই গণতন্ত্র চর্চার অন্যতম প্রধান শর্তই হলো, পার্লামেন্ট বা সংসদে জনপ্রতিনিধিদের আলোচনা। জনপ্রতিনিধি ক্ষমতাসীন দল থেকেও হয়, আবার ক্ষমতার বাইরে থেকেও হয়। তাই সংসদে সরকারি দল থাকে, বিরোধী দলও থাকে।

BNP
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ছবি: বাসস

সরকারি দল স্বাভাবিকভাবেই সরকারি নীতিকে পাস করাতে চায়, সেটির মান্যতাই প্রতিষ্ঠা করতে চায়। অন্যদিকে বিরোধী দলের কাজ হলো, নানা প্রশ্নে জেরবার করে, যৌক্তিক বিরোধিতার মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলকে স্বেচ্ছাচারী হতে না দেওয়া। একইসাথে একটি গঠনমূলক সমাধানের পথও খুলতে হয় বা সেদিকে এগিয়ে যেতে হয় অন্তত। এভাবেই একটা ভারসাম্য আসার সম্ভাবনা থাকে, নইলে শাসনকাঠামো আর ঠিক পথে থাকে না।

অথচ, আমাদের দেশে এখন বিরোধীদল কেন জানি সঠিক ও গঠনমূলক বিরোধিতার বদলে আশপাশের অন্য অনেক কিছু নিয়ে কথা বলছে সংসদে। কী রকম? চলুন, কিছু উদাহরণ দেখা যাক।

ক্ষমা চাওয়া না চাওয়া বিতর্ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের জামায়াতপ্রীতিjamat-CA

উদাহরণ ১

এবারের সংসদে যাওয়ার আগ থেকেই বেশ আলোচিত ছিলেন আমির হামজা। কথিত ইসলামী বক্তা হিসেবে তিনি নির্বাচনের অনেক আগে থেকেই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের পরিচিত মুখ। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন আমির হামজা।

বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনে সংসদের বাইরে সাংবাদিকদের কাছে কিছু মন্তব্য করেন আমির হামজা। বাজেট নিয়েই। এবারের বাজেটের আকার ৯ লাখ কোটি টাকার ওপরে। কিন্তু আমির হামজা বলেন, বাজেটের আকার এত বড় হওয়া উচিত হয়নি।

এবারের সংসদে যাওয়ার আগ থেকেই বেশ আলোচিত ছিলেন আমির হামজা। ছবি: বাসস
এবারের সংসদে যাওয়ার আগ থেকেই বেশ আলোচিত ছিলেন আমির হামজা। ছবি: বাসস

আমির হামজা ওই সময় আরও বলেন, লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে না। ঘাটতি থেকে যাবে। চাহিদা পূরণ হবে না। একই সাথে গত ৫৫ বছরের ধারাবাহিকতায় একটি গতানুগতিক বাজেট হয়েছে বলে মন্তব্য করেন এই এমপি।

আমির হামজা তখন আরো বলেন, বাজেট ২০০ কোটি টাকা হলে ভালো হতো। এরপর আবার বলেন, বাজেটের আকার ৬০০ কোটি টাকা হলেও হতো। পরে আবার বলেন, বাজেটের আকার ৬০০০ কোটি টাকা হলে ভালো হতো।

আমির হামজা পরে অবশ্য দাবি করেন, তিনি বলতে চেয়েছিলেন ছয় লাখ কোটি টাকার বাজেট হওয়া উচিত। মুখ ফসকে ছয় হাজার কোটি বলে ফেলেছেন।

যদিও ওই ভিডিওতে (যা পরে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে) শুরুর দিকেই দেখা যায় যে, একজন সহকারীর কাছ থেকেই বাজেটের আকার যে ৯ লাখ কোটি টাকার ওপরে, তা তিনি জেনে নিচ্ছেন। এরপরই আমির হামজা ২০০, ৬০০ বা ৬০০০ কোটি টাকা-সংক্রান্ত মন্তব্য করেন।

সংসদে জামায়াতের তীব্র সমালোচনায় ফারুক, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ানোর দাবিparliament

উদাহরণ ২

গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর এমপি আব্দুল মুনতাকিম বাজেট আলোচনায় মুক্তিযুদ্ধে তার পরিবারের সদস্যদের অবদান নিয়ে কিছু দাবি করেন।

জামায়াতের সংসদ সদস্য আব্দুল মুনতাকিম সংসদে দেওয়া বক্তব্যে বলেছিলেন, “আমার বাবা, আমার দাদা যুদ্ধে শহীদ। আমার আব্বারা সাত ভাই–চারজন মুক্তিযোদ্ধা। আমার দাদারা ১৯ জনের ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা।” তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার পরিবারে ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা। আমার মা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠকদের একজন, কিন্তু আমি আজকে মুক্তিযুদ্ধের কথা বললেই কেউ কেউ অনেক কিছু বলে ফেলে।”

এই এমপির বক্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে জানা যায়, তিনি নির্বাচনী হলফনামায় জানিয়েছেন, তার জন্ম ১৯৮১ সালের ১০ জানুয়ারি। তখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে প্রশ্ন ওঠে ১৯৮১ সালে জন্ম নেওয়া এ সংসদ সদস্যের বাবা ১৯৭১ সালে ‘শহীদ’ হন কীভাবে? এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরসও ছড়িয়ে পড়ে।

বিষয়টি নিয়ে চরচাকে সংসদ সদস্য মুনতাকিম বলেন, ‘‘আমার কথা বলতে গিয়ে স্লিপ অব টাং হয়ে গেছে।” তার বাবা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ কি না–জানতে চাইলে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘‘না, ওইটা স্লিপ অব টাং হয়ে গেছে। আমার বাবা এখনো বেঁচে আছেন। আমার আব্বা আলহামদুলিল্লাহ, সুস্থ আছেন।”

সংসদ সদস্য মুনতাকিম। ছবি: সংগৃহীত
সংসদ সদস্য মুনতাকিম। ছবি: সংগৃহীত

হলফনামায় দেওয়া তার জন্মবৃত্তান্ত সঠিক কি না–জানতে চাইলে সংসদ সদস্য মুনতাকিম বলেন, ‘‘হ্যাঁ, সেটাই সত্যি। আমি ১৯৮১ সালে জন্মগ্রহণ করেছি।” পরিবারে কতজন মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ আছে–এ বিষয়ে সঠিক তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

নীলফামারীর এই সংসদ সদস্য বলেন, “আমার বক্তব্যে অসাবধানতাবশত ভুল হয়ে গিয়েছে।” এ নিয়ে স্পিকার বরাবর সংশোধনী দেওয়ারও দাবি করেছিলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত এপ্রিল মাসে সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ড. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের নিজেকে ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে দাবি করেছিলেন।

বাবাকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বলা স্লিপ অব টাং’: জামায়াত এমপিmuntakim

উদাহরণ ৩

বাজেট অধিবেশনেরই আরেকটি ঘটনা উল্লেখ করা যাক। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপি মু. মিজানুর রহমান গত ১৭ জুন সংসদে দেওয়া বক্তৃতায় এমপিদের সরকারি ফ্ল্যাটে ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও জানালার পর্দা চান।

মিজানুর রহমান বলেন, “আমরা বাজেটের ওপর কথা বলছি। সম্পূরক বাজেটও পাস হয়েছে। কিন্তু সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাটগুলোতে জানালা-দরজার পর্দাগুলো এখনও ঝোলানো হয়নি। আমরা শুনেছিলাম, আমাদের এই ফ্ল্যাটগুলোতে একটি করে ওয়াশিং মেশিন ও মাইক্রোওভেন দেওয়া হবে। এই পর্দা, ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন পাওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।”

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে এ নিয়ে সরব হয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলও। নিন্দুকদের বক্তব্য, জনগণের বদলে নিজেদের সুবিধা দেখতেই বেশি মনযোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের মধ্যে।

উদাহরণ ৪

জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশনে বক্তৃতা দিতে গিয়ে ছেলে-মেয়ের অবৈতনিক শিক্ষা নিয়ে একটি প্রশ্ন তোলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নুরুন্নিসা সিদ্দীকা। তিনি বলেন, “একটা জিনিস অবাক হয়ে লক্ষ্য করছি, গত তিন দশক ধরেই নারী শিক্ষার ওপরে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং নারীরা শিক্ষায় বেশ এগিয়েছে। কিন্তু আমার প্রশ্ন, শুধু কি নারীরাই এ দেশের নাগরিক, মেয়েরাই এদেশের নাগরিক? ছেলেরা নয়? তাহলে ছেলে, মেয়ে উভয়ের যদি অধিকার সমান হয়, তাহলে কেন ছেলেদের শিক্ষাকে অবৈতনিক করা হচ্ছে না?”

আপাতত চলুন, এই চারটি উদাহরণ নিয়েই ভাবা যাক। বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে ওঠা এসব মন্তব্য কতটুকু প্রাসঙ্গিক আসলে? কতটা নাগরিক দুর্ভোগ-সংক্রান্ত? কতটা সাধারণ মানুষের কল্যাণসাধনের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত? কতটা দায়িত্বশীল বলে বোধ হয়?

ধরুন, জামায়াতের নারী এমপি যখন সংসদে মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার তুলনা করে ছেলেদের অবৈতনিক শিক্ষার দাবি তুলছেন, তখন কি তিনি মনে রাখছেন যে, কেন মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা সরকার করেছিল? সমানাধিকারের প্রশ্নে? নাকি পিছিয়ে পড়া নারীদের এগিয়ে এনে পুরুষদের কাছাকাছি করতে? তা, এমন প্রশ্ন তোলার আগে জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য কি বোঝার চেষ্টা করেছেন, কেন সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রাখা হয়েছে?

দ্রুত স্থানীয় নির্বাচন চায় জামায়াত, মেয়র পদে নেই নারী প্রার্থীBangladesh Jamaat-e-Islami

অন্য তিনটি উদাহরণের ক্ষেত্রেও দেখা যাবে যে, এর অন্তত দুটি পুরোপুরি ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ বা ব্যক্তিগত চাহিদা দাবি। আরেকটি বুঝিয়ে দেয় যে, আইন প্রণয়নের জন্য সংসদে যাওয়া আইনপ্রণেতা সংসদে উত্থাপিত বিষয়ই ঠিকমতো জানেন না। অথচ এই আইনপ্রণেতাদের পেছনেই নাগরিকদের করের টাকা ব্যয় হচ্ছে। আর এমন ধরনের আইনপ্রণেতারা যখন বিরোধীদলীয় হন, তখন হতাশ বোধ করা ছাড়া উপায় থাকে না। কারণ, ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার সংসদীয় অধিকার নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, লোডশেডিং, অব্যাহত মূল্যস্ফীতি, জ্বালানি সংকট ইত্যাদি নিয়ে কথা বলার বদলে এমপিদের ওয়াশিং মেশিন বা ওভেন পাওয়া নিয়ে আলাপ তোলেন, তাও বাজেট অধিবেশনে, তখন আর কেমন বোধ হওয়া উচিত বলুন তো? আনন্দ নিশ্চয়ই লাগার কথা না, আর যাই হোক!

Bangladesh Jamaat-e-Islami
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লোগো। ছবি: বাসস

অথচ, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকে প্রশ্নের মুখে রাখার জন্য সংসদে সরাসরি এবং সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে জামায়াত জোটের সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৯০। কিন্তু জামায়াত, এনসিপির কোনো সংসদ সদস্য অর্থ বিলে সংশোধনী প্রস্তাব দেননি। অথচ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ, আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স স্থগিত হওয়া নিয়ে সংসদে তাদের অনেক বক্তব্য শোনা গেছে। তবে কি এই বিরোধী দল সব মানুষের হয়ে কথা বলতে সংসদে যায়নি?

এমন প্রশ্ন ওঠা অযৌক্তিক নয়, অস্বাভাবিকও নয়। বিশেষ করে ওপরের উদাহরণগুলো যখন সামনে আসে, তখন বিরোধী দলের সক্ষমতা বা জনতার উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব করার ইচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে। এসব প্রশ্নের ধারাবাহিকতায় আরও একটি চিন্তাও তখন সাধারণের মাথায় খেলা করতে পারে। সেটি হলো–এমন ঘরানার বিরোধী দলের কাজটা কী আসলে!

সুতরাং, সতর্ক হওয়া প্রয়োজন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর। বিশেষ করে যারা সংসদে আছেন, তাদের তো আরও বেশি। কারণ, কোনোভাবে যদি বিরোধী দল নিজেদের জনতার কাছে অপ্রাসঙ্গিক বা অহেতুক হিসেবে প্রমাণ করে ফেলে, তখন কিন্তু আমও যাবে, যাবে ছালাও!

অবশ্য সবচেয়ে বেশি বিপদ হবে আসলে এই বাংলার মানুষেরই। যদিও সাধারণ মানুষের কথা আর কেইবা ভাবে!

লেখক: বার্তা সম্পাদক, চরচা

বিষয়: বিএনপিজাতীয় সংসদজামায়াতে ইসলামী
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    ঢাকা উত্তর বিএনপির নতুন কমিটি: পুরনো নেতৃত্ব, নাকি নতুন মুখ?

  • ২

    নির্ভয়ে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

  • ৩

    উড়ন্ত গাড়ি উন্মোচন করল টেসলা

  • ৪

    মোদির দমন-পীড়ন: চ্যালেঞ্জের মুখে ভারতের গণতন্ত্র

  • ৫

    নিশ্চিন্তে উৎসব করুন: হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

সম্পর্কিত
  • জয়তু দেবী দুর্গা

    জয়তু দেবী দুর্গা

    বাংলাদেশে মাতৃপূজার যে বিচিত্র রূপ আছে সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে মাতৃদেবীর মধ্যে বহু যুগের বহু ধারা এসে মিশেছে। অনেক প্রাচীন ধারা মূল আমরা বেদের মধ্যেই লক্ষ্য করতে পারি।

  • ফ্রান্স এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে

    ফ্রান্স এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে

    ফরাসি ভাষায় এর একটি চমৎকার শব্দ আছে: ‘আন অঁগ্রেনাজ’। যার অর্থ এক দুষ্টচক্র বা ক্রমাগত অবনতির ঘূর্ণিপাক। ফ্রান্স ঠিক এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। এখানে বেশ কয়েকটি সংকট দীর্ঘ সময় ধরে দানা বাঁধছিল; এখন প্রতিটি সংকট অন্যগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করে তোলার হুমকি সৃষ্টি করছে।

  • গোগোলের ওভারকোট বনাম রাজধানীর রাঙা দেয়াল: আকাকিদের গল্প কেন মিলে যায়?

    গোগোলের ওভারকোট বনাম রাজধানীর রাঙা দেয়াল: আকাকিদের গল্প কেন মিলে যায়?

    বেওয়ারিশ কুকুরের মতন ঢাকা শহরের এই সব আকাকিরা তাহলে কোথায় যাবে? তারাও কি ফুটপাথে বা রাস্তায় সিগারেট ফুঁকতে-ফুঁকতে বা মোবাইলে কথা বলতে-বলতে চলতে থাকা মধ্যবিত্তদের পথ রোধ করে পেটে বা গলায় ছুরি ধরে বলবে, ‘দে শালা! যা আছে, দিয়ে যা! নইলে ফুটা করে দেব’?

  • জনগণ কি ‘গৌরী সেন?’, ব্যাংক লুটের দায় কেন তারা নেবে?

    জনগণ কি ‘গৌরী সেন?’, ব্যাংক লুটের দায় কেন তারা নেবে?

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটাতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। পাঁচ বছরে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ লাখ কোটি টাকা, আট বছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এখন প্রশ্ন হলো, ব্যাংক লুট