Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৬ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১৬ অক্টোবর, ২০২৬
১৬ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

জয়তু দেবী দুর্গা

তারাপদ আচার্য্য

তারাপদ আচার্য্য

প্রকাশ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৩৪
জয়তু দেবী দুর্গা
চণ্ডীর বর্ণনা অনুযায়ী দুর্গম নামক অসুরকে বধ করায় মায়ের নাম হয়েছে দুর্গা। ছবি: চরচা

দুর্গার পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র বলে-

Advertisement

‘আয়ুরারোগ্যং বিজয়ং দেহি দেবী নমস্তুতে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

রূপং দেহি যশো দেহি ভাগ্যং ভগবতি দেহি মে।

পুত্রান দেহি ধনং দেহি সর্ব্বকামাংশ্চ দেহি মে॥’

হে ভগবতী, আপনাকে প্রণাম করি, আপনি আমাকে রোগমুক্ত করুন, বিজয়ী করুন, যশ ও সৌভাগ্য প্রদান করুন, পুত্র ও ধন দিন এবং আমার সকল কামনা পূর্ণ করুন।

বিশ্বের সংকটময় সময় থেকে উত্তোরণের জন্য মায়ের আগমন। সনাতন ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, মা দুর্গার আগমনে মানুষের এই দুর্গতির অবসান হবে।

বাংলাদেশে মাতৃপূজার যে বিচিত্র রূপ আছে সেগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে মাতৃদেবীর মধ্যে বহু যুগের বহু ধারা এসে মিশেছে। অনেক প্রাচীন ধারা মূল আমরা বেদের মধ্যেই লক্ষ্য করতে পারি। এই মাতৃ বা শক্তিদেবীর প্রাচীন ধারা মুখ্যত দু’টি। একটি শস্য প্রজননী ভূতধারিণী পৃথিবী দেবী, অপরটি এক পর্বতবাসিনী সিংহবাহিনী দেবী, যিনি পরবর্তীকালে পার্বতী, গিরিজা, অদ্রিজা নামে খ্যাত। এই পার্বতীই হলেন উমা। মা দুর্গা নামে ভক্তদের কাছে পরিচিতা।

চণ্ডীর বর্ণনা অনুযায়ী দুর্গম নামক অসুরকে বধ করায় মায়ের নাম হয়েছে দুর্গা। দুর্গম অসুরের কাজ ছিল জীবকে দুর্গতিতে ফেলা। দুর্গমকে বধ করে যিনি স্বর্গ থেকে বিতাড়িত দেবতাদের হারানো রাজ্য ফিরিয়ে দেন এবং জীবজগতকে দুর্গতির হাত থেকে রক্ষা করেন তিনি মা দুর্গা, সন্তানের মঙ্গলময়ী জননী। এছাড়া তিনি মহিষমর্দিণী, শূলিণী, পার্বতী, কালিকা, ভারতী, অম্বিকা, গিরিজা, বৈষ্ণবী, কৌমারি, বাহারী, চণ্ডী, লক্ষ্মী, উমা, হৈমবতী, কমলা, শিবাণী, যোগনিদ্রা ইত্যাদি নামে ভক্তদের কাছে পূজা গ্রহণ করে থাকেন।

দুর্গা ও দুর্গা পূজা সংক্রান্ত কাহিনীগুলোর মধ্যে ভক্তদের কাছে সর্বাধিক জনপ্রিয় ও লোকমান্য হলো দেবীমাহাত্ম্যম্-এর কাহিনী। দেবীমাহাত্ম্যম্ প্রকৃতপক্ষে ‘মার্কণ্ডেয় পুরাণ’-এর একটি নির্বাচিত অংশ। সাতশ’ শ্লোকবিশিষ্ট এই দেবীমাহাত্ম্যম্-ই শ্রীশ্রীচণ্ডী। দেবীমাহাত্ম্যম্-এর কাহিনী অনুসারে পুরাকালে মহিষাসুর দেবতাদের যুদ্ধে পরাজিত করে স্বর্গ দখল করে। অসুরদের অত্যাচারে পৃথিবী তখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে। স্বর্গ থেকে বিতাড়িত দেবতারা প্রথমে প্রজাপতি ব্রহ্মা এবং পরে তাকে মুখপাত্র করে শিব ও নারায়ণের কাছে উপস্থিত হন। মহিষাসুরের অত্যাচার কাহিনী শোনার পর তারা উভয়েই অত্যন্ত ক্রোধান্বিত হন। সেই ক্রোধে তাদের মুখমণ্ডল ভীষণাকার ধারণ করে।

ষষ্ঠীর মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসব শুরুDevi Durga (1)

ইন্দ্রাদি অন্যান্য দেবতাদের দেহ থেকেও বিপুল পরিমাণে তেজ নির্গত হয়ে সেই মহাতেজের সঙ্গে মিলিত হয়। সুউচ্চ হিমালয়ে অবস্থিত ঋষি কাত্যায়নের আশ্রমে সেই বিরাট তেজপুঞ্জ একত্রিত হয়ে এক নারীমূর্তি ধারণ করে। এই তেজস্বীনী দেবীই হলেন মা দুর্গা। দেবতাদের পুঞ্জিভূত শক্তির দেবী। অপরদিকে দৈত্য, বিষ্ম, রোগ, পাপ, ভয় ও শত্রু হতে যিনি রক্ষা করেন তিনিই মা দুর্গা। আবার মার্কণ্ডেয় পুরাণমতে দুর্গম নামক অসুরকে বধ করায় দেবীর নাম হয় দুর্গা। বাঙালিরা একে দশভুজারূপে পূজা করে থাকেন। দেবী দুর্গা মহিষাসুরকে বধের মাধ্যমে দেবতাদের স্বর্গ ফিরিয়ে দিয়ে শান্তির পরশ ছড়িয়ে দেন। তাই তাকে বলা হয় দুর্গতিনাশিনী। দেবী দুর্গা শক্তির প্রতীক হিসেবে পরিচিত। আবার দুর্গাকে বলা হয় দুর্গতিনাশিনী, দশভূজা, মঙ্গলময়ী, শক্তিদায়িনী, পরমাপ্রকৃতি, আদ্যশক্তি ও স্নেহময়ী মা এই দুর্গা।

আশ্বিনের শুক্লাষষ্ঠী থেকে শুক্লানবমী পর্যন্ত দেবী দুর্গার পূজা হয়ে থাকে। দেবীর সঙ্গে যুক্ত হয় আসুরিক শক্তির বিরুদ্ধে বিদ্যাবিজ্ঞানদায়িনী দেবী সরস্বতী, সর্বৈশ্বর্য প্রদায়িনী দেবীলক্ষ্মী, সর্বসিদ্ধিদাতা গণেশ, বলরূপী কার্তিক এবং ঊর্ধ্বে অবস্থান করেন ত্যাগ ও বৈরাগ্যের মূর্তবিগ্রহ দেবাদিদেব মহাদেব। এ যেন একই সঙ্গে শক্তি, জ্ঞান, ঐশ্বর্য, সিদ্ধি, বল ও বৈরাগ্যের এক অপূর্ব সমাবেশ।

পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ দিন বিজয়া দশমী। দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গা মর্ত্যলোক ছেড়ে আবার কৈলাসে ফিরে যাবেন স্বামীর ঘরে। সাথে নিয়ে যাবেন ভক্তদের ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা আর বেদনাশ্রু। সকালেই দেবীর দশমীবিহিত পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জনের পর্ব শেষ হবে। প্রতিমা বিসর্জনের আগে ভক্তিমতি রমনীরা দেবী দুর্গাকে বেদনাবিধূর বিদায়লগ্নে তেল, মিষ্টি, ধান, দুর্বা, সিঁদুর ও পান দিয়ে ভোজন করাবেন। এরপর শোভাযাত্রা সহকারে দেবী প্রতিমার হবে বিসর্জন। ভগ্নমনোরথে ভক্তরা মন্দিরে ফিরে শান্তিজল ও আশির্বাদ নিয়ে ফিরে যাবেন আপন ঘরে। শুরু হবে আগামী বছর মায়ের ফিরে আসার দিন গোনা।

সনাতন ধর্মের পূজা অনুষ্ঠানগুলোতে এবং বিভিন্ন প্রতিমার রূপ কল্পনায় মূলশক্তি হলো আত্মশক্তি। যাকে সংস্কৃততে বলে ‘আত্মানাং বিদ্ধি’ অর্থাৎ নিজেকে জানো বা আত্মাকে জানো। দুর্গা সাধকের নিজের এবং বিশ্বের মূল মহাশক্তি। ঋষি বেদব্যাস পরম ব্রহ্মের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেছেন, তুমি রূপ বিবর্জিতা; আমি ধ্যানে তোমার রূপ কল্পনা করেছি। অপরূপকে রূপময়, অনির্বচনীয়কে বচনীয় এবং সর্বব্যাপীকে স্থানিক করা হয়েছে সর্বলোকের কল্যাণের জন্য। আমাদের ঋষিকবিরা মানুষের মধ্যকার সুরশক্তির ও অসুরশক্তির দ্বন্দ্বের কথা এবং পরিণামে অসুরশক্তির বিনাশ ও সুরশক্তির জয়ের কথা ধর্মগ্রন্থে রূপকে বর্ণনা করেছেন। সব দেবতার তেজরাশির সমন্বিত শক্তিরূপই মহাশক্তি দুর্গা।

লেখক: তারাপদ আচার্য্য, সাধারণ সম্পাদক, সাধু নাগ মহাশয় আশ্রম, দেওভোগ, নারায়ণগঞ্জ

বিষয়: দুর্গাপূজাহিন্দুহিন্দু সম্প্রদায়পূজাউৎসববাংলাদেশধর্ম
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    কুমিল্লা সীমান্তে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ, ফেরত দেওয়া হবে দুপুর ১টায়

  • ২

    সিলেটে বিদ্যুতের আন্ডারগ্রাউন্ড লাইন প্রকল্পের প্রায় পুরোটাই লুটপাট হয়েছে’

  • ৩

    নেত্রকোণায় সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা

  • ৪

    জয়তু দেবী দুর্গা

  • ৫

    টাকা তোলা যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংকে সংকট কি কাটছে ?

সম্পর্কিত
  • ফ্রান্স এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে

    ফ্রান্স এখন এক চরম সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে

    ফরাসি ভাষায় এর একটি চমৎকার শব্দ আছে: ‘আন অঁগ্রেনাজ’। যার অর্থ এক দুষ্টচক্র বা ক্রমাগত অবনতির ঘূর্ণিপাক। ফ্রান্স ঠিক এমন এক পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। এখানে বেশ কয়েকটি সংকট দীর্ঘ সময় ধরে দানা বাঁধছিল; এখন প্রতিটি সংকট অন্যগুলোকে আরও ত্বরান্বিত করে তোলার হুমকি সৃষ্টি করছে।

  • গোগোলের ওভারকোট বনাম রাজধানীর রাঙা দেয়াল: আকাকিদের গল্প কেন মিলে যায়?

    গোগোলের ওভারকোট বনাম রাজধানীর রাঙা দেয়াল: আকাকিদের গল্প কেন মিলে যায়?

    বেওয়ারিশ কুকুরের মতন ঢাকা শহরের এই সব আকাকিরা তাহলে কোথায় যাবে? তারাও কি ফুটপাথে বা রাস্তায় সিগারেট ফুঁকতে-ফুঁকতে বা মোবাইলে কথা বলতে-বলতে চলতে থাকা মধ্যবিত্তদের পথ রোধ করে পেটে বা গলায় ছুরি ধরে বলবে, ‘দে শালা! যা আছে, দিয়ে যা! নইলে ফুটা করে দেব’?

  • জনগণ কি ‘গৌরী সেন?’, ব্যাংক লুটের দায় কেন তারা নেবে?

    জনগণ কি ‘গৌরী সেন?’, ব্যাংক লুটের দায় কেন তারা নেবে?

    বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটাতে আগামী পাঁচ থেকে আট বছর পর্যন্ত প্রতি বছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। পাঁচ বছরে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩ লাখ কোটি টাকা, আট বছরে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এখন প্রশ্ন হলো, ব্যাংক লুট

  • কংগ্রেস কি সিজেপিকে শত্রু মনে করে?

    কংগ্রেস কি সিজেপিকে শত্রু মনে করে?

    অভূতপূর্ব কিছু একটা ঘটতে চলেছে। ভারতের বিরোধী দলগুলো এবং হাজার হাজার সাধারণ নাগরিক অবশেষে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা দেওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পক্ষে তারা একজোট হয়ে কথা বলছে।