Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১২ অক্টোবর, ২০২৬
১২ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
> ভাবনা

সংবিধান সংস্কার কমিশন থেকে গণভোট: ইতিহাস ও কাঠামোর সংকট

ড. গোলাম রসুল

ড. গোলাম রসুল

প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮: ২১
সংবিধান সংস্কার কমিশন থেকে গণভোট: ইতিহাস ও কাঠামোর সংকট

বাংলাদেশ এখন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করে তোলে, যার ফলশ্রুতিতে অক্টোবরে সংবিধান সংস্কার কমিশন গঠিত হয়। কমিশন রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ও সংবিধানের প্রস্তাবনায় ব্যাপক পরিবর্তনের প্রস্তাব দেয়। বিদ্যমান চারটি মূলনীতি–গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র। এর মধ্যে গণতন্ত্র ছাড়া বাকি তিনটি বাদ দিয়ে নতুনভাবে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার ও বহুত্ববাদ অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়। এটি রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নীতিতে এক মৌলিক পরিবর্তনের প্রস্তাব।

Advertisement

প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত ছিল ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দেওয়ার সুপারিশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নীতি শুধু একটি সাংবিধানিক শব্দ নয়; এটি বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ভিত্তি। ধর্মনিরপেক্ষতা অপসারণ মানে রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষতার দায়িত্ব থেকে মুক্ত করা এবং নাগরিক সমতার নিশ্চয়তাকে দুর্বল করা। কমিশনের এই সুপারিশ পরবর্তীতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে আলোচনার জন্য উপস্থাপিত হয় এবং এর ভিত্তিতে জুলাই চার্টার নামে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা দলিল তৈরি হয়, যা বিভিন্ন দল স্বাক্ষর করে। তবে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়ার প্রস্তাবে অনেক রাজনৈতিক দল আপত্তি জানায়, ফলে চার্টারটি আংশিক ঐকমত্যের প্রতিফলন হলেও প্রকৃত জাতীয় ঐকমত্য হয়ে উঠতে পারেনি। পরবর্তীতে ঘোষিত গণভোট মূলত এই জুলাই চার্টারের ওপর ভিত্তি করেই গঠিত হয়।

বাংলাদেশের তরুণরা আবারও পুরনো দলগুলোর দিকে ঝুঁকছেJuly Uprising 2024

এই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে ২০২৬ সালের গণভোট, যেখানে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’কে সংবিধানের মৌলিক নীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা এক নয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অধিকার সুরক্ষা দেয়; ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ রাখে এবং নাগরিক সমতার সাংবিধানিক কাঠামো নিশ্চিত করে। ফলে এই পরিবর্তন কেবল শব্দগত নয়–এটি রাষ্ট্রের নৈতিক ভিত্তিকে পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত।

ধর্মনিরপেক্ষতার গুরুত্ব
ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের স্বাধীনতা‑চেতনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পাকিস্তানের দ্বি‑জাতি তত্ত্ব ও সংখ্যালঘুদের প্রতি বৈষম্যের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সব ধর্ম, বর্ণ ও গোষ্ঠীর মানুষ একত্রে লড়েছিল অসাম্প্রদায়িক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। তাই সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাদ দেওয়া মানে মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা।
রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব হলো ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার সুরক্ষা করা; সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা সেই আইনি রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

অনেক দেশের সংবিধানেই সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিধান রয়েছে; পার্শ্ববর্তী ভারত ও নেপালের সংবিধানেও এ ধরনের সুরক্ষা দেখা যায়। ধর্মনিরপেক্ষতা অপসারণ করলে সংবিধানের মূল কাঠামো দুর্বল হবে এবং জাতীয় সংহতি ও সামাজিক মূল্যবোধে গভীর প্রভাব পড়তে পারে।


এ ইতিহাসের ধারাবাহিকতাও স্পষ্ট। স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র কেবল একটি দলিল নয়; এটি মুক্তিযুদ্ধের বহুত্ববাদী চেতনার প্রতীক, যেখানে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও আদিবাসী একসঙ্গে অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে সংগ্রাম করেছিল। তাই ঘোষণাপত্রকে সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া রাষ্ট্রীয় জন্মসনদের ধারাবাহিকতাকে অস্বীকার করার সমতুল্য।

উৎসবের নির্বাচন নাকি যুদ্ধের প্রস্তুতি?election-comission

ধর্মনিরপেক্ষতার শিকড় মুক্তিযুদ্ধেই সীমাবদ্ধ নয়; পূর্বেও অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ঐতিহ্য ছিল। মওলানা ভাসানী ১৯৫০‑এর আন্দোলনে বাঙালি আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি উত্থাপন করেছিলেন; ১৯৫৭ সালের কাগমারী সম্মেলনে তার কথাই ছিল স্পষ্ট: ধর্মের নামে মানুষকে বিভক্ত করা যাবে না; কৃষক‑শ্রমিকের ঐক্যই আমাদের শক্তি। শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হকও বলেছিলেন, ধর্ম নয়, মানুষের অধিকারই রাষ্ট্রের ভিত্তি। এই বক্তব্যগুলো দেখায় যে অসাম্প্রদায়িকতা ও বহুত্ববাদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ঐতিহ্যের অংশ।


সংক্ষেপে, ধর্মনিরপেক্ষতা কেবল নৈতিক বা ঐতিহাসিক প্রতীক নয়; এটি সংবিধানগতভাবে সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতার নিশ্চয়তার মূল ভিত্তি। এই নীতিকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব তাই কেবল সাংবিধানিক পরিবর্তন নয়–এটি দেশের ঐতিহাসিক পরিচয় ও নাগরিক সমতার ওপর একটি মৌলিক আঘাত।

কমিশন থেকে গণভোট

সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ছিল বাংলাদেশের সাংবিধানিক ইতিহাসে এক মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা। কমিশন বিদ্যমান সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক নীতিকে পুনর্লিখনের প্রস্তাব করে, যেখানে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বাদ দেওয়া হয় এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে মৌলিক নীতি থেকে অপসারণের সুপারিশ করা হয়। এই সুপারিশগুলো প্রথমে কেবল আলোচনার ভিত্তি হিসেবে উপস্থাপিত হলেও, দ্রুতই তা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রূপ নেয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত গণভোট সেই প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ। এখানে ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’কে সংবিধানের মৌলিক নীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। কিন্তু এই প্রস্তাবের কাঠামোতে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। প্রক্রিয়াটি কেবল প্রশ্নবিদ্ধ নয়–এটি কাঠামোগতভাবেই ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল না। বরং পুরো আয়োজনেই একটি সুস্পষ্ট পক্ষপাতমূলক চরিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।

দেশের ৫২টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে মাত্র ২৫টি দল জুলাই চার্টারে স্বাক্ষর করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো–চার্টারের ৫০ জন প্রতিনিধির মধ্যে একজনও নারী ছিলেন না এবং মাত্র একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্য অংশগ্রহণ করেছেন। আরও গুরুতর বিষয় হলো–গণভোটের প্রশ্নপত্রে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ শব্দটি সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য গঠনের আলোচনায় একাধিক রাজনৈতিক দল এর অপসারণে আপত্তি জানিয়েছিল, আবার কেউ কেউ সরাসরি গণভোটে বিষয়টি তোলার পক্ষে ছিল। কিন্তু ব্যালট পেপার থেকে শব্দটি বাদ দেওয়ার ফলে ধর্মনিরপেক্ষতার ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণের সরাসরি মত প্রকাশের সুযোগ সংকুচিত হয়েছে। এটি গণভোটের ছদ্মাবরণে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দেওয়ার কৌশল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই নীতিকে জনসমক্ষে সরাসরি আলোচনার বাইরে রাখা হয়েছে। এর পরিবর্তে ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যক্তিগত বিশ্বাসের অধিকারকে সুরক্ষা দেয় বটে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে না।

আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা কি বিএনপিকে ভোট দেবে?tarek back

রাষ্ট্র যদি কোনো একটি ধর্মকে বিশেষ মর্যাদা দেয়, তবে সংখ্যালঘুদের সমান নাগরিকত্ব ক্ষুণ্ণ হয়। তাই এই ধারণা কার্যত সংখ্যাগরিষ্ঠের সুবিধা রক্ষার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে। ফলত, গণভোট আংশিক ও পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে পড়ে এবং প্রকৃত গণতান্ত্রিক সম্মতির দাবি দুর্বল হয়। এই কাঠামো শুধু অংশগ্রহণের ঘাটতির প্রমাণ নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক প্রান্তিকীকরণের একটি সুস্পষ্ট উদাহরণ, যা ‘জাতীয় ঐকমত্য’-এর দাবিকে নৈতিকভাবে অকার্যকর করে তোলে। যেখানে নারীরা, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় এবং বৃহৎ রাজনৈতিক পরিসরের একটি বড় অংশ অনুপস্থিত, সেখানে ‘জাতীয় ঐকমত্য’-এর দাবি কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়ে। এই ধরনের প্রতিনিধিত্বহীন কাঠামো জাতীয় সম্মতির ধারণাকে নৈতিকভাবে দুর্বল করে এবং প্রক্রিয়াটিকে একটি সংকীর্ণ রাজনৈতিক বৃত্তের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ করে তোলে।

ফলত, গণভোট কেবল প্রক্রিয়াগত বৈধতাই হারায় না, বরং তার নৈতিক ভিত্তিও ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। কারণ যে প্রক্রিয়া কাঠামোগতভাবে বৈষম্যমূলক, সেই প্রক্রিয়া থেকে উৎপন্ন সিদ্ধান্ত কখনোই পূর্ণ বৈধতা অর্জন করতে পারে না। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা ইতোমধ্যেই ‘বেসিক স্ট্রাকচার ডকট্রিন’ গ্রহণ করেছে। ভারতের সুপ্রিম কোর্টও মৌলিক কাঠামো তত্ত্বে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অপরিবর্তনীয় নীতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী সংবিধানের মৌলিক নীতি পরিবর্তন করতে সংসদ এককভাবে সক্ষম নয়; এর জন্য জনগণের প্রত্যক্ষ সম্মতি প্রয়োজন, অর্থাৎ গণভোট অপরিহার্য। কিন্তু বাংলাদেশের বর্তমান গণভোটে ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নটি সরাসরি উপস্থাপিত হয়নি। এটি জুলাই চার্টারের আড়ালে রাখা হয়েছে, ফলে নাগরিকরা ধর্মনিরপেক্ষতা বজায় রাখা বা বাদ দেওয়ার বিষয়ে স্পষ্টভাবে মত প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন না। এভাবে মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার মানদণ্ড পূরণ করছে না। তাই গণভোটের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাবটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সীমা অতিক্রম করে সাংবিধানিক পরিচয়কে আঘাত করে।

গণভোট নিয়ে ভজঘটgono-vote-yes-campaign-from-ca

জন স্টুয়ার্ট মিলের ভাষায় সংখ্যাগরিষ্ঠের অত্যাচার এড়াতে রাষ্ট্রকে নিরপেক্ষ থাকতে হয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা অপসারণ বাংলাদেশের সাংবিধানিক বৈধতা ও আইনি স্থিতিশীলতার জন্য এক গভীর সংকট সৃষ্টি করবে। রাষ্ট্র কেবল একটি প্রশাসনিক কাঠামো নয়; এটি একটি আদর্শিক নির্মাণ। প্রতিটি রাষ্ট্রের একটি প্রতিষ্ঠার আদর্শ থাকে, একটি রাজনৈতিক দর্শন, একটি নৈতিক চেতনা, এবং একটি ঐতিহাসিক ভিত্তি থাকে, যার ওপর তার সাংবিধানিক কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে। এই ভিত্তিই নির্ধারণ করে রাষ্ট্র কাকে অন্তর্ভুক্ত করবে, কীভাবে ক্ষমতা ব্যবহার করবে, এবং কোন মূল্যবোধকে সাংবিধানিক মর্যাদা দেবে।

বাংলাদেশ রাষ্ট্রের মৌলিক বৈধতা (foundational legitimacy) কেবল ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি নির্মিত হয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, সাংস্কৃতিক আন্দোলন এবং নাগরিক অধিকারের লড়াইয়ের ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে–যার শিকড় বিস্তৃত ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত। গণভোটের প্রশ্নে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দেওয়ার কৌশল শুধু আইনি বিতর্ক নয়, বরং গণতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তিকে চ্যালেঞ্জ করে। এই কাঠামোগত ঘাটতি শুধু আইনি নয়; এটি গণতন্ত্রের নৈতিক ভিত্তিকে দুর্বল করে। পরবর্তী অংশে দেখা যাবে–কীভাবে এই সংকট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।

লেখক: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি, ঢাকা।

বিষয়: বাংলাদেশসংস্কারধর্মনিরপেক্ষগণভোটরাজনীতিঅভ্যুত্থানইতিহাসসংবিধান
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    সাজেক ভ্যালিতে পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা

  • ২

    রিয়াদ বিমানবন্দরে শনিবারের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৪ বাংলাদেশি আহত

  • ৩

    সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে আবার হামলা, টার্মিনালে আগুন

  • ৪

    রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি

  • ৫

    ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট

সম্পর্কিত
  • দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    দিল্লির জেনজি আন্দোলনে টালমাটাল মোদির গদি!

    তরুণদের ক্ষেপিয়ে কোনো দেশের শাসকেরা যে টিকতে পারেন না, সেটা নিকট অতীতে বাংলাদেশ ও নেপাল প্রমাণ করেছে।

  • ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    ভারত: গণ-আন্দোলনের মুখোমুখি এক অনমনীয় রাষ্ট্র

    সরকার ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব এবং নেপাল ও বাংলাদেশে কথিত বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে এই আন্দোলনকে বিদেশি শক্তির কারসাজি হিসেবে চিহ্নিত করে এর বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করবে। কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই, যারা বিষয়টি খতিয়ে দেখতে ইচ্ছুক ছিলেন, তাদের কাছেই জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের গভীরতা স্পষ্ট ছিল।

  • সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    সরকারি কর্মী: বেতন বৃদ্ধি যৌক্তিক ও সময়োচিত

    দু বছর পর যখন এ বেতন স্কেল পুরো কার্যকর হবে তখন মুদ্রাস্ফীতি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা দেখার বিষয়। এর মাঝে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়ানো ছাড়া হয়তো উপায়ও ছিল না। তবে এর ফলে বাড়বে সকল ধরনের পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়সহ ভোগ্যপণ্যের দাম।

  • ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ১৯৫৪ সালের পূর্ব পাকিস্তান আইনসভায় নির্বাচিত অমুসলিম ছিলেন ৭২ জন, এখন বাংলাদেশে ৪

    ২০২৪-এর পর থেকে এই অন্তর্ভুক্তিমূলক শব্দটা আমরা বেশি শুনছি। এটা ভালো লক্ষণ। কিন্তু যোগেন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং শিডিউলড কাস্টের ব্যাপারে, নিম্নবর্গের ব্যাপারে অন্তর্ভুক্তিমূলকের দশা কিন্তু খুবই খারাপ।