কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই হয়তো নতুন কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেবে না, তবে এটি বিদ্যমান কৌশলগুলোকে আরও সস্তা, দ্রুত এবং সহজ করে তুলছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর ২০২৬ সালের জুলাইয়ের একটি প্রতিবেদনের মূল বক্তব্য এটাই।
এটি বিশ্বাসযোগ্য যুক্তি, তবে একটি প্রশ্নের উত্তর অস্পষ্ট থেকে যায়: সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো কি এই প্রযুক্তি নিয়ে একইভাবে চিন্তা করছে?
সন্ত্রাসবাদ নিয়ে গবেষণা করা একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে আমি দীর্ঘদিন ধরে বিশ্লেষণ করে আসছি—কীভাবে জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো চিন্তা করে, কৌশল পরিবর্তন করে এবং নতুন পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নেয়। সেই গবেষণার অংশ হিসেবে আমি একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে প্রভাবশালী দুটি জিহাদি সংগঠন আল-কায়েদা ও ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রচারসামগ্রী, নির্দেশিকা এবং কৌশলগত লেখাগুলো বিশ্লেষণ করেছি। যাতে বোঝা যায় তারা এআইয়ের মতো নতুন প্রযুক্তিকে কীভাবে ব্যাখ্যা করছে ও গ্রহণ করছে। পাশাপাশি, তাদের সহযোগী সংগঠন, গণমাধ্যম শাখা এবং সমর্থকদের দ্বারা এআই ব্যবহারের নথিভুক্ত ঘটনাগুলোও আমি পর্যালোচনা করেছি।
আমার গবেষণায় দেখা গেছে, উভয় আন্দোলনের সহযোগী গোষ্ঠী, মিডিয়া আউটলেট এবং সমর্থকরা প্রোপাগান্ডা, নিয়োগ, নিরাপত্তা ও পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজে এআই ব্যবহার করে। তবে আল-কায়েদা ও আইএস-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো যেভাবে এআইকে ব্যবহার করছে, তাতে মূলত নিজস্ব যুদ্ধকৌশলেরই প্রতিফলন ঘটে। আল-কায়দার দৃষ্টিভঙ্গি তুলনামূলকভাবে বেশি সুচিন্তিত এবং তারা কয়েক দশকের হিসাব কষে এগোয়। অন্যদিকে, আইএস দ্রুত পদক্ষেপ নেয় ও তাৎক্ষণিক প্রভাব অর্জনে বিশ্বাসী।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, প্রতিটি গোষ্ঠীর দৃষ্টিভঙ্গি তাদের সাংগঠনিক সংস্কৃতির প্রতিফলন ঘটায় এবং সময় ও যুদ্ধ সম্পর্কে তাদের ভিন্ন ভিন্ন ধারণাকে উন্মোচিত করে। ইসলামিক স্টেট তাদের লক্ষ্য গড়ে তুলেছিল একটি ‘খিলাফত’ কেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ধরে রাখা ও জাহির করার উদ্দেশ্যে। এই তাগিদ তাদেরকেই প্রাধান্য দেয় যারা একটি দৃশ্যমান প্রভাব তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে, আল-কায়েদা তাদের লক্ষ্য গড়ে তুলেছে একটি দীর্ঘমেয়াদি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধের ওপর ভিত্তি করে। তাদের বিশ্বাস, প্রযুক্তিগতভাবে সর্বশ্রেষ্ঠ শত্রুকেও অদম্য ইচ্ছা ও ধৈর্য দিয়ে পরাস্ত করা সম্ভব।
ইসলামিক স্টেটের এআই
দুটি আন্দোলনের মধ্যে আইএস দীর্ঘদিন ধরেই অপেক্ষাকৃত আগ্রাসী মিডিয়া উদ্ভাবক হিসেবে পরিচিত। সিরিয়া ও ইরাকে তাদের স্বঘোষিত খিলাফতের সুবর্ণ সময়ে তারা গতি, ভিজ্যুয়াল চাকচিক্য এবং পেশাদারত্বকে অগ্রাধিকার দিয়ে একটি সর্বাধুনিক মিডিয়া ব্যবস্থা গড়ে তুলেছিল। নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের সেই প্রবণতা এআই যুগেও বহাল রয়েছে। প্রযুক্তিতে অভ্যস্ত তরুণ সমর্থক ও নতুন সদস্যরা সহজেই নতুন টুল ব্যবহার করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে, ফলে এই প্রবণতা আরও জোরদার হয়েছে।
অস্ত্র হাতে আইএস যোদ্ধারা। ছবি: রয়টার্স
২০২৩ সাল থেকে আইএস সমর্থক ও সহযোগীরা ক্রমাগত বিপুল পরিমাণ এআই-উৎপাদিত কনটেন্ট তৈরি করছে। ২০২৪ সালের মার্চে মস্কোর কনসার্ট হলে সন্ত্রাসী হামলার পর, আইএস সেই হত্যাকাণ্ডকে উদযাপন করে একটি বুলেটিন প্রচার করে। এতে একজন ভুয়া, এআই-দ্বারা নির্মিত আরবিভাষী সংবাদ পাঠককে দেখা যায়, যিনি ওই হামলাটিকে শত্রুদের বিরুদ্ধে তাদের দলের বিস্তৃত যুদ্ধের একটি অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।
আইএস-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলো ছবি তৈরি, অনুবাদের গতি বাড়ানো এবং বহুভাষিক প্রোপাগান্ডা তৈরির কাজেও এআই ব্যবহার করেছে।
২০২৫ সালের জুনে, আইএসের আফগানিস্তান শাখা ইসলামিক স্টেট খোরাসান (আইএসআইএস-কে)—তাদের ইংরেজি ভাষার সাময়িকী ‘ভয়েস অব খোরাসান’-এর একটি সংখ্যা প্রকাশ করে। আল-আজাইম ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রকাশিত এই সংখ্যাটিতে এআই শিক্ষা বা এআই সচেতনতাকে প্রতিটি মুসলিমের জন্য একটি ‘ফরজে আইন’ অর্থাৎ ব্যক্তিগত ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এর মাধ্যমে তারা এআই শিক্ষার গুরুত্বকে আত্মরক্ষামূলক জিহাদের সমকক্ষ আইনি মর্যাদায় স্থান দেয়। জিহাদি ভাবাদর্শীরা সাধারণত বিশ্বাস করেন যে, যখন মুসলিম, তাদের ঈমান বা তাদের ভূখণ্ড আক্রান্ত হয়, তখন লড়াই করা ফরজ।
সাময়িকীর নিবন্ধটিতে এআইকে এমন একটি শক্তি হিসেবে দেখানো হয়েছে যা ইতিমধ্যেই যুদ্ধ, ব্যবসা এবং আত্মপরিচয়কে নতুন রূপ দিচ্ছে। একই সাথে এটি ডিপফেক, নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহের বিষয়ে সতর্ক করে এর থেকে আত্মরক্ষার ব্যবহারিক দিকনির্দেশনাও দেয়।
অন্যান্য জিহাদি গোষ্ঠীর কটাক্ষ ও উপহাসের মুখে পড়ে ফাউন্ডেশনটি পরে এ সংক্রান্ত ধর্মীয় ফতোয়া প্রত্যাহার করে নেয়। তবে তাদের দেওয়া ব্যবহারিক দিকনির্দেশনাগুলো অপরিবর্তিতই থেকে যায়। এটি তাদের দ্রুত প্রযুক্তি গ্রহণ এবং পরবর্তীতে তাত্ত্বিক সংশোধনের একটি বিশেষ ধরনকে নির্দেশ করে।
আইএস-সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কগুলোর সামগ্রিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করলে এই ঘটনা সদস্য সংগ্রহের একটি বিশেষ কৌশল তুলে ধরে। সেখানে সমর্থকদের বোঝানো হয় যে, এই প্রযুক্তিতে অজ্ঞতা তাদের এমন শত্রুদের কাছে দুর্বল করে তুলবে, যারা ইতিমধ্যেই এর ব্যবহার শুরু করে দিয়েছে।
আমার পর্যালোচিত তথ্যাদির আলোকে বলা যায়, তাদের মূল প্রশ্ন এটি নয় যে এআই যুদ্ধের ধরন বদলে দিচ্ছে কি না। বরং মূল প্রশ্ন হলো, ‘কীভাবে এটি ব্যবহার করা যায়, এর থেকে কীভাবে সুরক্ষা পাওয়া যায় এবং প্রযুক্তির এই দৌড়ে পিছিয়ে পড়া কীভাবে এড়ানো যায়।’
আল-কায়েদাও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে
আল-কায়েদার সহযোগী শাখা ও সমর্থকেরাও এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে।
আল-কায়েদাপন্থী বিভিন্ন মাধ্যম ২০২৩ সালের শুরুতেই এআই-দ্বারা তৈরি হতে পারে এমন ছবি ছড়াতে শুরু করেছিল। তাদের নেটওয়ার্কগুলো বিভিন্ন চ্যাটবট ওয়ার্কশপ ও দিকনির্দেশিকা প্রচার করেছে। ২০২৪ সালে আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট ‘আল-মালাহিম ইলেকট্রনিক আর্মি’ ‘এআই-চালিত চ্যাটবট ব্যবহারের চমৎকার উপায়’ শিরোনামে একটি গাইড প্রকাশ করে। যেখানে সমর্থকদের এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে জাতিসংঘ এক প্রতিবেদনে জানায় যে, আল-কায়েদার সোমালি শাখা ‘আল-শাবাব’ তাদের বার্তাগুলো একাধিক ভাষায় অনুবাদ করতে এআই টুল ব্যবহার করেছে।
২০২৬ সালের মে মাসে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) দিল্লিতে ২০২৫ সালের নভেম্বরের একটি গাড়ি বোমা হামলার বিষয়ে চার্জশিট দাখিল করে। ওই হামলায় ১১ জন নিহত হয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, এই হামলার পেছনে থাকা দলটি ভারতীয় উপমহাদেশভিত্তিক আল-কায়েদার (একিউআইএস) সাথে যুক্ত ছিল এবং তারা একজন প্রকৌশলীকে নিয়োগ করেছিল যিনি বিস্ফোরক নিয়ে গবেষণার কাজে ইউটিউব ও চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করেছিলেন।
তাছাড়া, কিছু বিশ্লেষক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আল-কায়েদার পশ্চিম আফ্রিকান শাখার ড্রোন প্রযুক্তির সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলোতে ওপেন-সোর্স এআই টুলের ব্যবহার থাকতে পারে, যদিও এর প্রমাণ এখনো অস্পষ্ট।
আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট উগ্রপন্থীরা সতর্ক করেছে যে, ডিপফেক তাদের অনলাইন আলোচনাগুলোতে অনুপ্রবেশ করতে পারে বা সেগুলোকে প্রভাবিত করতে পারে। আল-কায়েদা-সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া চ্যানেলগুলোতে ধর্মীয় গবেষণায় এআই ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও বিতর্ক হয়েছে। কিছু পোস্টে যুক্তি দেওয়া হয় যে, এর ওপর নির্ভরতা অজ্ঞতা এবং দুর্বল ধর্মীয় জ্ঞানেরই বহিঃপ্রকাশ।
যুদ্ধের ধরন পরিবর্তন
ফলে উভয় আন্দোলনই তাদের সমর্থকদের শিখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে এসব টুল ব্যবহার করতে হয় এবং এগুলোর থেকে সুরক্ষা পেতে হয়। তবে আল-কায়েদাপন্থী মিডিয়া ব্যবস্থার একটি অংশ আরও একটি ভিন্ন প্রশ্ন তুলছে, এই প্রযুক্তি কি যুদ্ধের নিজস্ব ধরন বা মূল স্বভাবকেই বদলে দিচ্ছে?
এর সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ হলো আল-কায়েদাপন্থী ‘আনাজিয়াত ফাউন্ডেশন’। ২০২৫ সালে প্রকাশিত তাদের ‘ফিকহ আল-হারব’ বা যুদ্ধের আইনশাস্ত্র সিরিজের পরপর ছয়টি সংখ্যায় এআই, সাইবার যুদ্ধ ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ওপর লেখা পশ্চিমাদের বিভিন্ন কৌশলগত রচনার আরবি অনুবাদ প্রকাশ করে।
এর একটি নিবন্ধে এআই ও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ পর্যালোচনা করা হয়। অন্যটিতে প্রশ্ন তোলা হয় যে, সামরিক কৌশলবিদদের এআই-এর দর্শনকে গুরুত্বের সাথে নেওয়া উচিত কি না। আরও দুটি পর্বে যুক্তিতর্ক করা হয় যে এআই আদৌ যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে পারে কি না? পরবর্তীতে এই সিরিজে সাইবার যুদ্ধ এবং ‘প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে সংঘর্ষের চিরন্তন সত্যকে জয় করা সম্ভব’—এই ধারণার কড়া সমালোচনা করা হয়।
একসাথে দেখলে টেক্সটগুলো একটি বিতর্কের মুখোমুখি দাঁড় করায়, যা বারবার মানুষের ভূমিকা বা কর্তৃত্ব, চেতনা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, সহনশীলতা ও ইচ্ছাশক্তির প্রাসঙ্গিকতায় ফিরে আসে। সিরিজটি কিন্তু এআই-বিরোধী কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয় না। বরং এর আসল গুরুত্ব লুকিয়ে আছে, যে ধরনের প্রশ্ন এগুলো তুলে ধরেছে এবং যেসব ধারণাকে বারবার পরখ করে দেখেছে তার মধ্যে।
ভিন্ন ভিন্ন সাংগঠনিক সংস্কৃতি
এই দৃষ্টিভঙ্গিগুলো তাদের আলাদা আলাদা সাংগঠনিক প্রবৃত্তিরই প্রতিফলন ঘটায়। আল-কায়েদা ঐতিহাসিকভাবেই বেশি ধৈর্যশীল ও সুচিন্তিত। তারা নিজেদের সংগ্রামকে একটি ‘দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং বার্তা প্রচারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে তথ্য যাচাই-বাছাই করে। তাদের কৌশল দাঁড়িয়ে আছে একটি মূল বিশ্বাসের ওপর- রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও সহনশীলতা দিয়ে প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বকে পরাস্ত করা সম্ভব। ড্রোন হামলার বৃদ্ধি, ব্যাপক নজরদারি এবং সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলার মতো কঠিন পরিস্থিতি থেকে বেঁচে ফিরেছে এই আন্দোলন।
‘আনাজিয়াত’-এর সম্পাদকীয় পছন্দগুলো বিশেষভাবে নজরে পড়ে, কারণ সেগুলো আল-কায়েদার এই মূল ধারণার সাথেই সুর মেলায়। তাদের সিরিজে মূলত পশ্চিমা গবেষকদের লেখার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে—যারা প্রশ্ন তুলেছেন যে, যন্ত্র বা এআই কি মানুষের বিচারবুদ্ধির স্থান নিতে পারে এবং যুদ্ধের অনিশ্চয়তাকে জয় করতে পারে? কিংবা সেরা বা উন্নত অস্ত্র কি ধৈর্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এবং মানুষের ইচ্ছাশক্তির বিকল্প হতে পারে?
সিরিজটিতে আল-কায়েদার এই দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ কৌশলকে পরীক্ষা করার জন্য পশ্চিমা সামরিক রচনাগুলো ব্যবহার করা হয়েছে এবং বারবার একই যুক্তিতে ফিরে আসা হয়েছে। আর তা হলো, প্রযুক্তি হয়তো যুদ্ধ পরিচালনার পদ্ধতি বদলে দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত কে টিকে থাকবে বা জয়ী হবে তা নির্ধারণ করে দিতে পারে না।
আল-কায়েদা বিশ্বাস করে- সহনশীলতা, রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি ও মানুষের ভূমিকা তাদের পক্ষেই কাজ করে। তাদের দৃষ্টিতে সামরিক বা প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব কখনোই বিজয়ের নিশ্চয়তা দেয় না।
আ-কায়েদা ও আইএস উভয়ই ব্যবহারিক অনেক কাজের জন্য একইভাবে এআই ব্যবহার করছে। মূল পার্থক্যটি লুকিয়ে আছে তারা প্রযুক্তিকে কীভাবে বোঝে এবং এর তাৎক্ষণিক ব্যবহারের বাইরে গিয়ে তারা কী ধরনের প্রশ্ন তোলে তার মধ্যে।
আইএস-সংশ্লিষ্ট আলোচনাগুলোতে এআই-কে মূলত একটি সরঞ্জাম বা টুল হিসেবে দেখা হয়, যা এখনই আয়ত্ত করা প্রয়োজন। আল-কায়েদাপন্থীদের একটি অংশও তা-ই করে। তবে তারা এর পাশাপাশি এআই-কে যুদ্ধ, সহনশীলতা এবং কৌশলগত বিজয়ের দীর্ঘায়িত বিতর্কের ভেতরে রেখে মূল্যায়ন করে।
ভবিষ্যতে এই আন্দোলনগুলো পরবর্তীতে ঠিক কোন এআই টুলটি বেছে নেবে শুধু তা-ই নয়, বরং সেগুলো তারা কী উদ্দেশ্যে এবং কীভাবে ব্যবহার করবে—তা নির্ধারণ করে দিতে পারে তাদের এই ভিন্ন ভিন্ন সাংগঠনিক সংস্কৃতি।
লেখাটি দ্য কনভারসেশন থেকে অনূদিত
লেখক: জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্টার-টেররিজম বিষয়ের রিসার্চ ফেলো এবং হাই নাইন ডিফেন্সের সিইও