Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> বিশেষ প্রতিবেদন

দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

মিন্টু চৌধুরী

মিন্টু চৌধুরী

প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২১: ৪০
দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?
চট্টগ্রাম বন্দর। ছবি: বাসস

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ১৫ বছরের জন্য দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়া হয়েছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক মানের এই অপারেটরের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালিত হলে বাড়বে দক্ষতা, কমবে জাহাজের অবস্থানকাল এবং আয় বাড়বে বন্দরের।

Advertisement

অন্যদিকে বিরোধীদের প্রশ্ন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালিত একটি লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন কেন? চুক্তির শর্ত, রাজস্বের ভাগ এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবস্থাপনা নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশের বাণিজ্যে এনসিটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বড় অংশই চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ৮৫ শতাংশ হয়েছে এই বন্দরের মাধ্যমে। সমুদ্রপথে কনটেইনার পরিবহনের প্রায় ৯৯ শতাংশও হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে।

বন্দরটির চারটি টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড় এনসিটি। তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চারটি টার্মিনালে মোট ৩৫ লাখ ৩১ হাজার ১১৮ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় তা দুই লাখ ৩৫ হাজার ৫১ টিইইউস বেশি। এর মধ্যে ৪৪ শতাংশ কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে এনসিটিতে।

অর্থাৎ, চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে এনসিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই টার্মিনালের পরিচালনব্যবস্থা ও আয়-ব্যয়ের সঙ্গে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের একটি বড় অংশ জড়িত।

দেশীয় প্রতিষ্ঠান থাকতে বিদেশি অপারেটর কেন?

নির্মাণের পর থেকে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে দেশীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড এনসিটি পরিচালনা করে আসছিল। গত বছরের জুলাই থেকে এর দায়িত্বে রয়েছে নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড।

এনসিটি পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তিsignning

দেশীয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনাকালেও এনসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এছাড়া, বন্দরটির রাজস্ব আয়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথা বলা হয়েছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টার্মিনাল পরিচালনা সম্ভব হওয়ার পরও কেন বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হলো?

সরকারের যুক্তি, এনসিটিতে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের বন্দরগুলোর তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। ডিপি ওয়ার্ল্ড বিশ্বের বিভিন্ন বন্দর পরিচালনায় অভিজ্ঞ। তাদের আধুনিক প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।

চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক সদস্য (প্রশাসন) মো. জাফর আলমের মতে, আন্তর্জাতিক মানের অপারেটর দায়িত্ব নিলে বন্দরে নতুন প্রযুক্তি ও যন্ত্রপাতি আসবে, পরিচালন দক্ষতা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা সহজ হবে।

তবে অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের প্রশ্ন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান যখন দক্ষতার সঙ্গে টার্মিনাল পরিচালনা করে আয় বাড়াচ্ছিল, তখন নিজেদের প্রতিষ্ঠানকে আরও দক্ষ করার উদ্যোগ না নিয়ে বিদেশি অপারেটরের হাতে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজন কেন?

চুক্তিতে কী থাকছে?

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে সই হওয়া চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছর প্রতিষ্ঠানটি এনসিটি পরিচালনা করবে। চুক্তি সই হলেও আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাদের পরিচালন কার্যক্রম শুরু করার কথা।

চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড চট্টগ্রাম বন্দরকে ৬০০ কোটি টাকা দেবে। এর ২৫ শতাংশ চুক্তির সময় পরিশোধ করা হয়েছে; বাকি ৭৫ শতাংশ পরিচালন কার্যক্রম শুরুর সময় দেওয়ার কথা। প্রথম ১০ বছরে আধুনিকায়ন, যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তিতে এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, টার্মিনালের গড় আয়ের ভিত্তিতে প্রতি বছর ১০ কোটি টাকা ফি দেওয়ার কথা। বছরে ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে হবে। কনটেইনার হ্যান্ডলিং থেকে মোট আয়ের ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরকে দিতে হবে।

এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, চুক্তির মেয়াদ ১৫ বছর হলেও এক হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগের পরিকল্পনা প্রথম ১০ বছরের জন্য। পাশাপাশি, বন্দর কত শতাংশ রাজস্ব পাবে, তা ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশের মধ্যে নির্ধারিত হবে। কোন আয়ের স্তরে কত শতাংশ প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বন্দরের আয় কি বাড়বে?

এনসিটি ইজারা দেওয়ার পক্ষে অন্যতম যুক্তি হলো, এতে চট্টগ্রাম বন্দরের আয় বাড়তে পারে।

ফেব্রুয়ারি মাসের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, এনসিটিতে প্রতি কনটেইনার থেকে আয় ছিল ১৬১ দশমিক ৮২ ডলার। খরচ ছিল ৪১ ডলার ৩২ সেন্ট। এর বাইরে পরিচালন ব্যয় ছিল ১৬ ডলার ৩৯ সেন্টের কমবেশি। সব মিলিয়ে প্রতি কনটেইনার থেকে বন্দরের আয় ছিল ১০৪ ডলার ১০ সেন্ট।

অন্যদিকে, মোট আয়ের সর্বোচ্চ ৬৭ শতাংশ বন্দর পেলে প্রতি কনটেইনারে ১৬১ দশমিক ৮২ ডলারের হিসাবে বন্দরের প্রাপ্য দাঁড়াবে ১০৮ ডলার ৪১ সেন্ট। এই হিসাব অনুযায়ী, সর্বোচ্চ রাজস্ব ভাগ কার্যকর হলে বন্দরের আয় আগের তুলনায় কিছুটা বেশি হতে পারে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, বন্দর সব সময় সর্বোচ্চ ৬৭ শতাংশ পাবে, নাকি কোনো পরিস্থিতিতে ৪০ শতাংশ পাবে? কনটেইনারপ্রতি কত আয় হলে রাজস্বের ৪০ শতাংশ প্রযোজ্য হবে, তা জানা যায়নি। কনটেইনার থেকে আয় কমলে বন্দরের রাজস্বের ভাগও শতাংশের হিসাবে কমতে পারে।

তাই সর্বোচ্চ রাজস্ব ভাগের হিসাব দিয়ে পুরো চুক্তি বন্দরের জন্য কতটা লাভজনক হবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

বিদেশি অপারেটর এলে কী সুবিধা হতে পারে?

ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে সরকারের ও বন্দরসংশ্লিষ্টদের প্রধান যুক্তি হলো পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো।

এনসিটি ইজারা স্থগিত ও মামলা প্রত্যাহারে দুই দিনের আল্টিমেটামচট্টগ্রামে বন্দর রক্ষা কমিটির সংবাদ সম্মেলন

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া দাবি করেছেন, ডিপি ওয়ার্ল্ড পরিচালনার দায়িত্ব নিলে জাহাজের অবস্থানকাল অর্ধেকে নেমে আসবে। এতে চার্জ কমবে এবং ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।

বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করলে জাহাজের অবস্থান সময় অর্ধেকে নেমে আসবে দাবি করে তিনি বলেন, ‘‘এতে করে চার্জ কমবে, ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন এবং পরিবহন খরচও কমে আসবে। এর সামগ্রিক ইতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়বে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, ‘‘চুক্তি অনুযায়ী এনসিটিতে বর্তমানে যেসব শ্রমিক কাজ করছেন তাদেরই ডিপি ওর্য়াল্ড নিয়োগ করবে। এতে কোন শ্রমিককে চাকরি হারাতে হবে না। চিটাগাং ড্রাইডক পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েও আগের শ্রমিকদের বহাল রেখেছিল।”

বিরোধীদের আপত্তি কোথায়?

এনসিটি ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করছে বন্দর রক্ষা কমিটি এবং বন্দরের একটি শ্রমিক সংগঠন। তাদের প্রধান আপত্তি, দেশীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে পরিচালিত লাভজনক টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত যথেষ্ট স্বচ্ছ নয়।

বন্দর রক্ষা কমিটি চট্টগ্রামের সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টু চরচাকে বলেন, ‘‘এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়। অন্তর্বর্তী সরকার এই সিদ্ধান্ত এগিয়ে নিয়েও ব্যর্থ হয়। কিন্তু জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার জনগণের দাবি উপেক্ষা করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তি করেছে, এটা দুর্ভাগ্যজনক। এতে করে দেশের আমদানি-রপ্তানির নিয়ন্ত্রণ বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর খেসারত সরকারকে দিতে হবে।”

ফজলুল কবির মিন্টু বলেন, ‘‘সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের আওতায় এনসিটি পরিচালনায় চুক্তির শর্ত, আর্থিক দায় এবং শ্রমিকদের অধিকার কিছুই জনগণকে অবহিত না করে কেবলমাত্র উন্নয়ন ও বিনিয়োগের কথা বলে এ প্রক্রিয়াকে গ্রহণযোগ্য করা যাবে না।”

বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা বন্ধের দাবিতে প্রতীকী গণঅনশনchittagong_nct-cct

বন্দর রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির মিন্টুর অভিযোগ, চুক্তির শর্ত, আর্থিক দায় এবং শ্রমিকদের অধিকার সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করা হয়নি।

অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদও এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। চারচাকে তিনি বলেন, ‘‘সরকার বলছে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দিলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, আধুনিক হবে। অথচ যে দেশি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছে তারাও সক্ষমতার সঙ্গে আয় বাড়াচ্ছিল। দুই থেকে তিন হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করাই আছে। আবার নতুন করে নিজেদের নির্মাণ করা টার্মিনালে বিনিয়োগ করা কেন? সরকারের উচিত ছিল কীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠান দিয়ে দক্ষতার সঙ্গে বন্দর পরিচালনা করা যায় সে উদ্যোগ নেওয়া। সরকার সে পথে যায়নি।”

শেখ হাসিনার সরকারের আমল থেকে শুরু হয়ে এ প্রক্রিয়া এ সরকারের আমলে এসে শেষ হয়েছে মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘জনগণের গুরুত্ব কোনো সরকারই দেয়নি। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সাথে চুক্তিতে কি আছে আমরা জানি না। ওই টার্মিনাল থেকে আয় করা অর্থের একটা অংশ তারা নিয়ে যাবে। এতে বন্দরের আয় কমবে বলেই মনে হয়।” বিদেশি প্রতিষ্ঠানটির আয় বাড়ানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরের বিভিন্ন মাশুল বাড়িয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় সম্পদের মালিকানা কার হাতে থাকবে?

চুক্তি অনুযায়ী, এনসিটির জমি, মূল অবকাঠামো ও সম্পদের মালিকানা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেই থাকবে। ডিপি ওয়ার্ল্ডের দায়িত্ব হবে ১৫ বছর টার্মিনালটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা।

তবে বিরোধীদের প্রশ্ন, মালিকানা বন্দরের কাছে থাকলেও পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত থাকবে? চুক্তির শর্ত, রাজস্ব ভাগ এবং আর্থিক দায় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে না থাকায় এসব প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সরকারি ক্রয়নীতি ও পিপিপি গাইডলাইন অনুযায়ী এ ধরনের চুক্তি পুরোপুরি প্রকাশ করা হয় না। তবে রাষ্ট্রের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে তার বক্তব্য।

শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে কে?

এনসিটি নিয়ে বিতর্কের মূল জায়গা দুটি। একদিকে সরকারের প্রত্যাশা, ডিপি ওয়ার্ল্ডের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বন্দরের পরিচালন দক্ষতা বাড়বে, জাহাজের অবস্থানকাল কমবে এবং রাজস্ব আয় বাড়বে। অন্যদিকে, বিরোধীদের প্রশ্ন, দেশীয় প্রতিষ্ঠান দিয়ে লাভজনকভাবে পরিচালিত একটি টার্মিনালের দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার প্রয়োজন ছিল কি না?

চুক্তি অনুযায়ী, ডিপি ওয়ার্ল্ড এক হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের আয়ের ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত বন্দরকে দেবে। কিন্তু কোন পরিস্থিতিতে রাজস্বের কত শতাংশ প্রযোজ্য হবে, তা স্পষ্ট নয়। একইভাবে, পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর যে প্রত্যাশা করা হচ্ছে, তার বাস্তব ফলও এখনো দেখার বাকি।

ফলে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের সাফল্য নির্ভর করবে বন্দরের আয় কতটা বাড়ে, কনটেইনার ও জাহাজের অবস্থানকাল কতটা কমে এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বিনিয়োগ ও পরিচালন কার্যক্রম কতটা বাস্তবায়িত হয়, তার ওপর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ১৫ বছরের এই চুক্তিতে দেশের স্বার্থ কতটা সুরক্ষিত থাকছে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ কতটা লাভবান হচ্ছে।

বিষয়: চট্টগ্রাম বন্দরচট্টগ্রামনিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

  • ২

    ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে কী লাগে? ৫টি যোগ্যতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনটি?

  • ৩

    বাংলাদেশ লিড নেওয়ার আশায় বাধা রহমতের প্রতিরোধ

  • ৪

    কানাইঘাট সীমান্তে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার

  • ৫

    দিল্লিতে লকডাউন পরিস্থিতি: ৬ হাজার আটক, সিজেপির আন্দোলন ‘চলবে’

সম্পর্কিত
  • বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    বার বার হয় দাম নির্ধারণ, তবু এলপি গ্যাস মেলে না কেন

    রাজধানীর দোকানে দোকানে ঘুরে এলপি গ্যাস পাচ্ছেন না ক্রেতারা। কোনো দোকানে পাওয়া গেলে তার জন্য গুনতে হচ্ছে কমপক্ষে দুই হাজার ৪০০ টাকা। সরকার নির্ধারিত দাম এক হাজার ৮৩৭ টাকা। অভিযোগ ছিল, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাড়তি দামে বিক্রি করা হয় এলপি গ্যাস। যদিও তখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, স

  • গবেষণার নতুন নিয়মে আপত্তি কেন শিক্ষকদের?

    গবেষণার নতুন নিয়মে আপত্তি কেন শিক্ষকদের?

    পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় চলতি অর্থ-বছরের বাজেটে গবেষণায় কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। গবেষণায় বরাদ্দে নতুন নিয়ম করেছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। এখন থেকে ইউজিসি গবেষণার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা করে তহবিল দেবে।

  • ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় লাভ আসলে কেমন? নিয়ন্ত্রণ কার?

    ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় লাভ আসলে কেমন? নিয়ন্ত্রণ কার?

    রাজধানীর গলি থেকে আবাসিক সড়ক, বাজার, এমনকি প্রধান সড়কও এখন ব্যাটারিচালিত রিকশার দখলে। ‘অটোরিকশা’ নামেই বেশি পরিচিত এই রিকশাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে বিশাল ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।

  • হকার-দোকানের দখলে খুলনার ফুটপাত, ভোগান্তি

    হকার-দোকানের দখলে খুলনার ফুটপাত, ভোগান্তি

    খুলনা মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কগুলোর দু’পাশের ফুটপাত হকার ও ব্যবসায়ীদের অবৈধ দখলে থাকায় নিত্যদিন তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। ফুটপাত দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচলের সুযোগ না থাকায় পথচারীদের বাধ্য হয়ে সড়কের ওপর দিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিনই ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা।