
ব্যাংকের সিএসআর: টাকা কোথায় যায়, নীতিমালা থাকলেও মানছে কতটা?
দেশের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিলের অর্থ প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমে সাতবার বড় পরিবর্তন হয়েছে। প্রতিবারই দেখা গেছে, দেশে কোনো রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে অবধারিতভাবেই বদলে যায় শিক্ষানীতি। শিক্ষানীতি বা পাঠক্রমে বদল অন্য দেশেও হয়। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংযোগ যতটা না থাকে, তারচেয়ে বেশি থাকে নতুন প্রযুক্তি ও সময়ের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার প্রবণতা।
স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের শিক্ষানীতিতে রাজনৈতিক বদলের প্রভাব সুস্পষ্ট। এমনকি এটা এতটাই যে, অনেক ক্ষেত্রেই একটি শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে প্রবেশের পরপরই দেখা গেছে খোলনলচে বদলে ফেলে নতুন আরেকটি শিক্ষানীতি ঘোষণা করতে। কখনো কখনো মোটাগাদে শিক্ষানীতি বদলের ঘোষণা না এলেও শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধিতে বদল এসেছে।
এবারও নতুন করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে কিছু বদলের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এরই মধ্যে বিভিন্ন বক্তব্যে এ সম্পর্কিত ইঙ্গিত দিয়েছেন। এর মধ্যে মাধ্যমিকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভর্তি সম্পর্কিত বিষয় যেমন আছে, তেমনি আছে এসএসসি বা এইচএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় দুই বিষয়ে অকৃতকার্যদের দ্রুততম সময়ে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার মতো প্রসঙ্গও।
শিক্ষা ক্ষেত্রে এই যে বদলের ইঙ্গিত–এর জন্য এখন পর্যন্ত কোনো কাঠামোগত কোনো তৎপরতা নেই। কিন্তু জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এ খাতে যেকোনো বদল সুচিন্তিত ও দীর্ঘমিয়াদী পরিকল্পনা দাবি করে।
বিশ্বের অন্য দেশগুলোতে সাধারণত এ ধরনের বদল নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে থাকে। সরকার বা রাজনৈতিক বদলের কারণে শিক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের নীতিমালা হুট করে বদলে যায় না।
এ ক্ষেত্রে ভারত ও চীনের শিক্ষা খাতকে আমলে নিলে দেখা যাবে–সত্তরের দশকের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ যেখানে রাজনৈতিক ক্ষমতায় বদলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিক্ষায় সাতবার বড় বদল এনেছে, সেখানে ভারতে একই সময়ে বড় বদল এসেছে পাঁচবার। চীনেও এ খাতে জাতীয় সংস্কার হয়েছে পাঁচবার।
বাংলাদেশে সরকার বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বারবার বদল এসেছে। এর মধ্যে বড় পরিসরে বদল, অর্থাৎ কমিশন বা কমিটি গঠন করে বদল সাতবার হলেও শিক্ষা সম্পর্কিত নীতি, পাঠক্রম ইত্যাদিতে উল্লেখযোগ্য বদল এসেছে মোট ১১ বার। এর মধ্যে ১৯৭২ সালের প্রথম গঠন করা হয় কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন। এর পর ১৯৭৫ সালে অধ্যাপক সামছুল হুদা কমিটি, ১৯৮৩ সালে মজিদ খান কমিশন, ১৯৮৭ সালে মফিজউদ্দিন আহমদ কমিশন, ১৯৯২ সালে প্রাথমিক স্তরে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম, ১৯৯৫ সালে মাধ্যমিক স্তরে উদ্দেশ্যভিত্তিক শিক্ষাক্রম, ১৯৯৭ সালে এম শামসুল হক কমিশন, ২০০১ সালে ড. এম এ বারী কমিটি, ২০০৩ সালে মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিয়া কমিশন, ২০০৯ সালে কবির চৌধুরী কমিশন গঠন এবং ২০২১ সালে দক্ষতা ও অর্জনভিত্তিক পদ্ধতি চালুর সুপারিশ করা হয়। সর্বশেষটি পর্যায়ক্রমে চালু শুরু হয় ২০২৩ সালে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর এ ধারা আবার বন্ধ হয়। ফিরে আসে সাবেক ধারা। বদল আসে পাঠ্যবইয়েও।
বাংলাদেশে এই প্রতিটি বদলের ক্ষেত্রেই কখনো পাঠ্যক্রম, কখনো মূল্যায়ন পদ্ধতি বদলে যায়। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রাজনৈতিক নেতৃত্বে বদল এবং অনেকটা তাদের মর্জিমাফিক এই বদল হচ্ছে, যার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক চরচাকে বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের আর কত দিন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কবলে পড়ে গিনিপিগ হয়ে থাকতে হবে?”
তার মতে, দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে আসা বদলগুলো অনেক সময়ই হয় রাজনৈতিক বিবেচনায়। এটা শিক্ষার্থীদের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে বলেও মনে করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক মনজুর মনে করেন, “যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম তৈরি করতে না পারার পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকরাও বাধা হিসেবে কাজ করেন। শিক্ষাক্রম এবং পাঠ্যপুস্তক এক বিষয় নয়। কিন্তু শিক্ষাক্রম নিয়ে আলোচনা করার সময়ে শিক্ষক-অভিভাবক, এমনকি বিজ্ঞজনরাও এ দুইকে এক করে ফেলেন। যেমন, সর্বশেষ ২০২৩ সালে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়, সেটি বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে খুবই আধুনিক ছিল। কিন্তু সেই শিক্ষাক্রম নিয়ে যখনই কোনো মন্তব্য বা আপত্তি এসেছে, দেখা গেছে সেগুলো মূলত পাঠ্যপুস্তকের কনটেন্ট বিষয়ক।”
অন্যদিকে ভারতে যে পাঁচবার বড় বদল হয়েছে, সেখানে প্রতিবারই সুনির্দিষ্ট শিক্ষা কমিশন গঠন করে তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে করা হয়েছে। এই প্রতিটি বদলের ক্ষেত্রেই একটা ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয়েছে। চীনে শিক্ষা খাতে বদলের ক্ষেত্রে সেভাবে কমিশন গঠন না করলেও সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বদলগুলো এসেছে। দেশটিতে ১৯৫০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বড় বদল এসেছে মোট আটবার। এর মধ্যে সত্তরের দশক থেকে হয়েছে মোট পাঁচবার। ২০২২-২৩ সময়েই দেশ দুটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল যুগকে মাথায় রেখে শিক্ষায় সংস্কার আনে।
উভয় দেশের ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির অগ্রগতি ও দেশ দুটির জাতীয় অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষায় বদল হয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ বিষয়টি ঠিক এমন নয়।
শিক্ষায় বদলের ক্ষেত্রে নীতি ধারাবাহিকতা কেন গুরুত্বপূর্ণ? বাংলাদেশ এ পথে হাঁটছে না কেন? এখানে কোথায় গুলিয়ে ফেলছেন নীতিনির্ধারকেরা? এসব প্রশ্নের বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ক্ষেত্রে ব্যক্তি বাছাই ও সমন্বয়ের অভাবও কাজ করে। এ কারণে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সংযোগ সেভাবে রক্ষা হয় না।
এ নিয়ে তারিক মনজুর চরচাকে বলেন, “যারা পাঠ্যপুস্তক রচনা বা সম্পাদনার কাজ করেন, তারা বিষয়জ্ঞানে অভিজ্ঞ, কিন্তু তাদের মধ্যে শিক্ষাক্রম বিষয়ক ধারণার অভাব দেখা যায়। ফলে শিক্ষাক্রমের প্রতিফলন ঠিকমতো পাঠ্যপুস্তকে ঘটে না। তাছাড়া এসব কাজে যে সম্মানি দেওয়া হয়, তা এতই কম যে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিগণ যথেষ্ট সময় দেন না।”
বর্তমান এআই যুগে এসেও বাংলাদেশের শিক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতি অনেকটা পাঠ্যবইকেন্দ্রিক, যেখানে চীন ও ভারত বর্তমানে কারিগরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কাঠামোগত দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিশ্বের অগ্রসর অন্য দেশগুলোর ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনেকটা এমনই। যেমন–যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৫০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত ফেডারেল পর্যায়ে বড় বদল এসেছে চারবার। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলো নিজের মতো করে বিষয়টির দেখভাল করে। ফেডারেল সরকার তহবিলসহ কিছু বিষয় তদারকি করে। মোটাদাগে দেশটির শিক্ষা খাত বিকেন্দ্রীভূত। সময় ও এর চাহিদা মেনে শিক্ষা খাতে বদল আসে সেখানে। শিক্ষায় সবসময় উদাহরণ হিসেবে সামনে আসা দেশটি হলো ফিনল্যান্ড। দেশটিতে ১৯৫০-এর দশক থেকে এ পর্যন্ত বড় পদ্ধতিগত বদল এসেছে ছয়বার। এর মধ্যে একটি পুরোপুরি শিক্ষাপ্রশাসন সম্পর্কিত।
তার মানে কি? যুক্তরাষ্ট্র বা ফিনল্যান্ডে কি শিক্ষাক্রম বা শিক্ষানীতি সাত দশকের বেশি সময় ধরে একই আছে? উত্তর হলো–না। এই দেশগুলোতে শিক্ষা খাতে সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার অংশ, যেখানে যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এবং শিক্ষার্থীদের চাহিদা, জাতীয় অর্থনীতি, প্রযুক্তি ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়মিতই পাঠদান কৌশল থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীবান্ধব মূল্যায়ন পদ্ধতিকে গ্রহণ করা হয়। রাজনীতি এ ক্ষেত্রে প্রধান চালিকাশক্তি নয়।
বাংলাদেশে যুগোপযোগী শিক্ষানীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনার চেয়ে বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থের দিকেই বেশি মনোযোগ দেওয়া উচিত বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারিক মনজুর। চরচাকে তিনি বলেন, “রাজনৈতিক সরকারের পরিবর্তনে ইতিহাসের বিবরণে কিছু পরিবর্তন আসা খুব অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু অস্বাভাবিক হলো নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে বড় ধরনের বদল আনা। যেমন, বিগত সরকারের আমলে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক তৈরির পেছনে যারা কাজ করেছেন, তাদের কাজের সম্মানি বা প্রাপ্য বিল আটকে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় দেখে অতীতে লেখক-সম্পাদক নির্বাচন করতে দেখা গেছে। এখনও যদি একই বিচারে লেখক-সম্পাদক নির্ধারণ করা হয়, তবে শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক আশানুরূপ মানের চেয়ে পিছিয়ে থাকবে।”

ব্যাংকের সিএসআর: টাকা কোথায় যায়, নীতিমালা থাকলেও মানছে কতটা?
দেশের ব্যাংকগুলোর করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর তহবিলের অর্থ প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

নারীর প্রতি সহিংসতা কতটা ঠেকাতে পারছে ৯৯৯?
রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা নাজমা আক্তার। শাশুড়ি ও জায়ের সঙ্গে পারিবারিক মনোমালিন্য থেকে একদিন বাগবিতণ্ডা, পরে মারধরের শিকার হন তিনি। নির্যাতনের শিকার হয়ে সাহায্য চেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করেন নাজমা। তার কল পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানা থেকে পুলিশও আসে। কিন্তু যে প্রতিকার পাওয়ার আশায় তিনি জরুরি

রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের এমডি পদে নিয়োগের নীতিমালা কিছুটা শিথিল হচ্ছে কোন হিসাবে?
সম্প্রতি ‘রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক পদে মনোনয়ন, নিয়োগ, পদোন্নতি ও পদায়ন নীতিমালা’ সংশোধন করেছে সরকার। এদিকে, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয় বাণিজ্যিক ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) না থাকায় নতুন নেতৃত্ব নিয়োগের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। সোনালী

পার্টি থেকে আয়ের ‘৭০% পেতেন’ সেই ডিআইজি
পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল্লাহ আল জহিরের ‘গোল্ডেন সানরাইজ’ নামের বাড়িতে সপ্তাহে দুই-তিন রাতে পার্টি হতো বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আর পুলিশ বলছে, ওই বাড়িতে মাদক সেবনসহ অন্যান্য কর্মকাণ্ড থেকে যে আয় হতো তার ৭০ শতাংশ পেতেন ডিআইজি আব্দুল্লাহ।