
ইশরাককে ঘিরে বিএনপির অস্বস্তি কতটা গভীর?
ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণা একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক পরিণতি। কিন্তু এর তাৎপর্য নির্ভর করবে এরপর কী ঘটে তার ওপর। তিনি কি শুধু প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়বেন, নাকি দলীয় রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা আরও জোরালো করবেন?

সর্বশেষ এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার বেশ কিছু কাঠামোগত দুর্বলতা সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক বছগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার, শিক্ষার্থীর ইংরেজি ও গণিতভীতি, রেকর্ডসংখ্যক বিদ্যালয়ে শূন্য পাসসহ নানা দিক নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ পেয়েছে শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। এর মধ্যে একটি তথ্য সংবাদমাধ্যমে উঠে এলেও তা নিয়ে খুব একটা আলোচনা হয়নি। সেটি হলো, কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না করতে পারায় ১১ শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা।
এমন একজন–হালিমা খাতুন। সারা দেশে ইংরেজিতে খারাপ ফল বিশ্লেষণের পর যা বের হয়েছে, তা নিশ্চয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চকপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের হালিমা খাতুন জানতে পারেনি। সে জানেনি তার মতো অনেক শিক্ষার্থী ইংরেজি বিষয়ে খাতায় লিখে শিক্ষকের মন ভরাতে পারে না। ফল প্রকাশের দিন ইংরেজিতে অকৃতকার্য হয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছিল হালিমা।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান অবৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও মূল্যায়ন পদ্ধতিই অসম প্রতিযোগিতা উসকে দেয়। যদিও অভিভাবক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারকদের আলোচনায় সব সময় প্রাধান্য পায় শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি। তারা বলছেন, তথ্য-প্রযুক্তির এই সময় ‘তথ্য মনে রাখা বা মুখস্থ করা’ কোনো যোগ্যতা নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যুগে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’, ‘প্রবলেম সলভিং’ বা সমস্যা সমাধানের যোগ্যতা এবং ‘কমিউনিকেশন’ বা ‘যোগাযোগ দক্ষতা’।

শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও নীতিনির্ধারক সকলেই একবাক্যে স্বীকার করেন, মুখস্থনির্ভর শিক্ষা দিয়ে একবিংশ শতাব্দীর চতুর্থ শিল্পবিপ্লব এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অসম্ভব। এই তাগিদ সত্ত্বেও বাংলাদেশ ২০২৪ সালে ফিরে যায় চিরচেনা নম্বর ও পাস-ফেলভিত্তিক প্রতিযোগিতামূলক পদ্ধতিতেই।
মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যেই তৎকালীন শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ আগের কারিকুলাম বাতিল করেন। দেড় যুগ আগে বাতিল হওয়া পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষা পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। কেন? উপদেষ্টা গণমাধ্যমের কাছে সে সময় বলেছিলেন, “ওই পদ্ধতি অবাস্তবায়নযোগ্য।”
আসলেই কি তাই? শিক্ষাবিদ ও গবেষক মোস্তাফিজুর রহমান এ নিয়ে চরচাকে বলেন, “কোনো গবেষণা কিংবা মূল্যায়ন ছাড়াই একটি শিক্ষাব্যবস্থা এভাবে বাতিল করা যায় না। কতটা অবিবেচক হলে শিক্ষা বছরের আট মাস পেরিয়ে যাওয়ার পর পাঠ্যসূচি আর পরীক্ষাপদ্ধতি বাতিল করতে পারে নীতিনির্ধারকরা। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই তখন এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইউনূস সরকার। আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অবশ্যই সংশোধন বা পরিমার্জনের সুযোগ ছিল। তাড়াহুড়া করে পুরো কারিকুলাম বাতিল করাটা ঠিক ছিল না।”
রাজনৈতিক টানাপোড়েনে শিক্ষার্থীরা
১৯৭১ সালের পর থেকে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশে কোনো শিক্ষাক্রমই টেকসই বা দীর্ঘমেয়াদী পৃষ্ঠপোষকতা পায়নি। প্রতিটি নতুন সরকার বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিক্ষাব্যবস্থার ওপর রাজনৈতিক বয়ান চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। স্বাধীনতার পর ড. কুদরাত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭২-৭৪) ‘প্রগতিশীল ও বিজ্ঞানমনস্ক’ শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছিল। কিন্তু ১৯৭৫ এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি।
এরপর আশি ও নব্বইয়ের দশকে একাধিকবার পাঠক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়। ২০০১ ও ২০০৯ সালের সরকার বদলের সাথে সাথে পাঠ্যপুস্তকের ইতিহাস, ভাষা এবং মূল চরিত্রগুলো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী পুনঃলিখন করা হয়।
২০০৮ সালে মুখস্থবিদ্যা বন্ধে ‘সৃজনশীল’ পদ্ধতি আনা হলেও শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণ না থাকা ও নানা সীমাবদ্ধতার কারণে সে পদ্ধতি কার্যকর হয়নি। এই পদ্ধতি মুখস্তনির্ভরতা বন্ধ করতে পারেনি, বরং গাইড বইয়ের বাজার আরও রমরমা হয়। অথচ ১৯৮০ সালেই নোটবই নিষিদ্ধ করা হয় আইনে। ২০০৮ সালে হাইকোর্ট একটি আদেশ জারি করে নোটবইয়ের পাশাপাশি গাইডবইও নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এ ব্যবসা থামেনি। বরং বছর বছর বেড়েছে। কয়েক হাজার কোটি টাকার বাজার এখন এটি। এ ধরনের বইয়ের মোড়কটি কেবল বদলেছে। নাম হয়েছে–সহায়ক বই, বা ‘একের ভেতরে সব’ ইত্যাদি। এই বাণিজ্যের সঙ্গে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কর্মকর্তাদের যোগসাজশেরও অভিযোগ রয়েছে। গাইড বা নোটবই উৎপাদক ও বিক্রেতাদের স্বার্থ রক্ষা করে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়ার নানা অভিযোগ উঠেছে আগেই, যার সঙ্গে বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণের সময়সীমার এদিক-ওদিক হওয়ার বিষয়টিও যুক্ত।
রাজনৈতিক বদলের সঙ্গে শিক্ষাক্রম, পাঠ্যবই ইত্যাদি বদলের যে রেওয়াজ, তার সঙ্গে জাতীয় অর্থনীতির সংযোগ ক্ষীণ হলেও গাইডবই ব্যবসায়ীদের নতুন বই বিক্রির বাজারটিও যুক্ত বলে মনে করেন শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, পাঠ্যবই, পাঠ্যক্রম ও মূল্যায়ন পদ্ধতি একই থাকলে একই গাইডবই এক ব্যাচ থেকে অন্য ব্যাচে হাতবদল হয়েই এর চাহিদা মিটে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু নতুন পাঠ্যবই ও মূল্যায়ন পদ্ধতি এলে পুরনো গাইডবই দিয়ে আর চলে না। তখন পুরনো বইয়ের বাজার বা পরিচিত সিনিয়রের কাছ থেকে বই নিয়ে চলাটা মুশকিল। ফলে তখন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নতুন গাইডবইয়ের চাহিদা তৈরি হয়। অভিযোগ আছে, রাজনৈতিক বদলের পর নতুন রাজনৈতিক কর্তারা এ সুযোগটি কাজে লাগান পকেট ভরতে।
শিক্ষা বিষয়ক গবেষকরা মনে করেন, নতুন ধরনের প্রশ্ন বা মূল্যায়ন চালু হলেও প্রকাশকেরা সে অনুযায়ী গাইডবই তৈরি করে ফেলে। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ভাষাবিশেষজ্ঞ তারিক মনজুর চরচাকে বলেন, “গাইড প্রকাশকেরা আগে প্রতিটি বিষয়ের জন্য একটি করে গাইড বই তৈরি করতেন। সেটির বদলে এখন প্রয়োজন বুঝে ভিন্ন নামে তৈরি করেন পাঠ-সহায়ক বই।”
রাজনৈতিক বদলে শিক্ষায় বদল
সর্বশেষ বদলটির ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়ো দেখা গেছে ভীষণভাবেই। সমসাময়িক আন্তর্জাতিক ধারণা অনুসরণ করে মুখস্তের বদলে দক্ষতা-অর্জনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গঠনের তাগিদ থেকে জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা-২০২১ তৈরিতে হাত দেয় তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার। প্রথম ধাপে ২০১৭-১৯ পর্যন্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে একাধিক গবেষণা ও কারিগরি সমীক্ষা চালায়।
এরপর তৎকালীন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলামকে প্রধান করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, লেখক-শিক্ষাবিদ অধ্যাপক জাফর ইকবাল, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক আবুল মোমেন, অধ্যাপক লাফিফা জামান, অধ্যাপক মো. মশিউজ্জামানসহ ১৫৬ জন শিক্ষাবিদ, বিষয়ভিত্তিক বিশেষজ্ঞ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সমন্বয়ে কারিকুলাম ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিভিশন কোর কমিটি (সিডিআরসিসি) নামে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়। লাগাতার কর্মশালা, গবেষণা, পরিবর্ধন, পরিমার্জনের পর প্রণয়ন করা হয় একটি অখণ্ড, একক জাতীয় কারিকুলাম ও শিক্ষাব্যবস্থা। পরীক্ষার চাপ কমিয়ে শিক্ষাকে আনন্দময় করা এবং মুখস্তের পরিবর্তে ‘শিখতে শেখা’ ধারনার বাস্তবায়ন করতে তৈরি করা হয় নতুন কারিকুলাম।
২০২১ সালে চালুর লক্ষ্য থাকলেও কোভিডের কারণে ২০২৩ সালে প্রাথমিক স্তরের প্রথম শ্রেণি এবং মাধ্যমিক স্তরের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে চালু হয় নতুন পাঠ্যসূচি। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৪ সালে প্রাথমিকের দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে এর সম্প্রসারণ করা হয়। এই রূপান্তর অনেকটাই মিলে গিয়েছিল ফিনল্যান্ড বা উন্নত বিশ্বের অনেক দেশের সাথে। বাস্তবায়ন শুরুর পর অবশ্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তরফ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে।
প্রতিযোগিতা ও মুখস্ত নির্ভরতা থেকে মুক্তি দিতেই যেখানে নতুন কারিকুলাম তৈরি হয়েছিল, সেখানে অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল, প্রতিযোগিতার অভাব ঘিরেই। ওই সময় অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোহাম্মদ দুলুর গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তেমন অভিযোগই ছিল–“আগে যেমন নম্বর দিয়ে মূল্যায়ন ছিল। তখন শিক্ষার্থীরা বাসায় পড়াশোনায় আগ্রহী হতো। তাদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা থাকত। এখন এসব না থাকায় শিক্ষার্থীরা বাসায় পড়তে আগ্রহী হচ্ছে না। তাহলে ওরা কী শিখবে?”
যদিও অনেক অভিভাবক আবার ওই পদ্ধতিকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। সে সময় এ নিয়ে সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে বেশ তর্ক-বিতর্কও হয়েছিল। শিক্ষাবিদ মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, একটি প্রশ্নপত্র থেকে একজন শিক্ষার্থী দলগতভাবে ব্রেইন স্টর্মিংয়ের মাধ্যমে যা উত্তর তৈরি করবে, তা সারাজীবনে ভুলবে না। তিনি বলেন, “ধারণা করছি আপনারাও এমনই (মুখস্তনির্ভর পদ্ধতির) প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন, কী কাজে লেগেছে? অনেকেই একটা দরখাস্ত লিখতে কলম ভেঙে ফেলেন।”
তবে পদ্ধতিটি তাড়াহুড়ো করে চালু করা হয়েছিল বলে মনে করেন অনেক শিক্ষাবিদ। এ ক্ষেত্রে পাইলটিং-ঘাটতির মতো কাঠামোগত দুর্বলতা রেখে ওই পাঠ্যক্রম বাস্তবায়নের সমালোচনা আছে শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে। মূল রোডম্যাপেই ২০২২ সালে ছোট পরিসরে পাইলটিং করে ফলাফল বিশ্লেষণ করে তবেই জাতীয় সম্প্রসারণের কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবে প্রাথমিকে পাইলটিং শুরু করা যায়নি বাজেট বিলম্বের কারণে। তবু ২০২৩-এ জাতীয়ভাবে ওই কারিকুলাম চালু হয়ে যায়। এটা প্রকল্প ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা বলে মনে করেন তারা।
এ ছাড়া শিক্ষক-প্রস্তুতির ঘাটতি অপ্রতুল প্রশিক্ষণ দিয়ে একসঙ্গে শিখন-শেখানো-মূল্যায়ন তিনটিই আমূল বদলানোর চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল বলেও মনে করেন অনেক শিক্ষাবিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) অধ্যাপক এস এম হাফিজুর রহমান বলেন, “হঠাৎ করেই এমন একটা পদ্ধতি চালু না করে আরও পাইলটিং করে নতুন কারিকুলাম চালু করা হলে এত প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হতো না।”
কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর পুরো প্রক্রিয়াটিকে বাতিল করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে পুনরায় প্রথাগত নম্বর ও লিখিত পরীক্ষায় ফিরিয়ে নেওয়া হয় শিক্ষার্থীদের। এ নিয়েও তর্ক-বিতর্ক চলছে।
শিক্ষা গবেষকেরা মনে করেন, বর্তমানে যে নম্বরভিত্তিক পদ্ধতিতে ফিরে যাওয়া হয়েছে, তা সাময়িকভাবে পরীক্ষা নেওয়া বা খাতা মূল্যায়নের জন্য সহজ হতে পারে। জিপিএ-৫ পাওয়ার অন্ধ ইঁদুর-দৌড় এবং পাস-ফেলের কাঁটাতার ফেরায় শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ালেখার মানসিক চাপ বেড়েছে। গভীর রাতে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়া এবং পরীক্ষার আগের রাতের তীব্র আতঙ্ক আবার ফিরে এসেছে।
মুখে ‘যোগ্যতা’, মনে ‘নম্বর ও গ্রেড’
বাংলাদেশের শিক্ষাপদ্ধতিতে বারবার বদল এলেও মূল্যায়ন পদ্ধতি মোটাদাগে একই রকম রয়ে গেছে। চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র বা ফিনল্যান্ডসহ উন্নত দেশগুলো বা সে কাতারে যেতে ইচ্ছুক দেশগুলো শিক্ষায় সংস্কার আনে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। যথাযথ বিশ্লেষণ, অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা, কারিগরি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া, ডিজিটাল যুগের চাহিদা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো বিষয়গুলোকে বিবেচনায় নিয়ে তারা তাদের নতুন প্রজন্মের জন্য শিক্ষাব্যবস্থাকে সাজায়।
বাংলাদেশেও ‘যোগ্যতাভিত্তিক’, ‘নতুন যুগের চাহিদা’, ‘শিক্ষার আধুনিকায়ন’ ইত্যাদি শব্দবন্ধ বক্তৃতা-বিবৃতিতে বারবার উচ্চারিত হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের সামনে রয়েছে সেই নম্বর বা গ্রেডভিত্তিক একটি প্রতিযোগিতার মঞ্চ, যেখানে অন্যতম অস্ত্র এখনো মুখস্তে পারদর্শিতা। যদিও আজকের প্রযুক্তির যুগে তথ্য মনে রাখার বদলে তথ্য কাজে লাগানো, দলবদ্ধভাবে কাজের দক্ষতা, প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানো ইত্যাদি বেশি জরুরি। কিন্তু অজস্র বদলের পরও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ঘুরেফিরে একই নম্বর ও গ্রেডের বৃত্তেই রয়ে গেছে। ফলে সৃষ্টিশীলতার পরিবর্তে সেই নোট বই, গাইড বই কিংবা পাঠ্যবই সহায়ক নামে এক শ্রেণির ব্যবসায়ীদের রমরমা ব্যবসা চলছে বলে মনে করেন শিক্ষা গবেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিক মনজুর মনে করেন, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার প্রবণতা, পরীক্ষায় ভালো ফল করার চাপ ও প্রস্তুতির জন্য সাজানো প্রশ্নোত্তরের সুবিধা এবং শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার ঘাটতিসহ নানা কারণে গাইড বইয়ের রমরমা ব্যবসার ধারা অব্যাহত আছে এখনো।
ইশরাককে ঘিরে বিএনপির অস্বস্তি কতটা গভীর?
দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমারীকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে আরাধনা
চীনের গুয়াংজুতে কনস্যুলেট অফিস স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রবাসী বাংলাদেশিদের আহ্বান
ঘনঘন শিক্ষাক্রম বদল: শিক্ষার্থীরা কি গিনিপিগ তবে?
‘ভারতের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হবে খুবই ভালনারেবল অবস্থায় ভারত’

ইশরাককে ঘিরে বিএনপির অস্বস্তি কতটা গভীর?
ইশরাকের পদত্যাগের ঘোষণা একটি তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক পরিণতি। কিন্তু এর তাৎপর্য নির্ভর করবে এরপর কী ঘটে তার ওপর। তিনি কি শুধু প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়বেন, নাকি দলীয় রাজনীতিতে নিজের ভূমিকা আরও জোরালো করবেন?

খাদ্য সংকট আসন্ন, মোকাবিলায় কতটা প্রস্তুত এশিয়া?
এল নিনোর অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে বিশাল, বিশেষ করে এই কারণে যে, সরকারগুলোর এই ধাক্কা সামলানোর মতো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি বা ক্ষমতা নেই। ১৯৯৭ সালের এল নিনো নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, তার পরের পাঁচ বছরে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ক্ষতি ছিল প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার–যার একটি বড় অংশ এশিয়াকে একাই বহন করত

বড় কোম্পানি শেয়ারবাজারে আসে না কেন, সমস্যা কোথায়?
ব্যাংকঋণ নিলে সুদসহ অর্থ ফেরত দিতে হয়। কিন্তু নতুন শেয়ার ইস্যু করে অর্থ সংগ্রহ করলে সেই অর্থ ঋণের মতো কিস্তিতে ফেরত দিতে হয় না। এর বিনিময়ে কোম্পানির মালিকানার একটি অংশ নতুন বিনিয়োগকারীদের দিতে হয়।

রুবিওর মুম্বাই সফর ঘিরে ভারতের অস্বস্তি: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে টানাপোড়েন
এই দুই স্থানকে কেন্দ্র করে সফরের কর্মসূচি নির্ধারণের পেছনে অর্থনৈতিক ও জ্বালানিসংক্রান্ত যুক্তি থাকতে পারে। তা সত্ত্বেও নয়াদিল্লিকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি ভারতের রাজনৈতিক মহলে যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে, তা দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান সংবেদনশীলতাকেই প্রকাশ করে।