
মালয়েশিয়ার হালাল বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যে বিদেশি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ
মেলায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যে আগ্রহ দেখিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা।

আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ক্ষমতার সংজ্ঞা সব সময় সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক সামর্থ্য কিংবা ভেটো ক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। কখনো কখনো প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে এমন এক সক্ষমতায়, যেখানে পরস্পরবিরোধী শক্তিগুলোর সঙ্গে কথা বলা যায়, কিন্তু কোনো এক পক্ষের ছায়ায় হারিয়ে যেতে হয় না।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে ড. খলিলুর রহমানের যাত্রা শুরু হয়েছে ঠিক এমন এক সময়ে, যখন বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্র গভীর বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে রাশিয়া ও পশ্চিমাদের দ্বন্দ্ব, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার চলমান সংঘাত এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে ক্রমবর্ধমান প্রশ্ন, সব মিলিয়ে বৈশ্বিক পরিমণ্ডল আজ অস্থির ও অনিশ্চিত।
এই বাস্তবতায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির ভূমিকা নিছক আনুষ্ঠানিক নয়। বরং তার প্রধান কাজ হচ্ছে এমন দেশগুলোর মধ্যে সংলাপের সেতুবন্ধন বজায় রাখা, যাদের স্বার্থ প্রায়ই একে অন্যের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
প্রথম দিকের বক্তব্য ও অবস্থান দেখে মনে হচ্ছে, খলিলুর রহমান সেই চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন। তার ঘোষিত প্রতিপাদ্য, “আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর একটি জাতিসংঘ”, মূলত একটি বার্তাই বহন করে—বিভক্তির নয়, ঐকমত্যের রাজনীতি। তিনি নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
শুনতে এটি জাতিসংঘের চেনা ভাষা মনে হতে পারে। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনীতিতে এই ভারসাম্য বজায় রাখাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হবে, তবে এমন নয় যাতে তাকে বেইজিংপন্থী মনে হয়। রাশিয়াকে উপেক্ষা করা যাবে না, কারণ তারা নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। একই সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বৈশ্বিক ব্যবস্থার কেন্দ্রীয় শক্তি। অন্যদিকে ভারত ক্রমশ বিশ্ব রাজনীতিতে নিজের প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে বাস্তবতা হলো, কোনো পক্ষকে বেছে নেওয়া নয়, বরং সবাইকে আলোচনার পরিসরে রাখাই হবে তার সবচেয়ে বড় সাফল্য।
তবে খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক অবস্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক সম্ভবত অন্য একটি বিষয়, আফ্রিকার প্রতি তার বিশেষ গুরুত্বারোপ।
দীর্ঘদিন ধরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার নিয়ে আলোচনা আবর্তিত হয়েছে ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানের মতো উদীয়মান শক্তিগুলোর স্থায়ী সদস্যপদ দাবিকে ঘিরে। কিন্তু ৫৪টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে আফ্রিকা এখনো নিরাপত্তা পরিষদে কোনো স্থায়ী আসন পায়নি।
একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এই বৈপরীত্যকে ব্যাখ্যা করা ক্রমেই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
খলিলুর রহমান প্রকাশ্যে আফ্রিকার জন্য স্থায়ী ও ন্যায্য প্রতিনিধিত্বের পক্ষে কথা বলেছেন। এর অর্থ এই নয় যে, তিনি ভারতের আকাঙ্ক্ষার বিরোধিতা করছেন, কিংবা বিষয়টি বাংলাদেশ-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতার কোনো নতুন অধ্যায়। বরং তিনি সংস্কার বিতর্কটিকে অন্য এক জায়গায় নিয়ে যেতে চাইছেন।
কারণ আফ্রিকার প্রশ্ন সামনে এলে আলোচনাটি আর কেবল ‘কোন দেশ স্থায়ী সদস্য হওয়ার যোগ্য’ এই সীমায় আটকে থাকে না। প্রশ্ন ওঠে, একটি পুরো মহাদেশকে বাদ রেখে কোনো প্রতিষ্ঠান কি সত্যিই বর্তমান বিশ্বের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে?
এই প্রশ্ন ভারতের জন্য যেমন প্রযোজ্য, তেমনি জাপান, জার্মানি, ব্রাজিল কিংবা অন্য সব দাবিদার দেশের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
এখানেই খলিলুর রহমানের সামনে রাজনৈতিক সূক্ষ্মতা ও কৌশলগত প্রজ্ঞার পরীক্ষা। ভারত বাংলাদেশের বৃহত্তম প্রতিবেশী ও একটি ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক শক্তি। চীন এশীয় ভূরাজনীতি ও উন্নয়নশীল বিশ্বের অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করছে। রাশিয়া নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। আর আফ্রিকান দেশগুলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি বিশাল ভোটভিত্তি।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একজন সফল সভাপতি কাউকেই অবহেলা করার সুযোগ পান না।
এই জায়গায় খলিলুর রহমানের দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা তার সবচেয়ে বড় সম্পদ। জাতিসংঘ ব্যবস্থার সঙ্গে বহু বছরের সংশ্লিষ্টতা তাকে শিখিয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রভাব অনেক সময় নীরবে কাজ করে। কূটনীতি শুধু প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে ছবি তোলা বা জনাকীর্ণ অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার বিষয় নয়। এর বড় অংশজুড়ে থাকে ধৈর্য, আলোচনার দক্ষতা, প্রক্রিয়াগত জ্ঞান, জোট গঠন এবং বিরোধী পক্ষগুলোর কাছে গ্রহণযোগ্য ভাষা খুঁজে বের করা।
এখানে বাংলাদেশের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা রয়েছে।
আমাদের পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আলোচনা প্রায়ই অযথা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে, ভারত না চীন, ওয়াশিংটন না বেইজিং, পশ্চিম না পূর্ব। কিন্তু আজকের আন্তর্জাতিক বাস্তবতা এত সরল নয়। মাঝারি ও ছোট রাষ্ট্রগুলো ক্রমশ বুঝতে শিখছে, কৌশলগত নমনীয়তাও একটি শক্তি।
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, রাশিয়া, জাপান, মুসলিম বিশ্ব এবং ক্রমবর্ধমানভাবে আফ্রিকারও সম্পর্ক রয়েছে। প্রতিটি সম্পর্ককে অন্য কারও প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় পরিণত করা ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের সঙ্গে যায় না।
তবে কৌশলগত ভারসাম্য এবং সুযোগসন্ধানী কূটনীতি এক নয়। ভারসাম্য সফল হয় তখনই, যখন একটি রাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখে এবং প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর মাঝেও নিজের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে পারে।
সেই অর্থে খলিলুর রহমানের এই দায়িত্ব শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়। জাতিসংঘের হাতুড়ি হাতে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধি নন, বরং পুরো সাধারণ পরিষদের সভাপতি। তবুও বিশ্বের সবচেয়ে দৃশ্যমান বহুপক্ষীয় মঞ্চগুলোর একটিতে একজন বাংলাদেশি কূটনীতিকের পারফরম্যান্স অনিবার্যভাবেই বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটাবে।
অবশ্য বাস্তব সীমাবদ্ধতাও আছে। তিনি একক সিদ্ধান্তে নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কার করতে পারবেন না, ভেটো ব্যবস্থা বাতিল করতে পারবেন না, যুদ্ধ থামাতে পারবেন না বা পরাশক্তিগুলোকে সমঝোতায় বাধ্য করতে পারবেন না। এসব পরিবর্তনের জন্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতি এবং জাতিসংঘ সনদের সংশোধন প্রয়োজন।
কিন্তু তিনি একটি কাজ অবশ্যই করতে পারেন, বিশ্ব কোন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবে এবং কোন কণ্ঠগুলো শোনা হবে, সেই অগ্রাধিকার নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারেন।
আর কূটনীতিতে অনেক সময় এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
যদি তার নেতৃত্বে চীন, রাশিয়া, ভারত, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র এবং বৃহত্তর গ্লোবাল সাউথকে একই আলোচনার পরিসরে রাখা যায়, আর আফ্রিকার দীর্ঘদিনের প্রতিনিধিত্বের দাবিকে সংস্কার বিতর্কের কেন্দ্রে আনা যায়, তাহলেই তার সভাপতিত্ব অর্থবহ হয়ে উঠবে।
শেষ পর্যন্ত খলিলুর রহমানের সাফল্য তিনি কত শক্তিধর নেতার পাশে দাঁড়ালেন তা দিয়ে মাপা হবে না। বরং দেখা হবে, তিনি কত দক্ষতার সঙ্গে পরস্পরবিরোধী শক্তিগুলোর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থেকেও নিজেকে নিরপেক্ষ রাখতে পারলেন।
আজকের বিভক্ত বিশ্বে জাতিসংঘের হাতুড়ি হাতে একজন বাংলাদেশি কূটনীতিকের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আর সম্ভবত, এটাই তার সবচেয়ে বড় সুযোগও।
লেখক: সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংকিং আর্থিক অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং কলামিস্ট ও কবি
ইমেইল: [email protected]

মালয়েশিয়ার হালাল বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যে বিদেশি ব্যবসায়ীদের আগ্রহ
মেলায় বাংলাদেশি খাদ্যপণ্যে আগ্রহ দেখিয়েছেন বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা।

এক দেশের শরৎ, অন্য দেশের শীত
এক দেশের শরৎ কখনো কখনো অন্য দেশের শীত হয়ে ফিরে আসে। একটি ঋতু অন্য একটি ঋতুর স্মৃতি হয়ে ওঠে। একটি দেশের কুয়াশা অন্য দেশের ভোরকে জাগিয়ে তোলে।

সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপো নিয়ে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেটের সংবাদ সম্মেলন
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সৌদি আরবে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার থেকে জেদ্দায় শুরু হচ্ছে চতুর্থ ‘সৌদি ফ্যাশন অ্যান্ড টেক্স এক্সপো ২০২৬। চার দিনব্যাপী (২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর) এই এক্সপো জেদ্দা ইন্টারন্যাশনাল এক্সিবিশন অ্যান্ড কনভেনশন সেন্টারে আয়োজন

বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবীদের জন্য মালয়েশিয়ায় বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ
মালয়েশিয়ার উপ-অর্থমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া গেলে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে তাদের জন্য উল্লেখযোগ্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।”