
সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!
৬০ বছর বয়সে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তা করছেন? বিজ্ঞান বলছে, এই বয়সেই অনেকে জীবনের শীর্ষে পৌঁছান। যৌবন যখন ক্রমে অতীত হয়ে যায়, তখন অনেকে বয়স বাড়া নিয়ে ভয় পেতে শুরু করেন। কিন্তু ইন্টেলিজেন্স জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত গবেষণা বলছে–উল্টোটা ভাবারও যথেষ্ট কারণ আছে। অনেকের ক্ষেত্রেই ৫৫ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে সামগ্রিক মানসিক বা মনস্তাত্ত্বিক দক্ষতা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যায়। এই তথ্যটি বোঝায় কেন এই বয়সের মানুষরা কর্মজীবনে জটিল সমস্যার সমাধান ও নেতৃত্বের জায়গায় প্রায়শই সবচেয়ে কার্যকর হয়ে ওঠেন।
নানা রকম ‘শীর্ষে পৌঁছানো’
গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক সক্ষমতার দিক থেকে মানুষ সাধারণত ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে নিজের চূড়ায় পৌঁছায়। একই ভাবে বহু গবেষণায় দেখা গেছে, মানসিক প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা–অর্থাৎ যুক্তি দেওয়া, তথ্য মনে রাখা ও দ্রুত বিশ্লেষণ করার দক্ষতা–প্রায়শই ক্ষেত্রে ২৫ বছর বয়সের পর থেকেই ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
বাস্তব উদাহরণও তা প্রমাণ করে। ক্রীড়াবিদরা সাধারণত ৩০-এর আগে সেরা ফর্মে থাকেন। গণিতবিদেরা বড় বড় অবদান রাখেন ৩০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। দাবা চ্যাম্পিয়নরাও সচরাচর ৪০ পেরিয়ে শীর্ষে থাকতে পারেন না। তবে যদি আমরা কেবল মানসিক প্রক্রিয়াকরণের গতি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত দিকগুলো দেখি, তাহলে একেবারেই ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়।
যুক্তি থেকে আবেগের স্থিতিশীলতা
গবেষণায় আমরা শুধু যুক্তি বা বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষমতার বাইরে গিয়ে এমন কিছু মানসিক গুণের ওপর মনোযোগ দিয়েছি, যেগুলো দীর্ঘস্থায়ী, সঠিকভাবে পরিমাপযোগ্য, বয়স অনুযায়ী পরিবর্তনের ধারাবাহিকতা রয়েছে এবং বাস্তব জীবনের সাফল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত।
আমরা ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক বৈশিষ্ট্য চিহ্নিত করেছি। এর মধ্যে ছিল, যুক্তি, স্মৃতিশক্তি, তথ্য প্রক্রিয়াকরণের গতি, জ্ঞান ও আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা। পাশাপাশি ছিল বিখ্যাত ‘বিগ ফাইভ’ ব্যক্তিত্ব বৈশিষ্ট্য: বহির্মুখিতা, আবেগীয় স্থিতিশীলতা, দায়িত্ববোধ, নতুন অভিজ্ঞতা গ্রহণে উন্মুক্ততা ও সৌহার্দ্য।
বড় আকারের বহু গবেষণা বিশ্লেষণ করে আমরা এই ১৬টি বৈশিষ্ট্যের বয়সভিত্তিক পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে মানচিত্রে এঁকেছি।
জীবনের পরের দিকে উন্নতি
এই বৈশিষ্ট্যগুলোর অনেকগুলোই জীবনের পরের পর্যায়ে গিয়ে চূড়ায় ওঠে। যেমন, দায়িত্ববোধ প্রায় ৬৫ বছর বয়সে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়। আবেগীয় স্থিতিশীলতা প্রায় ৭৫ বছর বয়সে গিয়ে শীর্ষে ওঠে।
মৌলিক নৈতিক যুক্তি বা জ্ঞানগত পক্ষপাত প্রতিরোধের ক্ষমতার মতো বিষয়গুলোও প্রৌঢ় বয়সে আরও উন্নত হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে ৭০-৮০ বছর পর্যন্ত এই উন্নতি চলতে পারে।
সবগুলো বৈশিষ্ট্যের গড় মিলিয়ে একত্রে বিশ্লেষণ করতে গিয়ে দেখা গেছে, সামগ্রিক মানসিক কার্যকারিতা ৫৫ থেকে ৬০ বছর বয়সে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকে। এরপর প্রায় ৬৫ থেকে ধীরে ধীরে পতন শুরু হয়, যা ৭৫-এর পর স্পষ্টত দ্রুত হয়।

বয়সভিত্তিক ধারণা ভাঙার সময় এসেছে
এই ফলাফল ব্যাখ্যা করে কেন ব্যবসা, রাজনীতি বা জনজীবনের সবচেয়ে জটিল নেতৃত্বের দায়িত্বগুলো প্রায়শই পঞ্চাশোর্ধদের হাতে থাকে। যদিও বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কিছু মানসিক দক্ষতা কমে যায়, তবুও অন্য বৈশিষ্ট্যগুলো আরও পরিপক্ব হয়। ফলস্বরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্থিরতা ও বিচক্ষণতা বাড়ে, যা নেতৃত্বের জন্য অপরিহার্য।
তবু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চাকরি হারানোদের আবার কর্মক্ষেত্রে ফিরতে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। কিছুটা কাঠামোগত কারণও আছে। যেমন, অনেক নিয়োগকর্তা মনে করেন ৫৫ বছরের কাউকে নেওয়া মানে অল্প সময়ের জন্য বিনিয়োগ, কারণ তার অবসরের সময় কাছে চলে আসে।
কিছু পেশায় আবার বাধ্যতামূলক অবসরের নিয়মও আছে। যেমন, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান সংস্থা (আইসিএও) আন্তর্জাতিক পাইলটদের অবসর বয়স ৬৫ নির্ধারণ করেছে। বহু দেশে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের ৫৬ থেকে ৬০-এর মধ্যে অবসর নিতে হয়। যেহেতু এসব পেশায় স্মৃতি ও মনোযোগের উচ্চমাত্রার প্রয়োজন, তাই বয়সসীমা অনেক সময় যৌক্তিক ধরা হয়।
তবে সবার অভিজ্ঞতা এক নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কেউ কেউ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তি ও স্মৃতিশক্তি হারালেও, অনেকে সেগুলো দীর্ঘদিন ধরে অক্ষুণ্ণ রাখেন। অতএব, বয়স একাই কারও সামগ্রিক মানসিক দক্ষতা নির্ধারণ করে না। তাই মূল্যায়ন হওয়া উচিত ব্যক্তির প্রকৃত ক্ষমতার ভিত্তিতে, বয়সের ভিত্তিতে নয়।
বয়স নয়, এটি শিখরে ওঠা
সব মিলিয়ে এই গবেষণা বলছে, কর্মক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক নয়, দক্ষতাভিত্তিক মূল্যায়ন প্রয়োজন। জীবনের মধ্য বয়সে মানুষ আসলে তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ্য ও পরিপক্বতার সমন্বয়ে দাঁড়িয়ে থাকে।
চার্লস ডারউইন ৫০ বছর বয়সে প্রকাশ করেন ‘অন দ্য অরিজিন অব স্পিসিস’। ৫৩ বছর বয়সে শ্রবণশক্তিহীন লুডভিগ ভান বেটোফেন রচনা করেন তার নবম সিম্ফনি। সাম্প্রতিক সময়ে, ৫৫ বছর বয়সে লিসা সু নেতৃত্ব দিয়েছেন কম্পিউটার কোম্পানি এমএডি-কে শিল্পের অন্যতম বড় প্রযুক্তিগত রূপান্তরের পথে।
ইতিহাস এমন উদাহরণে ভরপুর। যেখানে মানুষ জীবনের তথাকথিত ‘শীর্ষ বয়স’ পেরিয়ে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করেছেন। সম্ভবত এখন সময় এসেছে, মধ্য বয়সকে অবসানের কাউন্টডাউন হিসেবে নয়, বরং জীবনের আসল শিখর হিসেবে দেখতে শেখার।
(কনভারসেশন ডট কম অবলম্বনে)
রাশিয়া-ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের, বিস্মিত জেলেনস্কি
ইউপি নির্বাচন: জানুয়ারি থেকে শুরু পাঁচ ধাপের ভোট
সদস্যদের রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে যা বলছে খুলনা পুলিশ
বাল্যবিয়ের কারণে কোনো কন্যার স্বপ্ন যেন থমকে না যায়: প্রধানমন্ত্রী
রাশিয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজন করবেন: এবিসিকে জেলেনস্কি

সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের গুরুত্ব কতটা?
গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সিনিয়র সিটিজেন সপ্তাহ। সারা বিশ্ব ব্যাপী এটা পালিত হয় প্রবীণ নাগরিকদের সন্মান জানিয়ে। সেই উপলক্ষে প্রবীণ নাগরিকদের সবাইকে জানাই ‘সিনিয়র সিটিজেন’ সপ্তাহের শুভেচ্ছা!

সম্রাট শাহজাহানের পছন্দের কাচ্চি বিরিয়ানি রাঁধে কীভাবে?
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, সম্রাট শাহজাহানের হেঁশেলেই আজকের মাটন বিরিয়ানির আদি রূপ রান্না হতো। আর এর প্রমাণ মেলে ওই আমলের কুকবুক ‘নুশখা-ই-শাহজাহানি’তে। ‘নি’মতনামা-ই-নাসির শাহি’, ‘আইন-ই-আকবরি’তেও অনেক খাবারের উল্লেখ থাকলেও ‘বিরিয়ানি’ পাওয়া যায় না।

শিশুর ডেঙ্গু হলে করণীয় কী?
অনেক অভিভাবক শুরুতে জ্বরকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর মনে করে বাড়িতেই চিকিৎসা চালিয়ে যান। কিন্তু ডেঙ্গুতে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হলে ঝুঁকি বেড়ে যায়, বিশেষ করে প্লাটিলেট কমে গেলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে।

কীভাবে বুঝবেন আপনি গরিব?
নিয়মিত বেতন পেয়ে মোটামুটি ভালোভাবে জীবনযাপন করলেও কিন্তু আর্থিক সমস্যা থাকতে পারে। আপনি দৈনন্দিন বিলগুলো হয়তো পরিশোধ করতে পারছেন, কিন্তু হুট করে বড় কোনো খরচ এসে পড়লে সমস্যায় পড়ে যান। তবে এসব লক্ষণ থাকলেই কাউকে গরিব বলা যায় না। এতে বোঝা যায় যে আপনি আর্থিকভাবে চাপে আছেন।