Advertisement Banner

গলায় মাংস আটকালে কী করবেন

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
গলায় মাংস আটকালে কী করবেন
অসাবধানতায় যে কারো গলায় খাবার আটকে যেতে পারে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

ঈদুল আজহার আনন্দ মানেই পরিবার-পরিজনের সাথে জমিয়ে মাংসের নানা পদ উপভোগ করা। কিন্তু এই আনন্দের মাঝেই যদি অসাবধানতাবশত বড় এক টুকরো মাংস আপনার বা আপনার প্রিয়জনের গলায় আটকে যায়? মুহূর্তেই উৎসবের আমেজ বদলে যেতে পারে চরম আতঙ্কে। এতে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ঠিক এভাবেই এবার ঈদের দিন গলায় মাংস আটকে মারা গেছেন অন্তত দুইজন।

মুখের ভেতর জিব, পেশি এবং খাদ্যনালীর এক সঙ্গে কাজ করে খাবারকে পাকস্থলীতে পাঠায়। কিন্তু ঈদের সময় গল্প করতে করতে খাওয়া, অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো করা, কিংবা মাংসের টুকরো ঠিকমতো না চিবিয়ে একবারে গিলে ফেলার চেষ্টা করলে এই প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটে। বিশেষ করে শক্ত বা আঁশযুক্ত মাংসের টুকরো অনেক সময় খাদ্যনালীতে গিয়ে আটকে যায়। আবার কখনো কখনো এটি ভুলবশত শ্বাসনালীর মুখে গিয়ে পড়তে পারে, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। শিশু, বয়স্ক এবং যাদের দাঁতের সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকিটা অনেক বেশি থাকে।

মাংস আটকানোর পর যদি দেখেন আক্রান্ত ব্যক্তি কথা বলতে পারছেন এবং তার শ্বাস নিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না, তাহলে বুঝবেন মাংসটি খাদ্যনালীতে আটকেছে। এমন অবস্থায় ঘাবড়ে না গিয়ে শান্ত থেকে ৩টি উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে:

  • প্রথমত, জোরে জোরে কাশুন। গলায় কিছু আটকালে আমাদের শরীর স্বাভাবিকভাবেই কাশতে চায়। জোর করে কয়েকবার কাশলে কাশির বাতাসের ধাক্কায় মাংসের টুকরোটি আলগা হয়ে বেরিয়ে আসতে পারে।
  • দ্বিতীয়ত, বড় চুমুকে পানি পান করা। কয়েক ঢোক পানি বেশ জোরের সাথে গিলে ফেলুন। পানির ওজনে এবং ধাক্কায় নরম মাংসের টুকরোটি নিচে নেমে যেতে পারে।
  • তৃতীয়ত, নরম কোনো খাবার খাওয়া। এক টুকরো পাকা কলা না চিবিয়ে একবারে গিলে ফেলুন। অথবা এক লোকমা নরম সাদা ভাত কিংবা পানিতে ভেজানো রুটি গোল বলের মতো করে গিলে নিন। এগুলো মাংসের টুকরোটিকে সাথে করে পেটে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে।
শ্বাসনালীতে খাবার আটকে গেলে পিঠে জোরে জোরে আঘাত করতে হবে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি
শ্বাসনালীতে খাবার আটকে গেলে পিঠে জোরে জোরে আঘাত করতে হবে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

এই সময় ভয় পেয়ে আমরা এমন কিছু ভুল করি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। যেমন-

  • গলার ভেতর জোর করে আঙুল বা চিমটা ঢুকিয়ে মাংস বের করার চেষ্টা করা। এতে মাংসের টুকরোটি আরও ভেতরে চলে গিয়ে শ্বাসনালী পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারে।
  • শুকনা ভাতের বড় বা শক্ত দলা জোর করে গিলে ফেলা। মাংসের টুকরোটি যদি বড় হয়, তবে শক্ত খাবারের চাপে খাদ্যনালী ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তবে সবচেয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তখনই তৈরি হয় যখন মাংসের টুকরোটি খাদ্যনালীতে না গিয়ে শ্বাসনালীতে আটকে যায়। তখন মানুষ কথা বলতে পারে না, কাশতে পারে না এবং দম বন্ধ হয়ে মুখ নীল হতে শুরু করে। এটি একটি জীবন-মরণ সমস্যা। তখন এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে এই দুটি কাজ করতে পারেন। পিঠে আঘাত করা এবং হেইমলিখ ম্যানুভার।

  • পিঠে আঘাত: আক্রান্ত ব্যক্তিকে সামান্য সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দিন। আপনার হাতের তালুর গোড়ালি দিয়ে তার দুই কাঁধের মাঝখানে শক্ত করে পরপর ৫ বার ওপরের দিকে ধাক্কা দিয়ে আঘাত করুন।
  • হেইমলিখ ম্যানুভার: এতেও মাংস বের না হলে, ব্যক্তির পেছনে দাঁড়ান। আপনার দুহাত দিয়ে তার কোমর জড়িয়ে ধরুন। এক হাতের মুষ্টি তৈরি করে অন্য হাত দিয়ে তা চেপে ধরে ব্যক্তির নাভি এবং পাঁজরের ঠিক মাঝখানে স্থাপন করুন। এবার ভেতরের দিকে এবং ওপরের দিকে জোরালোভাবে ৫ বার ধাক্কা দিন। মাংস বের না হওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়াটি পর্যায়ক্রমে চালাতে থাকুন।

যদি এই পদ্ধতিগুলোর পরেও মাংস বের না হয়, লালা গিলতে প্রচণ্ড ব্যথা হয়, বুকে ব্যথা শুরু হয় কিংবা ১ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে অস্বস্তি বজায় থাকে— তবে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান। চিকিৎসকেরা এন্ডোস্কোপির মাধ্যমে খুব সহজেই এটি বের করতে পারেন। মনে রাখবেন এই পদ্ধতিগুলো শুধু মাংসে আটকে গেলে নয়, গলায় যেকোন খাবার আটকে গেলে অনুসরণ করা যাবে।

তথ্যসূত্র: হেলথলাইন, মেডিকেল নিউজ টুডে

সম্পর্কিত