দেশে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটকে এলএনজি আমদানি কেন্দ্রিক চক্রান্তের অংশ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন। তিনি বলেন, “গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত হলেও সরকার দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তিভবনের সামনে সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জেলা কমিটির আয়োজিত মশাল মিছিলের আগে সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
কাজী সাজ্জাদ জহির অভিযোগ করেন, দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি আমদানি চুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাধ্যতামূলক এলএনজি আমদানির জন্য দীর্ঘমেয়াদি ক্রয়চুক্তিতে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।
সিপিবির সভাপতির দাবি, মহেশখালীর এক্সিলারেট এনার্জি পরিচালিত ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সৃষ্ট গ্যাস সংকটের সঙ্গে চলমান এলএনজি আমদানি কেন্দ্রিক চক্রান্তের সংযোগ থাকতে পারে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনাল দ্রুত মেরামত, দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানান।
সমাবেশে সিপিবি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুর মঈন বলেন, “গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের জ্বালানি খাতকে দেশীয় সম্পদনির্ভর নীতি থেকে সরিয়ে এলএনজি আমদানিনির্ভর করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ না করায় জ্বালানি নিরাপত্তা দুর্বল হয়েছে এবং শিল্প, বিদ্যুৎ ও পরিবহন খাত সংকটে পড়েছে।” তিনি পেট্রোবাংলাকে শক্তিশালী করে তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ খাতকে বিদেশি কোম্পানি ও গুটিকয়েক ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত করার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সারা দেশে, বিশেষ করে ঢাকায়, তীব্র গ্যাস সংকটে জনজীবন বিপর্যস্ত। গৃহস্থালি, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সমাবেশ শেষে একটি মশাল মিছিল পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগরসহ রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।