গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় প্রতারণার শিকার সব গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির প্রশাসক মোহাম্মদ জহির হুসেন। তিনি বলেন, “এরই মধ্যে ব্যাংকের পক্ষ থেকে অডিট টিম সংশ্লিষ্ট শাখায় কাজ শুরু করেছে।”
এই কর্মকর্তা বলেন, “এর আগেও ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকে গ্রাহকদের সাথে প্রতারণায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এবারো তার ব্যতিক্রম হবে না। পুলিশ এরই মধ্যে অভিযুক্তদের ধরতে কাজ শুরু করেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়া হবে।”
গতকাল সোমবার উপজেলার ধাপেরহাটে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার সঞ্চয়ী হিসাবধারী ও এফডিআর গ্রাহকদের দুই কোটি টাকা গায়েবের খবর জানাজানি হয়।
সম্প্রতি রেশমা নামে একজন গ্রাহক তার ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা তুলতে গেলে ব্যাংক থেকে জানানো হয় তার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। খবর ছড়িয়ে পড়লে গত রোববার প্রায় অর্ধশত গ্রাহক ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারেন তাদের নামে এ শাখায় কোনো এফডিআর করা হয়নি। সে সময় তারা টাকা জমার রশিদ ও এফডিআর চেক দেখান। তবে, এই রশিদ ও চেকগুলো নকল বলে চিহ্নিত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, ব্যাংকের ওই শাখার সঞ্চয়ী হিসাবধারী একাধিক গ্রাহক তাদের অ্যাকাউন্টে জমা থাকা টাকার পরিমাণেও বিশাল গড়মিল আছে বলে অভিযোগ করেন। ভুক্তভোগীরা ওই শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গতকাল সোমবার গভীর রাত পর্যন্ত অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে।
গ্রাহক রেশমা বেগম বলেন, “প্রায় ৩ বছর আগে এই শাখায় পাঁচ লাখ টাকা (৫ বছর মেয়াদী) ফিক্সড ডিপোজিট করি। সম্প্রতি টাকার প্রয়োজন হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার টাকা তুলতে আসি। ব্যাংকে এসে জানতে পারি আমার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা নেই। তখন টাকা জমার রশিদ ও এফডিআর চেক দেখালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ রোববার আসতে বলেন। রোববার এসে জানতে পারি এই জমা রশিদ ও এফডিআর চেক ভুয়া।”
এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার স্বত্বাধিকারী মো. ওয়ালিউর রহমান বলেন, “ক্যাশিয়ার মো. সবুজ মিয়া ও অফিস সহায়ক মো. মাহবুল ইসলাম ৪৬ জন গ্রাহকের সঙ্গে এসব অপকর্ম করেছেন। এতে দুই কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।”
এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামী ব্যাংক পীরগঞ্জ (রংপুর) শাখা সূত্রে জানা যায়, অফিস সহায়ক মাহবুল ইসলামের সহায়তায় ওই শাখার ক্যাশিয়ার মো. সবুজ মিয়া এফডিআর করতে আসা গ্রাহকদের আবেদন ফরম পূরণ করায় টাকা নেওয়ার পর ভুয়া স্লিপ এবং স্ক্যান করা এফডিআর চেক দেন। শুধু তাই নয়, সঞ্চয়ী হিসাবধারী গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন করতে এলে অভিযুক্তরা তাদের সরলতার সুযোগ নিয়ে টাকা সরিয়ে নেয়।