Advertisement Banner

এক বিশ্বকাপের তিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান!

চরচা ডেস্ক
চরচা ডেস্ক
এক বিশ্বকাপের তিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান!
মেক্সিকো সিটিতে আজ বিশ্বকাপের মেক্সিকো পর্বের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়ও আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। ছবি: রয়টার্স

বিশ্বকাপ আয়োজিত হচ্ছে তিনটি দেশে। ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম। সে কারণে এবারই প্রথম তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখবে বিশ্ববাসী। আয়োজক তিন দেশ আলাদা আলাদাভাবে আয়োজন করবে তিনটি উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকোতে মেক্সিকো সিটি, কানাডায় টরন্টো ও যুক্তরাষ্ট্রে লস অ্যাঞ্জেলস। তবে এই তিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে তিনটি ভিন্ন সময়ে।

মেক্সিকোর বিখ্যাত অ্যাজটেকা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে অন্যতম স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এর ৯০ মিনিট আগে শুরু হবে বর্ণিল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। মেক্সিকো সিটির আয়োজনটি হবে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।

কানাডায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে আগামীকাল শুক্রবার রাত ১১টা ৩০ মিনিটে। টরন্টো স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত একটায় আরেক স্বাগতিক কানাডা মুখোমুখি হবে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার। এই ম্যাচ দিয়েই কানাডায় পর্দা উঠবে বিশ্বকাপের।

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান দেখতে বাংলাদেশের দর্শকদের অপেক্ষায় থাকতে হবে শনিবার ভোর পর্যন্ত। শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল সাতটায় লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের মুখোমুখি হবে যুক্তরাষ্ট্র। তার আগে ভোর সাড়ে পাঁচটায় সেখানে শুরু হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।

বিশ্বকাপের ২৩তম আসর এটি। যৌথ আয়োজন এই প্রথম নয়। ২৪ বছর আগে ২০০২ বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো যৌথভাবে আয়োজন করেছিল জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। এশিয়া মহাদেশে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপও সেটি। তবে সেবার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি হয়েছিল শুধুমাত্র সিউলে। তিন আয়োজক দেশে তিনটি আলাদা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান—এমন কিছু এবারই প্রথম। অবশ্য এবার অনেক নতুন কিছুই ঘটতে দেখা যাবে বিশ্বকাপের আয়োজনে।

বিশ্বকাপে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বাড়বাড়ন্ত আগে সেভাবে দেখা যায়নি। বিশেষ করে ২০১০ বিশ্বকাপের আগে তো নয়ই। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে অবশ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত সংগীত শিল্পী ডায়ানা রসের পেনাল্টি কিকটি স্মরণীয় হয়ে আছে। তবে ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপের উদ্বোধনীতে কলম্বিয়ান শিল্পী শাকিরা মাতিয়ে দিয়েছিলেন। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের সেরা উদ্বোধনী পারফরম্যান্স ছিল সেটিই। এবারের বিশ্বকাপেও শাকিরা আছেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আলাদা তিনটি শহরে হলেও ভাবনাটা একই। আয়োজক তিন দেশের সংস্কৃতি তুলে ধরা হবে অনুষ্ঠানে। মেক্সিকোর অনুষ্ঠানে আদিবাসী শিল্পী, লোকজ পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী কাগজের শিল্প ‘পাপেল পিকাডো’র মাধ্যমে মেক্সিকোর সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা হবে। সেখানে এবার বিশ্বকাপে অফিশিয়াল গান ‘ডাই ডাই’ (লেটস গো) গাইবেন শাকিরা, সঙ্গে থাকবেন নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়।

সহ–আয়োজক হিসেবে এই প্রথম হলেও এ নিয়ে মেক্সিকো তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছে। অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাক্ষী। ওই দুই বিশ্বকাপের ফাইনালও হয়েছে অ্যাজটেকায়।

পাশাপাশি এবার বিশ্বকাপে অফিশিয়াল অ্যালবামে থাকা শিল্পীদের এই অনুষ্ঠানে পারফর্ম করার কথা রয়েছে। তাঁদের মধ্যে আছেন আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেস, বেলিন্দা, ড্যানি ওশান, জে বালভিন, লিলা ডাউনস, লস অ্যাঞ্জেলেস আজুলস এবং মানা। দক্ষিণ আফ্রিকান গায়ক ও গীতিকার টাইলাও মেক্সিকো সিটির অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।

সহ–আয়োজক হিসেবে এই প্রথম হলেও এ নিয়ে মেক্সিকো তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের আয়োজক হয়েছে। অ্যাজটেকা স্টেডিয়াম এর আগে ১৯৭০ ও ১৯৮৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাক্ষী। ওই দুই বিশ্বকাপের ফাইনালও হয়েছে অ্যাজটেকায়। ফুটবলের দুই কিংবদন্তি পেলে ও ডিয়েগো ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ–গৌরবের সাক্ষী এই ঐতিহাসিক স্টেডিয়াম।

আরও অনেক কিছুর সাক্ষী এই অ্যাজটেকা। ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মাত্র ৫ মিনিটের ব্যবধানে হয়েছিল দুটি ইতিহাস। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যারাডোনার সেই ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল আর শতাব্দীর সেরা গোলটি। আরেকটি ম্যাচের কথা না বললেই নয়। ১৯৭০ এর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এই মাঠেই হয় ‘গেম অব দ্য সেঞ্চুরি’ ইতালি-পশ্চিম জার্মানি ম্যাচ, যে ম্যাচে ৯০ মিনিটে ১-১ গোলে সমতার পর ৩০ মিনিটের অতিরিক্ত সময়ে গোল হয় পাঁচটি। সেদিন জার্মানির ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ারের ঘাড়ের হাড় সরে হয়ে যাওয়ার পরও তিনি শেষ পর্যন্ত ম্যাচ খেলেছিলেন গলার সাথে হাত ঝুলিয়ে। এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপের ১৯টি ম্যাচ হয়েছে এই স্টেডিয়ামে। এবারের বিশ্বকাপের ৫টি ম্যাচ হবে এই অ্যাজটেকায়।

সম্পর্কিত