আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রেসিডেন্ট অভিযোগ করেছেন, আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এ প্রচেষ্টা সফল হবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে গতকাল সোমবার ভার্চুয়ালি জাতিসংঘে বক্তব্য দেন জাপানের বিচারপতি ও আইসিসি প্রেসিডেন্ট তোমোকো আকানে। তিনি জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু আইসিসির ১২৫টি সদস্যদেশ নয়, সব দেশকেই “আদালতের সুরক্ষায় একক ও সম্মিলিতভাবে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিতে হবে।”
বার্তা সংস্থা এপির বরাতে বার্তা সংস্থা ইউএনবি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে ইসরায়েলকে নিয়ে আইসিসির তদন্তের কারণে আদালতটি বিলুপ্ত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আদালতের কর্মকর্তাদের ওপর ধারাবাহিকভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। গত মাসে তারা পুরো আদালতকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে।
আকানে বলেন, বিচারক, কৌঁসুলি এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইসিসিকে হুমকির মুখে ফেলে যুক্তরাষ্ট্র যে ‘অস্বাভাবিক’ ও ‘নজিরবিহীন’ পদক্ষেপ নিয়েছে, তার কারণেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাকে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দিতে হচ্ছে।
তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, গত ৯ অক্টোবর ট্রাম্প প্রশাসন আদালতের বিরুদ্ধে ব্যাপকভিত্তিক নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করে। দিনটিতেই দক্ষিণ আফ্রিকার আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়। আইসিসির সাবেক এই বিচারক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য এ পুরস্কার পান।
আইসিসি প্রেসিডেন্ট বলেন, “এই দুই ঘটনার মধ্যে বৈপরীত্য অত্যন্ত স্পষ্ট। একদিকে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের গুরুত্বের প্রতি বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি, অন্যদিকে সেই ন্যায়বিচারের প্রতীক প্রতিষ্ঠানটিকে বশীভূত করার চেষ্টা।”
যেসব দেশ যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করতে অনিচ্ছুক বা অক্ষম, সেসব ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে ২০০২ সালে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র এই আদালতের সদস্য নয়।
আকানের বক্তব্যের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র “এই বেপরোয়া আদালতের সঙ্গে সব ধরনের লেনদেন নিষিদ্ধ করবে। এর ফলে আদালতের অর্থের উৎস বন্ধ হবে এবং আমাদের বিরুদ্ধে কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা পঙ্গু হয়ে যাবে।”
সোমবার এর জবাবে আইসিসি প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আদালত স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে তার দায়িত্ব পুরোপুরি পালন করে যাবে। অসংখ্য গুরুতর অপরাধের শিকার মানুষের স্বার্থে শুধু আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত কাজ করবে।”
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আইসিসির অন্য সমর্থক দেশ আদালত এবং মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে গুরুতর অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে এর কার্যক্রমের প্রতি জোরালো সমর্থন জানায়।