ইরানে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন সেনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি হতে পারে–এমন ড্রোনকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।
স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের চারটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। এই হামলার পাশাপাশি ইরানের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্বাঞ্চলে তিনটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এই বিস্ফোরণের কথা জানিয়েছে।
মার্কিন সেনাদের দাবি, বন্দর আব্বাসের একটি স্থল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে আরেকটি ড্রোন উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি চলছিল।
এর কয়েক ঘণ্টা আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করা নিয়ে ইরানের চুক্তি-সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন নাকচ করেন।
ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল এক মাসের মধ্যে যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে একটি অনানুষ্ঠানিক চুক্তির খসড়া পেয়েছে ইরান। এতে ইরান ও ওমান যৌথভাবে প্রণালির জাহাজ চলাচল তদারকি করবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
ট্রাম্প বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ কোনো একক দেশের হাতে থাকবে না। এ সময় তিনি ওমানের প্রতিও কঠোর বার্তা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ওমানের দীর্ঘদিনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা কিংবা বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণ নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন হামলা চালানো হলো।
অন্যদিকে, ইরানের সাথে সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে তাড়াহুড়ো না করার বিষয়ে নিজের আগের অবস্থানেই অনড় রয়েছেন ট্রাম্প। চুক্তি নিয়ে তাকে কোনোভাবেই চাপে ফেলা যাবে না বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনকে বিদায় করার জন্য ইরান যে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বা সময়ক্ষেপণের কৌশল নিয়েছে, তা কোনো কাজে আসবে না। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন বলেও দাবি করেন।