ads

মৌলভীবাজারে বন্যায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট

মৌলভীবাজারে বন্যায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট
ছবি: চরচা

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারে মনু ও ধলাই নদের বাঁধ ভেঙে জেলাজুড়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।

আজ রোববার স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, গতকাল মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনে জেলা সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার ২৮টি ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

সড়ক-কালভার্ট ভেঙে প্লাবিত এলাকাগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত খাবার বা সহযোগিতা মেলেনি এখনো। হাতেগোনা কিছু মানুষ খাবার পেলেও বেশির ভাগ বন্যার্তরা এখনো ত্রাণ পাননি। রাজনগর ও সদর উপজেলার ১৯টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে ।

এছাড়া কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার ও রহিমপুর এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা, কামারচাক ও পাঁচগাঁও ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায় বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বেশির ভাগ দুর্গত এলাকায় সরকারি বা বেসরকারিভাবে ত্রাণ পৌঁছেনি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ৫টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার পরিবার পানিবন্দী ও ৩৮ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ১ হাজার ৭৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার, ৯০ টন চাল ও ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

রাজনগর উপজেলার এলাকার বাসিন্দা রোকসানা বেগম বলেন, "তিন দিন ধরে আমরা পানিবন্দী। অনেকের ঘরে হাঁটুসমান পানি। এখনো সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো খাবার পাইনি।"

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, "জেলার অনেক নদ-নদীর পানি গতকাল রাত থেকে কমতে শুরু করেছে। আশা করি পানি দ্রুত নেমে যাবে।"

জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, "বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য ইতোমধ্যে শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলো প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজন হলে তাদের সহায়তা নেওয়া হবে।"

সম্পর্কিত