ads

তুমুল বৃষ্টিতে কেমন ছিল ঢাকা

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
তুমুল বৃষ্টিতে কেমন ছিল ঢাকা
শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টিতে রাজধানীতে জলাবদ্ধতা। ছবি: ইউএনবি

ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান যখন আজ রোববার সকালে নিউ মার্কেটে নিজের কাপড়ের দোকানের শাটার তুলছিলেন, তখনো ভাবেননি সামনের কয়েকটা ঘণ্টা তাকে ক্রেতার বদলে পানির সাথে যুদ্ধ করতে হবে। শাটার খুলতেই দেখলেন, রাতের বৃষ্টিতে ততক্ষণে তার দোকানের মেঝেসহ নিচের তাকগুলো পানির নিচে। শুধু মাহবুবুর রহমানই নন, গতকাল শনিবার রাত থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে রাজধানীর হাজারো ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক সকাল । প্রকৃতির আকস্মিক রূপবদল আর শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার চিরচেনা ব্যর্থতায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই আজ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে রাজধানী ঢাকা।

মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর নিউ মার্কেট, ফকিরাপুল ও মতিঝিলসহ প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে। হাঁটু-সমান পানিতে দোকানপাট তলিয়ে যাওয়ায় মালামাল রক্ষায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন ব্যবসায়ীরা; ফলে থমকে যায় স্বাভাবিক ব্যবসাবাণিজ্য।

রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং পশ্চিমা লঘুচাপের সম্মিলিত প্রভাবে অল্প সময়ের মধ্যে এ ভারী বর্ষণ হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল।

ক্রেতাদের সেবা দেওয়ার পরিবর্তে দোকান মালিক ও কর্মচারীরা সকাল থেকেই দোকান থেকে পানি সেচতে এবং মালামাল নিরাপদে সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করেন।

মার্কেটের করিডোরগুলো হাঁটু-সমান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী দোকানের শাটার বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে।

ফুটপাতের বিক্রেতা এবং নিচু এলাকার অস্থায়ী ঘরগুলোতে পরিচালিত ব্যবসাগুলোর অবস্থা ছিল সবচেয়ে শোচনীয়। ভারী বর্ষণে শহরের নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় এগুলো দ্রুত তলিয়ে যায়।

নিচের তাক বা মেঝেতে রাখা তৈরি পোশাক, জুতো, প্রসাধনী ও হালকা ইলেকট্রনিক পণ্য পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে।

সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত মার্কেটগুলো ঘুরে দেখা যায়, অক্ষত মালামাল ওপরের তাকে বা নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীরা নোংরা ও ঘোলা পানি মাড়িয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।

নিউ মার্কেটের কাপড়ের ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘‘আজ সকালে দোকানের শাটার খোলার আগেই ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। নিচের তাকে রাখা সব মালামাল ভিজে গেছে। বৃষ্টি যদি এভাবে চলতে থাকে এবং মালামাল শুকানোর জন্য পর্যাপ্ত রোদ না পাওয়া যায়, তবে আমাদের বিশাল আর্থিক ক্ষতি হয়ে যাবে।’’

লিটন নামের এক ফুটপাত বিক্রেতা বলেন, ‘‘আমরা একদম নিরুপায়। যতটুকু পারি বাঁচানোর চেষ্টায় বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু পানি কমছে না। ড্রেনগুলো জ্যাম হয়ে আছে, বাজার পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে তা আমরা জানি না।’’

এই জলাবদ্ধতা আশপাশের সড়কগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ায় মিরপুর রোড, নিউ মার্কেট মোড় এবং মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকায় তীব্র যানজট ও যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বেশ কিছু গাড়ি ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বিকল হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পথচারী ও অফিসগামীদের কোমর বা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়।

সম্পর্কিত