জর্ডানে ইরানের হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর জবাবে ইরানে বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনাতে এসব হামলা হচ্ছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় এসব হামলা চালানো হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।
এর আগে এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত মার্চের পর ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই প্রথম কোনো মার্কিন সেনার নিহতের ঘটনা ঘটল।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘সংঘাত আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টার’ জন্য ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে।
সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি থামাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার রাতে জর্ডানে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলা চালানো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ইউনিটগুলোকে দ্রুত শাস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
ইরানের মেহের নিউজ এ হামলার বিষয়ে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকার কাছে এই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
সেন্টকম আরও জানায়, জর্ডানেরন ২ সেনা প্রাণ হারানোতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ১৬-তে পৌঁছাল। আহত হয়েছেন ৪২০ জনেরও বেশি সেনাসদস্য।
নিহত সেনাদের উদ্দেশে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেস্তে গেছে। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা জোরদার করেছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে আবারও একটি পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।