জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের কুমামোতো প্রিফেকচারে আজ মঙ্গলবার ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ও পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। এ ছাড়া, পরাঘাতের আশঙ্কায় অনেককে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টাস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
টোকিওতে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, হতাহত ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমরা ইতিমধ্যে আহত হওয়ার খবর পেয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন এবং অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। সড়ক ও সেতুর ক্ষতি হয়েছে, কিছু ভবনও ধসে পড়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, সবাই যেন নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিয়ে নিজেদের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেন।”
সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের সম্প্রচারিত ফুটেজে কয়েকটি ভবনে আগুন লাগা ও ধসে পড়া, উড়ালসড়কসহ বিভিন্ন সড়কে বড় ফাটল এবং একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেড় লাখের বেশি মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বের বৃহত্তম চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা ওই এলাকায় অবস্থিত তাদের কারখানা থেকে কর্মীদের সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া, সনিরও ওই এলাকায় একটি কারখানা রয়েছে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা বলেন, সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হওয়া এলাকার বাসিন্দাদের অন্তত এক সপ্তাহ পর্যন্ত শক্তিশালী পরাঘাত এবং ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
ট্রেন চলাচল বন্ধ, বিমানবন্দর রানওয়ে বন্ধ
কিউশু ইলেকট্রিক পাওয়ার জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে প্রায় ৪০ হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
রেলওয়ে কোম্পানি জেআর কিউশু জানিয়েছে, তারা শিনকানসেন বা বুলেট ট্রেনসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে।
কুমামোতো বিমানবন্দরের রানওয়েও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে বিভিন্ন বিমান সংস্থা ফ্লাইটের গন্তব্য পরিবর্তন করেছে এবং কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে।
টেলিকম অপারেটর কেডিডিআই ও ডোকোমো জানিয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতি এবং যোগাযোগ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মোবাইল ফোন সেবায় বিঘ্ন ঘটছে।
তবে জাপানের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই অঞ্চলের কোনো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে অস্বাভাবিক কোনো পরিস্থিতির খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১০ বছর আগে কুমামোতোতে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়।