জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বুধবার অনুষ্ঠিত এশিয়া জিরো এমিশন কমিউনিটি (এজেডইসি) প্লাস অনলাইন সামিটে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি জরুরি পদক্ষেপ, ঐক্যবদ্ধ এবং দৃঢ় সিদ্ধান্ত গ্রহণের দাবি রাখে। সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত এজেন্ডার শীর্ষে থাকা উচিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই আহ্বানে দ্রুত ও ইতিবাচক সাড়া দেওয়ারও অনুরোধ জানাই।”
চলমান বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সংকট আমাদের পারস্পরিক নির্ভরতা ও দুর্বলতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। কোনো দেশ এককভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে না। আঞ্চলিক জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা সমাধানে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত ও দূরদর্শী পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অফিস ও বাজারের সময়সূচি পরিবর্তন, জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি আমদানি বৃদ্ধি, বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করা, জ্বালানি রেশনিং এবং খুচরা বিক্রয়ে সীমা নির্ধারণ।
এ ছাড়া মজুতদারি ও আতঙ্কজনিত কেনাকাটা ঠেকাতে ‘ফুয়েল অ্যাপ’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সংকটের মাত্রা ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। যা ১৯৮০ এর দশকের উন্নয়ন কার্যক্রম স্থবির করে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশ দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে, কিন্তু এই সংকট সেই অর্জনকে হুমকির মুখে ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ একা এমন সংকটে পড়েনি; তাই একক প্রচেষ্টায় এটি মোকাবিলা করা সম্ভব না। চলমান জ্বালানি সংকটের প্রভাব নিয়ন্ত্রণে বিশেষ করে স্বল্পোন্নত দেশসহ ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে এর ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয় থেকে সুরক্ষায় একটি দৃঢ় ও সমন্বিত বৈশ্বিক উদ্যোগ প্রয়োজন।”
ভার্চুয়ালি সম্মেলনে জাপান, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও পূর্ব তিমুরের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা অংশ নেন।