ইংরেজি থেকে তো হরহামেশাই বিভিন্ন ভাষায় বই অনুবাদ হয়। বিশ্বব্যাপী অনুবাদ সাহিত্যের একটি বড় অংশেরই মূল ভাষা ইংরেজি। কিন্তু অন্য ভাষাগুলো এতটা অনুবাদ হয় না। নারী লেখকদের ক্ষেত্রে এ হার আরও কম।
এই ব্যবধান ও সীমানা ভেঙে বিশ্বসাহিত্যের বৈচিত্র্যময় নারী সাহিত্যিকদের সৃষ্টি পাঠকের মুখোমুখি দাঁড় করাতেই সূচনা হয় ‘উইমেন ইন ট্রান্সলেশন মান্থ’ বা সংক্ষেপে ‘#WITMonth’। প্রতি বছর আগস্ট মাসজুড়ে বিশ্বব্যাপী পালিত হয় সাহিত্যকেন্দ্রিক এই বিশেষ আন্দোলন। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো সার্বিকভাবে ‘উইমেন ইন ট্রান্সলেশন’ প্রকল্পের কথা ছড়িয়ে দেওয়া এবং অনূদিত নারী সাহিত্যিক ও তাদের বইগুলোকে আলাদাভাবে পরিচিত করে তোলা।
২০১৪ সালে সাহিত্যকর্মী ও ব্লগার মেটাল রাদজিনস্কির হাতে প্রথম এই উদ্যোগ শুরু হয়। তিনি লক্ষ্য করেন, বিশ্বজুড়ে অনূদিত বইয়ের আন্তর্জাতিক বাজারে নারী লেখকদের অনূদিত বইয়ের পরিমাণ অনেক কম। সাহিত্যের মতো সংবেদনশীল ও বিস্তৃত মাধ্যমে এই বৈষম্য দূর করা এবং ভিন্ন ভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির নারী লেখকদের অনূদিত গল্প-উপন্যাস পাঠকদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই এর মূল উদ্দেশ্য।
উদযাপনের মাধ্যম
উইমেন ইন ট্রান্সলেশন মান্থের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে খুললেই এই নিয়ে একটি মজার উক্তি দেখা যায়। সেখানে লেখা–“প্রতি বছর আগস্ট মাসে পৃথিবীর সব মহাদেশের পাঠকেরা (অ্যান্টার্কটিকা বাদে, তবে সেই পেঙ্গুইনদেরও আমরা একদিন দলে টেনে নেব!) আত্মিকভাবে এবং কখনো সরাসরি উপস্থিত হয়ে নারী লেখকদের অনূদিত বই পড়তে, পর্যালোচনা করতে এবং আলোচনায় অংশ নিতে একত্রিত হন।”
এই আন্দোলনে ভৌগোলিক ও ভাষাগত সীমান্ত পেরিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলের নারী লেখকদের অভিজ্ঞতা, সামাজিক বাস্তবতা ও চিন্তাভাবনা বিশ্বপাঠকের সামনে উপস্থাপন করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রকাশক ও অনুবাদকদের নতুন নতুন ভাষার নারী লেখকদের কাজ নিয়ে কাজ করতে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে আনায় উদ্বুদ্ধ করা হয়।
আগস্ট মাসজুড়ে পাঠকেরা বিভিন্ন দেশ ও ভাষার নারী লেখকদের অনূদিত বই পড়ার তালিকা তৈরি করেন এবং সামাজিক মাধ্যমে পর্যালোচনা বা আলোচনা শেয়ার করেন। বর্তমানে ‘বুক-টক’-এর সময়ে ইন্টেলেকচুয়াল ইনফ্লুয়েন্সাররা তাদের কনটেন্টে এই মাস উদযাপন করছেন নিজেদের পড়া বই রিভিউ করে। পাশাপাশি তারা অন্য পাঠকদের নারী লেখকদের অনূদিত সাহিত্য পড়তে উৎসাহিত করছেন।
সাহিত্যপত্রগুলো নারীদের অনূদিত সাহিত্য নিয়ে বিশেষ নিবন্ধ ও তালিকা প্রকাশ করে। উইমেন ইন ট্রান্সলেশন মান্থের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস, পিইএন (পেন) আমেরিকার ওয়েবসাইটে নারীদের অনূদিত সাহিত্যের বিশাল লিস্ট দেওয়া আছে। চাইলে ঢুঁ মেরে দেখতে পারেন!
চাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে #WITMonth হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে যে কেউ যুক্ত হতে পারে, এই সাহিত্য আয়োজনে!
তথ্যসূত্র: উইমেন ইন ট্রান্সলেশন ওয়েবসাইট, পেন আমেরিকা