Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ আগস্ট, ২০২৬
২৮ আগস্ট, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
২৮ আগস্ট, ২০২৬
২৮ আগস্ট, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

স্বত্ব © চরচা

Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

ইরানের অদৃশ্য কমান্ডো বাহিনী

চরচা ডেস্ক

চরচা ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ০৩
ইরানের অদৃশ্য কমান্ডো বাহিনী

ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট নামই প্রাধান্য পেয়ে এসেছে– কুদস ফোর্স। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তারের প্রসঙ্গে এই ইউনিটটি প্রায় প্রতীকী হয়ে উঠেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, স্বল্পমেয়াদি সংঘাত, হঠাৎ আঘাত বা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক প্রতিরোধ কাঠামো অনেক বেশি বিস্তৃত, জটিল এবং বহুস্তরীয়। এই কাঠামো একক কোনো ‘এলিট ফোর্স’-নির্ভর নয়; বরং এটি গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে থাকা বিশেষায়িত ইউনিটগুলোর সমন্বয়ে, যা ইরানকে একটি স্থায়ী প্রস্তুতিমূলক অবস্থায় রাখে।

ইরানের এই মডেলের কেন্দ্রে রয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি), বিশেষ করে এর স্থলবাহিনী। এখানে ‘সাবেরিন’ নামে পরিচিত একটি ধারণা রয়েছে, যা অনেক সময় একটি নির্দিষ্ট ইউনিট হিসেবে উপস্থাপিত হলেও বাস্তবে এটি একটি কার্যকরী শ্রেণি বা ক্যাটাগরি। অর্থাৎ, সাবেরিন কোনো একক বাহিনী নয়; বরং এটি বিশেষ অপারেশন সক্ষমতা সম্পন্ন একাধিক ইউনিটের সমষ্টিগত ধারণা, যেগুলো বিভিন্ন আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব ইউনিট পাহাড়ি এলাকা, সীমান্ত অঞ্চল কিংবা জটিল ভূখণ্ডে অভিযান পরিচালনায় দক্ষ এবং হেলিবোর্ন অপারেশন, দ্রুত আক্রমণ ও প্রতিরোধে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত।

Advertisement
Advertisement
Advertisement

এই ইউনিটগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো–এগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে কোথাও জমা রাখা হয়নি। বরং ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে এগুলো স্থায়ীভাবে অবস্থান করে, স্থানীয় পরিবেশ ও হুমকির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়। ফলে কোনো হঠাৎ আক্রমণ বা সীমিত সংঘর্ষের ক্ষেত্রে দ্রুত জবাব দেওয়া সম্ভব হয়। পশ্চিমা বিশেষ বাহিনীর মতো এরা ‘দূর থেকে এসে অভিযান চালিয়ে ফিরে যাওয়া’ মডেলে কাজ করে না; বরং ‘স্থায়ী উপস্থিতি’ ভিত্তিক একটি প্রতিরক্ষা দর্শন অনুসরণ করে।

যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হলে মার্কিন পাইলটরা যে কৌশল অবলম্বন করেF-15

আইআরজিসির ভেতরে আরও কিছু বিশেষ ব্রিগেড রয়েছে, যেমন দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সালমান ফার্সি ব্রিগেড, যেগুলো স্থানীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিরোধের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। এসব ইউনিট সাধারণত জনসমক্ষে খুব বেশি আলোচিত নয়, কিন্তু বাস্তবিক অপারেশনে এদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা স্থানীয় দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তবে ইরানের বিশেষ বাহিনী কেবল আইআরজিসি-তেই সীমাবদ্ধ নয়। নিয়মিত সেনাবাহিনী বা আরতেশের মধ্যেও একটি আলাদা ঐতিহ্য বিদ্যমান। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ৬৫তম এয়ারবর্ন স্পেশাল ফোর্স ব্রিগেড, যা ‘নোহেদ’ নামে পরিচিত। এই ইউনিটটি পশ্চিমা বিশেষ বাহিনীর কাছাকাছি কাঠামোর–এরা এয়ারবর্ন, সরাসরি আক্রমণ, গোয়েন্দা নজরদারি এবং দ্রুত মোতায়েনের জন্য প্রশিক্ষিত। ২০১৬ সালে সিরিয়ায় তাদের সীমিত মোতায়েনের তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে, প্রয়োজনে ইরান তার নিয়মিত বাহিনীকেও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহার করতে পারে।

তবে ইরানের সামরিক কৌশল বোঝার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো নৌ-অঞ্চল। পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বিশেষ বাহিনী সবচেয়ে সক্রিয় ও দৃশ্যমান। আইআরজিসি নৌবাহিনীর অধীনে একটি বিশেষ ইউনিট রয়েছে, যা সামুদ্রিক কমান্ডো হিসেবে কাজ করে। তারা ডাইভিং, জাহাজে ওঠা, এবং জলপথে দ্রুত হামলার জন্য প্রশিক্ষিত। এই ইউনিটগুলো উপসাগরের দ্বীপগুলোতে অবস্থান করে এবং ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক কৌশলের মূল অংশ হিসেবে কাজ করে।

এই সামুদ্রিক সক্ষমতা ইরানের বৃহত্তর কৌশলগত বাস্তবতাকে তুলে ধরে। বড় আকারের প্রচলিত যুদ্ধের পরিবর্তে ইরান সীমিত, ভৌগোলিকভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন অপারেশনকে অগ্রাধিকার দেয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ নিয়ন্ত্রণ বা বাধা সৃষ্টি করার ক্ষমতা ইরানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সুবিধা দেয়।

ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবে কী আছে, যুক্তরাষ্ট্রে কি মানবে?iran-america-flag-update

এখানে একটি বড় ভুল ধারণা হলো– ইরানের জন্য পশ্চিমা বিশেষ বাহিনীর মতো একটি ‘সিঙ্গেল আইকনিক ইউনিট’ খোঁজা। বাস্তবে, ইরানের সামরিক কাঠামো এই ধরনের প্রতীকী শক্তির ওপর নির্ভরশীল নয়। বরং তারা একটি সমন্বিত ও বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, যেখানে প্রতিটি স্তর একে অপরকে সহায়তা করে।

এই ব্যবস্থায় বাসিজ বাহিনীও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যদিও বাসিজকে সাধারণত একটি গণ-সংগঠন বা অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনী হিসেবে দেখা হয়, এর কিছু ইউনিট, যেমন ফাতেহিন–উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং বিশেষ অপারেশনে অংশ নিতে সক্ষম। তারা স্থানীয় জ্ঞান, জনবল এবং দ্রুত জবাব দিতে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করে। বাস্তব পরিস্থিতিতে, কোনো হামলার ক্ষেত্রে প্রথম প্রতিক্রিয়া অনেক সময় এই বাসিজ ইউনিট থেকেই আসে।

সব মিলিয়ে, ইরানের সামরিক কাঠামো একটি ‘লেয়ার্ড ডিফেন্স সিস্টেম’ বা বহুস্তরীয় প্রতিরক্ষা মডেলের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। কোনো আক্রমণের ক্ষেত্রে প্রথমে স্থানীয় ইউনিটগুলো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, এরপর সাবেরিন ধরনের মোবাইল ইউনিটগুলো শক্তি জোগায়, এবং প্রয়োজনে উচ্চতর পর্যায়ের বাহিনী– যেমন নোহেদ বা নৌ কমান্ডো মোতায়েন করা হয়। এই ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া কাঠামো ইরানকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এই মডেলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর স্থায়িত্ব এবং অভিযোজন ক্ষমতা। এটি দৃশ্যমান নয়, কিন্তু কার্যকর। এটি কেন্দ্রীভূত নয়, কিন্তু সমন্বিত। এটি নাটকীয় নয়, কিন্তু ধারাবাহিক। এই কারণেই ইরানের বিশেষ বাহিনীকে অনেক সময় দুর্বল বা অপ্রকাশ্য মনে হলেও বাস্তবে এটি একটি অত্যন্ত টেকসই এবং প্রতিরোধক্ষম কাঠামো।

বর্তমান বৈশ্বিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনার সময়ে, এই কাঠামো ইরানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা দেয়। কারণ, এটি শুধু একটি যুদ্ধ জয়ের জন্য নয়; বরং দীর্ঘস্থায়ী চাপ সহ্য করে টিকে থাকার জন্য তৈরি।

অতএব, ইরানের সামরিক শক্তি বোঝার জন্য কুদস ফোর্সের বাইরে তাকাতে হবে। প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে এই বিস্তৃত, বহুস্তরীয় এবং সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে– যা দৃশ্যমান না হলেও বাস্তবিক অর্থে অনেক বেশি কার্যকর এবং কঠিন প্রতিপক্ষ।

(দ্য ক্রেডেল অবলম্বনে)

বিষয়:

আইআরজিসিইরানমধ্যপ্রাচ্যসশস্ত্র বাহিনীযুদ্ধমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল
১

ক্রিকেটের উন্নয়নে ওয়ালটনের সহযোগিতা প্রত্যাশা তামিমের

২

পূর্ণ সংস্কারের দাবিতে সংসদ থেকে বিরোধীদের ওয়াকআউট

৩

একীভূত ৫ ব্যাংক: চেক বই, ডিপিএস, এফডিআর ও শাখার কী হবে

৪

চেক জালিয়াতির মামলায় ববির প্রশাসনিক কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

৫

আমেরিকা–কানাডা বাণিজ্যযুদ্ধে চীনের লাভ

সম্পর্কিত

একীভূত ৫ ব্যাংক: চেক বই, ডিপিএস, এফডিআর ও শাখার কী হবে

একীভূত ৫ ব্যাংক: চেক বই, ডিপিএস, এফডিআর ও শাখার কী হবে

পাঁচটি ব্যাংক আলাদা আলাদাভাবে পরিচালিত হওয়ায় তাদের ব্যাংকিং প্রযুক্তি ও কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার এক রকম ছিল না। তাই শুধু পাঁচটি ব্যাংকের নাম এক করে একটি নতুন নাম দেওয়াই একীভূতকরণের পুরো কাজ নয়।

হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নতুন দায়িত্বে, কী করবেন তারা?

হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী নতুন দায়িত্বে, কী করবেন তারা?

দেশের সব জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি করতে নতুন একটি কাঠামো তৈরি করেছে সরকার। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদের হুইপ মিলিয়ে ৩০ জনকে এক থেকে তিনটি করে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

৯৯.৯৬ গড়ের ব্র্যাডম্যান এবং ৫ অবিশ্বাস্য ঘটনা

৯৯.৯৬ গড়ের ব্র্যাডম্যান এবং ৫ অবিশ্বাস্য ঘটনা

১৯৯৮ সালে স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের ৯০তম জন্মদিনে আধুনিক সময়ে তার পছন্দের দুই ক্রিকেটার শচীন টেন্ডুলকার ও শেন ওয়ার্নকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। পরে দ্য গার্ডিয়ান-কে সেখানে কিংবদন্তির সঙ্গে আলোচনার একটি অংশ নিয়ে শচীন বলেছিলেন, তিনি ব্র্যাডম্যানকে প্রশ্ন করেন, “স্যার ডন, আপনি যদি এই সময়ে খেলতেন, তাহল

সংসদে উত্তাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘কিছুটা চিন্তিত’ স্পিকার

সংসদে উত্তাপ, ভবিষ্যৎ নিয়ে ‘কিছুটা চিন্তিত’ স্পিকার

সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিনই উত্তাপ ছড়াল আইনসভায়। আজ বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্য ঘিরে সংসদে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিরোধী দলকে ‘তাচ্ছিল্য’ করেছেন-এমন অভিযোগে তীব্র আপত্তি জানান জামায়াতের ইসলামী নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সদস্যরা। তাদের আপত্তি