
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলা চালিয়েছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় দেশগুলোসহ ২২টি দেশ যৌথভাবে বৃহস্পতিবার ইরানকে তাদের ভূখণ্ডে মানুষের ওপর হামলা বন্ধ করার জন্য সতর্ক করেছে। গতকাল ১০ জুন এই বিষয়ে এক যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। ইরানের অভ্যন্তরে বেশ কয়েকটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এই সামরিক সংঘাতের পর নিজের মালিকাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন যে, ইরানের সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল। ইরানের নৌ ও বিমানবাহিনীর কোনো অস্তিত্বই নেই এবং দেশটি যুদ্ধে পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে।

হরমুজ প্রণালির কাছে কেশম দ্বীপে ইরানের একটি সামরিক নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। খবর আল জাজিরার।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্থায়ী সমাধানে কোনো চুক্তি না হলে, ইরানে আবারও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ইরানের ভূখণ্ড থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে লক্ষ্য করে কোনো হামলার ছিল না বলে দাবি করেছে ইরান। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম-ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রচারিত বিভিন্ন বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়েছে।

মুখপাত্র সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “শত্রুপক্ষ যদি নতুন কোনো পদক্ষেপ নেয়, তবে তাদের নতুন সরঞ্জাম, নতুন পদ্ধতি এবং নতুন যুদ্ধক্ষেত্রের মুখোমুখি হতে হবে।”

‘এমএসসি ফ্রানচেসকা’ ও ‘এপামিনন্দাস’ নামের দুটি জাহাজ জব্দ করে ইরানের উপকূলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরজিসি নৌবাহিনী।

আপাতত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন কোনো আলোচনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরান। স্থানীয় সময় রোববার সন্ধ্যায় এ খবর জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে তেহরান।

মেরহাভির সামগ্রিক মূল্যায়ন হলো, ইরান ধ্রুপদী অর্থে সামরিক শাসনব্যবস্থা হয়ে উঠছে না। কিন্তু তার কাছাকাছি কিছু হচ্ছে–এমন একটি রাষ্ট্র যেখানে ক্ষমতা ধর্মীয় কর্তৃত্ব বা রাজনৈতিক আলোচনার চেয়ে কম, বরং একটি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সংগঠিত শক্তির ওপর বেশি নির্ভরশীল, যে প্রতিষ্ঠান ছায়া থেকে কেন্দ্রে চলে।

ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনিবার আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের যাতায়াতের জন্য আংশিকভাবে দেশটির পূর্বাঞ্চলের আকাশসীমা পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।

ইরানের সামরিক শক্তি বোঝার জন্য কুদস ফোর্সের বাইরে তাকাতে হবে। প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে এই বিস্তৃত, বহুস্তরীয় এবং সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে– যা দৃশ্যমান না হলেও বাস্তবিক অর্থে অনেক বেশি কার্যকর এবং কঠিন প্রতিপক্ষ।

ইরানের সামরিক শক্তি বোঝার জন্য কুদস ফোর্সের বাইরে তাকাতে হবে। প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে আছে এই বিস্তৃত, বহুস্তরীয় এবং সমন্বিত ব্যবস্থার মধ্যে– যা দৃশ্যমান না হলেও বাস্তবিক অর্থে অনেক বেশি কার্যকর এবং কঠিন প্রতিপক্ষ।