উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলোর জোট ব্রিকসের ১৮তম সম্মেলন গতকাল শনিবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। তবে সম্মেলন ঘিরে ভারতের এবারের প্রকাশ্য আয়োজন তিন বছর আগে জি-২০ সম্মেলনের সময়ের মতো জাঁকজমকপূর্ণ নয়। আয়োজন সাদামাটা হলেও সম্মেলনটির গুরুত্ব কমে যায়নি। উদীয়মান বড় অর্থনীতি ও গ্লোবাল সাউথের উন্নয়নশীল দেশগুলোর নেতাদের এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
কিন্তু এমন এক সময়ে এবারের সম্মেলন হচ্ছে, যখন বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের অস্থিরতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই জোটকে পশ্চিমা ধনী দেশগুলোর নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক জোটগুলোর বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্মেলনে যোগ দিতে গত শুক্রবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস নয়াদিল্লিতে পৌঁছান। তারা মোদির সঙ্গে আলাদা বৈঠকও করেন।
সাত বছর পর ভারত সফরে এসে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিনপিং। সম্মেলনের ফাকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করেছেন তিনি।
হংকং-ভিত্তিক ইংরেজি সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট তাদের সম্পাদকীয়তে লিখেছে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দুই দেশ ভারত ও চীনের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এই সম্মেলন একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হতে পারে। এরই মাঝে হঠাৎ করে শোনা গেল,সম্মেলনের প্রথম দিন রাতে রাষ্ট্রনেতাদের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী মোদি আয়োজিত নৈশভোজে দেখা যায়নি চীনের প্রেসিডেন্টকে। তার এই অনুপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সময়ের পার্থক্য, ক্লান্তি ও দীর্ঘ ভ্রমণের কারণে নৈশভোজে যোগ দেননি সি।
এর আগে, গতকাল শনিবার দুপুরে নয়াদিল্লিতে পৌঁছান চীনের প্রেসিডেন্ট। এরপর তিনি ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। দীর্ঘ বিমানযাত্রার পরও দিনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নেন সি।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ ভ্রমণ ও সময়ের পার্থক্যের কারণে সি বেশ ক্লান্ত ও অবসন্ন ছিলেন। এ কারণেই তিনি নৈশভোজে যোগ দেননি। তবে ব্রিকসের নৈশভোজে অংশ নেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ জোটের অন্যান্য নেতারা।
নৈশভোজে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন অমিত শাহ, নির্মলা সীতারামন, পীযূষ গোয়েল, অশ্বিনী বৈষ্ণব ও শিবরাজ সিং চৌহান। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা নৈশভোজে অংশ নেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীরা সংসদ ভবন থেকে দুটি বাসে করে মধ্য দিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত নৈশভোজে যান।
দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন আজ রোববার শেষ হওয়ার কথা।