একদিন বাদেই বাংলাদেশের একটা টেস্ট ম্যাচ, তবে তার আগে নেই কোনো উত্তাপ। অনেকেই জানেন না যে কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে লাল বলের ক্রিকেট খেলবে নাজমুল হোসেনের দল। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এমন একটি ম্যাচে চলতি বছরই জিম্বাবুয়ের কাছে ভরাডুবি হয়েছিল বাংলাদেশ দলের। তাই এই টেস্টে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ভালো ক্রিকেট খেলাটাই!
আফগানিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ খেলেছে মাত্র দুটি টেস্ট। শেষ ম্যাচটি ছিল ২০২৩ সালে। মিরপুরে সেবার একতরফা লড়াইয়ে জয় ধরা দিয়েছিল রেকর্ড ৫৪৬ রানে। তবে ২০১৯ সালে চট্টগ্রামে অঘটনের জন্ম দিয়ে বাংলাদেশকে ২২৪ রানে হারিয়ে দিয়েছিলেন রশিদ খান-মোহাম্মদ নবীরা। আবু ধাবিতে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম টেস্ট ম্যাচে এমন কিছুর পুনরাবৃত্তি নিশ্চয় দেখতে চাইবেন বা নাজমুল-লিটনরা।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ফর্ম অবশ্য খুব আশা জাগানিয়া নয়। গত জুনে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারে টেস্টে মাত্র তিন দিনেই ইনিংস ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ। নাজমুল, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুলদের নিয়ে গড়া প্রায় সেরা শক্তির দল নিয়ে অমন পারফরম্যান্স অবাক করেছিল সবাইকে। তবে তার চেয়েও বড় চমক দেখিয়ে এরপরই অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়ে প্রথম টেস্ট জিতে যায় বাংলাদেশ। এরপর আবার পতন। দ্বিতীয় টেস্টে মাত্র দুই দিনেই পরাজিত হয় সফরকারীরা।
এরপর কিছুটা বিরতি দিয়ে এশিয়ান গেমসে জাতীয় দল নিয়ে গিয়েও একই পরিণতি হয়েছে বাংলাদেশের। লিটন দাসের নেতৃত্বে কোনো পদক ছাড়াই শেষ হয় অভিযান। সেই দলের অধিকাংশ খেলোয়াড়ই আছেন আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের স্কোয়াডে।
একদিকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের ‘অগুরুত্বপূর্ণ’ ম্যাচ, অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ের পড়তি ফর্ম—আবু ধাবির প্রচণ্ড গরমে আফগানদের বিপক্ষে ফেবারিট হয়েও যেন তাই কিছুটা ব্যাকফুটে থাকবে বাংলাদেশ।
ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের আগে ও পরের দুই টেস্টের চার ইনিংসেই ব্যাটসম্যানরা ভালো করতে পারেননি। তানজিদ হাসান অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরির পর সব ফরম্যাট মিলিয়ে চার ইনিংসে রান মাত্র ১৬, এর মধ্যে রানের খাতাই খুলতে পারেননি দুই বার।
আরেক ওপেনার সাদমান টেস্টে শেষবার ফিফটি করেছেন গত নভেম্বরে। এরপর ৮ ইনিংসে তার সর্বোচ্চ রান ২৫। তিন ও চারে মুমিনুল হক ও নাজমুল আছেন রানের মধ্যে। অন্যদিকে পাঁচ নম্বরে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম বিশ্রাম না নিয়ে সম্ভাব্য সব টেস্ট খেলায় তার জায়গায় অন্য কাউকে বাজিয়ে দেখার সুযোগও মিলছে না নির্বাচকদের।
ফলে গত সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় ‘এ’ দলের হয়ে রেকর্ড গড়া ৩৫০ রানের ইনিংস খেলেও তাওহীদ হৃদয়কে থাকতে হচ্ছে একাদশের বাইরেই।
অন্যদিকে রান না করেও কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে নিশ্চিতভাবে থাকছেন লিটন। অস্ট্রেলিয়া সফর ও এশিয়ান গেমস মিলে নিজের শেষ পাঁচ ইনিংসে তার রান মাত্র ২! এর মধ্যে চারবারই ডাক মেরেছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার।
বোলিং নিয়েও অবশ্য খুব বেশি চিন্তার জায়গা নেই। বাংলাদেশের স্কোয়াডে পেস বোলারদের আধিক্য থাকলেও আবু ধাবির কন্ডিশনে বাড়তি স্পিনার না খেলালে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, আফগানিস্তানের স্কোয়াডে রয়েছে স্পিনারদের ছড়াছড়ি। আর সেই কারণেই শেষ মুহূর্তে দলে যুক্ত হয়েছে অফ স্পিনার নাঈম হাসানকে।
মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে তাইজুল ইসলাম ও নাঈমকে নিয়ে একাদশ সাজালে দুই পেসার বেছে নেওয়া হবে কঠিন কাজ। হাসান মাহমুদ মাহমুদের খেলা একরকম নিশ্চিত। তার সঙ্গে থাকতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাকাই টেস্টে এক ইনিংসে ৭ উইকেট নেওয়া শরীফুল ইসলাম।
তবে স্পিনাররা বাড়তি সুবিধা পেলে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতেও পারে। সেই চ্যালেঞ্জ উতরে যাওয়ার পাশাপাশি ক্রিকেটারদের প্রমাণ করতে হবে, তারা সব ম্যাচকেই সমান গুরুত্ব দেন।
আগামীকাল শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টায় শুরু হতে যাওয়া টেস্টে বাংলাদেশের সামনে তাই জয়ের বিকল্প নেই।