
দ্বিতীয় দিন শেষেই ম্যাচের লাগাম নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। ঘুরে দাঁড়াতে দরকার ছিল ব্যাটসম্যানদের বিশেষ কিছু করার। তবে প্রথম ইনিংসের মত দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ টপ অর্ডার। তিন দিনেই তাই ইনিংস পরাজয়ের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মাত্র ১৪০ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিনের চা বিরতিতে জিম্বাবুয়ে ৫ উইকেটে ৩৫০ করে লিড নিয়েছে ২১০ রানের।

টেস্টে প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ এখন সমীহ জাগানো দল। সম্প্রতি তারা পাকিস্তানকে ঘরে-বাইরে টানা চার টেস্টে হারানোর কীর্তি গড়েছে । তাই ইংল্যান্ড স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের সেরা প্রস্তুতির জন্য নাজমুল-লিটনদের বিপক্ষে খেলতে আগ্রহী হয়েছে।

শেষ দিনে তিন উইকেট হাতে রেখে পাকিস্তানের জয়ের জন্য প্রয়োজন আরও ১২১ রান। ঢাকার মতো সিলেটে কি জয় তুলে নেবে বাংলাদেশ, নাকি তবে অপেক্ষা করছে রোমাঞ্চকর এক সমাপ্তি।

শেষ বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ৩৯০ রানে। ১৩৭ রানের ম্যারাথন ইনিংস খেলে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন মুশফিকুর। তার এই ইনিংস কার্যত ম্যাচ থেকেই ছিটকে দিয়েছে পাকিস্তানকে।

৫৭ রানে একবার জীবন পান লিটন। এরপর যোগ করেন আরও ১২ রান। তবে ৯২ বলে তার ৬৯ রানের ইনিংসটি পাকিস্তানের ম্যাচে ফেরার আশাকে প্রায় শেষ করে দিয়েছে।

টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের একজন বোলারের তিনটি বলের গতি ঘণ্টায় ১৪৮; ১৪৯ ও ১৫০ কিলোমিটার বেগে–এমন দৃশ্য বছর তিনেক আগেও ছিল যেন ‘অলীক কল্পনা’! আজ সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্রমেই বাংলাদেশের ক্রিকেটের নতুন বিজ্ঞাপন হয়ে ওঠা নাহিদ সেটাই করে দেখিয়েছেন।

১৭তম ওভারে মোহাম্মদ আব্বাসের মিডল স্টাম্প লাইনের ডেলিভারি, মাহমুদুল হাসান জায়গায় দাঁড়িয়ে লেগ সাইডে উড়িয়ে মারলেন চার। এই শটেই পূর্ণ হয় ফিফটি। গোটা ইনিংসে শুধু এই শটটাই যেন সিলেট টেস্টে তাকে খেলানো নিয়ে সব প্রশ্নের জবাব।

লিটন ও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ২৭৮ রানে। জবাবে পাকিস্তান করেছে বিনা উইকেটে ২১ রান। এখনো তারা পিছিয়ে ২৫৭ রানে।

এই ম্যাচে প্রথম ইনিংসে ছন্দে ছিলেন না নাহিদ। রানও দেন বেশ। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের দ্বিতীয় স্পেলে চার উইকেট নিয়ে পূর্ণ করেন পাঁচ উইকেট, যা বাংলাদেশকে এনে দেয় ১০৪ রানের জয়।

পাঁচ দিনের দুর্দান্ত ক্রিকেটের পর প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ পেয়েছে ১০৪ রানের জয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে দেশের মাটিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়।

বৃষ্টিতে দ্বিতীয় সেশন ভেসে যাওয়ার পর বিকেলে শুরু হয় শেষ সেশনের খেলা। লিড খুব বড় না হওয়ায় তখনও চাপেই ছিল বাংলাদেশ। তবে টেস্টে সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা নাজমুল এবং প্রথম ইনিংসে ফিফটি করা মুমিনুল চূড়ান্ত নিবেদন দেখিয়ে দলকে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে যান।