Advertisement Banner

ফের বাংলাদেশের ত্রাতা ‘ক্রাইসিস ম্যান’ লিটন

চরচা প্রতিবেদক
চরচা প্রতিবেদক
ফের বাংলাদেশের ত্রাতা ‘ক্রাইসিস ম্যান’ লিটন
দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে দলের বিপর্যয় সামাল দিয়েছেন লিটন দাস। ছবি: বিসিবি

দল প্রচণ্ড চাপে পড়ে গেলেই কি শুধু হাসে লিটন দাসের ব্যাট? এমনটা যদি বলা হয়, তাহলে অন্তত টেস্ট ক্রিকেটের বাস্তবতায় সেটা খুব ভুল বলা হবে না। এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই রাওয়ালপিন্ডিতে লিটন দাস খেলেছিলেন তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। এবার সিলেটেও আরও একবার জ্বলে উঠলেন তিনি।

টপ ও মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে করলেন সেঞ্চুরি, আর দলকে উদ্ধার করলেন সম্ভাব্য বিপদের হাত থেকে। লিটনের অসাধারণ ইনিংস প্রথম দিন শেষে বাংলাদেশকেও পৌঁছে দিয়েছে শক্তিশালী অবস্থানে।

লিটন ও শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ২৭৮ রানে। জবাবে পাকিস্তান করেছে বিনা উইকেটে ২১ রান। এখনো তারা পিছিয়ে ২৫৭ রানে।

২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ২৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর লিটন করেছিলেন ১৩৮ রান। এর আগে-পরে আরও অনেকবার ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর দলকে একাই টেনে তোলার কাজ করেছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। টেলএন্ডারদের নিয়ে ব্যাটিং করাটা সবসময়ই আলাদা এক চ্যালেঞ্জ, যা অধিকাংশ সময়ই সামাল দিতে পারেন না বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তবে লিটন এখানে ব্যতিক্রম। কখন অন্যপ্রান্তে বোলারদের স্ট্রাইক দিতে হবে, কখন তাদের আড়াল করতে হবে আর কখন শট খেলতে হবে—এসবের ভারসাম্য খুব ভালো বোঝেন তিনি।

আর তাই ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পরও লিটন ক্রিজে ছিলেন বলেই আশা জিইয়ে ছিল বাংলাদেশের। হতাশ করেননি তিনি দলকে। সপ্তম উইকেট জুটিতে তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন তাইজুল ইসলাম। ৬০ রানের সেই জুটিতে অবশ্য ভাগ্যের সহায়তাও ছিল। হাসান আলির বাউন্সারে একবার ক্যাচ দিয়েও লিটন বেঁচে যান পাকিস্তানের রিভিউ না নেওয়ায়। রানআউটের সম্ভাবনাও জেগেছিল কয়েকবার।

তবে ভাগ্য তো সাহসীদের পক্ষেই থাকে। আর তাই লিটন তার এই ইনিংসে সেটা পেয়েছেন বারবার। তবে তিনি যে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে ব্যাট করেছেন, সেটাও রেখেছে বড় ভূমিকা। সাজিদ খানের বিপক্ষে তাইজুলকে (১৬) খুব কম স্ট্রাইক দিয়েছেন। রানের চাকা সচল রেখেছেন বাউন্ডারিতে, তবে সেটাও ছিল খুব হিসেবি ব্যাটিং।

তাসকিন আহমেদের (৭) সঙ্গে অষ্টম উইকেটে ৩৮ রানের পর নবম উইকেটে শরীফুল ইসলামের সঙ্গে পাকিস্তানকে হতাশায় পুড়িয়ে যোগ করেন ৬৪ রান। এই জুটিতে শরীফুল চূড়ান্ত নিবেদন দেখিয়ে নিজের উইকেটের মূল্য বুঝেছেন, যা দলীয় স্কোর বাড়ানোর পাশাপাশি লিটনের সেঞ্চুরিতে বড় অবদান রাখে।

ক্যারিয়ারের ছয়টি টেস্ট সেঞ্চুরির মধ্যে তিনটিই লিটন করেছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে, আর প্রতিটিই এসেছে চাপের মুখে। সেই তালিকায় এবার যোগ হয়েছে আরেকটি শতক। শেষ পর্যন্ত হাসান আলির বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ১২৬ রান।

পাকিস্তান শেষ বেলায় ছয় ওভার ব্যাট করেছে বিপদ ছাড়াই। দারুণ কয়েকটি চার মেরেছেন দুই ওপেনার আবদুল্লাহ ফজল (১৩) ও আজান আওয়াইস (৮)।

সম্পর্কিত