
ডারউইন টেস্টের প্রথম সকালটা ছিল স্বপ্নের। দ্বিতীয় টেস্টের আগের দিন রাতে তাই এ দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা অ্যালার্ম দিয়ে ঘুমিয়েছেন, ভোরে উঠে বাংলাদেশের টেস্টটা দেখবেন বলে। তবে যারা একটু দেরিতে উঠেছেন, তাদের জন্য যেন সেটা এক দুঃস্বপ্নই ছিল। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামতে বাধ্য হওয়ার পর ১২ রানে ৫ উইকেট গেল বা

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে স্বপ্নময় টেস্ট অভিষেক তো এমনই হওয়া উচিত। পেস বোলারদের আদর্শ উইকেটে বাংলাদেশকে একশর আগেই গুটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার চোখ যখন বড় লিডের দিকে, তখনই ডানা মেললেন শরীফুল ইসলাম। সুইং, ওবল-সিম আর বাউন্সের মিশেলে দম ফেলতে দিলেন না প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদেরও। নাটকীয় প্রথম দিনে তাই দারুণভাবে

৩০তম ওভারের শেষ বল, জস হ্যাজেলউডকে চার মারলেন তাইজুল ইসলাম। আর তাতে হাঁফ ছেড়েই যেন বাঁচলেন বাংলাদেশের সমর্থকরা। টেস্টে নিজেদের সর্বনিম্ন স্কোর যে পার করতে পেরেছে নাজমুল হোসেনের দল। ম্যাকাই টেস্টের প্রথম দিনের দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশের ইনিংস থেমেছে মাত্র ৬৪ রানে। টেস্টে বাংলাদেশের সবচেয়ে কম স্কোর ৪

প্রথম টেস্টের আগে যা নিয়ে ছিল সবার শঙ্কা, দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ঘণ্টায় সেটাই হল ম্যাকাইতে। অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের, বিশেষ করে মিচেল স্টার্কের সামনে রীতিমত খাবি খেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। গতি, বাউন্স আর নিখুঁত লাইন-লেন্থের এক প্রদর্শনীতে প্রথম সেশনেই নাজমুল হোসেনের দলকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিয়ে

বাংলাদেশের এই ঐতিহাসিক জয় ও অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটের আত্মপর্যালোচনা নিয়ে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার সাবেক তিন ফাস্ট বোলার ডেমিয়েন ফ্লেমিং, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও জেসন গিলেস্পি তাদের পডকাস্ট শো ‘দ্য ফাস্ট বোলিং কার্টেল’-এ বাংলাদেশের অসাধারণ পারফরম্যান্স আর টেস্টে অস্ট্রেলিয়ান দলের ভুলভ্রান্তি নিয়ে আলোচনা করেছেন।

টি-টোয়েন্টির এই যুগে ক্রিকেটারদের টেস্টের প্রতি আকর্ষণ বজায় রাখতে এটি ছিল মাস্টারস্ট্রোক। এই কারণেই বাংলাদেশের টেস্ট দলের অংশ হতে চান সবাই। টেস্ট ক্রিকেটে ভালো করার পূর্বশর্ত একটা টেস্ট সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

ডারউইনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট জয়কে টেস্ট ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ও মহাকাব্যিক অধ্যায় বলছেন সাবেক ইংলিশ টেস্ট অধিনায়ক মাইকেল আথারটন। তিনি অস্ট্রেলিয়ার ‘দ্য অস্ট্রেলিয়ান’ পত্রিকায় লেখা এক কলামে বলেছেন, এই জয়ে বাংলাদেশ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার সব দর্প, অহম ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে।

নিজেদের মাটিতে অস্ট্রেলিয়া সবসময়ই বিধ্বংসী দল। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে সবাই ধরেই নিয়েছিল, অনায়াস জয় পাবে প্যাট কামিন্সরা। তবে প্রথম টেস্টে স্রেফ উড়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশাল হারের পর চটেছেন দেশটির সাবেক ক্রিকেটাররা। মার্ক ওয়াহ তো বলেই দিয়েছেন, ভয় নিয়ে খেলেই হেরেছে তাদের উত্তরসূরিরা। টস

২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দুটি টেস্ট খেলার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। হেরেছিল দুটিতেই। এরপর দেশটিতে সফর করলেও লাল বলের ক্রিকেট খেলা হয়নি। দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম ম্যাচেই জিতে গেছে বাংলাদেশ, আর গড়েছে ইতিহাসও। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে কম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্

টেস্টে বাংলাদেশের ইতিহাসে সেরা অধিনায়ক হয়েছেন আগেই। নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয়ে। এর আগে সাক্ষী হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়েরও। তবে বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুলের কাছে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জয়ই সবচেয়ে বড়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে প্রথম টেস্টে ঐতিহাসিকভাবে ৯ উইকেটে জয় পাওয়ায় তিনি এ অভিনন্দন জানান।

২০০০ সালের টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর অনেক স্মরণীয় মুহূর্তই বাংলাদেশ ক্রিকেট দল উপহার দিয়েছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে উড়িয়ে দিয়ে জেতাটাকেই সবার ওপরে রাখতে হবে—এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। ডারউইনে অস্ট্রেলিয়াকে টেস্টে ৯ উইকেটে হারানোর এই দিনটি—১৬ আগস্ট ২০২৬!

অস্ট্রেলিয়ান সামারের শুরুতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ বলেই হয়ত কিছুটা গা-ছাড়া ভাব ছিল অস্ট্রেলিয়ার। মাঠের ক্রিকেটে সেই সুযোগ লুফে নিতে ভুল করেনি নাজমুল হোসেনের দল। চার দিন ধরে প্রতিপক্ষের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে তুলে নিয়েছে অবিশ্বাস্য এক জয়।

অস্ট্রেলিয়ার মতো এমন আর কেউ করেনি বাংলাদেশের সঙ্গে। ২০০০ সালে টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর টেস্ট খেলা সব দেশেই কমবেশি সফর করেছে বাংলাদেশ। পারফরম্যান্স যা–ই হোক, অতিথ্যে কোনো কার্পণ্য ছিল না কারওরই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া কেন যেন বাংলাদেশের ব্যাপারে আতিথেয়তার ধার ধারতে চায়নি কখনোই। ২০০৩ সালে একবার নিজে

উইকেটে বোলারদের জন্য বলতে গেলে কিছু নেই বলেই ছিল শঙ্কা। তবে চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার লম্বা ব্যাটিং অর্ডার বাংলাদেশকে সেভাবে সমস্যায় ফেলতে পারেনি। ক্যামেরন গ্রিন একা লড়ে গেলেও মেহেদি হাসান মিরাজের পাঁচ উইকেট স্বাগতিকদের বড় লিড নিতে দেয়নি।

তৃতীয় দিনের শেষেই এটা স্পষ্ট ছিল যে, উইকেটে বোলারদের জন্য আর কিছু নেই। ব্যাটসম্যানরা যদি সেট হয়ে যেতে পারেন, অনায়াসেই অস্ট্রেলিয়া বড় লিড নিতে পারবে। চতুর্থ দিন সকালে অবশ্য সেই পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ালেন মেহেদি হাসান মিরাজ। বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখে বাংলাদেশের জয়ের খুব কাছে নিয়ে গেছেন তিন

টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম ২০ বছরে বাংলাদেশ ১১৯ ম্যাচে জিতেছিল মাত্র ১৪ বার। আর ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ২৩ ম্যাচে জয় ধরা দিয়েছে ১১টি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টের চতুর্থ দিনে এই তালিকায় যোগ হতে পারে একটি জয় বা পরাজয়

সিরিজ শুরুর আগে যা ছিল স্বপ্ন, তিন দিন শেষে সেটাই যেন বাস্তব হওয়ার পথে। ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে আরও চেপে ধরে ঐতিহাসিক এক জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। ব্যাটে-বলে আরেকটি উজ্জ্বল দিনে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় ফেলে দিয়েছে নাজমুল হোসেনের দল। ২২৮ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ট্রাভিস হেড টেস্টে সময়ের অন্যতম বিপজ্জনক ব্যাটসম্যান। মুহূর্তেই ম্যাচের রং বদলে দেওয়ার সামর্থ্য থাকা হেড অবশ্য বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসেই নিষ্প্রভ থেকেছেন। এর মধ্যে টানা দ্বিতীয় দফায় হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হওয়ার পর এমন এক দৃশ্যের অবতারণা করেছে

দ্বিতীয় দিনের শেষে লিডটা বড় হলেও অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরতে দরকার ছিল আরও কিছু রান। মেহেদি হাসান মিরাজের লড়াকু ফিফটিতে শেষ পর্যন্ত তা করতে পেরেছে বাংলাদেশ। দলীয় স্কোর চারশ পেরিয়ে ২২৮ রানের লিড নিয়েই থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস। তাতে অস্ট্রেলিয়াকেই এখন লড়তে হচ্ছে ইনিংস ব্যবধানে পরাজয় এড়াতে। ৬ উ