নাহিদ রানার গতি এই মুহূর্তে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে আলোচনায় এনেছে। ক্রিকেট দুনিয়া মুগ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই গতি তারকার বোলিংয়ে। কিন্তু ইতিহাস বলে, ফাস্ট বোলাররা চোটপ্রবণ। অতীতে অনেক গতিময় ফাস্ট বোলাররাই চোটের কারণে নিজেদের গতি কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়েছেন কিংবা চোটের কারণে সংক্ষিপ্ত হয়ে গেছে তাদের ক্যারিয়ার।
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক ফাস্ট বোলিং কোচ ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার অ্যালান ডোনাল্ড নাহিদ রানাকে গড়ে তোলার পেছনে ভূমিকা রেখেছিলেন। বিসিবির বিভিন্ন পেস বোলিং ক্যাম্পে খুব কাছ থেকে দেখেছেন তরুণ এই পেসারকে। দূর থেকে এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুর্দান্ত বোলিং বেশ উপভোগ করছেন তিনি। তার পরামর্শ নাহিদের বোলিং অ্যাকশনে যেন কোনো বদল না আনা হয়। ডোনাল্ড আশ্বস্ত করে বলেছেন, নাহিদের যে অ্যাকশন তাতে চোটের শঙ্কা খুবই কম। আজ রোববার চরচাকে মুঠোফোন বার্তায় এ কথা বলেছেন তিনি।
ডোনাল্ডের কথা, “পেসারদের জন্য অ্যাকশন খুব গুরুত্বপূর্ণ। একটু এদিক-সেদিক হলেই ছন্দ হারিয়ে ফেলার সুযোগ থাকে। গতিও কমে যেতে পারে। নাহিদ রানার মতো বোলারদের তো গতিটাই আসল। তাছাড়া ওর যে অ্যাকশন, তাতে চোটের সম্ভাবনা খুব কম৷ ওর অ্যাকশনে যেন কোনো পরিবর্তন না করা হয়।”
অ্যালান ডোনাল্ড যখন ছিলেন বাংলাদেশের ফাস্ট বোলিং কোচ। ছবি: রয়টার্সসম্প্রতি উইজডেন ক্রিকেটের এক পডকাস্টে নাহিদ রানাকে নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন অ্যালান ডোনাল্ড। সেখানেও তিনি নাহিদের অ্যাকশনে কোনো প্রকার পরিবর্তন না আনার ব্যাপারে গুরুত্ব দিয়েছেন, “টেকনিক্যাল দিক থেকে বলতে গেলে, আপনি এখানে যে জিনিসটি দেখবেন বা খোঁজার চেষ্টা করবেন, তা হলো খুব বড় কোনো সমস্যা আছে কি না, যা তাকে সমস্যায় ফেলতে পারে। সেটা হলে প্রথমে ভিডিও বিশ্লেষণ দেখে তা শনাক্ত করা এবং পরে সেটা দূর করার চেষ্টা করা। কিন্তু অ্যাকশন বদলে ফেলার মতো পরামর্শ না দেওয়াই ভালো হবে। আমার মনে হয় না তার অ্যাকশনে কোনো সমস্যা আছে।”
ছোট ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গতিসম্পন্ন বোলার হয়ে গেছেন নাহিদ। ঘণ্টায় ১৪৫-১৫০ কি.মি. গতিতে বল করতে পারেন নিয়মিতই। এখন পর্যন্ত ১৫২ কি.মি. তার সবচেয়ে গতিময় ডেলিভারির রেকর্ড। এই গতির ঝড়ের কারণেই বিশ্ব ক্রিকেটে তিনি এখন বড় এক নাম।
নাহিদ যে গতির ঝড় তুলছেন, এটাই বেশি পছন্দ ডোনাল্ডের। উইজডেনের পডকাস্টে তিনি সেটি নিয়েই নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন, “ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ১১৪ রান দিয়েছিল, হয়তো একটি বা কোনো উইকেটই পায়নি। কিন্তু পরের ইনিংসেই ৫ উইকেট নিয়েছে। এ কারণেই ওর স্বাভাবিক সামর্থ্যে হাত দেওয়া উচিত নয়। হয়তো অনেক রান দেবে, কিন্তু পরের স্পেলেই ৫-৬ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এটাই তার বিশেষত্ব। তাই নাহিদ রানাকে শুধু দ্রুতগতিতে বল করতেই দেওয়া উচিত।”
নাহিদের রান-আপ খুব লম্বা নয়। তবে উচ্চতার পাশাপাশি হাই রিলিজ পয়েন্টের জন্য তিনি প্রচণ্ড জোরে বল করতে পারেন সমস্যা ছাড়াই। বল খুব দ্রুত ব্যাটসম্যানদের কাছে চলে যায় বলে প্রায়ই বাউন্সারে হিমশিম খেতে দেখা যায় ব্যাটসম্যানদের। প্রায় একই চিত্র দেখা যেত সাবেক ইংল্যান্ড পেসার স্টিভ হার্মিসনের ক্ষেত্রেও।
বিষয়টি নজর এড়ায়নি ডোনাল্ডেরও, “নাহিদের রান-আপ আর ডেলিভারির ভঙ্গিতে স্টিভ হার্মিসনের কিছুটা ছাপ আছে। হার্মিসন ছিল বড়সড় গড়নের। সে কিন্তু খুব নিখুঁত রানার ছিল না, কিন্তু নিজের ছন্দে দারুণ বোলিং করত। বল ডেলিভারির পুরো প্রক্রিয়ায় ব্যাকফুট থেকে ফ্রন্টফুট, রিলিজ থেকে হিপ মুভমেন্ট… সবকিছু দারুণভাবে মিলে যায় দুজনের। হার্মিসন ছিল ভয়ংকর গতির বোলার। নাহিদের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা একই।”