Chaarcha Logo
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
Chaarcha logo
সংক্ষেপেকানেক্টম্যাগাজিন

আমরা

আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগবিধিনিষেধ ও শর্তাবলিগোপনীয়তার নীতি
Chaarcha logo
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
১০ অক্টোবর, ২০২৬
১০ অক্টোবর, ২০২৬
সর্বশেষবিশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
Chaarcha logo
সর্বশেষএক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণভাবনাভিডিওশর্টসজীবনচরচাম্যাগাজিনপ্রবাস
আমরা
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • বিধিনিষেধ ও শর্তাবলি
  • গোপনীয়তার নীতি
এক্সপ্লেইনারবিশ্লেষণ

সম্পাদক: সোহরাব হাসান, প্রিন্টার্স বিল্ডিং (লেভেল–১৪), ৫ রাজউক অ্যাভিনিউ, মতিঝিল বাণিজ্যিক এলাকা, ঢাকা–১০০০, বাংলাদেশ

|

স্বত্ব © চরচা

Chaarcha Logo
Advertisement
Advertisement
> এক্সপ্লেইনার

ফ্ল্যাটে ‘কয়েকদিন’ পড়ে ছিল বৃদ্ধার মরদেহ, আসলে কী হয়েছিল

চরচা প্রতিবেদক

চরচা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৪ জুন ২০২৬, ১৯: ১১
ফ্ল্যাটে ‘কয়েকদিন’ পড়ে ছিল বৃদ্ধার মরদেহ, আসলে কী হয়েছিল

রাজধানীর মিরপুরে চারতলার একটি ফ্ল্যাটের ভেতরে ‘কয়েকদিন’ ধরে পড়ে ছিল ৭৫ বছর বয়সী নূরজাহান বেগমের মরদেহ। একই বাসার আরেকটি কক্ষে ছিলেন তার মেয়ে। বৃদ্ধা ঠিক কবে মারা গেছেন–সে বিষয়ে এখনো জানা যায়নি। শেষ পর্যন্ত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

Advertisement

পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান বাসির জানান, ৯৯৯-এ ফোন পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। মরদেহে পচন শুরু হয়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে পোকা দেখা যায়। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের কারণে জীবিত থাকাবস্থাতেও শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মো. হাসান বাসির বলেন, “ঘরের পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা। শুধু বৃদ্ধার কক্ষ নয়, পুরো বাসাটিই দীর্ঘদিন অপরিচ্ছন্ন ছিল। মা-মেয়ে একই বাসায় থাকলেও পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে বৃদ্ধা দীর্ঘদিন অযত্নে ছিলেন।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নূরজাহান বেগমের বড় ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব এবং আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। তাদের একজন বিদেশেও অবস্থান করেন। তবে কেউই মায়ের সঙ্গে স্থায়ীভাবে থাকতেন না। বৃদ্ধা বসবাস করতেন মেয়ে ফাতিমা নাসরিনের সঙ্গে, যিনি মিরপুরের একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করেন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
তদন্তে উঠে এসেছে, মায়ের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর ওইভাবে কারো নেওয়া হতো না। মেয়ের আচরণ ও কথাবার্তায় কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। আমাদের কাছে তাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হয়নি।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এসআই শামসুর রহমান জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছেলেরা অতীতে বাসায় যাতায়াত করতেন, এমনকি ২-৩ বছর আগেও একসাথে ছিলেন। পরিবারের এক নাতিও চলতি কোরবানির ঈদের সময় সেখানে এসেছিলেন।

শামসুর রহমান বলেন, “তদন্তে উঠে এসেছে, মায়ের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর ওইভাবে কারো নেওয়া হতো না। মেয়ের আচরণ ও কথাবার্তায় কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। আমাদের কাছে তাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক মনে হয়নি।”

এসআই শামসুর রহমান বলেন, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা জানতে পেরেছি, নূরজাহান বেগমের ছেলেরা সমাজে প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে মায়ের নিয়মিত ভরণপোষণ বা দেখভালের দায়িত্ব পালন করতেন না। বৃদ্ধার মেয়ে ফাতিমা নাসরিন একই বাসায় থাকতেন। তার স্বামী প্রায় পাঁচ বছর আগে মারা যাওয়ার পর তিনি অনেকটা একাই জীবনযাপন করতেন এবং মায়ের দেখাশোনার দায়িত্বও তার ওপরই ছিল। মাঝে মধ্যে মায়ের চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচও তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী বহন করতেন বলে জানা গেছে।”

মিরপুরে বৃদ্ধা মায়ের মরদেহ উদ্ধার: যুগ্ম সচিব প্রত্যাহার, তদন্তের নির্দেশdeadbody

তিনি আরও বলেন, “তদন্তের স্বার্থে আমরা বৃদ্ধার চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রেসক্রিপশন ও নথিপত্র দেখতে চেয়েছিলাম। তবে মেয়ে সেসব কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। এতে বৃদ্ধার চিকিৎসার ধারাবাহিকতা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।”

এসআই শামসুর রহমানের ভাষ্য, “মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এমনকি সচিব পদে কর্মরত ছেলেও শুরুতে ময়নাতদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় সরাসরি অংশ নিতে আগ্রহ দেখাননি। এক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডাও হয়। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের কাছে মনে হয়েছে, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও দায়িত্ববোধের ঘাটতি ছিল। ফলে মা ও মেয়ে অনেকটা বিচ্ছিন্নভাবেই ওই বাসায় বসবাস করছিলেন।”

মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে এসআই শামসুর রহমান জানান, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বৃদ্ধার মাথায় আঘাতের একটি চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এটি কীভাবে হয়েছে–তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশ ধারণা করছে, অসুস্থ অবস্থায় বিছানা থেকে পড়ে গিয়ে তিনি আঘাত পেয়ে থাকতে পারেন। তবে চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

তিনি নিয়মিত স্কুলে আসতেন। বাচ্চাদের ডায়েরি লিখে দিতেন, হাতে-কলমে শেখাতেন এবং দায়িত্বশীলভাবেই কাজ করতেন। বাইরে থেকে দেখে তাকে স্বাভাবিক ও পরিপাটি মনে হতো।

এদিকে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই অনেকটা বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করত। প্রতিবেশীদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল সীমিত।

স্থানীয় বাসিন্দা ও বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদের জয়েন্ট সেক্রেটারি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান পলাশ বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই এই পরিবারকে দেখছি। কিন্তু তারা কারও সঙ্গে খুব একটা মিশত না। বাড়ির ভেতরে কী হচ্ছে, সেটাও কেউ জানত না। পুলিশের মাধ্যমে প্রথম জানতে পারি বৃদ্ধা মারা গেছেন। শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত পরিবার হলেও সামাজিক যোগাযোগ ছিল খুবই সীমিত।”

অন্যদিকে, কর্মক্ষেত্রে ফাতিমা নাসরিনকে ভিন্নভাবেই দেখতেন তার সহকর্মীরা।

মিরপুর ইমপেরিয়াল স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, “তিনি নিয়মিত স্কুলে আসতেন। বাচ্চাদের ডায়েরি লিখে দিতেন, হাতে-কলমে শেখাতেন এবং দায়িত্বশীলভাবেই কাজ করতেন। বাইরে থেকে দেখে তাকে স্বাভাবিক ও পরিপাটি মনে হতো।”

স্কুলটির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক এম এ খায়ের বলেন, “তিনি খুবই চুপচাপ স্বভাবের ছিলেন। সহকর্মীদের সঙ্গে খুব বেশি কথা বলতেন না, ব্যক্তিগত বিষয় শেয়ার করতেন না। নিজের মতো করেই থাকতেন।”

এ ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য, ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে ওই বৃদ্ধার পরিবারের কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বিষয়: নিহতমামলাঢাকাপুলিশপ্রতিবেদনমিরপুর
Advertisement
সর্বশেষ
  • ১

    দেশীয় ব্যবস্থাপনায় লাভজনক এনসিটি, তবু কেন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা?

  • ২

    ব্যাংক থেকে ঋণ পেতে কী লাগে? ৫টি যোগ্যতার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনটি?

  • ৩

    বাংলাদেশ লিড নেওয়ার আশায় বাধা রহমতের প্রতিরোধ

  • ৪

    কানাইঘাট সীমান্তে গুলিবিদ্ধ যুবকের লাশ উদ্ধার

  • ৫

    দিল্লিতে লকডাউন পরিস্থিতি: ৬ হাজার আটক, সিজেপির আন্দোলন ‘চলবে’

সম্পর্কিত
  • নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    নতুন গঙ্গা চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’-এ গুরুত্ব ঢাকার, কেন?

    বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে। তবে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টন নিয়ে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি রয়েছে কেবল গঙ্গা নদীকে ঘিরে। আগামী ১২ ডিসেম্বর গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। নতুন বা সংশোধিত চুক্তিতে শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে গ্যারান্টি ধারা অন্তর্ভুক্ত করাকে

  • বিদেশি তারকাদের নিয়ে ঢাকায় কনসার্ট করা কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

    বিদেশি তারকাদের নিয়ে ঢাকায় কনসার্ট করা কেন কঠিন হয়ে যাচ্ছে?

    কয়েক বছর আগেও আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক তারকা- বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের শীর্ষ সারির সুরকার ও শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখরিত থাকত ঢাকার কনসার্ট অঙ্গন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি শিল্পীদের নিয়ে আয়োজিত কনসার্টের টিকিট কেনা দর্শক-শ্রোতাদের জন্য যেন এক বড় ধরনের অনিশ্চয়তার নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

  • ককরোচ পার্টির আন্দোলন সামনে রেখে কী চলছে দিল্লিতে?

    ককরোচ পার্টির আন্দোলন সামনে রেখে কী চলছে দিল্লিতে?

    ভারতের নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং বিতর্কিত বিশেষ নিবিড় পুনর্নিরীক্ষণ (এসআইআর ) বাতিলের দাবিতে দেশটিতে বিক্ষোভ চলছে। এই বিক্ষোভঘিরে দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

  • আফগানিস্তানকেও টেস্টে ‘ভয়’ পাচ্ছে বাংলাদেশ?

    আফগানিস্তানকেও টেস্টে ‘ভয়’ পাচ্ছে বাংলাদেশ?

    একদিন বাদেই বাংলাদেশের একটা টেস্ট ম্যাচ, তবে তার আগে নেই কোনো উত্তাপ। এমনকি অনেকেই জানেন না যে কাল আফগানিস্তানের বিপক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে লাল বলের ক্রিকেট খেলবে নাজমুল হোসেনের দল। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বাইরের এমন একটি ম্যাচে চলতি বছরই জিম্বাবুয়ের কাছে ভরাডুবি হয়েছিল বাংলাদেশ দলের। তা