ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী নয়াদিল্লি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, আজ শনিবার নির্বাচন কমিশন বিরোধী এই বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে পুরো দিল্লিতে প্রায় লকডাউন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভারতের রাজধানীজুড়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাসহ প্রায় ৬ হাজার মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। কঠোর নিরাপত্তার কারণে বিক্ষোভকারীদের কাউকে নির্ধারিত সমাবেশস্থল যন্তর মন্তরে পৌঁছাতে দেওয়া হয়নি।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন দিল্লির সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অ্যাক্টিভিস নেহা বোরা, যোগেন্দ্র যাদব এবং বিশিষ্ট আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ।
পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক সতর্ক করে জানিয়েছেন, রোববারের মধ্যে আটককৃতদের মুক্তি না দেওয়া হলে তিনি অনশন বা পদযাত্রা শুরু করতে বাধ্য হবেন। তবে সন্ধ্যায় নেহা বোরা সহ বেশ কয়েকজনকে ময়দান গড়হি থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
এর আগে পুলিশ যন্তর মন্তর এলাকা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখলে আন্দোলনকারীরা দিল্লি হাটে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান। সেখান থেকেই প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদব ও নেহা বোরাকে আটক করা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার দল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাদের দিল্লির বাসভবনের সামনে থেকে, অরবিন্দ কেজরিওয়াল ও আম আদমি পার্টি (আপ) নেতা সৌরভ ভরদ্বাজকে যন্তর মন্তরের কাছ থেকে এবং পিনারাই বিজয়নকে ছত্রশাল স্টেডিয়ামে নিয়ে আটক রাখা হয়।
অন্যদিকে, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপি)-র শীর্ষনেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাক দিল্লির বিমানব্ন্দরে নামার সাথে সাথেই বিমানের ভেতর থেকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, ফ্লাইটে নামার পর অভিজিৎ দীপকেকে তার দাদীর মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয় এবং তাকে বাড়ি ফেরার বিষয়ে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইউটিউবে প্রায় ৩ কোটি ৩০ লাখ (৩৩ মিলিয়ন) সাবস্ক্রাইবার থাকা জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর নিজ বাসভবন থেকে আটক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২৫ হাজার পুলিশ ও আধা-সামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। এমনকি শুক্রবার রাত থেকেই শুরু হওয়া অভিযানে অন্তত ১২ শ জনকে আগাম আটক করা হয়।
ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ব্যাপক জালিয়াতির অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দেয় সিজিপি। নিরাপত্তাঝুঁকি এবং পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে আবেদনের অজুহাত দেখিয়ে দিল্লি পুলিশ এই আন্দোলনের অনুমোদন দেয়নি।