রাজশাহী প্রতিনিধি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (রাকসু) হামলার জেরে ছাত্রলীগের সাবেক এক কর্মীসহ তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পিটিয়েছে রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। আজ সোমবার দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে দফায় দফায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় গতকাল রোববার সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রী তার নিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রক্টর দপ্তরে হুমকির অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে গতকাল রাতে একটি সভায় বসেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের আনাস, একই বিভাগের হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন অংশ নেন। পরে তারা অভিযোগটি অস্বীকার করে প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্য শুরু করেন।
লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী দাবি করেন, গত ২২ জুলাই থেকে মহসিন আলম তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাকু বের করে তাকে ভয় দেখান এবং কাছে পিস্তল আছে বলে হুমকি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ছাত্রীর বক্তব্য শোনা হয়েছে।”
এ বিষয়ে আজ সোমবার দুপুরে আবারো সভা ডাকেন প্রক্টর। ওই সভায় উপস্থিত হয়ে আনাসকে ছাত্রলীগ কর্মী বলে অভিযোগ করেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ রাকসুর নেতারা। পরে রাকসু নেতারা আনাসের মোবাইলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান-হিল গালিবসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার ছবি খুঁজে পান। পরে প্রক্টরের উপস্থিতিতে আনাসকে মারধর করেন আম্মার ও সাব্বির। দুপুরেই প্রক্টর বিষয়টি সাময়িক সমাধান করে দেন। আনাসসহ বাকিরা প্রক্টরের দপ্তর থেকে চলে যান।
এর পর বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিবসহ কয়েকজন এই ঘটনার জেরে রাকসু ভবনে হামলা চালান। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হন। পরে রাকসু নেতারা তাদের ওপর পাল্টা চড়াও হলে সেখান থেকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে আসেন। সেখানে রাকসু জিএস আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, আহত বি এম নাজমুস সাকিব, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, শাখা শিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, দপ্তর সম্পাদক মানাজির আহসান, অর্থ সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও শাখা শিবিরের ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি মোহাম্মদ ফাহিম রেজা, শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হাবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসানউল্লাহ ফারহান, জিএস আশিক শিকদার, নবাব আব্দুল লতিফ হল জিএস নূরুল ইসলাম শহীদ, শিবির ক্যাডার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনর্বিবেচনায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী রমজান আলীসহ অন্যরা উপস্থিত হন।
এ সময় আম্মার বেলচা হাতে দূর থেকে ছাত্রলীগের ওই কর্মী ও তার সহযোগীকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ওই শিক্ষার্থীরাও গালির প্রত্যুত্তর দেন। এ সময় প্রক্টর মাহবুবর রহমান তাদেরকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে পাঠকক্ষের ভেতরে নিয়ে যান। পরে শিবির ও রাকসু নেতারা ফটক থেকে প্রক্টরকে ধাক্কা দিয়ে পাঠকক্ষে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকেই তারা ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। তাদের ফেরাতে গেলে অন্য শিক্ষার্থীরাও আহত হন। পরে শিবির ও রাকসু নেতাদের পাঠকক্ষ থেকে বের করে দেন প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীরা।
এর কিছু সময় পর গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে ভেতরের একটি গেট দিয়ে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিনসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় ফাহিম রেজা 'আমার ভাইদের মারলি কেন?' বলেই আবারও হামলা করেন। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে তাকে টেনে হিঁচড়ে নামানোর চেষ্টা করেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর পর রাকসু ও শিবির নেতারা এক হয়ে 'নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার', 'হাতে তালি, শিবির', 'মুখে বলি, শিবির', 'ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না' স্লোগানে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান করে। সে সময় তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচারের দাবি জানায়।
হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত পদার্থবিজ্ঞানের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কামাল বলেন, “আমরা এখানে পড়ছিলাম। তারপর তারা অতর্কিত সবাই রিডিং রুমে ঢুকে পড়ে। তারা যাকে পাচ্ছে, তাকেই ছাত্রলীগ ট্যাগ দিচ্ছে। অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দিকেও তারা উগ্র হয়ে হামলা করে। ছাত্রলীগ হলেও তাকে মেরে ফেলার অধিকার তো কারো নেই। বিচারের জন্য দেশে আইন আছে।”
হামলার শিকার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আনাস চরচাকে বলেন, “আজকে আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকলে সেখানে আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে এসে আমাকে মারধর শুরু করে। তারপর আমাদের প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সাথে হাতাহাতি করে। এর পর আম্মার লোকজন নিয়ে এসে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে।”
আনাস নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন উল্লেখ করে বলেন, “অতীতে আমার বন্ধুরা হয়তো ছাত্রলীগ করত, তাই কোনো এক জায়গায় তাদের সাথে আমার ছবি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের ব্যানার-ফেস্টুনে আমার কোনো ছবি নেই।”
হামলার বিষয়ে শিবিরের দায় অস্বীকার করে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান চরচাকে বলেন, “এখানে শিবিরের কেউ ছিল না। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের ওপর হামলার কথা শুনে দ্রুত এখানে আসি। এখানে এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।”
হামলার ঘটনায় শিবিরকে দেখা গেছে এবং এর ভিডিও ফুটেজ আছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার চরচাকে বলেন, “আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানাই। তবে তারা তাকে কিছুই করেনি। আমাদের ওপর হামলার পর বাধ্য হয়ে আমাদের এখানে আসতে হলো।”
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “যে নারীকে নিয়ে ঝামেলার শুরু, আমরা জেনেছি তাকে শিবিরের এক নেতা পছন্দ করতেন। এই কারণে একটি নারীঘটিত বিষয়কে গোপনে সমাধান না করে একে শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। আমরা আমাদের পবিত্র জায়গা লাইব্রেরিতে শিবিরের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।”
তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (রাকসু) হামলার জেরে ছাত্রলীগের সাবেক এক কর্মীসহ তিন শিক্ষার্থীকে দফায় দফায় পিটিয়েছে রাকসু ও শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। আজ সোমবার দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে দফায় দফায় এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, প্রেমের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ায় গতকাল রোববার সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রী তার নিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে প্রক্টর দপ্তরে হুমকির অভিযোগ দায়ের করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর সঙ্গে গতকাল রাতে একটি সভায় বসেন প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান। সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ বর্ষের আনাস, একই বিভাগের হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন অংশ নেন। পরে তারা অভিযোগটি অস্বীকার করে প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্য শুরু করেন।
লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী দাবি করেন, গত ২২ জুলাই থেকে মহসিন আলম তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও মানসিকভাবে হয়রানি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি প্রেমের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাকু বের করে তাকে ভয় দেখান এবং কাছে পিস্তল আছে বলে হুমকি দেন।
অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার পর ওই ছাত্রীর বক্তব্য শোনা হয়েছে।”
এ বিষয়ে আজ সোমবার দুপুরে আবারো সভা ডাকেন প্রক্টর। ওই সভায় উপস্থিত হয়ে আনাসকে ছাত্রলীগ কর্মী বলে অভিযোগ করেন রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ রাকসুর নেতারা। পরে রাকসু নেতারা আনাসের মোবাইলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান-হিল গালিবসহ কয়েকজন নেতার সঙ্গে তার ছবি খুঁজে পান। পরে প্রক্টরের উপস্থিতিতে আনাসকে মারধর করেন আম্মার ও সাব্বির। দুপুরেই প্রক্টর বিষয়টি সাময়িক সমাধান করে দেন। আনাসসহ বাকিরা প্রক্টরের দপ্তর থেকে চলে যান।
এর পর বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিবসহ কয়েকজন এই ঘটনার জেরে রাকসু ভবনে হামলা চালান। এতে রাকসুর তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিব আহত হন। পরে রাকসু নেতারা তাদের ওপর পাল্টা চড়াও হলে সেখান থেকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে আসেন। সেখানে রাকসু জিএস আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, আহত বি এম নাজমুস সাকিব, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, শাখা শিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, দপ্তর সম্পাদক মানাজির আহসান, অর্থ সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও শাখা শিবিরের ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি মোহাম্মদ ফাহিম রেজা, শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম, শহীদ হাবিবুর রহমান হল সংসদের ভিপি আহসানউল্লাহ ফারহান, জিএস আশিক শিকদার, নবাব আব্দুল লতিফ হল জিএস নূরুল ইসলাম শহীদ, শিবির ক্যাডার ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনর্বিবেচনায় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী রমজান আলীসহ অন্যরা উপস্থিত হন।
এ সময় আম্মার বেলচা হাতে দূর থেকে ছাত্রলীগের ওই কর্মী ও তার সহযোগীকে উদ্দেশ্য করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। গ্রন্থাগারের সামনে থেকে ওই শিক্ষার্থীরাও গালির প্রত্যুত্তর দেন। এ সময় প্রক্টর মাহবুবর রহমান তাদেরকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে পাঠকক্ষের ভেতরে নিয়ে যান। পরে শিবির ও রাকসু নেতারা ফটক থেকে প্রক্টরকে ধাক্কা দিয়ে পাঠকক্ষে প্রবেশ করেন। ভেতরে ঢুকেই তারা ওই শিক্ষার্থীদের মারধর করেন। তাদের ফেরাতে গেলে অন্য শিক্ষার্থীরাও আহত হন। পরে শিবির ও রাকসু নেতাদের পাঠকক্ষ থেকে বের করে দেন প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ সদস্য ও শিক্ষার্থীরা।
এর কিছু সময় পর গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে ভেতরের একটি গেট দিয়ে নিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিনসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক। অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় ফাহিম রেজা 'আমার ভাইদের মারলি কেন?' বলেই আবারও হামলা করেন। একপর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স থামিয়ে তাকে টেনে হিঁচড়ে নামানোর চেষ্টা করেন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সহায়তায় হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এর পর রাকসু ও শিবির নেতারা এক হয়ে 'নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবার', 'হাতে তালি, শিবির', 'মুখে বলি, শিবির', 'ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না' স্লোগানে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করে অবস্থান করে। সে সময় তারা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচারের দাবি জানায়।
হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত পদার্থবিজ্ঞানের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী কামাল বলেন, “আমরা এখানে পড়ছিলাম। তারপর তারা অতর্কিত সবাই রিডিং রুমে ঢুকে পড়ে। তারা যাকে পাচ্ছে, তাকেই ছাত্রলীগ ট্যাগ দিচ্ছে। অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দিকেও তারা উগ্র হয়ে হামলা করে। ছাত্রলীগ হলেও তাকে মেরে ফেলার অধিকার তো কারো নেই। বিচারের জন্য দেশে আইন আছে।”
হামলার শিকার সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আনাস চরচাকে বলেন, “আজকে আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকলে সেখানে আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে এসে আমাকে মারধর শুরু করে। তারপর আমাদের প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সাথে হাতাহাতি করে। এর পর আম্মার লোকজন নিয়ে এসে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে।”
আনাস নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন উল্লেখ করে বলেন, “অতীতে আমার বন্ধুরা হয়তো ছাত্রলীগ করত, তাই কোনো এক জায়গায় তাদের সাথে আমার ছবি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের ব্যানার-ফেস্টুনে আমার কোনো ছবি নেই।”
হামলার বিষয়ে শিবিরের দায় অস্বীকার করে শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান চরচাকে বলেন, “এখানে শিবিরের কেউ ছিল না। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের ওপর হামলার কথা শুনে দ্রুত এখানে আসি। এখানে এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।”
হামলার ঘটনায় শিবিরকে দেখা গেছে এবং এর ভিডিও ফুটেজ আছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
এ বিষয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার চরচাকে বলেন, “আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশে দেওয়ার আহ্বান জানাই। তবে তারা তাকে কিছুই করেনি। আমাদের ওপর হামলার পর বাধ্য হয়ে আমাদের এখানে আসতে হলো।”
এই ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, “যে নারীকে নিয়ে ঝামেলার শুরু, আমরা জেনেছি তাকে শিবিরের এক নেতা পছন্দ করতেন। এই কারণে একটি নারীঘটিত বিষয়কে গোপনে সমাধান না করে একে শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে। আমরা আমাদের পবিত্র জায়গা লাইব্রেরিতে শিবিরের এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।”
তবে এই ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।