বরিশালে স্ত্রীকে হত্যা মামলায় স্বামী এলজিইডির সাবেক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলায় অপর আসামি হোটেল ম্যানেজারকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৬ বছর পর আজ সোমবার দুপুরে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোসতাক আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মহসিন মন্টু বলেন, “২০১০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বরিশাল নগরীর সদর রোডে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালের একটি কক্ষে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বাসিন্দা প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম তার স্ত্রী নাজমা জহির শোভাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বোন নিলুফা আইরিন বাদী হয়ে একই দিন কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।”
পিপি বলেন, “মামলায় পুলিশ নিহতের স্বামী জহিরুল ইসলাম ও হোটেল ম্যানেজার আবদুল মালেককে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আদালত ১৩ জন সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করেন।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন মিজান বলেন, “নিহত নাজমা জহির শোভার ছোট বোন রুমা আক্তারের সাথে পরকীয়া প্রেম ছিল জহিরুল ইসলামের। ওই সময় তিনি বরিশাল এলজিইডির প্রকৌশলী ছিলেন। পরকীয়ার বিষয়টি জেনে ফেলায় ঘটনার দিন স্ত্রী শোভাকে হোটেল আলী ইন্টারন্যাশনালে নিয়ে যান। সেখানে ছুরি দিয়ে তাকে জবাই করে হত্যা করেন জহিরুল ইসলাম। এই ঘটনায় গ্রেপ্তারের পর আসামি আদালতে স্বীকারক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন।”
আনোয়ার হোসেন বলেন, “হোটেল কার্যক্রম পরিচালনায় ম্যানেজারের বিরুদ্ধে অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে। যে কারণে তাকেও পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রায় ১৬ বছর পর আদালত রায় ঘোষণা করেন।”
বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, “আসামিদের বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আদালতের রায়ে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যে কারণে আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আর আপিল করব না।”