চরচা প্রতিবেদক

শন টেইট বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে আর থাকতে চান না, সেই খবর চাউর হয়েছিল কয়েকদিন আগেই। ভারতের রাজ্য দলের কোচ হতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার খবরও এসেছে এরই মধ্যে। ফলে তার চলে যাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ঠিক আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। সময়ক্ষেপণ না করে এই সিরিজের জন্য তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক পেসার তালহা জুবায়েরকে। দেশি একজন কোচের এই দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দারুণ খবরই বটে। তবুও দর্শকদের মাঝে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কিন্তু কেন?
সোজা উত্তর একটাই। আর তা হলো তিনি দেশি কোচ। যারা সমালোচনা করছেন, তাদের অনেকেই কোচ হিসেবে তালহা কেমন, সেই বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য বোধ করি রাখেন না। আর সেই কারণেই টেইটের জায়গায় অস্থায়ীভাবে তার নিয়োগেও আপত্তি করছেন কেউ কেউ। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় পেসার নাহিদ রানার শুরুর দিনগুলোতে তাকে নিয়ে কাজ করেছেন তালহা। ঘরোয়া ও জাতীয় দলের আরও অনেক পেসারের উঠে আসার পেছনে নীরবে কাজ করে চলেছেন তিনি। ধাপে ধাপে নিজেকে প্রমাণ করেই জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব এসেছে তার কাঁধে।
আমি, মাশরাফি যে সময়ে আসলাম, তখন আরও পেসার উঠে আসছিল। আর সেই সময়ে ১৪০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে কিন্তু খুব বেশি কেউ বল করতে পারত না। সেই সময়ে আমাদের অনেক আলোচনা হতো যে আমরা অনেক জোরে বোলিং করতে পারি।
তালহার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি ঘটেছিল চোটের কারণেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার এন্ডি রবার্টস বাংলাদেশে এসে তালহা ও মাশরাফি মোর্তোজার বোলিং নিয়ে বিশেষ প্রশংসা করে গিয়েছিলেন। চোটের প্রভাব সামলে মাশরাফি ক্যারিয়ার লম্বা করতে পারলেও তালহাকে থেমে যেতে হয় আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে ২০০৪ সালেই। তিনিও বেশ জোরে বল করতে পারতেন বলে অল্প সময়েই পেয়েছিলেন বিশেষ খ্যাতি।
চরচাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতির আলোকপাত করে তালহা বলেছেন, “আমি, মাশরাফি যে সময়ে আসলাম, তখন আরও পেসার উঠে আসছিল। আর সেই সময়ে ১৪০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে কিন্তু খুব বেশি কেউ বল করতে পারত না। সেই সময়ে আমাদের অনেক আলোচনা হতো যে আমরা অনেক জোরে বোলিং করতে পারি। তবে এটার সঙ্গে সুইং, ভালো জায়গায় বোলিং করাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চোটের কারণে আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আগায়নি সেভাবে, এটা একটা দুঃখের ব্যাপার আমার জন্য।”

তালহার সেই দুঃখ বাংলাদেশের ক্রিকেটেরও ক্ষতি ছিল। কারণ, তার মাঝে ছিল অমিত সম্ভাবনা। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার পর কোচিং পেশায় এসে যেন সেই আক্ষেপ ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় নামেন। বিপিএলে সহকারী কোচ হিসেবে টানা কাজ করেছেন, শিরোপার স্বাদও পেয়েছেন।
এই বিপিএলে প্রধান কোচ হিসেবে তালহা তার কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যের দেখা পান ২০২৫ সালে। বেশ সাদামাটা খুলনা টাইগার্স দলকে নিয়ে যান প্লে-অফে। অল্পের জন্য তার দল যেতে পারেনি ফাইনালে। সেবারই কোচ হিসেবে তার কিছু সিদ্ধান্ত নজরে আসে সবার। টেকনিক্যাল জায়গাতেও তিনি মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন।
শন টেইটের সঙ্গে আমার একটা ভালো সম্পর্ক হয়েছে। ও আমার কাজ দেখেছে। বোলিং নিয়ে ওর সঙ্গে অনেক কথা হয়। কোন বোলার কেমন কাজ করছে, সেটা নিয়ে ফিডব্যাক দিই। এগুলো ও পছন্দ করে। ওর মতো একজন লিজেন্ডারি পেসারের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে ভালোই লাগে। এটা আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।
এই সময়ের মধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতভাবেই কাজ করে গেছেন তালহা। বিসিবিতে স্বল্পকালীন চুক্তিতে কাজ করেছেন অনেকবারই। বয়সভিত্তিক দলেও কাজ করেছেন, যেখানে তার অধীনে ছিলেন বর্তমান সময়ের বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেনসেশন নাহিদ।
এই প্রসঙ্গে তালহা বলেন, “নাহিদ রানার সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই কাজ করছি। সেটা অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকেই। হাতে সময় কম ছিল বলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলে নিতে পারিনি। ওর অ্যাকশনে কোনো সমস্যা ছিল না। তখন ওর রান-আপের একটা ইস্যু ছিল। আগে রান-আপটা এলোমেলো ছিল, নো-বল করত অনেক। ওই জায়গায় আমি আর আলমগীর (কবির) ভাই মিলে কাজ করেছি।”
শুধু নাহিদই নন, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেকের কাছেই তালহা এক নির্ভরতার নাম। ম্যান ম্যানেজমেন্টও তার দুর্দান্ত, যা একজন কোচের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আফিফ হোসেনকে নিয়ে একবার বলেছিলেন, তিনি অন্তর্মুখী স্বভাবের আর কম কথা বলেন। আর তাই এমন একজন ক্রিকেটারকে খুব বেশি কথা না বলে অল্প কথায় বার্তাটা দিতে হয়।
বাংলাদেশের একজন কোচের যে সব সীমাবদ্ধতা থাকে, সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন তালহা। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে স্কুল ক্রিকেট থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও কাজ করে এসেছেন। তিনি বিশ্বমানের কোচিং কেমন হয়, সেটা বোঝার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই কাজটা করেছেন।
তালহার এই ছোট ছোট পদক্ষেপ নজর এড়ায়নি সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ টেইটেরও। তিনি নিজে বিসিবিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে তাকে কাজে লাগানো হয়। বিপিএলের সময় খুব কাছ থেকে তালহার কোচিং দেখেই মুগ্ধতা জাগে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান পেসারের।
টেইটের প্রশংসায় আপ্লুত তালহা, “শন টেইটের সঙ্গে আমার একটা ভালো সম্পর্ক হয়েছে। ও আমার কাজ দেখেছে। বোলিং নিয়ে ওর সঙ্গে অনেক কথা হয়। কোন বোলার কেমন কাজ করছে, সেটা নিয়ে ফিডব্যাক দিই। এগুলো ও পছন্দ করে। ওর মতো একজন লিজেন্ডারি পেসারের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে ভালোই লাগে। এটা আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।”
সেই টেইট আচমকা চলে যেতে বিসিবি তারই পছন্দের তালহাকে বেছে নিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এত বড় দায়িত্ব তিনি পাওয়ার যোগ্য কিনা, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে তাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়াতে যে হাহাকার হচ্ছে দর্শকদের একটি মহলের, সেটা মোটেও যৌক্তিক নয়।
কারণ, এত অল্প সময়ে বিদেশি কোচ চাইলেও পাওয়া যাবে না। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই যুগে জাতীয় দলের কোচ পাওয়া এমনিতেই কঠিন কাজ। সেখানে দেশের পেসারদের খুব ভালো করে জানেন এবং কোচ হিসেবে পরীক্ষিত একজনকে দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে, এরচেয়ে ভালো কিছু এই মুহূর্তে সম্ভব ছিল না। অকারণে তালহার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে তাই উচিত তাকে সমর্থন দেওয়া।
দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সেটা করবেন তো দর্শকেরা?

শন টেইট বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে আর থাকতে চান না, সেই খবর চাউর হয়েছিল কয়েকদিন আগেই। ভারতের রাজ্য দলের কোচ হতে সাক্ষাৎকার দেওয়ার খবরও এসেছে এরই মধ্যে। ফলে তার চলে যাওয়া ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের ঠিক আগে তিনি পদত্যাগ করেছেন। সময়ক্ষেপণ না করে এই সিরিজের জন্য তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক পেসার তালহা জুবায়েরকে। দেশি একজন কোচের এই দায়িত্ব পাওয়া বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দারুণ খবরই বটে। তবুও দর্শকদের মাঝে দেখা যাচ্ছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কিন্তু কেন?
সোজা উত্তর একটাই। আর তা হলো তিনি দেশি কোচ। যারা সমালোচনা করছেন, তাদের অনেকেই কোচ হিসেবে তালহা কেমন, সেই বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য বোধ করি রাখেন না। আর সেই কারণেই টেইটের জায়গায় অস্থায়ীভাবে তার নিয়োগেও আপত্তি করছেন কেউ কেউ। অথচ বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে গতিময় পেসার নাহিদ রানার শুরুর দিনগুলোতে তাকে নিয়ে কাজ করেছেন তালহা। ঘরোয়া ও জাতীয় দলের আরও অনেক পেসারের উঠে আসার পেছনে নীরবে কাজ করে চলেছেন তিনি। ধাপে ধাপে নিজেকে প্রমাণ করেই জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব এসেছে তার কাঁধে।
আমি, মাশরাফি যে সময়ে আসলাম, তখন আরও পেসার উঠে আসছিল। আর সেই সময়ে ১৪০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে কিন্তু খুব বেশি কেউ বল করতে পারত না। সেই সময়ে আমাদের অনেক আলোচনা হতো যে আমরা অনেক জোরে বোলিং করতে পারি।
তালহার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি ঘটেছিল চোটের কারণেই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার এন্ডি রবার্টস বাংলাদেশে এসে তালহা ও মাশরাফি মোর্তোজার বোলিং নিয়ে বিশেষ প্রশংসা করে গিয়েছিলেন। চোটের প্রভাব সামলে মাশরাফি ক্যারিয়ার লম্বা করতে পারলেও তালহাকে থেমে যেতে হয় আগেভাগেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি ঘটে ২০০৪ সালেই। তিনিও বেশ জোরে বল করতে পারতেন বলে অল্প সময়েই পেয়েছিলেন বিশেষ খ্যাতি।
চরচাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই স্মৃতির আলোকপাত করে তালহা বলেছেন, “আমি, মাশরাফি যে সময়ে আসলাম, তখন আরও পেসার উঠে আসছিল। আর সেই সময়ে ১৪০ কিলোমিটার/ঘণ্টা গতিতে কিন্তু খুব বেশি কেউ বল করতে পারত না। সেই সময়ে আমাদের অনেক আলোচনা হতো যে আমরা অনেক জোরে বোলিং করতে পারি। তবে এটার সঙ্গে সুইং, ভালো জায়গায় বোলিং করাটাও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। চোটের কারণে আমার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার আগায়নি সেভাবে, এটা একটা দুঃখের ব্যাপার আমার জন্য।”

তালহার সেই দুঃখ বাংলাদেশের ক্রিকেটেরও ক্ষতি ছিল। কারণ, তার মাঝে ছিল অমিত সম্ভাবনা। ২০১৪ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার পর কোচিং পেশায় এসে যেন সেই আক্ষেপ ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টায় নামেন। বিপিএলে সহকারী কোচ হিসেবে টানা কাজ করেছেন, শিরোপার স্বাদও পেয়েছেন।
এই বিপিএলে প্রধান কোচ হিসেবে তালহা তার কোচিং ক্যারিয়ারের সেরা সাফল্যের দেখা পান ২০২৫ সালে। বেশ সাদামাটা খুলনা টাইগার্স দলকে নিয়ে যান প্লে-অফে। অল্পের জন্য তার দল যেতে পারেনি ফাইনালে। সেবারই কোচ হিসেবে তার কিছু সিদ্ধান্ত নজরে আসে সবার। টেকনিক্যাল জায়গাতেও তিনি মুন্সিয়ানার পরিচয় দেন।
শন টেইটের সঙ্গে আমার একটা ভালো সম্পর্ক হয়েছে। ও আমার কাজ দেখেছে। বোলিং নিয়ে ওর সঙ্গে অনেক কথা হয়। কোন বোলার কেমন কাজ করছে, সেটা নিয়ে ফিডব্যাক দিই। এগুলো ও পছন্দ করে। ওর মতো একজন লিজেন্ডারি পেসারের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে ভালোই লাগে। এটা আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।
এই সময়ের মধ্যেই ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিতভাবেই কাজ করে গেছেন তালহা। বিসিবিতে স্বল্পকালীন চুক্তিতে কাজ করেছেন অনেকবারই। বয়সভিত্তিক দলেও কাজ করেছেন, যেখানে তার অধীনে ছিলেন বর্তমান সময়ের বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেনসেশন নাহিদ।
এই প্রসঙ্গে তালহা বলেন, “নাহিদ রানার সঙ্গে ছোটবেলা থেকেই কাজ করছি। সেটা অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকেই। হাতে সময় কম ছিল বলে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দলে নিতে পারিনি। ওর অ্যাকশনে কোনো সমস্যা ছিল না। তখন ওর রান-আপের একটা ইস্যু ছিল। আগে রান-আপটা এলোমেলো ছিল, নো-বল করত অনেক। ওই জায়গায় আমি আর আলমগীর (কবির) ভাই মিলে কাজ করেছি।”
শুধু নাহিদই নন, বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের অনেকের কাছেই তালহা এক নির্ভরতার নাম। ম্যান ম্যানেজমেন্টও তার দুর্দান্ত, যা একজন কোচের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আফিফ হোসেনকে নিয়ে একবার বলেছিলেন, তিনি অন্তর্মুখী স্বভাবের আর কম কথা বলেন। আর তাই এমন একজন ক্রিকেটারকে খুব বেশি কথা না বলে অল্প কথায় বার্তাটা দিতে হয়।
বাংলাদেশের একজন কোচের যে সব সীমাবদ্ধতা থাকে, সেটা কাটিয়ে ওঠার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে গেছেন তালহা। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে স্কুল ক্রিকেট থেকে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেও কাজ করে এসেছেন। তিনি বিশ্বমানের কোচিং কেমন হয়, সেটা বোঝার জন্য ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই কাজটা করেছেন।
তালহার এই ছোট ছোট পদক্ষেপ নজর এড়ায়নি সদ্য সাবেক হয়ে যাওয়া বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ টেইটেরও। তিনি নিজে বিসিবিকে পরামর্শ দিয়েছিলেন যাতে তাকে কাজে লাগানো হয়। বিপিএলের সময় খুব কাছ থেকে তালহার কোচিং দেখেই মুগ্ধতা জাগে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান পেসারের।
টেইটের প্রশংসায় আপ্লুত তালহা, “শন টেইটের সঙ্গে আমার একটা ভালো সম্পর্ক হয়েছে। ও আমার কাজ দেখেছে। বোলিং নিয়ে ওর সঙ্গে অনেক কথা হয়। কোন বোলার কেমন কাজ করছে, সেটা নিয়ে ফিডব্যাক দিই। এগুলো ও পছন্দ করে। ওর মতো একজন লিজেন্ডারি পেসারের কাছ থেকে প্রশংসা পেতে ভালোই লাগে। এটা আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।”
সেই টেইট আচমকা চলে যেতে বিসিবি তারই পছন্দের তালহাকে বেছে নিয়েছে, যা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। এত বড় দায়িত্ব তিনি পাওয়ার যোগ্য কিনা, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে তাকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়াতে যে হাহাকার হচ্ছে দর্শকদের একটি মহলের, সেটা মোটেও যৌক্তিক নয়।
কারণ, এত অল্প সময়ে বিদেশি কোচ চাইলেও পাওয়া যাবে না। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের এই যুগে জাতীয় দলের কোচ পাওয়া এমনিতেই কঠিন কাজ। সেখানে দেশের পেসারদের খুব ভালো করে জানেন এবং কোচ হিসেবে পরীক্ষিত একজনকে দায়িত্বটা দেওয়া হয়েছে, এরচেয়ে ভালো কিছু এই মুহূর্তে সম্ভব ছিল না। অকারণে তালহার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন না তুলে তাই উচিত তাকে সমর্থন দেওয়া।
দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সেটা করবেন তো দর্শকেরা?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। গত ২ জুন মঙ্গলবার জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে ৮ ভোটে পরাজিত করে তিনি এক বছরের জন্য এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন।